লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftরাত (মে ২০১৪)

রাতের পাখি
রাত

সংখ্যা

মোট ভোট

কামরুল হাছান মাসুক

comment ৭  favorite ০  import_contacts ১,৩৩৫
রাত তিনটার দিকে অপরিচিত নাম্বারে একটা ফোন। বিরক্তি নিয়েই ফোনটা ধরলাম। এত রাতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ফোন করার কথা না। ফোন ধরতেই অন্য পাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠে, আমি সরি। আমি এমনিতেই ফোন দিয়েছি।
ও তাই। আপনি বুঝি মধ্যরাতে এইভাবেই ফোন দিয়ে বিরক্ত করেন।
না, করি না। আর কোন দিন হয়নি। আজই প্রথম দিয়েছি।
আপনি কি জানেন? এভাবে পরিচয়ে অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে মেয়েদের। অপরিচিত নাম্বারে ফোন দেওয়া ঠিক না।
তা বুঝলাম। বিরক্ত হলে কথা বলছেন কেন? ফোন রেখে দিলেই পারেন।
ফোন আপনি দিয়েছেন? আমি মিসকল দিয়েছিলাম।
মনে পড়ল। তাইত। আচ্ছা আপনি কি করেন?
তেমন কিছু না। পড়ালেখা। ছেলেদের জ্বালাতন। এই। মাঝ রাতে মাঝে মাঝে মনে হয় কারো সাথে কথা বলি। কথা বলার কেউ থাকে না তাই মোবাইল টিপি। কথা বলতে ইচ্ছে করে। বিভিন্ন নাম্বার সাজিয়ে কল দেওয়ার অনেকবার চেষ্টা করেছি। ভয় লাগে। রাগি গলায় যদি কিছু বলে। যদি অপমান করে।
আপনি সফল। রাগী গলায় কেউ কিছু বলেনি।
প্রথম বলা হয়েছে।
ও তাইত।
আপনি এত তাইত তাইত বলেন কেন? মুদ্রা দোষ আছে মনে হয়।
তাইত। আপনার সাথে কি দেখা হতে পারে।
কেন? বিয়ে করেন নি বুঝি। প্রথমে কথাই বলতে চাচ্ছিলেন না এখন দেখা করতেও চাচ্ছেন। সব পুরুষরা মেয়েদের মেহেদি কন্ঠে পাগল হয়ে যায় বুঝি।
জানি না। হতে পারে।
আজকের মত রাখি। কথা বলার আর কিছু নাই। আপনি অন্য লাইনে চলে যাচ্ছেন।
আর যাব না। একটু কথা বলি।
ফোন কেঁটে গেল। আবার ফোন দেওয়ার কোন মানে হয় না। ফোন ধরতে চাইবে না। এরকম মেয়েদের বেশি গুরুত্ব দিতে নেই। প্রথমেই কয়েকটা কথা বলার পর ফোন রেখে দিলে ভাল হত। অপমানিত হতে হত না। একটা মেয়ে মিসকল দিবে। কল করার পর ওর প্রয়োজন মত বলবে রেখে দিব। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
পরের দিন আবার রাত তিনটার দিকে মিসকল। কল দিব কি দিব না ভাবছি। এরকম গুরুত্ব দেওয়ার কি আছে। আসলেই কি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নাকি সবটাই বেশি বেশি হচ্ছে। মনের অজান্তেই বাটনের দিকে চলে গেল। ফোন ধরেই বলল, আমার নামটা জানলেন না যে।
বলেন।
আমার নাম নিঝুম। আমি পুরান ঢাকায় থাকি।
আমিও পুরান ঢাকায় থাকি। নিঝুম রাতে ফোন দেন তাই আপনার নাম নিঝুম। সত্যিকারের নামটা বলুন।
আমার সত্যিকারের নামটাই নিঝুম।
ঠিক আছে মেনে নিলাম।
দেখা করতে বলেছিলেন, দেখা করবেন?
আমার মনে হচ্ছে এত দ্রুত সব করা উচিত না। কিছুটা সময় নেওয়া দরকার। আপনি কি বলেন।
আমি বলি, যতটা তারাতারি সম্ভব দেখা করেন। মেয়েরা তারাতারি বুক হতে চায়।
আপনি কি বুক হয়ে যাবেন নাকি। এটা কি হোটেল যে আগে আসলে আগের ভিত্তিতে বুক করতে হয়।
আপনি বাজে কথা বলেন। মেয়েরা দ্রুততা পছন্দ করে। আপনাকে আমার যদি পছন্দ হয়। অথবা আমাকে যদি আপনার পছন্দ হয় তাহলে আমরা কেউ অন্য কোথায়ও যাব না। আমরা একে অপরকে জানব। ভালবাসব।
যদি পছন্দ না হয়।
পছন্দ হবে। যার কন্ঠ এত সুন্দর তাকে পছন্দ না করে কি পারা যায়। অবশ্যই পছন্দ হবে।
ঠিক আছে দ্রতই যখন চাচ্ছ দেখাই করি। কালকেই দেখা করি।

ঠিক আছে। আজ রাখি। পরের দিন জায়গা এবং সময় মত যাওয়ার পরও কারো দেখা মিলল না। মেয়েটাকি ফাঁকি দিয়েছে। এরকম পরিচয়ে ফাঁকি দেওয়ার কথাই। দরকার কি ছিল কথা বলার। ফালতো সময় নষ্ট। মাঝে মাঝে কি যে হয়। যত দূরে থাকতে চাই ততই কাছে আসে। আর ভাল লাগে না।
পরের রাতে আবার নিঝুমের ফোন। কি ব্যাপার তুমি আসলে না।
মেজাজ গরম, আমি এসেছিলাম। তুমি আমাকে ফাঁকি দিয়েছ।
আমি ফাঁকি দেয়নি। আমি তোমাকে দেখেছি। তোমাকে আমার পছন্দ হয়নি। তাই দেখা করতে যায়নি। এত মোটা মানুষ আমার পছন্দ না। আরেকটু ¯িøম হলে মানা যেত। তুমি ওজন কমাও তাহলে তোমার সাথে হবে কিনা দেখি। না হলে বাদ।
ঠিক আছে বাদ দিয়ে দাও। আর কথা বলব না।
কথাটা শুনে কিছুই ভাল লাগছে না। একটু মোটার জন্য একটা মেয়ে ছেড়ে চলে যাবে এটা মানা যায়। চিকন হতেই হবে।
কয়েকদিন পর আবার ফোন। আপনি কি ভাল আছেন।
ভাল থাকি কিভাবে? একটা মেয়ে এরকম বললে কেউ ভাল থাকতে পারে।
তাই। আপনার জন্য খুশির খবর আছে।
কি?
মোটা হলেও, আপনার মনটা ভাল। ভাল মনের একটা ছেলেকে পাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার।
তাই বুঝি। তাহলে তুমি রাজি।
কিসের রাজি।
ভালবাসার জন্য।
ও? তুমি আমাকে ভালবেসছ। ভালবাসলে কয়েকটা পরীক্ষা দাও।
বল, কি পরীক্ষা দিতে হবে।
আমাকে প্রতিদিন একশ টাকা করে লোড পাঠাবে। নিজের জান যদি মনে কর তাহলে তুমি পাঠাবে।
ঠিক আছে পাঠাব। তোমার ছবি আমি দেখিনি।
আমার ছবি তোমাকে এম এম এস করে পাঠাব। আমাকে তোমার পছন্দ হবে। আমি নায়িকাদের মত। আমাকে যে কেউ পছন্দ করবে। এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ ছেলে আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে।
এম এম এস করে পাঠানো ছবিটা চমৎকার। এত সুন্দর ছবি জীবনে কখনো দেখিনি। প্রতিদিন লোড পাঠাই। দিনের বেলায় মোবাইল বন্ধ থাকে। রাতের তিনটার দিকেই শুধু ফোন খোলা থাকে। প্রতিদিন কথা হয়। সম্পর্ক বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে আসক্তিও বাড়তে থাকে।
কয়েক বছর সম্পর্ক চলতে থাকে। এর মধ্যে একবারও দেখা হয়নি। নিঝুম দেখা করতে চায় না। কেন চায় না বুঝতে পারছি না। ও শুধু বলে, দেখা হবে। দেখা করার কি দরকার? ছবি থেকে দেখলেই হয়। ওর প্রতি আসক্তি অনেক বেড়ে গেছে। ও যা বলছে তাই করতে মন চাচ্ছে।
অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলে ধরি না। আজ কেন জানি ধরলাম। ধরার সাথে সাথেই একটা মেয়ে বলল, ভাইয়্যা আমি দু:খিত। আমি একটা সফটওয়্যার বানিয়েছিলাম। ঐ সফটওয়্যারে মেয়ের কন্ঠ দিয়েছিলাম। ওই আপনার সাথে সম্পর্ক করেছে। আমি বুঝতে পারিনি আপনারা এত দূর চলে যাবেন। আমি আজকে সবগুলো অডিও শুনে বুঝলাম আপনি ভয়াবহ সিরিয়াস। আমাকে ক্ষমা করুন।
দেখুন, আমি কিছু বুঝি না। আমি ভালবেসেছি। আমার মনে হচ্ছে এম এম এস করে পাঠানো ছবিটা আপনার। সত্যি কথা বলতে কি আপনাকেই আমার পছন্দ হয়েছে। এতদিন হয়ত সফটওয়্যার এর সাথে কথা বলেছি। এখন সত্যিকারের মানুষের সাথে কথা বলব।
দেখুন, আমি চাচ্ছি না।
আপনি বললে হবে না। আপনাকে করতেই হবে।
ঠিক আছে। ভেবে দেখি।
ভেবে দেখলে হবে না। করতে হবে।
আপনি দেখছি নাছোর বান্দা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement