লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftইচ্ছা (জুলাই ২০১৩)

ইচ্ছে করে
ইচ্ছা

সংখ্যা

মোট ভোট ২০

কামরুল হাছান মাসুক

comment ৭  favorite ০  import_contacts ৮৬৫
সাগর তার বাবার একমাত্র সন্তান। সাগরের বাবার ইচ্ছা ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন। আজকাল সন্তান জন্ম হওয়ার আগে বাবা মা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন ছেলেকে ডাক্তার নয়ত ইঞ্জিনিয়ার বানাবেন। যারা একটু বেশি ভাবুক তার প্রেম করার সময়ই ভেবে নেন মেয়ে হলে ডাক্তার বানাবেন। ছেলে হলে ইঞ্জিনিয়ার বানাবেন। যাইহোক, ইচ্ছা বলতে কথা। সাগরের বাবার এক কথা ছেলেকে ডাক্তার বানাতে হবেই। উনার জীবন চলে গেলেও উনি ছেলেকে ডাক্তার বানিয়ে ছাড়বেন। ছেলের পিছনে টাকার বস্তা খরচ করতে লাগলেন। প্রাইভেট টিউটর থেকে শুর“ করে সব জায়গায় টাকার বস্তা ঢালতে লাগলেন। সাগর তার বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী চলতে চায় না। বাবা বলে কথা তাই মানতে হয়। বাবা যা করছেন তা করেন। সাগর নিরবে সহ্য করে। ডাক্তার হওয়ার চেষ্টা সাগর করে না। এমনকি কম্পাউন্ডার হওয়ার চেষ্টাও সাগরের মাথায় নাই। ওর পড়ালেখাই ভাললাগে না। পত্রিকাকে মনে হয় আবর্জনা। বইকে মনে হয় অযাচিত বস্তু। খাতা কলমকে মনে হয় কার্টুন আঁকার সরঞ্জাম। শি¶ককে মনে হয় প্রতিষ্ঠানের বস। বাবা হচ্ছেন রাষ্ট্রপ্রতি। মা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রি। আত্মীয়রা হচ্ছেন নিন্দুক। সাগরের বাবা উনার ইচ্ছা থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসার কল্পনাই করতে পারেন না। ছেলের মনের আকাশে কারো প্রবেশ করা সম্ভব না। সাগরের মনের আকাশেও উনি প্রবেশ করতে পারেন না। ভাবেন ছেলে একদিন ডাক্তার হয়ে ঠিকই উনার মুখ উজ্জ্বল করল। পাবলিক পরী¶ার ফল প্রকাশ হলে ছেলের রেজাল্ট দেখে হতাশ হন। চরমভাবে বিরক্ত হন। সাগর খুশিই হয়। তার ডাক্তার হওয়ার কোন ইচ্ছা আসে না। ভবিষ্যতে কি করবে তা কল্পনাতেই আসে না। সাগরের একমাত্র সঙ্গী হচ্ছে ফেসবুক, বন্ধু-বান্ধব। ভিডিও কিছু গেইম ওর চরম ভাল লাগে। বিভিন্ন মুভি দেখা ওর শখ। এইগুলি আবার সাগরের বাবার চরম বিরক্তিকর বস্তু। উনি নিজে ছোট বেলায় কি কি করতেন তা সাগর ভাবে। বাবা হওয়ার পর থেকে উনি যে এগুলি পছন্দ করেন না তা অনেক আগেই সাগর টের পেয়েছে। টের পেলেই কি? বাবা হয়েছে বলেই কি উনার সব কথা মানতে হবে। মানুষের ইচ্ছা শক্তি বলে একটা বস্তু আছে এটা কেন কেউ মানতে চায় না। বিশেষ করে বাবা মা। সাগর ভাবে সবাইকে কেন পড়ালেখা করতে হবে। নুন্যতম ডিগ্রি সবার থাকা উচিত। তার পর যে যার মত চলবে। কারো কিছু বলার থাকবে না। কেউ যদি ডাক্তার না হতে চায় তাহলে কি তাকে জোর করে ডাক্তার বানানো যায়। তাকে কেনই বা জোর করে ডাক্তার বানানো হবে। পৃথিবীর সবাই ডাক্তার হয়ে গেলে রোগী হবে কে? সাগর এই প্রশ্ন গুলির কোন উওর পায় না। কারো কাছে বলতেও সাহস হয় না। গাঁধা ছাত্রদের বিভিন্ন দুষ থাকে। দুষ না করলেও বিরাট বড় দুষ। সাগর তাই কোন কিছু নিয়ে মাথায় ঘাটায় না। বাবা যদি কিছু বলে তাহলে নিরব থাকে। এতেও তার বাবার চরম আপত্তি। একদিন বাবার কথার উপর কথা বলার কারণে উনি বলে বসলেন সে নাকি বেয়াদপ। তার মত বেয়াদপ গাছে ধরে না। বেয়াদপ গাছে ধরার কথাও না। সাগর ভাবে, কথা বললেও দুষ। আবার না বললেও দুষ। জীবনের প্রথম পাবলিক পরী¶া তখন একটাই হত। তা হল এস এস সি পরী¶া। এই পরী¶ার পরে সাগরের বাবা চিন্তা করলেন, ছেলেকে যেহেতু ডাক্তার বানানো গেল না তাহলে তাকে যে করেই হোক মিলিটারী বানাতে হবে। কর্ণেল বা মেজর হলেও মানুষের কাছে মুখ দেখানো যাবে। মিলিটারী কায়দায় প্রশি¶ণ শুর“ করলেন। কাজের চেয়ে কথার মাঝে মিলিটারী জাজটা বেশি পাওয়া গেল। উনার আচরণ দেখে মনে হল উনি প্রশি¶ণ দিচ্ছেন। সাগরের মিলিটারী হওয়ার ইচ্ছা একদম নেই। মিলিটারী ওর ভাল লাগে না। ওর কাছে মিলিটারীদের কর্মকান্ড একদমই ভাল লাগে না। ওর মনে হয় হাজনা থেকে বাজনা বেশি। কখন যুদ্ধ হবে, কখন মিলিটারী প্রয়োজন হবে তার ভাবনাতেই আসে না। ও ভাবে ওর হয়ত নিজ¯^ কোন ভাবনা আছে। বাবার চাপের কারণে তার ভাবনাগুলি চাপা পড়ে গেছে। সাগরের একমাত্র কাজ হচ্ছে তার বাবার ভাবনাগুলিকে চুরমার করে ফেলা। অন্য একটা কাজ হচ্ছে তার বাবাকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা। এইস এস সি পরী¶ার ফল যখন প্রকাশ হল সাগরের বাবার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। ছেলেকে নিয়ে কত ¯^প্ন দেখেছেন। ছেলে তার সকল ¯^প্ন ভঙ্গ করেছে। এখন ছেলে অনার্সে ভাল একটা সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে পারবে না। সাগরের এ নিয়ে চিন্তা নেই। ভবিষ্যতে কিছু একটা করতে হবে এ ধরণের মন মানষিকতা সাগরের মাথায় আসে না। বাবা বলে কথা। ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত সকল বাবাই দেখতে চায়। সাগরের বাবাও তার ব্যতিক্রম না। এত কিছু করার পরও উনি চিন্তা করলেন ছেলেকে ব্যবসাতেই বসাবেন। ছেলে কোন কিছুতেই মন বসাতে পারছে না। ব্যবসাতেও পারল না। কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যবসাতে লাল বাতি জ্বালিয়ে অনেকটা অকারণেই ইস্তফা দিয়ে দিল। সাগরের বাবা ভাবে ছেলে রসাতলে গেছে। ওকে দিয়ে কিছু হবে না। ছেলের সাথে কথা বলেন না। ছেলের কোন বিষয়ে মাথা ঘামান না। উনি শুধু চিন্তা করেন ছেলেকে নিয়ে কি ভেবেছিলেন। উনার ভাবনা অনুযায়ী যদি ছেলে চলত তাহলে ছেলে আজ কি করত। ছেলেকে নিয়ে উনি কি কি গর্ব করতেন। উনার অনেক কিছুই ইচ্ছে করে। সাগরের কিছুই করতে ইচ্ছে করে না। একজনের ইচ্ছে শক্তি দিয়ে অন্য জনের কিছু হয় না। তবুও সাগরের বাবার ছেলেকে দিয়ে অনেক কিছুই করাতে ইচ্ছে করে। যে ইচ্ছা শক্তি বাস্তবায়ন করবে তার কিছুই করার ইচ্ছা জাগে না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement