বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ মার্চ ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ২৪টি

সমন্বিত স্কোর

২.৮৪

বিচারক স্কোরঃ ১.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৭ / ৩.০

ক্ষোভ (জানুয়ারী ২০১৪)

মোট ভোট ২৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৮৪ রয়েল বেঙ্গল কেট

বিন আরফান.
comment ১৩  favorite ০  import_contacts ৭৮৬
১৯৯৭ সালে কুয়ালালামপুরের কিলাবকিলাব মাঠে আইসিসির ক্রিকেট ফাইনাল খেলা দেখছিলাম। ঝড় বেগে বৃষ্টির জন্য মাঠ কাদা হয়ে ছিল। এ মাঠে ক্রিকেট নয় হাডুডু ভাল জমবে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যেই চলছিল বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং। বলার বল করার জন্য তেড়ে আসছেন। আকরাম খান তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। কিভাবে মারবেন ? ইশারা দিয়ে বললাম, ব্যাটের প্যাড হাতে ধরে ডাণ্ডা দিয়ে বাড়ি দে। তাতে ছক্কা হবে। নচেৎ কাদায় বল গড়াগড়ি করে আটকে থাকবে।

আকরাম সেমতে হেকে উঠল, আফসোস বলার বাঘের মত গর্জে এসে বিড়ালের মত গুটিয়ে কাদায় পিছলে পড়ে গেল।
সেদিন থেকে আমি ক্রিকেট দলের অঘোষিত কোচ। বুলবুল, দূর্জয়, সুজন অনেকেই আমার নিকট খেলা শিখতে আসতেন। মুশফিকুর রহিমতো আমার পিছুই ছাড়েন না।
কতক ভাবছেন, আমি চাপাবাজি করছি। মোটেও না। কর্ণফুলী, পশুর ও পায়রা নদীর ওপর নির্মিত বন্দর যখন সমুদ্র বন্দর হয়! সুদের রাজ্য কায়েম করে ঘরে ঘরে অশান্তির অগুণ জ্বালিয়ে যখন নোবেল লাভ করা যায়!!

আমি অবশ্য ক্রিকেট দলের কোচ হতে চাইনি। ছাত্র জীবনে স্বপ্ন ছিল কোন একটি বিষয়ে গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রী নেয়া। তখন সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালে সে সুযোগ হাতে আসে, গবেষণা না করেও পিএচডি লাভ করা যায়। যে প্রতিষ্ঠান পিএইচডি প্রদান করেন, ওই প্রতিষ্ঠান নিয়ে গবেষণা করে দেখলাম, হত দরিদ্র-স্বল্প শিক্ষিত-অভাবী আর হতাশাগ্রস্ত মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকাসহ ভর্তি করাতে হবে। ভর্তির পাল্লা দু’দিকে বেশী হলে আমি পিএইচডি। যেভাবেই হোক, পিএইচডি বলে কথা।

আমি যেকোনো বিষয়ে বেশী পণ্ডিতি করি কিনা? তাই আমার দ্বারা কিছুই করা সম্ভব হয় না। পিএইচডি করাও হয়নি। ভাবতে ভাবতে ডেসটিনির মুখোশ উন্মোচন হয়ে গুটিয়ে গেল। আর বিসিএস ক্যাডার হবার স্বপ্ন ভুলেও দেখিনি। কেন যেন ক্যাডার শব্দটি শুনলেই শরীরে শিহরণ দিয়ে ঝাক্কি মারে।
ক্যাডার হবার দরকারও নেই। ক্রিকেট অঙ্গনের খ্যাতি দিয়ে আগামীতে সংসদ সদস্য হবার বাসনা রাখি। এতে যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। দর্শক মাতানোর কৌশল থাকলেই চলে। যেভাবে গায়িকা-নায়িকারা এসেছেন। কতক সাংসদ মিথ্যুক আর চাপাবাজ। সেই যোগ্যতাও আমার আছে।

আমার এত যশ আর খ্যাতি ধীরে ধীরে সব অঙ্গনে রটে যায়। এ নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তি, মহল ও মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হতো। এতে যেমনি ভাল লাগত তেমনি বিরক্তও হতাম। একদিন খুব ভোরে কলিং বেলের আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গে। এত সকালেও ইন্টারভিও!
চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খোলে হতভম্ব হই। থানার দারোগা বলছেন, আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। আপনার উন্মাদনা বেড়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে রয়েল বেঙ্গল কেটের মত চলতে শুরু করলাম।
এখন জেলে বসে বউডার কথা বারবার মনে পড়ছে। বউয়ের বিয়ের রাতে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আসার সময় কান্দে নাই কি জন্য?
উত্তরে জানায়, তার বুক ফেটে কান্না ঠিকই আসছিল। তার বান্ধবী কাঁদতে মানা করেছিল। কাঁদলে মেকআপ নষ্ট হয়ে ভুরুর কালিতে মুখ হনুমানের মত নাকি দেখাবে। তাই ওই ভয়ে কাঁদেনি।

এদেশের কতিপয় রাজনীতিবিদগণ যেভাবে শকুনের মত থাবা দিয়ে জনতাকে চেপে রেখে দেশটাকে ঠুকড়াচ্ছেন বক্ষণের জন্য। শুধু মুখে বলে না, ভোট না পাবার ভয়ে আর জনগণ বলে না, ক্যাডারদের ভয়ে। কেননা ঘুরে-ফিরে সেই অমায়িক চোদা ভদ্র নেতারাই ক্ষমতায় আসেন। তখন বউডার মত আমাদেরও মেকআপ নষ্ট হয়ে না ফেরার দেশে যেতে হতে পারে!!!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন