গল্পটিতে গীতলধর্মী শব্দ এবং বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে নায়ক এবং নায়িকার মধ্যে সংঘটিত একটি মাত্র রাত্রির কথোপকথন অনেকটা কাব্যিক আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পের নায়িকা কলমি গ্রাম্য মেয়ে হয়েও অকুতোভয় এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সংগ্রামী তরুণী। যার ডান হাতের চারটি আঙুল নেই। এ নিয়ে তার জীবনে বিড়ম্ভনারও কোনো অন্ত নেই। কিন্তু সে থেমে থাকেনি। আত্মমর্যাদার ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে শেখেনি। কাঠখোট্টার মতো কাট খট কথা বলতে শিখেছে। আর তার এসব খিটখিটে মেজাজ একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছে, কাটা আঙুল নিয়ে তার জীবনের নির্মম যাতনা। নায়ক এসব বুঝেও নায়িকার সাথে কখনো নরম, কখনো কাঠখোট্রার মতো আচরণ করেছে। কারণ নায়িকাকে নায়ক বুঝতে চায়। নায়িকার প্রতিটি কথা থেকে সে নায়িকার মনের ভেতরকার পরিচয় জানতে চায়। এখানেই গল্পটির বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যতা আছে বলে আমি গভীর ভাবে বিশ্বাস করি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৩
গল্প/কবিতা: ৭৮টি

সমন্বিত স্কোর

৫.২৫

বিচারক স্কোরঃ ৩.৪৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - কাঠখোট্টা (মে ২০১৮)

একটি কাঠখোট্টা রাতের কথোপকথন
কাঠখোট্টা

সংখ্যা

মোট ভোট ১৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.২৫

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

comment ১৮  favorite ০  import_contacts ৬৯৩
০১
রাত তিনটা বাজতে তখনও এক মিনিট বাকি ছিলো। আমি চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। সেখানে কেউ নেই। আমার প্রিয় আদমসুরত নেই। সপ্তর্ষি মণ্ডল নেই। কোনোও একটি নক্ষত্র নেই। এমন কি আমার আজন্ম খেলার সাথী, যে আমি হাঁটলে হাঁটতো, আমি দৌড়ালে দৌড়াতো, দাঁড়িয়ে থাকলে সেও দাঁড়িয়ে থাকতো; সেই চিরসুন্দরী চাঁদ সেও নেই। তখন আমার কাছে কেবলই মনে হচ্ছিলো, গোটা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আর কেউ জেগে নেই। কেবল আমি জেগে আছি। আর জেগে আছে আমার কিছু তারছেঁড়া দলিত ভাবনা। মহাআশ্চর্যজনক হলো, তারাও প্রেমহীন। মৃদুল বাতাসে ওড়ে যাওয়া শুকনো পাতা।
এমনি এক নির্জীব সময়ে আমি শুয়ে আছি। আমার সাথে শুয়ে আছে খুঁড়ে সময়। যে কিনা আমার চারপাশ ঘিরে আবদ্ধ জলের মতন চোখাচোখি করছে। কখনও আমার বালিশে। কখনও কোলবালিশে। কখনও বেডশিটে গড়াগড়ি দিচ্ছে। ঠিক তখনি একটি জলের ফোঁটা পতনের শব্দ হলো। ফেসবুকে মেসেজ আসার উড়ন্ত সূচনা হলো।।
হ্যালো....
আপনার কি কোনো প্রকাশিত বই আছে?
জী আছে।
তাড়াতাড়ি নাম বলুন
তাড়াতাড়ি কেন?
সে আপনার কথা ভেবেই।
আমার কথা ভেবেই..... মানে কি? ঠিক বুঝতে পারলাম না।
রাত ৩ টার সময় আপনার এসব কিছু বুঝার দরকার নেই। বইয়ের নাম বলে তাড়াতাড়ি ঘুমান।
হুম। বলছিঃ
খুঁজে চলেছি যাঁরে
ভালোবাসার নির্বাচিত কবিতা
ডাম্বুলার প্রেম
যে বসন্তে ফুল ফোটেনি....আরো বলবো?
না থাক। আর বলতে হবে না। এবার বলুন, কোনটা কি ধরণের গ্রন্থ?
প্রথম দুটো কাব্য
৩য় টা গল্পগ্রন্থ
৪র্থ টা উপন্যাস।
আপনি দেখছি সব লেখেন। যারা সব লেখেন তারা কোনো লেখক না। তারা ছাগল মার্কা লেখক। ছাগল যেমন সবকিছু খায়, তারাও সবকিছু লেখেন। ছাগল আর তাদের মাঝে কোনো পার্থক্য নাই। রাগ করলেন নাকি?
না। না। রাগ নামক অবস্তু কণাটি আমার খুব একটা নেই। আগে ছিলো বলেও খুব একটা মননে পড়ে না।
আপনি আসলে ছাগলের চেয়েও খারাপ। ভুল অইলে মাফ করবেন। এবার ঘুমান।
ঘুম নিয়া আমার কোনো তাড়া নেই। আপনার আছে?
আমার পৃথিবীর কোনোকিছু নিয়েই কোনো তাড়া নেই। আমি সাধারণত রাতে ঘুমাই না। আমার ধারণা দুনিয়াতে যতো বড়ো বড়ো ঘটনা ঘটেছে, সব রাতের কারবার। রাত হলো অঘটনঘটনপটিয়সিনী! এ বিষয়ে আপনার কোনো জবানি আছে?
বিশেষ কিছু নাই। তবে শুধু এইটুকু জানি, রাতের সাথে আমার সম্পর্ক নতুন নয়। সে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমিক। আমি তার নিরীহ সেবাদাসী। সে আমাকে হাসায়। কাঁদায়। আদরে সোহাগে বুক ভাসায়। রাতের মতো চাষী আর দ্বিতীয়টি নেই।
0২
হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। রাত আবার কীভাবে চাষি হয়?
হা হা হা। শুনুন মেম। কৃষি জমি কর্ষণ করে যে ফসল ফলায়, সেই হলো চাষী। আর যে পুরুষ, নারীর শরীর দলিত-মথিত করে, চুম্বন, লেহন মর্দন করে, উত্তম রুপে লাঙল চালিয়ে নারীকে আনন্দ দেয়, চরম পুলক সুখানুভূতি এনে দেয় --- সেও একজন ভালো চাষী। আর যে রাত মানুষের মস্তিষ্ক ফুঁড়ে যথার্থ উর্বর চিন্তা রাশির যোগান দেয়, অন্ধকারের অপরুপ রুপেমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, নৈঃশব্দকে আঁকড়ে ধরে মানুষকে বাঁচতে শেখায় --- সে কি চাষি নয়?
মানলাম, আপনার কথায় যুক্তি আছে। ভুরিভুরি সুড়সুড়ি আছে। সমুদ্রের গর্জনের মতো স্পষ্টবাদিতা আছে, তাই বলে আমাকে মেম বলছেন কেনো? আমি তো কোনো বিদেশিনী নই। আমি একজন জন্মসুত্রে টক দইয়ের মতো খাঁটি বাঙালি মেয়ে।
সে আমি জানি মেম। আপনি একজন স্কুল টিচার বলেই এই সম্মান টুকু আপনার প্রাপ্য।
আমি একজন স্কুল টিচার আপনি কীভাবে জানলেন?
এটা জানার জন্য জ্যোতিষ হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি আপনার প্রোফাইল ঘুরে এসেছি। প্রোফাইল পিকচার হিসাবে একটি সাজানো গোছানো হাতের ছবি দেখেছি। কবিতার প্রতি আপনার জোয়ারের টান তাও জেনে এসেছি।
আপনি তো দেখছি, শুধু ছাগল নন, শিয়ালও। যেমন বোকা, তেমনি চালাক।
প্রথম বিশেষণটা ঠিক আছে। দ্বিতীয়টা ঠিক নেই। যেমনঃ সব সাগর-ই নদী ধারণ করতে পারে, কিন্তু কোনো নদীই সাগর ধারণ করতে পারে না। আমি নদী। সাগর না। আচ্ছা, আপনার কি কোনো নাম নেই?
কী আবোলতাবোল বলেন! নাম থাকবে না কেনো? যেখানে রাত্রির নাম আছে, দিনের নাম আছে, শকুন, গণ্ডার, বেবুন, এমন কি পাষণ্ড হায়েনার পর্যন্ত নাম আছে, সেখানে আমি তো নগণ্য অথবা জগণ্য হলেও একজন মানুষ।
আপনার নামটি কি কোনোদিনও জানা হবে না?
তা শোনে আপনার কোনো লাভ নেই। আজকালকার দিনে ওসব নাম চলে না। খেত খেত লাগে। বাড়ির পাশের ডোবাতে আগে যাও পাওয়া যেতো, এখন তাও পাওয়া যায় না।
আপনার নাম কি কলমি?
হুম। আপনি তো দেখছি মহাধড়িবাজ পাবলিক। এইটুকু বলতে না বলতেই পথ চিনে নিলেন। এরপর তো কী রেঁধেছি, কী খেয়েছি, বুকের দুই পাশে কয়টা ব্লাকহোল আছে...আমি হাসলে দুই গালে টোল পড়ে নাকি একগালে পড়ে. এসব বলা শুরু করে দিবেন।
0৩
আরে না। আমি একটা মিশ্র ভগ্নাংশ টাইপের মানুষ। নুন, তেল, আদা, রসুন ছাড়া রান্না করা খিঁচুনি। তবে খিঁচুড়িও বলা যেতে পারে। যা কারো মুখেই রুচবে না। পোয়াতি মেয়েদের মতো একটু পর পর বমি বমি ভাব হবে। ওয়াক ওয়াক করবে। কিছু বের হলেও হতে পারে। আবার নাও হতে পারে।
আপনার কথা বাদ দেন। আরেকদিন শুনবো। আজ শুধু আমার কথা হবে। কি শুনবেন? নাকি সময়ের লেজে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পলায়ন করবেন?
কী বলেন..শুনবো না মানে? যেই আমি বিমূর্ত রাত্রির কান্না শুনি, হামান দিস্তায় ফেলে আমার যাবতীয় সুখ, দুঃখ গুলোকে চিড়ে চেপ্টা করি, হঠাৎ খসে পড়া ধুমকেতুর লেজে অগ্নি সংযোগ করি, দলিত বাতাসের সহযাত্রী হয়ে সমস্ত রাত উলঙ্গ হয়ে ঘুরি; সেই আমাকে রাত্রির ভয় দেখিয়ে লাভ কি?
আপনি কচু শোনবেন!নিজেই বকবক করে আকাশ-পাতাল খুঁজে পাচ্ছেন না।যাকগে।বাদ দেন। শোনতে হবে না।
কী কচু?
মানকচু।
মানকচু? ওলকচু বলেননি কেনো?
সেটাও বুঝেন না। আপনি দেখছি গাধাও কম না। এতো বিশাল হিমালয়ের মতো রাত বুঝেন, আর এই কথাটা বুঝেন না! ওলকচু বলিনি, কারণ এটা মানকচু চেয়ে বেশি চুলকায়। আপনার মতো সাদাসিধে কবি ওলকচু সহ্য করতে পারবেন না।
হা হা হা। আমি কোনটা সহ্য করতে পারবো, কোনটা পারবো না; সেটা বোধ করি বিবেচ্য বিষয় না। আমি বিশ্বাস করি, রাত্রি সব সময় দিনের আলোর কথা বলে আর প্রতিটা ঘৃণা ভালোবাসার কথা বলে। অন্তহীন বেদনা যেমন নীল সমুদ্র ডেকে আনে, তেমনি বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসও আগুনে পোড়ে।
আচ্ছা, আপনি কি পাগলের মতো বকবক করতেই থাকবেন, নাকি আমাকেও দু' একটি শব্দের শিঁকে ছিঁড়তে দিবেন?
শুনন, আপনার মতো আমি এতো বড়ো কবি না, তবে একেবারে ফেলনা ও না। আপনি খেলোয়াড় হতে পারেন, তবে জেনে রাখবেন--আমি আপনার খেলনা না। আমি যা বলি, তা সবসময় আঙুলের মতো সোজা বলি। ত্যাড়া অথবা তেঁদড় হিসাবে আমার কিন্তু যথেষ্ট সুনাম আছে। আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি হু/হ্যা ছাড়া এক গ্লাস জলও পান করতে পারবেন না।
কি রাজি আছেন?
0৪
রাজি না থেকে উপায় কি? তাছাড়া চ্যালেঞ্জ নিতে আমি সবসময় পছন্দ করি।
গুড। ভেরি গুড। তবে এই ধরণের ভেড়া মার্কা পুরুষ আমার একদম পছন্দ না। আমি চাই, পুরুষ মানুষ হবে বিপ্লবী। কালবোশেখির মতো সবকিছু ভেংগে ছুঁড়ে একাকার করে দিবে। এমন পুরুষ দিয়ে নারী কি করবে, যে পুরুষ তাকে কোলের উপর নিয়ে বসে থাকবে, মুখের দিকে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকিয়ে থাকবে। তাকে দলিত-মথিত করবে না। পাঁজর ভাংগা সুখ দিবে না। পাহাড় নিয়ে খেলা করবে না। কেবল দামী কাঠের আলমিরাতে সাজিয়ে রাখবে। কিছু বুঝলেন বোদ্ধা কবি মশাই?
জী না।
আপনার কিছু বুঝতে হবে না। শুনন, আমার নাম কলমি হলেও আমাকে আতরাফ মনে করবেন না। আমি যথেষ্ট সুন্দরী এবং আধুনিক মন ও মননের মানুষ। বংশ গৌরব না করলেও করার মতো বেশ উপাচার আছে। ইংলিশ লিটারেচারে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করা মেয়ে আমি। আপনি যেমন কবিতা লিখেন, তেমনি আমিও কবিতা লিখি। শুধু লিখিই না, কবিতাকে ভালোও বাসি। কতোটা ভালোবাসি, তাতো বুঝতেই পারছেন! আপনার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বরং বেশিই হবে। কারণ আপনার একটা কবিতা পড়েই আপনাকে আমি নক দিয়েছি। এইবার বুঝতে পারছেন নিশ্চয়? গাছের প্রতি মাটির যেমন ভালোবাসা আছে, কবিতার প্রতিও আমার তেমন ভালোবাসা আছে। আর সেই ভালোবাসা থেকেই আপনার সাথে আমার কথা বলা। কিছু বুঝতে পারছেন?

জী মেম, বুঝতে না পারার কোনো হেতুপদ দেখছি না।
আপনি ঘোড়ার ডিম বুঝতে পেরেছেন!
আচ্ছা। ঠিক আছে। ঘোড়ার ডিম বুঝতে পেরেছি।
ছ্যাবলামো করবেন না। কিছুই ঠিক নেই। শুনন....
জী বলেন। আমি শুনছি..
আমার জন্মের পর মা বলেছিলেন, আমাকে আল্লাহ নিজ হাতে তৈরি করেছেন। কারণ আমি ছিলাম একেবারে নিখুঁত। নাক, মুখ, চোখ, ভ্রু, চুল, হাত, পা সবকিছু। কোথায় কোনো খুঁত ছিলো না আমার। এরপরের ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক। এখন আমার খুঁত আছে। এমন কি মহাখুঁত আছে।
কেমন?
সে কথাই তো বলছি। মাঝখানে বাগড়া না দিলেও চলতো। এতোক্ষণে আরো কিছুটা বলা হয়ে যেতো।
আচ্ছা, বলুন... আর বাগড়া দিবো না।
ছোটবেলায় বাবা আর আমি আমাদের জমি থেকে মিষ্টি আলু তুলছিলাম। বাবা কোদাল দিয়ে মাটি কোপান। আমি আলু কুঁড়াই। খাঁচার ভেতর রাখি। হঠাৎ একটি কোপ আমার ডান হাতের উপর লেগে যায়। ভাবতে পারছেন বিষয়টা। এখন আমার এক হাতের চার চারটি আঙুল নেই।
ইশ! কী সাংঘাতিক।।
সাংঘাতিকের দেখছেন কী কবি। এরচেয়েও মহাসাংঘাতিক আছে। এই কাটা আঙুল এখনও প্রতিনিয়ত আমাকে ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্রের মতো তাড়া করে ফিরছে। পাড়া, প্রতিবেশী, বন্ধু, বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, সহপাঠী, সবার কাছে আমি অপাংক্তেয়। সবাই খেলে আমাকে খেলতে নেয় না। সবাই কাজ করে আমাকে কোনো কাজ দেয় না। এমন কি হাজারো পাত্র দেখতে আসে। বিয়ে হয় না। কেবল আমার আকাশ দিন দিন কালো মেঘে ভারী হয়। আমার নীরব রোদন আহাজারিতে পরিণত হয়। তবুও আমি হাল ছেড়ে দিইনি। আমি বাম হাতে লিখতে শিখেছি। আমি রাতের সাথে কথা বলতে শিখেছি। নক্ষত্রদের সাথে গল্প করতে শিখেছি। বাতাসের কান্না শুনতে শিখেছি। তবুও ডানাহীন পাখির মতো আমি উড়ার জন্য ছটপট করি।
কারু করুণা নয়, সত্যিকারের ভালোবাসার জন্য পাগল হয়ে ঘুরি। আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?
0৫
আচ্ছা, আপনি তো রাতের মহিমা অবলীলায় বলতে পারেন, বলুন তো দেখি আমার কাটা আঙুলের কি কোনো মহিমা নেই?
থাকবে না কেনো? আলবৎ আছে।
কি মহিমা আছে কবি?
মাঘী পূর্ণিমার যেমন মহিমা থাকে, শীতের রাতে তারা ঝলমলে আকাশের যেমন মহিমা থাকে, নৈঃশব্দের যেমন বিগ ব্যাং এরচেয়ে হাজার গুণ বেশি ভাষা থাকে, আপনার কাটা আঙুলের এরচেয়ে দেড়গুণ বেশি মহিমা আছে।
দেড়গুণ কেনো?
দেড় ডিজিটটা আমার কাছে এক চিরায়ত রহস্য। মিস্ট্রেরিয়াস আইসল্যান্ডের মতো। এই যেমন ধরুণ, আপনার একজন স্বামী হতে পারে। দুইজন হতে পারেনা। এমন কি দেড়জনও না। আমার একজন স্ত্রী হতে পারে। দুইজন হতে পারে। বাট দেড়জন হতে পারে না। এই না পারার মহিমা নিয়ে আমার নিজস্ব একটি হাইপোথিসিস আছে। শোনবেন?
আপনার কথাবার্তায় বাস্তবতার চেয়ে অতিবাস্তবতা অথবা পরাবাস্তবতা অনেক বেশি। তাই আমার শুনতে ইচ্ছে করে, আবার করেও না। তবুও বলুন।
আমার ধারণা, পৃথিবীতে ভালোবাসার চেয়ে অবিভাজ্য আর কিছু সৃষ্টিকর্তা সৃজন করেননি। তাই আমরা সবাই ভালোবাসার কাঙাল। এমনকি সৃষ্টিকর্তা নিজেও ভালোবাসার কাঙাল। তবে তাঁর ভালোবাসা আমাদের ভালোবাসার মতো নয়। আমরা অবিভাজ্য ভালোবাসায় বিশ্বাসী আর সৃষ্টিকর্তা বিভাজ্য এবং অবিভাজ্য উভয় প্রকার ভালোবাসায় বিশ্বাসী এবং পারদর্শী।
এই হাইপোথিসিস দ্বারা কি বুঝাতে চেয়েছেন কবি কাম দার্শনিক সাহেব?
আপনি কি আমাকে নিয়ে বিদ্রুপ করছেন?
না। না। কি বলেন? একজন মহামান্য কবিকে আমি বিদ্রুপ করতে পারি? কখনো না। দয়া করে আপনার হাইপোথিসিস শেষ করুন।
শুনন, ভালোবাসার একটা অতিসাধারণ এবং স্বাভাবিক ধর্ম এই যে, আমরা সবাই নিজনিজ ভালোবাসার ব্যক্তি অথবা বস্তুকে সর্বদা কাছে পেতে চাই। কিন্তু আমাদের ভালোবাসা এবং ক্ষমতা সসীম বলে আমরা তা পারি না। আমার নিশ্চিত ধারণা যে, সৃষ্টিকর্তা নিজেও আমাদের মতো অথবা আমরা তাঁর মতো। তিনি যা ভালোবাসেন, যাকে ভালোবাসেন ---তাকে তিনি সাথে সাথে তার কাছে, তার বুকে টেনে নেন। আপনার আঙুল গুলোও তেমনি সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার ধন্য। আমরা এক, দুই, তিন এভাবে সব অবিভাজ্য ডিজিট ভালোবাসতে পারি। বাট সৃষ্টিকর্তা বিভাজ্য, অবিভাজ্য সবটাই পারেন। এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, আপনার আঙুলের মহিমা কতোটা অনন্য?

০৬
কী বলবো, ভেবে পাচ্ছি না। আপনি খুব চমৎকার ঘুচিয়ে কথা বলতে পারেন। যুক্তির সাথে মুক্তির একটা অসাধারণ মিশেল থাকে আপনার বাক্য লতায়। লতা বলছি এজন্য যে, আপনার কথাগুলো একের পর এক লতার মতো বেড়ে উঠে। বাস্তবতাকে ছাপিয়ে আপনি ভাব এবং মুক্তির অপার আনন্দে মেতে উঠতে পারেন। আর এখানেই আপনি একজন সার্থক মানুষ। ভোরের নৈবেদ্য বাজতে বোধ হয় আর খুব বেশি বাকি নেই। আমি বাতাসে ভোরের সুগন্ধ পাচ্ছি। হয়ত কিছুক্ষণের মধ্যেই মুয়াজ্জিনের সুললিত কণ্ঠ ভেসে আসবে। পাখিরা কিচিরমিচির শব্দে ভুবন আলোকিত করবে। হংস-হংসীরা জলে সাঁতার কাটতে নামবে। প্রেমিক নারী-পুরুষও রাতের ক্লান্তি মুছে ফেলতে ভাতার জলে সিনান করবে। তার আগেই আপনার কাছে আজকের শেষ রিকোয়েস্টটি করবো। রাখবেন কবি?
সম্ভব হলে অবশ্য-ই রাখবো। আমি সাধারণত কাউকে না বলিনি।
ধন্যবাদ কবি। এতোক্ষণ আপনি আমাদের কথার ফাঁক গলে গলে যে কবিতাটি লিখেছেন, সেটি একটু দিবেন? ২/৩ পড়বো। মাত্র দুই-তিনবার।
অবশ্য-ই দিবো। বাট আপনি কীভাবে বুঝলেন, আমি বৃষ্টি দিয়ে জল ধৌত করেছি?
সে না হয় আরেকদিন বলবো। প্লিজ কবিতাটি দেন।
ওকে।। দিচ্ছি... তবে এরপরে আজ আর কোনো কথা হবে না। হয়ত আবার ফুল ফুটবে, নয়ত ফুটবে না।
বাই
বাই
------------------------------
জীবন সংগম
------------------------------
একটি রাত্রির হাজারটি মহাকাব্যের কথা বলি
চাঁদহীন আকাশে ছিলো লক্ষ-কোটি চাঁদ
অলক্ষ থেকে কেউ যেনো একটু একটু করে তাতিয়ে দিচ্ছিলো
কিশোরী জোছনার নৈর্ব্যত্তিক আবাদ!
শব্দ ঘষে ঘষে হৃদয় ফুঁড়ে ডানা মেলছিল সুগন্ধি ফুল
এতো যে জানার আকুতি,
এতো যে কাকুতি-মিনতি
তবুও হয়নি এতোটুকু বিস্বাদ!
বৃষ্টির লাবণ্য গায়ে মেখেছিলো অশরীরী কিছু ভুল
তবুও তৃষিত আঁখি মনভ্রমরের মতো ছিলো আকুল!
বাক্যের কাঁটাতারে জড়িয়ে গিয়েছিলাম বারেবারে
পাগল এ হৃদয় তবুও বলছিলো
এমনি নকশিকাঁথা সুখ, বারবার ফিরে ফিরে আসুক!
কথায় কথায় বাক্য হারায়, মুদ্রিত হয় নন্দিত পাঠ
সূদুরে থেকেও কে যেনো আমার
মাড়িয়ে গেছে দরোজার চৌকাঠ!
পটুয়াখালীর কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে
তিনি বলছিলেন, আমাদের যাপিত জীবন এখন
খাঁচার বন্দিত্ব মেনে নেওয়া সাধের মুনিয়া পাখির
মতোন!
তোতলাতে তোতলাতে বলতে চেয়েও বলতে পারিনি
আমিও বেশ আছি সাগর সংগমে, দিবানিশি সংগ্রামে
সীমাহীন
গলগঘর্ম শরীর, মন..... যাহা সহাই তাহাই সয়.....
তবুও আমি শোধিবারে চাই এ জন্মের একফোঁটা
ঋণ....!!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement