দাদা ভাই, কোথায় চললে ?
-ভার্সিটিতে ।
এই পোষাকে ?
-হ্যা, তাতে কি হয়েছে ?
জুতার নিচে প্যান্ট পরেছ কেন ? তা আবার অনেকখানি ছেড়া , আর কি বিশ্রি ময়লা । এই ময়লা আর ছেড়া প্যান্ট পরেই তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছ ?

-ওহ হো ! এই কথা ? কী যে বল না, দাদু, এটাইতো আপডেটেড ফ্যাশান ।

কি ? এই ময়লা আর ছেড়া প্যান্ট আপডেটেড ফ্যাশান ? বল কি ? তোমার মাথা টাথা খারাপ হয়ে গেছে না কি ?

-উহ ! দাদা, আপনারা ব্যাকডেটেড মানুষ । এসব আপনারা বুঝবেন না । খামাখা এদিকে নজর না দিয়ে নিজের কাজে মন দিন , কেমন ?

ছি! ছি ! এ বলে কি ? বউমা, বউমা -----

-জ্বি , বাবা

শ্বশুরের গর্জন শুনে দৌড়ে ছুটে এলেন ফারহানের মা ।

এই যে, বউ মা। ছেলে পেলেদের দিকে কি ফিরেও তাকাতে সময় পাও না ? না কি সবাই যার যার মত স্বাধীন হয়ে গেছে?

-কেন, বাবা , কি হয়েছে ?

দেখতে পাচ্ছ না, কি হয়েছে ? ও কি পরে ভার্সিটিতে যাচ্ছে ? দেখতে পাচ্ছ না ? কোন ভদ্র ঘরের সন্তান এরকম ময়লা আর ছেড়া প্যান্ট পরে ভার্সিটিতে যায় ? আর দেখ, পোষাকটা পরেছে কোথায় ? ও যখন হাত উঁচু করছে তখন কি অবস্থা ? কোমরের নিচে সবই যদি এভাবে প্রদর্শিতই হয়, তবে আর পোষাক পরে কি লাভ ? ল্যাংটা হয়ে গেলেই তো হয় , না কি ? আমি তো ভাবতেই পাচ্ছি না, তোমাদের রুচিবোধের এত অধঃপতন হল কি ভাবে ?

-ও , আচ্ছা, তাই বলুন । বাপ রে বাপ ! যেভাবে গর্জে উঠেছেন ! আমি ভেবেছিলাম, না
জানি কী বিপদই না ঘটেছে ! তা বাবা, আপনি এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একদম ভাববেন না। এদের সব কিছু আপনার দেখবার দরকার নেই। আপনার এ বয়সে এভাবে চিৎকার চেচামেচি করা ঠিক হবে না, কখন কি ঘটে যায় ! আর তা ছাড়া আশে পাশের লোকজন শুনলইে বা কি ভাববে , বলুন তো?

কি বললে, বৌমা ? তোমার এত বড় সাহস ! জান, তুমি কার সাথে কি বলছ ?

-বাবা, চেচাবেন না, প্লীজ । আমার এসব তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় একদম নেই। আমি আসছি বাবা ।

রাগে কট মট করছেন আর শরীরটা ভীষণরকম কাঁপছে।

এত বড় স্পর্ধা !

দাদু, প্লীজ, তুমি এভাবে উত্তেজিত হয়েও না। যাও, তুমি তোমার ঘরে যেয়ে বিশ্রাম কর। এ হচ্ছে বর্তমান যুগের ফ্যাশান , আই মিন, আপডেটেড ষ্টাইল । তুমি এসব বুঝবে না। অকারণে মাথা গরম কর না।

ব্যাস, বুঝতে পেরেছি । এটা আধুনিক ফ্যাশান ? তা তোমাদের এরকম অদ্ভুৎ ফ্যাশান কোন দেশ থেকে এসেছে ?

-তা জানিনা, তবে এটাইতো এখন চলছে । না হলে ক্লাসের সবাই আমাকে বলবে খ্যাত।

হ্যা, সে তো দেখতেই পাচ্ছি। মানব সভ্যতার প্রথম বিকাশ ঘটেছে নগ্ন শরীরকে আবৃত করে। অথচ তোমরা এখন নগ্ন হয়ে সভ্য হচ্ছ ? তোমরা তো দেখছি আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছ ? অথচ দাবী করছ সভ্যতার ? ছি ! ছি!

-তোমরা ব্যাক ডেটেডরা আসলে কেবল পুরণকে আঁকড়ে ধরে থাকতে পছন্দ কর। হতেই হবে। কেননা তোমাদের পৃথিবীর ব্যাসার্ধ তো ঐ অতটুকুই ছিল। তোমরা এসব আধুনিকতার কিছু বোঝও না, বুঝতে চেষ্টাও কর না।
হ্যা, ঠিক বলেছ। আমাদের সময় দেখেছি, অধিকাংশ যুবক বেলবটম প্যান্ট পরত। থাই চাপা এবং পায়ের নীচের অংশ ৩৬ থেকে প্রয়োজনে জোড়া লাগিয়ে ৪০ ইঞ্চি চওড়া করে প্যান্ট তৈরী করে তা পরা হত। আমাদের বাপ চাচারা নাক সিটকায়ে বলতেন, বেশ হয়েছে! টাকা পয়সা খরচ করে রাস্তা ঝাড়– দেবার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে আর ঝাড়–দার নিয়োগ করা লাগবে না।

-তোমার বাপ চাচারা ছিলেন সে যুগের ব্যাকডেটেড । আর তোমরা হলে আমাদের যুগের ব্যাকডেটেড । এটাই নিয়ম দাদু, এ নিয়ে মাথা গরম করে লাভ নেই । আচ্ছা, তুমি কি তখন সে বলেবটম যুগের হাওয়ায় মিশে গিয়েছিলে, না কি তোমার বাপ চাচাদের আদর্শ বুকে আগলে গুড বয় হয়ে থাকতে ?

হুহ ! (এ্কটু বিকৃত হেসে) , তোমাদের কাছে সে ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন । আচ্ছা, তুমি তো ইউনিভার্সিটিতে পড়ছ, তাই না? তোমার জ্ঞানের চোখ কিছুটা হলেও আলোর মুখ দেখার কথা ।
-হ্যা , তা কিছুটা বটে।

তাহলে একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই, শোন । একটা বড় বট গাছ মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকে কিসের উপর ভিত্তি করে, বলত ?

-কেন, মূলের উপর । তো ? কি বোঝাতে চাইছ ?

এই তো বুঝেছ । তোমার মেধা আছে। তাহলে তুমি এবার চিন্তা করে দেখ। প্রতিদিন, প্রতি মুহুর্তে ঐ গাছটার প্রধান মূল থেকে উপমূল, শাখা মূল, অর্থাৎ অসংখ্য আপডেটেড মূল বেরিয়েছে , না কি বের হয় নি ?

- হ্যা, হয়েছে তো । তাতে কি হয়েছে ?

এখন তুমিই বল, ঐ বট গাছটা যদি সিদ্ধান্ত নেয়, সে তার এত পূরণ ব্যাকডেটেড মূলকে আর রাখবে না। এটা সে উপড়ে ফেলে দিবে , তাহলে কি হবে ?

-এই তোমার উদাহরণ ? তা আবার হয় না কি ? প্রধান মূল না থাকলে তো ও নিজেই মরে যাবে ?

যথার্থ বুঝেছ। ঠিক যেমন একটা প্রায় মৃত গাছ দেখছি এখন আমার সামনে দাঁড়িয়ে । প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত একটু একটু করে যে তার নিজের মূল শেকড় কেটে কেবল আপডেটেড দুর্বল শাখা মূল , প্রশাখামূলের উপর তার গোটা জীবনকে ছেড়ে দিয়ে বাঁচতে চাইছে !

আচমকা বিদ্যুৎ চমকে গেল ফারহানের দৃষ্টির সীমানায় । কিছুক্ষণ এমনভাবে মৌন হয়ে রইল, যেন বজ্রপাত ঘটেছে তার মাথায় । তবে সহজে হার মানতে নারাজ সে । হঠাৎই বলে বসল ,
দাদু, তোমার সাবজেক্ট ফিলোসোফী ছিল, ঠিক না ?

না। হিস্ট্রী ।

-অ্যা ? মানে , আমি তো আর বট গাছ না। তুমি আমাকে এ নিয়ে আর জ্ঞান দিবে না তো, দাদু, আমার ভাল লাগে না।

এর পরে অনেকদিন আর দাদুর মুখোমুখি পড়েনি ফারহান । বোধহয় ঝামেলা এড়িয়ে চলছে । আর না হয় লজ্জায় মুখোমুখি হতে চায় না । তাই দাদুও আর এসব নিয়ে মাথা ঘামালেন না । তবে গভীর রাতে একান্ত নিরজনে সিজদায় পড়ে চোখের পানি ফেলে বলেন, হে আল্লাহ ! আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তুমি রক্ষা কর । সংসারের কারো সাথেই আর তার কথা বলতে ইচ্ছে হত না । বৌমাটা বড় বেয়াড়া । এভাবে চুপ-চাপ হয়ে যাওয়াটাও সে তার ইগোতে টেনে নিয়ে গায়ে পড়ে নানা রকম ঝামেলা পাকাতে চেয়েছে। শুরু থেকেই তার মতলব ছিল বুড়োকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর । কিন্তু ছেলে বলে কথা । কোনভাবেই বুঝতে দেয়া যাবে না যে এটা তার একক মাথা থেকে এসেছে । তাই সে বাবার হুকুমকে ভক্তিভরে মান্য করার ভান করত । একটু নাটকীয় কায়দায় আদর, শাসনের অভিনয় করতেও সে ভুল করত না । সে চাইত, উনি যখন তখন উনার খেয়াল-খূশীমত সিনক্রিয়েট করুক, হৈ চৈ করুক, পরিবেশটা উত্তপ্ত হোক । যাতে তার ছেলেই প্রস্তাব দেবে শান্তির স্বার্থে । ফারহানের দাদু তার বৌমার এ নাটকীয়তা বুঝতেন । অপেক্ষা করতেন, ছেলেটা তার কৌশল ধরতে পারে কি না । কিন্তু বেটা একেবারেই মেরুদন্ডহীন । কালক্রমে ছেলের এই ভদ্রতার লেবাস এবং এড়িয়ে চলার কৌশল উনাকে আরো আহত করে এবং তাঁর অভিমান পুঞ্জিভুত হতে থাকে ।

আমেরিকার ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব সিকাগো বুথ স্কুল অব বিজনেস’ থেকে ফিন্যান্স এ মাষ্টার্স শেষ করে “ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যস্বত্তভোগীদের নৈতিক দায়িত্ব ” এর উপর পি এইচ ডি করছে ফারহান । দাদুর শরীরটাতে এখন আর আগের মত তেজ নেই । ফারহানের অনেক নিষেধ স্বত্তেও তার বাবা মা দাদুকে ওল্ড হোমে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর সে সিদ্ধান্তের কারণে সেও জিদ করেছে, দেশে আর সে ফিরবে না। আমেরকায় লেখাপড়া করতে এসে ফারহানের প্রথম নয়ন থেকে ঘুমের ঘোরটা কাটতে শুরু করে। এখন তার থার্ড আইয়ের সার্পনেস অনেকটাই স্পষ্টতার দিকে এগুচ্ছে । দাদু যদি তাকে সেদিন বটের মূল বাঁচাবার পথটা না দেখিয়ে দিতেন, তাহলে আজকের ফারহান কোথায়, কোন অতল গহ্বরে যে তলিয়ে যেত, সেটি ভেবে তার দু’চোখের দ্বারপ্রান্ত ক্ষর-তরংগে ঝাপসা হয়ে আসে। তার জীবনের এত বড় বিপ্লব ঘটে যাওয়ার পরও তার বাবা মায়ের অন্ধত্ব তাকে আরো মর্মাহত করে তোলে । বাবা মায়ের প্রতি তার ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করতে চায় । কিন্তু বিচক্ষণ দাদু তা হতে দেন নি ।

-হ্যা, দাদু, আমাকে এখন দেখতে পাচ্ছ ?

পাগোল ছেলে । শুধু দাদুর মুখটা দেখবে বলে এত টাকা খরচ করে অতদূর থেকে এই ল্যাপটপ কিনে পাঠানোর কোন দরকার ছিল ? বেশতো ফোনে কথা হয় । তাই কি যথেষ্ট নয় ? কত কষ্ট করে টাকা রোজগার করে তোমাকে লেখা পড়া করতে হচ্ছে । তার মধ্যে এত টাকা ব্যয় করে ---

-ওহ ! দাদু , এ নিয়ে আর একটা কথাও তুমি বলবে না। তোমাকে কি করে বোঝাই দাদু,
কানে শোনার চেয়ে আমার পাঠশালার উপর আমার চোখ রাখা যে জরুরী । যাক , দেখ,
আমাকে পুরোপুরি দেখতে পাচ্ছ তো ?

হ্যা, এখানকার ডিরেক্টর সাহেব আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন । তবু ভুলে যাই । আর কত ! এ বয়সে কী আর স্কাইপে অপারেট করতে পারি ? এই দেখ, পাগোল ছেলে , আবার কাঁদছ ? তুমি যদি আবেগ পরিহার করতে না পার, তাহলে আমি কিন্তু আর স্কাইপেতে বসব না ।

-ও কে , দাদু । আসলে তোমাকে ওল্ড হোমে দেখব, এটা যে আমি সহ্য করতে পারি না।

উ-হু ! এ বিষয়ে আর একটা কথা না । দেখ, এভরি ইনডিভিজুয়েলকেই তার কর্মফলের হিসেব দিতে হবে, তাই না ? এ নিয়ে এত ভাবনার কি ? তুমি বুদ্ধিমান । তুমি কেন বুঝছ না ? তুমি কি মনে কর ? আমার কি কোন অপরাধ ছিল না ? আমিও কিন্তু আমার নিজের হিসেব নিয়ে আতংকিত। একটা করে মুহুর্ত পার হয়, আর এই আতংক আরো বেড়ে যায়। সুতরাং বুঝতেই পারছ । মানুষের কাজ হল সাবালেগ হবার পর থেকে একান্তই তার নিজেকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কেননা সে তখন কেবল একা তার নিজের জন্যই মানুষ নামের কাঠামোটা নয় । সে হয়ে উঠবে মানবতা, মানব কল্যাণ, সমাজ , রাষ্ট্র তথা বিশ্বসভার জন্য একটা ইনডিভিজুয়েল প্রতিষ্ঠান। তাকে কবরে যাবার আগেই যোগাড় করতে হবে সেই পাসপোর্ট। তাকে চিন্তা করতে হবে , একদিন সে কিছুই ছিল না। যতদিন বাঁচবে ততদিনই তার বর্তমান । আবার একসময় সে নাই হয়ে যাবে । এ জগতে চুড়ান্ত “না”তে পরিণত হয়ে অন্য আর এক জগতে ট্রান্সফার হয়ে যাওয়াই হল তার ভবিষ্যৎ । সুতরাং মানুষের হাতে সময় খুবই অল্প ।

-ওহ ! দাদু ! আমার তৃতীয় নয়নের আলোটা জ্বালিয়ে রাখতে তোমার মত এত বড় একটা সুপার পাওয়ার আল্লাহ আমার জন্য নির্বাচিত করে রেখেছিল, আমি কীভাবে যে তার শুকরিয়া আদায় করব, ভাষা খুঁজে পাই না।

এটা কেমন কথা বললে ? ছি ! তওবা কর । কত বড় একটা ভুল কথা বললে, আবেগের কাছে হার মেনে , ভেবে দেখেছ ?
-কোন কথাটা ? দাদু, বুঝতে পারলাম না ।
এই যে আমাকে বললে সুপার পাওয়ার । নাউযুবিল্লাহ । বল আমার সংগে । এত বড় কথা খোদ আমাদের নবী করিম (সঃ) বলার স্পর্ধা দেখাতে পেরেছিলেন কি ? তিনি মানুষকে শাহাদাতের মূল শিক্ষা দিয়ে গেছেন ” আশহাদু-আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু ্ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ্ওয়া রাসুলুহু” । মানে কি ? আমাদের নবীজি হলেন আগে গোলাম, তার পরে রাসুল । তাহলে ইসতেগফার কর । কথা বলার আগে আবেগ পরিহার করবে, সাবধানে কথা বলবে । সুপার পাওয়ার হলেন ঐ তিনিই । যিনি এই মহাজগতের সব কিছুরই শ্রষ্টা । কোন নবী রাসুলগণই সুপার পাওয়ার ছিলেন না, সেখানে আমরা তো কোন ছার !
-তওবা । তওবা । দাদু । দোয়া কর, যেন আর এমনটা না হয় । জান দাদু, আমি এদেশে এসে যেদিন বিল ক্লীনটনকে দেখলাম, তার গেটআপ দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম । আর সেদিনই আমি আমার সেই পোষাকের ফ্যাশন নামক লজ্জা থেকে নষ্কৃতি লাভ করতে অনুপ্রাণীত হলাম ।
কি রকম ?
-দেখলাম, উনার প্যান্ট এর নিচের অংশ পায়ের টাখনুর উপর পর্যন্ত । ঠিক যেমন করে আমাদের পবিত্র কোরআনে নির্দেশ করা হয়েছে । আমি যতবারই উনাকে দেখেছি, উনার পরিধেয় প্যান্ট ওরকমই দেখেছি। লজ্জা পেয়েছি সেদিনই । এ আমাদের বিধান । অহংকারকে নিবৃত্ত করে রাখার বিধান। অথচ আমরা কত নীচ, হীন !

আরো ব্যাপক লেখা পড়া কর । তোমার জ্ঞানের আলো আরো উজ্জ্বল হবে । আমি দোয়া করছি, দাদু, তুমি মানুষ নামের স্বার্থকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে । দেশে কবে আসছ ?
-মনে হয় আর আসব না, দাদু । পি এইচ ডি শেষে এখানেই জয়েন করব ভাবছি ।
সেটি কি ঠিক হবে ?
-খুব হবে । আর তখন আমার প্রথম কাজ হবে তোমাকে আমি আমার কাছে নিয়ে আসব।

পাগোল ছেলে । বাবা মাকে কষ্ট দিও না।

-দাদু, আমি ওদের কষ্ট দিতে চাচ্ছি না। ওরা তোমাকে যে কষ্ট দিয়েছে তার জবাব দিতে চাচ্ছি । আমাকে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত কর না দাদু ।

আরে , বোকা, সে দায়িত্ব তো তোমার নয় । তাদের দায়ভার যদি কিছু থাকে, তা তাদের, তুমি তাদের সন্তান । তাদের প্রতি তোমার যে বাধ্যতামূলক নির্দেশ রয়েছে, তা তোমাকে পালন করতেই হবে । আশা করি, তোমাকে এর বেশী ব্যাখ্যা দেবার দরকার হবে না । আর তা ছাড়া আমার যে জীবন প্রদীপ প্রায় নিভু নিভু । ঘাটের এ মড়াটাকে টানাটানি করার কোন দরকার আছে কি ?
- হুম ! সময় বলে দেবে । বিপ্লবী মন , সেখানে বইছে অশান্ত ঝড় । দেখি এ ঝড় কবে থামবে , প্রতিক্ষায় থাকব। কিন্তু ঐ নিভু নিভু বাতিটা যে আমার খুব প্রয়োজন, দাদু ! তুমি আমার জন্য এমন একজন সংগী নির্বাচন করবে, যার মাধ্যমে তোমার মত লাইট হাউস জনম জনম এ জগতে ফিরে ফিরে আসবে, নাহলে যে পৃথিবীটা আঁধারেই ছেয়ে যাবে দাদু !!