লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ এপ্রিল ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সমন্বিত স্কোর

৬.৩৮

বিচারক স্কোরঃ ৪.২২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftসবুজ (জুলাই ২০১২)

অবিন্যস্ত অরণ্য
সবুজ

সংখ্যা

মোট ভোট ৫৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৬.৩৮

জ্যোতি হাসান

comment ৩৮  favorite ০  import_contacts ১,২৭০
২০৫০ সালের কোন একদিন।
দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশে জমায়েত হয়েছে বিশ্বের বেশকয়েকজন নামকরা উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং জীববিজ্ঞানী। তারা আজ একত্র হয়ে তাদের সাফল্য উদযাপন করছে। কয়েক দশকের সাধনা আর পরিশ্রমের ফল আজ অর্জিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ক্রমাগত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে এমন এক বৃক্ষ যা কিনা পাল্টে দিবে সারা পৃথিবীর পরিবেশ, আবহাওয়া, সর্বোপরি বাড়িয়ে দিবে পৃথিবীর আয়ু!! নিশ্চিত করবে পৃথিবীর মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ নিরাপদ একটি পৃথিবী যেখানে থাকবে না কোন পরিবেশ দূষণ, চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা নির্মম আবহাওয়া। একই সাথে এই বৃক্ষ হবে যাবতীয় পাখ-পাখালির নিরাপদ আশ্রয়। এর সুমিষ্ট ফল, যা কিনা খাদ্যগুণে সমৃদ্ধ, হবে মানুষ-পাখি-ফলভুক প্রাণীদের আহারের প্রধান উৎস। সংবাদ শিকারি সাংবাদিকরা এরই মধ্যে বিজ্ঞানীদের গবেষণাগার ঘিরে ধরেছে। কোন বাঁধাই তারা মানবে না আজ, তাদের সাথে যোগ দিয়েছে উত্তেজিত জনতা যারা প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় বিরক্ত এবং রিক্ত। যদিও, দেশটির প্রধান স্বয়ং বিজ্ঞানীদেরকে সকল প্রকার নিরাপত্তা এই পর্যন্ত দিয়ে গেছে এবং এখনও সশস্র সেনাবাহিনী গবেষণাগারটিকে চারিদিক থেকে বেষ্টন করে রেখেছে কিন্তু জনগণ আর সাংবাদিকদের যৌথ বাহিনীর সংখ্যার কাছে তারা নগণ্য। বাধ্য হয়েই, বিজ্ঞানীদের প্রধান ডাঃ আলহান্ড্র সোলিস ঘণ্টা দুয়েকপর সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করলেন।

সারা পৃথিবী এখন কার্বনডাইঅক্সাইডের ভারে ধুঁকছে। পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ, গলে যাচ্ছে দুইমেরু অঞ্চলের বরফ...সমুদ্রে ইতিমধ্যেই বিলিন হয়েছে অসংখ্য দ্বীপ, লোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে হাজারের পর হাজার বর্গমাইল এলাকা। সারা বিশ্বে দেখা দেয়েছে অভাব, হাহাকার, আর অজানা রোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার, ইদানিং মানুষ আগামিকাল বাঁচার কথা আর চিন্তা করছে না। এমন পরিস্থিতিতে এইরকম জাদুকরি বৃক্ষ পাল্টে দিবে মানুষের স্বপ্ন, মানুষকে দিবে আগামির আশা। এইটুকুই চাওয়া আজকের মানুষের।

দেশটির প্রধান আবারো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পার্লামেন্ট ভবনে সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি দিয়ে। রাষ্ট্রপ্রধান নিজেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে বলে জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলনের স্থানে পৌঁছালেন বিজ্ঞানীদের দলটি।

পিনপতন নীরবতায় বক্তব্য রাখছেন ডাঃ আলহান্ড্র সোলিস, উনার হাতে একটি প্লাস্টিকের টাব আর তাতেই দৃঢ় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই শতাব্দীর সবচেয়ে চমকপ্রদ সাফল্য। পৃথিবীর শতকোটি মানুষ ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হয়ে থাকলো স্যাটেলাইটের কল্যাণে। “প্রিয় বিশ্ববাসী, আপনারা আমাদের অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা নিন। আজ আপনাদের জন্য আমাদের উপহার এই বিপ্লবী চারা, যাকে আদর করে আমরা নাম দিয়েছি O₂। আপনারা সবাই জানেন O₂ মানে অক্সিজেন, যেটা ছাড়া আমরা কেউই বাঁচতে পারি না। এই চারাটি আমাদের কয়েক দশকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। আমরা আশা করছি এর নামকরণ সার্থক হবে, শীঘ্রই O₂ বৃক্ষ ফিরিয়ে দিবে আমাদের চিরচেনা পৃথিবী। কেননা, O₂ বৃক্ষের রয়েছে অধিক হারে কার্বনডাইঅক্সাইড শোষণ করার অদ্বিতীয় ক্ষমতা!! এই চারাটির দিকে খেয়াল করুন, এর উচ্চতা এখন চার ইঞ্চি, ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই এটার উচ্চতা বেড়ে দাঁড়াবে আট ইঞ্চি। আমরা গবেষণায় পেয়েছি, যে কোন চারাগাছ খুবই নাজুক অবস্থায় থাকে প্রথম ২-৩ মাস। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চারাগাছ বেঁচে থাকে পারে না বৈরি অবস্থা আর আবহাওয়ার জন্য। আমরা তাই এমন ব্যবস্থা করেছি যেন, সাত থেকে আট ঘণ্টার ভিতরেই চারাটি অন্ততঃ তিন ফিট লম্বা হবে। যার ফলে, এর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে কয়েকশত গুণ।” ডাঃ আলহান্ড্র সোলিস এই পর্যন্ত বলে একটু থামলেন কেননা, চারাটি ইতিমধ্যেই ইঞ্চিখানেক বেড়েছে এবং উপস্থিত শত মানুষকে চমকিয়ে দিয়ে নতুন দুটি ডাল এবং চারটি কচি পাতাও চারাটি থেকে বেড়িয়েছে। পিছনের পর্দার শক্তিশালী ক্যামেরার বিশাল ছবিকেও অনেকেই বিশ্বাস করছে না, দর্শকদের মধ্যে গুঞ্জন উঠলো। ডাঃ আলহান্ড্র সোলিস আবারো তার কথার খেই ধরেন, “এই গাছটি অত্যন্ত শক্তিশালী, এর শিকড় মাটির খুব গভীরে পৌঁছে যায়, তা যেরকমই মাটি হোক না কেন! গভীরে প্রোথিত শিকড়ের কারনে মাটি ক্ষয় কমে যাবে। এটির উচ্চতা হবে প্রায় ষাট ফুট, অসম্ভব শক্তিশালী শিকরের-মূ্ল-কান্ডের কারনে এটিকে উপড়ে ফেলা হবে একপ্রকার অসম্ভব। শুধু তাই না, এই গাছটি হবে দীর্ঘায়ু এবং মৃত্যুকাল পর্যন্ত এটি বাড়বে। আমরা নিশ্চিত করেছি এর অগনিত শাখা-প্রশাখা এবং ঘন পল্লব...যার দরুন O₂ হবে ছায়া দানকারী বৃক্ষ। এর ফল হবে সুমিষ্ট এবং দ্রুতবর্ধনশীল। সারা বছর জুড়েই পাওয়া যাবে এর ফল। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ন বৈশিষ্ট্য সেটা হচ্ছে, এটার বংশবৃদ্ধি করার ক্ষমতা। আমরা O₂ কে দিয়েছি তিন ভাবে বংশবৃদ্ধি করার বিস্ময়কর ক্ষমতা!! এটির পরিণত একটি পাতা থেকে সৃষ্টি হবে কমপক্ষে দশটি O₂ চারা। এটির ফলের পাঁচটি বীজ থেকে জন্ম নিবে পাঁচটি চারা আর এটির একটি সতেজ ডাল রোপণ করা গেলে সেটিও খুব সহজেই একটি O₂ বৃক্ষ হয়ে উঠবে। O₂ বৃক্ষ হবে মজবুত কাঠের আঁধার। সবমিলিয়ে আমরা আশা করতে পারি O₂ বৃক্ষ তার নামের মতোই আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবে। পৃথিবীকে রক্ষা করবে বিষাক্ত গ্যাস থেকে, রক্ষা করবে নিশ্চিত ধ্বংস থেকে!!”

হতবাক সাংবাদিকরা কোন প্রশ্ন করতে ভুলে যায়, কেননা গাছটি এর মধ্যেই আবারো ইঞ্চিখানেক বেড়েছে এবং পাতার সংখ্যা হয়েছে দ্বিগুন।

২১৫০ সালের কোন একদিন।
প্রতিদিনের মতো আজও ত্রয়কার ঘুম ভাঙলো পাখির কিচিরমিচির আওয়াজে। দিনদিন যেন পাখিদের এই ডাকাডাকি বেড়েই চলছে। ত্রয়কা কিছুটা বিরক্ত হয়েই বিছানা ছাড়লো তারপর হাত মুখ না ধুয়েই রান্না ঘরের দিকে এগুলো...রান্নাঘরে মা-বাবার কথার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। ত্রয়কা রান্নাঘরে ঢুকতেই মা-বাবা তাদের কথা বন্ধ করে দিলো, ত্রয়কা বুঝলো মা-বাবা এতো সকালে এমন কিছু নিয়ে কথা বলছে, যা কিনা ত্রয়কাকে শোনানো এবং জানানো উচিত হবে না বলে তারা ভাবে। বাবা উৎফুল্ল গলায় বললো, “আরি বাব্বা, আমার সোনাবাবুটার ঘুম এতো সকালেই আজ ভেঙ্গে গেছে!! আয় বাবা, কিছুক্ষণ গল্প করি!!” মা চুপই থাকলো, খাবার তৈরির দিকে মন দিলো। ত্রয়কা ওর বাবার পাশের চেয়ারে বসলো। বাবা হাসিহাসি মুখে ত্রয়কার দিকে তাকিয়ে থাকলেও, ত্রয়কা বুঝতে পারলো মা-বাবা দুইজনই কিছু একটা নিয়ে চিন্তিত। বাবা আবার কথা বলে উঠলো, “কিরে, বুড়ো মানুষের মতো কপাল কুঁচকে রেখেছিস কেন?! কোন সমস্যা?! শরীর খারাপ লাগছে?! না আজ স্কুলে যেতে ইচ্ছা করছে না?!” ত্রয়কা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, প্রশ্ন ছুঁড়লো “আমি ঠিকই আছি, তোমাদের কি হয়েছে বাবা?! কয়েকদিন থেকেই দেখছি বসতির সবাই খুব চিন্তিত। কিছু হয়েছে আমি বুঝতে পারছি। আমাকে বলবে?!” বাবাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করা হলেও তীক্ষ্ণ স্বরে উত্তর দিলো মা, “কেন?! বসতির কেউ তোকে কিছু বলেছে নাকি?!” ত্রয়কা মাথা নাড়ে, মা আবার রাগান্বিত কণ্ঠে বলে, “সবকিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন দরকার নেই ত্রয়কা। তুমি ছোট, ছোটদের মতোই থাকো। যাও এখন হাত-মুখ ধুয়ে, চুল আঁচরে নাস্তা খেয়ে ত্রিয়াকে নিয়ে সকালের ঠাণ্ডা বাতাসে একটু বাইরে বেরিয়ে এসো। তারপর সোজা স্কুল!” ত্রয়কা মন খারাপ করে হাত-মুখ ধূতে গেলো, কিন্তু ওর মনে কোন সন্দেহ থাকলো না যে, কিছু একটাতো অবশ্যই হয়েছে কেননা, মা প্রচণ্ড রেগে গেছে...আর রেগে গেলেই মা ওদের দুই ভাইবোনকে তুমি করে বলে। তবে,মায়ের রাগের সাথে যে অনেকটাই ভয় মিশে ছিলো সেটা আট বছরের ত্রয়কা বূঝতে পারে না। ত্রয়কা তৈরি হয়ে রান্নাঘরে এসে দেখে তিন বছরের ত্রিয়াও তৈরি, বাইরে বেরুতে ত্রিয়ার অনেক উৎসাহ। সকালের ঠাণ্ডা বাতাসে, সবুজ ঘাসের মাঝে দৌড়াদৌড়ি করা আর বুনো কাঠবিড়ালির পিছু নেয়া ত্রিয়ার সবচে প্রিয় খেলা আর সাথে পাখিদের তাড়া করা তো আছেই। নাস্তা খেতে বসে ত্রয়কারা। নাস্তা দেখেই ত্রয়কার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সেই একই O₂ ফল আর ফলের রস, আর O₂ ফলের মোরব্বা। ত্রয়কার মনেহয় জন্মের পর থেকে ও O₂ ফল ছাড়া আর কিছুই খাচ্ছে না। ত্রয়কার চেহারা দেখে ওর মনের কথা বাবা বুঝতে পারে আর তাই বলে, “আজ দুপরে আমরা বনমোরগ খাবো, কি বলো বাবা?!” ত্রয়কা মিনমিন করে বলে, “বনমোরগের মাংসও খেতে O₂ ফলের মতো বাবা!!” দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বাবা বলে, “O₂ বৃক্ষের পাতা আর ফল ছাড়া কোন খাবারই নেই পশু-পাখিদের জন্য। সারা পৃথিবীতে এখন একটাই খাবারের উৎস আর সেটা হচ্ছে O₂ বৃক্ষ। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর পশু-পাখিরা এটাই খেয়ে আসছে আর তাই এদের মাংসের স্বাদও O₂ ফলের মতো!! অথচ পঞ্চাশ বছর আগেও গরু, ছাগল, হরিন আরও কতোশত প্রাণী যে ছিল, ঘাসের অভাবে সব হারিয়ে গেছে!! শুধু কি তাই?! কতো বড় বড় প্রাণী ছিলো যেমন, বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক...সবই বিলুপ্ত হয়েছে খাবারের অভাবে!!” মা বাবাকে তাড়া দেয়, “কি বক্তৃতা শুরু করলে?! মিটিং শুরু হয়ে যাবে, তাড়াতাড়ি খেয়ে উঠে সম্মেলনকক্ষে যাও!”

সাধারণত নাস্তা শেষ করে দুই ভাইবোনই যায় সকালের এই আনন্দ ভ্রমণে, সবসময়ি ওদের সাথে যোগ দেয় আশেপাশের সব ছোট বাচ্চারা। কখনো ওরা সবাই মিলে গাছে চড়ে, কখনো গাছের আড়ালে লুকোচুরি খেলে...ভালোই মজা করে ওরা। ত্রিয়া বাবার কোলে উঠে খুশিতে গান ধরে, পাখির কলকাললির মতো ত্রিয়ার অর্থহীন গানও শুনতে বিরক্ত লাগে ত্রয়কার। বাইরে আবারিত সবুজ, যতদূর দৃষ্টি যায়, শুধু সবুজ গাছ। সব একইরকম সবুজ ছায়াময় বিশাল বিশাল O₂ গাছ, অগুনিত পাখি, দিনমান ঠাণ্ডা বাতাস বয় এখানে। মাটিতে জন্মে শুধু শ্যাওলা, সূর্যের আলো O₂ গাছের ঘন পাতাকে ফাঁকি দিয়ে মাটি পর্যন্ত পৌঁছুতে পারে না...যার ফলে ঘাস বিলুপ্ত হয়েছে অনেক বছর আগেই। বিশাল বিশাল সেই ছায়াময় O₂ গাছের ফাঁকেফোঁকরে কোনরকমে বানানো কিছু ছোট ছোট ঘর, যেখানে বসবাস করে ত্রয়কাদের মতোই ছোট-সুন্দর পরিবার। দুরের থেকে দেখলে যে কেউই ভাববে,এটাতো বেহেস্তেরই অংশ। মানুষের হাতে গড়া পৃথিবী এতো সুন্দর, এতো শান্তিময়, এতো সবুজ হতে পারে না!! কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, অরণ্যটা কেমন যেন অবিন্যস্ত। কোথাও অন্য কোন রকমের ফল-ফুলের গাছ নেই। শুধুই O₂ গাছ আর এই গাছগুলোও কেমন যেন যেখানেসেখানে জন্মেছে। একচিলতে জায়গাও বাকি নেই, চারিদিকে শুধু O₂ বৃক্ষের দেয়াল। স্রষ্টার সব সৃষ্টিই যেন O₂ বৃক্ষে বিলীন হয়েছে।

সম্মেলনকক্ষ। ত্রয়কাদের বসতিতে রয়েছে পঁয়তাল্লিশটি পরিবার। সব পরিবারের প্রধানরা আজ, এখানে জমায়েত হয়েছে গোত্রপতির আমন্ত্রণে। গোত্রপতিকে গম্ভীর এবং চিন্তাক্লিষ্ট দেখাচ্ছে। ক্লান্তকণ্ঠে বক্তৃতা শুরু করে গোত্রপতি,“যা আমরা আশংকা করেছিলাম তাই হয়েছে। এই গাছগুলো থেকে আমাদের মুক্তি নেই। অরণ্য আমাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। O₂ বৃক্ষ বাঁচতে দেয়না অন্য কোন প্রজাতির গাছকে অথবা শস্যকে। মাটির গভীর থেকে এরা এমনভাবে রস শুষে নিয়েছে যে মাটি হয়ে উঠেছে একেবারে ঊষর-অনূর্বর-বন্ধ্যা। দিনদিন এদের সংখ্যা এমনভাবে বাড়ছে যে আমাদের সমাহিত করার স্থানও একসময় তাদের দখলে চলে যাবে!” সম্মেলনকক্ষে শোনা যায় সম্মিলিত গুঞ্জন। কেউ একজন প্রশ্ন করে, “আমাদের কি তাহলে কিছুই করার নেই!?!? এভাবেই কি বসে থেকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে?!” গোত্রপতির গলার স্বরে প্রতিফলিত হয় হাহাকার, “কে জানতো, যে বেহেশতেও মৃত্যুদূত তাড়া করে ফিরবে?! কে জানতো, প্রকৃতি আবার প্রতিশোধ নিবে?! কে জানতো, যে বৃক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছিলো পৃথিবীর যাবতীয় সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য, সেই বৃক্ষই পৃথিবীর সব সৃষ্টিকে একে একে ধ্বংস করে দিবে?!” সম্মেলনকক্ষে পিনপতন নীরবতা, সবাই মাথানিচু করে বসে থাকে। বাইরে হুহু করে বাতাস বয়ে যায়, পাখির কলতানে কান পাতা দায়, বিশাল বিশাল O₂ বৃক্ষগুলো সরসর শব্দ তুলে তাদের উপস্থিতির জানান দেয়!!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement