লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ এপ্রিল ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সমন্বিত স্কোর

৩.০২

বিচারক স্কোরঃ ২.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ০.৮৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - রমণী (ফেব্রুয়ারী ২০১৮)

মানুষীকতা
রমণী

সংখ্যা

মোট ভোট ১৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.০২

জ্যোতি হাসান

comment ২  favorite ০  import_contacts ২২৯
পূর্ণিমার ভালো লাগছে না, ভয় ভয় তো লাগছেই, সাথে কেমন যেন অসহায় অসহায় লাগছে। তার নিজের ছেলের উপর অনেক রাগও লাগছে। পূর্ণিমা বাসী তরকারী আর গরম ভাত নিয়ে তার স্বামীকে নাস্তা খাওয়াতে গেলো। পূর্ণিমার স্বামী শ্যামল আজ তিন দিন যাবত জ্বর নিয়ে বিছানায় পড়ে আছে, তাদের একমাত্র ছেলে দিপান বাবার এই শরীর খারাপ দেখেও ফিরে তাকায় নাই, বন্ধুদের সাথে সুন্দরবন ঘুরতে চলে গেছে। শ্যামল নদীর ঐপাড়ে, দূরে দূরে যেয়ে দুধ বিক্রি করে, প্রতিদিন প্রায় ত্রিশ লিটার দুধ তার সাইকেলে ঝুলিয়ে নিয়ে যায় আর বাসায় বাসায় দিয়ে আসে। কিন্তু গত তিনদিন যাবত শ্যামল দুধ দিতে যেতে পারছে না, একেতো ঘরে তেমন টাকা নাই, তার উপর সময়মতো গরুগুলোর দুধ না ধোয়ালে ওদের কষ্ট হয়। পূর্ণিমাদের বাড়ির আশে-পাশেই তাদের কিছু আত্মীয় স্বজন থাকে, তাদের মধ্যে থেকে একজন এসে আজ দুধ ধোয়ায় দিয়ে গেছে তিনদিন পর। এতো দুধ রাখার জায়গা নাই, তাই শ্যামল পূর্ণিমাকে দিয়ে নদীর ঐপাড়ে যেয়ে কিছু বাড়িতে দুধ দিয়ে কিছু টাকা নিয়ে আসতে বলেছে আর এতেই পূর্ণিমার হয়েছে যন্ত্রণা কারন নদীর ঐপাড়ের শহরে পূর্ণিমা কখনো একা যায় নাই, আর ঐদিকের রাস্তা-ঘাট কিছুই পূর্ণিমা চিনে না।
শ্যামলঃ “তোমার ভয়ের কুনু কিছুই নাই, তুমি নদী পার হইয়া রিসকা নিবা। রিসকা আলাই তোমারে নিয়া যাবো গুপিবাগ। এই খাতাট সব বাড়ির নাম্বার লিখা, আর টেকার পরিমাণ লিখা। তুমি যতগুলা বাসায় পারো দুধ দিয়া আসবা আর বাকি দুধ ফিরা নিয়া আসবা। দুধ দিবার সম ক্ষেমা চায়া কইবা আমার শরিল ভালা না, উঠার ক্ষেমটা নাই। ওরা মানুষ ভালা, কিছু টেকা দিয়া দিবো। বুঝলা?! অসতে দিরে ফিইরো, শমরিতা তোমারে রিসকা কইরা দিবো, বুঝলা?!”
পূর্ণিমা গলা শুঁকিয়ে কাঠ, ওর ইচ্ছা করছে ঘর-সংসার-স্বামী সব ফেলে অন্য কোথাও চলে যেতে। স্বামীর হিসাবের খাতাটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো, কেমন যেন ঘোরের মধ্যে চলে গেছে ও। এই সময় শমরিতার ডাকে ও জগৎ সংসারে ফিরলো।
শমরিতাঃ “কাকী, রেডি হইছো?! তাড়াতাড়ি করো...আমার স্কুলের টাইম হয়া গ্যাছে গা”।
শমরিতা ঐপারের জুবলি স্কুলে আয়ার কাজ করে। আজ পূর্ণিমাকে নিয়ে সে নদী পাড় হবে আর ঐপাড়ে পূর্ণিমাকে একটা রিক্সা ঠিক করে উঠিয়ে দিবে।
শ্যামল শমরিতার উদ্দেশ্যে বলে, “তোর কাকীরে ঠিকমতো রিসকাতে উঠায় দিস। ভালো চায় রিসকা নিবি।”
শমরিতা শ্যামলের উদ্দেশ্যে বলে, “কাকা তুমি ওষুধ খাইয়া ঘুমাও। ঘুম থেইকা উইঠা কাকীরে সামনে পাবা।”
মাথায় কাপড় দিয়ে, কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে পূর্ণিমা রানী দুধের বালতি হাতে নেয়, কাঁধের আধ ছেঁড়া ঝুলানো ব্যাগে হিসাবের খাতা। আজ একটিই ছোট ষ্টীলের বালতিতে দুধ নিয়েছে পূর্ণিমা। এমনিতে পূর্ণিমার স্বাস্থ্য ভালো না, পাঁচ সেরের মতো দুধ নিয়েই পূর্ণিমা কাঁত হয়ে গেছে, আসলে ওজনের থেকে বেশী ভয়ই ওকে কাবু করে ফেলেছে। দেবী দুর্গাকে স্মরণ করতে করতে পূর্ণিমা বাড়ি থেকে বের হয়।
শমরিতার সাথে নৌকায় উঠে বসে পূর্ণিমা, ছোট নৌকায় ভর্তি মানুষ। বেশীরভাগই ঐপাড়ে যাচ্ছে কাজে, চাকুরীতে। শমরিতা অনেক কথা বলে, কথা বলতে বলতে হেসে উঠে, নৌকার সব যাত্রীরাই নিজেদের মধ্যে গল্প করছে। ব্যতিক্রম শুধু পূর্ণিমা, পূর্ণিমার ইচ্ছা করছে এখুনি উড়ে তার বাসায় ফিরে যেতে, বাসা এতো দূরে কেন?! পূর্ণিমা ফেলে আসা ঘাটের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। নৌকা থেকে নেমে, হাজার মানুষের ভিড় ঠেলে, ভারী বালতি হাটে নিয়ে কখন কিভাবে পূর্ণিমা এইপাড়ের লালকুঠি ঘাটে এসে নেমেছে, সেটা ও নিজেই বুঝতে পারে না।
শমরিতা যখন ওকে ডাকে তখন ও তন্ময় অবস্থা থেকে ফিরে, “কাকী তোমার রিসকা। উইঠা পরো। দুধ দিয়া এই রিসকা আলার সাথেই এই ঘাটে আইবা। তারপর নৌকা পারি দিয়া বাড়িত যাইবা। খুব সোজা, ডরের কিছুই নাই। রিসকাআলা গুপিবাগ ভালো চিনে, একেবারে এইখানে নাইমাই ২০০ টেকা উনারে দিবা, বুঝসো?!”
২০০ টাকার কথা শুনে পূর্ণিমা অবাক হয়, ওর কাছে ২০০ টাকা “ম্যালা” টাকা। বিড়বিড় করে শমরিতাকে জিজ্ঞাসা করে, “কস কি ২০০ টেহা!? এদ্দুন রাস্তা!”
শমরিতা হেসে বলে, “তুমিতো কখনো ঐদিকে যাও নাই, তুমি জানো কেমতে? আর এই দাদু তোমার সাথে থাকবো সবসময়। তোমারে আবার ফিরায়া আনবো। কমই নিবো বুঝলা!” শমরিতা জুবলি স্কুলের বিল্ডিংটা দেখায় বলে, ঐ যে আমার স্কুল, সমিসস্যা হইলে গেটে আইসা আমার নাম কইবা, বুঝলা?!” রিক্সাওয়ালার উদ্দেশ্যে শমরিতা বলে, “দাদু বালতিটা উঠান দেখি, অসতে অসতে নিয়া যাবেন, কাকী কিন্তু রাস্তাঘাট চিনে না...তাই ঠিকমতো উনারে আবার এইহানে দিয়া যাবেন, বোজছেন?!”
শমরিতা পূর্ণিমাকে একপ্রকার ঠেলেই রিক্সাতে উঠিয়ে দেয়, পূর্ণিমা ফিসফিস করে বলে, “বাড়িত যামু!” হাজারো লোকের কথা, গাড়ির হর্ন, রেডিও এর আওয়াজে ওর হাহাকার কেউই শুনতে পায় না। রিক্সা চলতে শুরু করে, শমরিতা আরও কি কি যেনো পূর্ণিমার উদ্দেশ্যে বলে, পূর্ণিমা শুনতে পায় না। রিক্সাতে পূর্ণিমা নিশ্চল বসে থাকে, পায়ের কাছে দুধের বালতি, কোলে ব্যাগটাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।

রিক্সাওয়ালা বৃদ্ধ একজন মানুষ, পূর্ণিমার দিকে তাকিয়ে বলে, “আপনি কোন চিন্তা কইরেন না, মা জননী, আমার রিক্সা গুপিবাগের, ঐ দিকের সবকিছুই চেনা।”

রিক্সাওয়ালার মুখ ভর্তি দাঁড়ি, পরনের সাদা পাঞ্জাবি জায়গায় জায়গায় ছেঁড়া। পরনের লুঙি অনেক ব্যবহারে মলিন। রিক্সা ভিড়, জ্যাম ঠেলে আস্তে আস্তে এগুতে থাকে। পূর্ণিমার ভয় কাটে না বরং আরও বাড়তে থাকে, কেন জানি রিক্সাওয়ালাকে ওর মনেহয় খুনি ডাকাত, পরিষ্কার মুসলমান চেহারা দেখলেই মনেহয়। আর কে না জানে, মুসলমান ধনী হোক বা হোক ফকির, এরা পূর্ণিমাদের জাতের মানুষদের দেখতে পারে না, উল্টা সবসময় ক্ষতি করতে চায়।

ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকি লাগে, রিক্সাওয়ালা পিছনে ফিরে বলে, “রাস্তা সামনে আরও খারাপ, আপনি দুধের বালতি ধইরা শক্ত হয়া বসেন!”
পূর্ণিমা একটু কঠিন ভাষায় উত্তর দেয়, “আমার সাথে আফনার কোন কথার দরকার নাই। আফনে আফনার মতো রিসকা চালান, গুপিবাগ নিয়া যান...”

এই কথা বলতে বলতেই রিক্সা ভালো ধরনের ঝাঁকুনি খেলো, বালতিতে দুধ কানায় কানায় ভরা না থাকলেও ঢাকুনির ফাঁকা দিয়ে কিছু দুধ উথলে পড়লো। পূর্ণিমাও অনেক কষ্টে নিজের পতন ঠেকালো। কিছুটা বেকায়দাতে, একহাতে নীচে রাখা বালতি, আরেক হাতে রিক্সার হুড, ধরে বসে রইলো পূর্ণিমা। রিক্সাওয়ালা পিছন ফিরে দেখে বললো, “একটু টাইট হয়া বসেন মা জননী......পিসন থেকা গাড়ি-বাসও ধাক্কা দেয়......”

পূর্ণিমা আবারো শক্ত গলায় বলে, “আফনারে না কইসি আমার লগে আফনার কথা নাই, মুসলমানগুলা বড়ই জ্বালায়...” এই ধমক দেয়ার পর পূর্ণিমার ভয় কিছু হলেও কেটে যায়, মাথা ঘুরিয়ে আশে-পাশের বাড়িঘর-রাস্তাঘাট দেখে, কিছু কিছু বিল্ডিং চিনতেও পারে, বছর দুই আগে এইবার পূর্ণিমারা এই রাস্তা দিয়ে আসছিলো ডাক্তার দেখাতে।

রিক্সা কোর্ট কাচারি এলাকায় পৌঁছায়, সামনে গাড়ি-বাস-ট্রাক-রিক্সা-সাইকেল-বাইক-ঠেলা-গাড়ি সব কিছু মিলিয়ে এলাহি অবস্থা, ভালো রকমের জ্যাম। রিক্সাতে চুপচাপ বসে থাকে পূর্ণিমা, মাথার উপরে কড়া রোদ। অনেকটা সময় পেরিয়ে যায় কিন্তু জ্যামের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। পূর্ণিমা এখনকার অবস্থা নিয়ে চিন্তিত, আর কতক্ষণ এইভাবে ওকে বসে থাকতে হবে...ওর ডান হাত ইতিমধ্যেই অবশ হয়ে আসছে। রিক্সা ওয়ালা সিট থেকে নেমে, পূর্ণিমার মাথার উপরে হুড টেনে দেয়, তারপর রাস্তার পাশের ছায়ায় অন্য রিক্সা ওয়ালাদের সাথে যেয়ে দাঁড়ায়। হুড উঠানোর পর রোদের থেকে পূর্ণিমার আরাম মেলে, দূর থেকে সে রিক্সাওয়ালাকে লক্ষ্য করতে থাকে, আচ্ছা, কেন জানি ঐ বুড়া লোকটিকে দেখতে পূর্ণিমার অনেক কাল আগে মারা যাওয়া সবচেয়ে বড় ভাইয়ের মতো দেখায়। পূর্ণিমার ঐ বড় ভাইটি গান-বাজনা করতো। ঐ ভাইটির অনেক বড় দাঁড়ি ছিলো, এই লোকটিরও বড় দাঁড়ি, কিন্তু ওর বড় ভাইয়ের দাঁড়ি কুচকুচে কালো ছিলো, আর এই লোকটির দাঁড়ি ধবধবা সাদা, লম্বা দুইজনের একই রকম, শরীরের গঠনও কিছুটা মিলে কিন্তু চেহারার কোন মিলই নাই। পূর্ণিমার বড় ভাইয়ের চেহারা ছিল গোলগাল, চেহারাতে ছিলো মায়া আর এই রিক্সা ওয়ালার চেহারাতে নেই কোন নক্সা, কিন্তু তারপরও কোথায় জানি পূর্ণিমা কিছু মিল পায়।

রিক্সাওয়ালার কথাতে পূর্ণিমার চিন্তায় ব্যঘাত ঘটে, “সামনে গোলমাল হইতে পারে, অনেক পুলিশ আসছে...কোন নেতারে জানি কোটে আনছে তাই, অহন কি যেহান থেইকা আছসেন ঐহানে আপনারে দিয়া আসমু নাকি অন্য রাস্তা দিয়া নিয়া যামু......”

পূর্ণিমা সামনে গাড়ি ঘোড়ার জট ছাড়া কিছুই দেখতে পায় না, অবশ্য কোন কোন গাড়ি রিক্সা তাদের নাক ঘুরিয়ে অন্য দিকে রওনা দিয়েছে। পূর্ণিমা উত্তর দেয়, “গুপিবাগ না কই... ঐখানে পৌঁছান লাগবোই, অন্য রাস্তা দিয়া নিয়া যান...আপনার আবার অন্য কোন মতলব নাই ত...দেইখেন কইলাম, নইলে পুলিশরে সাথে সাথে মোবাইল কইরা দিমু.....আমার ব্যাগে মোবাইল আছে...”

রিক্সাওয়ালা এই প্রথমবার বিরক্ত হয়ে পূর্ণিমার দিকে তাকিয়ে বলে, “মতলব আবার কি? আপনারে পৌঁছায় দিয়া ভাড়ার টেকা নিমু আর পুলিশের ভয় কারে দেখান......দিনরাত পুলিশরে টক্কর মাইরা চলি, মানুষরে কি ভাবেন আপনে?! যতোসব পাগল ছাগল মহিলা......” কিন্তু কথা আর বাড়ায় না, সবার সাথে সাথে রিক্সা ঘুরায়...।

পূর্ণিমার কাছে আসলে কোন মোবাইল ফোন নাই, ওদের বাড়িতে একটাই মোবাইল ফোন, সেটা এখন তাদের ছেলে দিপানের কাছে আছে। পূর্ণিমা রিক্সাওয়ালাকে ভয় দেখাতেই মোবাইল ফোনের কথা বলেছে। পূর্ণিমার রিক্সা গলিপথ ধরে আগাতে থাকে, গলিতে পুরানো আমলের বাড়ি দেখতে দেখতে পূর্ণিমা যেতে থাকে, নিজের বাড়ির কথা এখন আর মনে পড়ছে না।

হঠাৎই পিছন থেকে একসাথে অনেক চিৎকার শোনা যায়, আর সাথে পটকা-বোমা ফুটার আওয়াজ, পূর্ণিমা মাথা ঘুরিয়ে হুডের ভিতর দিয়ে পিছনে দেখতে চেষ্টা করে কিন্তু একহাতে বালতি ধরে রেখে, পিছনের দিকে দেখতে খুব একটা সফল হয় না। কিছু ছেলে দৌড়িয়ে আসে এবং আসে-পাশের দোকানের ঝাঁপি-শাটারগুলো বন্ধ হতে থাকে। সাথে সাথেই বিকট আওয়াজ হয়... লোকজন বলাবলি করতে থাকে নিশ্চয়ই পুলিশ “ফায়ার ওপেন” করেছে। পূর্ণিমা কথাগুলো না বুঝতে পাড়লেও এটা বুঝে পরিস্থিতি খারাপ। রিক্সাওয়ালা মাথা ঘুরিয়ে বলে, “মনেহয় অবস্থা খারাপ, পুলিশ গুলি করতাসে, আপনারে নিয়ে যে কই যাই এহন......”

পূর্ণিমা দেখে আশেপাশের রিক্সাগুলো হঠাৎ করে যেন গায়েব হয়ে গেলো...রাস্তা ঘাট হয়ে গেলো খালি...পূর্ণিমার ভয় আবার ফিরত আসলো, “এখন কি হবে ভাই?!” মুখ শুঁকিয়ে গেছে পূর্ণিমার।

কিছু বুঝার আগেই চারপাশ থেকে অনেক মানুষের দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়, সাথে শোনা যায় পুলিশের বাঁশির আওয়াজ। আবার গুলির আওয়াজ, রিক্সাওয়ালা রিক্সা থেকে নেমে গলির একপাশে রিক্সা রাখে, পূর্ণিমার শুকনা মুখ দেখে অভয় দেয়, “আমাদের কিছু হইবে না, গরীব মানুষ আমরা...আপনে ভয় পায়েন না মা জননী...... গরীব মানুষরে দেহে আল্লাহ্‌...”

রিক্সাওয়ালা তার কথা শেষ করেছে কি করে নাই এই সময় কোথা থেকে একটা গুলি এসে রিক্সাওয়ালার কাঁধে লাগে, শুধু “ইন্না লিল্লাহ” বলে রিক্সাওয়ালা তার রিক্সা ধরে মাটিতে বসে পড়ে। দেখতে দেখতে তার সাদা পাঞ্জাবি লাল হয়ে যায়, রিক্সাওয়ালা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তার রিক্সাটা দুইহাত দিয়ে ধরে রাখে। পূর্ণিমা রিক্সা থেকে নেমে এসে রিকশাওয়ালার পাশে বসে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে...বিড়বিড় করে কিছু বলছে দুইজনই।

কতক্ষণ সময় কেটেছে পূর্ণিমা জানে না, এখন রিক্সাওয়ালা অজ্ঞান, পুরো ভর সে দিয়ে রেখেছে পূর্ণিমার উপর। একজন পুলিশ এসে পূর্ণিমাকে ব্যস্ত হয়ে বলে, “ এই যে মহিলা, আপনি আমার সাথে এখুনি আসেন, আবার পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে......আপনাকে নিরাপদ কোন জায়গায় নিয়ে যাই......Quick, hurry up….”

পূর্ণিমা নিচু অথচ দৃঢ় স্বরে জবাব দেয়, “আমি এনারে রাইখা কোথাও যামু না......”

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • প্রজ্ঞা  মৌসুমী
    প্রজ্ঞা মৌসুমী হিন্দু-মুসলিমের বিরূপ মানসিকতা যতটা বিরক্তির উদ্রেক করেছে, গল্পের শেষটা ঠিক ততটাই ভালো লাগা দিয়েছে। দাড়ি-তে চন্দ্রবিন্দু দিতে হয় না জানি। আর আমাদের অনেক শব্দও তো হিন্দু-মুসলিম হয়ে গেছে। বয়সে ছোট হলে হিন্দু বোনেরা 'ভাই' বলে, আর 'বড় ভাই' এর বেলা 'বড়'দা' শব...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৩ ফেব্রুয়ারী
  • মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া
    মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া এরাই লালনের সহজ মানুষ। ভালো লাগল গল্পটি। পাঠকের চেতনাকে অমন সহজ মানুষদের পরিণতি বারবার নাড়া দেয়। পছন্দ, ভোট ও শুভকামনা রইল। সময় পেলে আসবেন আমার পাতায়। মতামত জানালে অনুপ্রাণিত হবো।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৫ ফেব্রুয়ারী

advertisement