লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪
গল্প/কবিতা: ১৪টি

সমন্বিত স্কোর

৬.৩২

বিচারক স্কোরঃ ৪.০৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশাড়ী (সেপ্টেম্বর ২০১২)

লাল শাড়ী
শাড়ী

সংখ্যা

মোট ভোট ১৪৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৬.৩২

টিটু

comment ৫০  favorite ১  import_contacts ২,২৫৬
হাসি-খুশি ভাব। ফুরফুরে মন। ভালোলাগা এক নতুন অনুভূতি। জীবনের প্রথম পাত্রী দেখতে আসা। নদী এলাকা। বর্ষাকালে নৌকাই একমাত্র বাহন। তাকে দেখতে এসেছি সে জানে। সে আমার সাথে কথা বলে, মিশে । নৌকায় তুলে ঘুরে বেড়ায়।

ভাইয়া উঠেন কত ঘুমান, উঠেন ভাইয়া। আমি উঠে চুপচাপ বসে থাকি। সে একটি গামছা দাঁত মাজার পাউডার আর এক জগ পানি রেখে বলে। এই যে দাঁত মাজুনি। মুখ ধুয়ে নেন। সকালে ডাকা-ডাকিতে ঘুম ভাঙ্গে। গত রাতে তার খালুর সাথে এ বাড়িতে এসেছি। ও তখন ঘুমিয়ে ছিল। তারা আমার আত্মীয় হলেও আগে আমাদের দেখা হয়নি। পাত্রী দেখার উদ্দেশ্যে বেড়াতে আসা। ঘুম থেকে উঠে এই প্রথম সাক্ষাত।

গত রাতের আকাশ ছিল পরিষ্কার। স্বচ্ছ জ্যোৎস্নাময়ী। অনেক বাঁক মোড় পেড়িয়ে, দুলতে দুলতে উঠেছি এ বাড়ির ঘাটে। ঘুম থেকে উঠার পরও দোলনার মতো লাগছে। মাথা ঘুরছে। সকালে পূব আকাশে উদিয়মান লাল সূর্যটা দেখে দিক ঠিক করেছি। কম্পাস নষ্ট হওয়া দিক ভুলা নাবিকের মতো। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় পানির জগৎ। নাস্তা শেষ করে চুপচাপ বসে বিয়ের ভবিষ্যৎ ভাবছিলাম। সেই মুহূর্তে মেয়েটি এসে বলে ভাইয়া চলেন কোষা নিয়া ঘুরতে যাই। কি ? মেয়েটি কি বলে ? আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে কোষা করে। আমি হত-ভম্ব হয়ে যাই। তার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে আনি। মেয়েটিতো বেশ। স্লিম ফর্সা চটপটে হাসি খুশি। আমি চুপ থাকায় সে আবারও বলে - ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগবে না। আমার কোন সারা না পোয়ে সে চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর তার মা আসে। তার মা বলে, যাওনা বাবা ঘুরে আস। এখন চার পাশে পানি ছাড়া আর কিছু নেই। বলতেগেলে বছরে চারপাঁচ মাস আমরা পানিতেই বাস করি। কতক্ষণ ঘরে বসে থাকবা। ঘরে বেশী ক্ষণ ভালো লাগবে না। যাও ঘুরে আস ভালো লাগবে। বলে সে চলে যায়।

চারি দিকে পানি। কোথাও উঁচু জায়গা নেই। বাড়ির চারপাশে যে জমি আছে সব পানির নীচে। উঁচা বলতে শুধু বাড়ি। দুই সারিতে ঘর। মাঝখানে উঠোন। ঘর উঠোন ছাড়া যাওয়ার কোন স্থান নেই। পানি কমলে প্রতিটি বাড়ি নাকি পাহাড়ের মতো উঁচা লাগে। ঐ এলাকার সব বাড়ির একি অবস্থা। পানি বাড়ার সাথে সাথে মানুষ গুলো ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে যায়। হয়তো তাই তাদের মন আনচান করে কোথাও যাওয়ার জন্য। এতক্ষণ তার কথা মতো কাজ করলেও আমি কোন কথা বলিনি। ইতস্থত লাগছিল। মৌন-ভঙ্গ করে জিজ্ঞেস করি। তোমার নাম কি ? শবনম - ছোট্ট করে উত্তর দেয়। কোন ক্লাসে পড়?

কচুরিপানার মাঝদিয়ে শবনম আস্তে আস্তে কোষাটি নিয়ে যায়। তার চেয়েও ধীর গতিতে চলে আমাদের কথা। আমাকে বলে ভাইয়া আপনি কোষা বাইতে পারেন না। আমি বলি না। আপনি কোষা বাইতে পারেন না ? বলে হাসতে থাকে। আমি লজ্জায় পরি। তার হাসি দেখে মনে হয় আমি বড় অকর্মা। কেন যে কোষা বাইতে পারি না। আপনাদের বাড়ির পাশে নদী নাই? আমি আবারও বলি না। তার পর সে বলে ওহ্ তাহলেতো আপনি মাছও ধরতে জানেন না। আমি বলি - মাছ ধরতে জানি। কিন্তু কোষা . . . .

দূরে হাত বাড়িয়ে বলে। ভাইয়া ওইযে বড় বড় টিনের ঘর দেখা যায়, ঐটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় হাট। আমরা সেখানেই বাজার করি। পানিতে অনেক কারেন্ট জাল পাতা। তাই সে দেখে দেখে কোষা চালায়। কোষায় করে কিছু মানুষ মাছ ধরছে। আমি একটি কোষা দেখিয়ে বলি। শবনম দেখ মেয়েরাও মাছ ধরছে। এবার সে আশ্চার্য হয়। বলে , আমরা সবাই মাছ ধরতে পারি। কারেন্ট জাল বরশি ঝাকিজাল দিয়েও মাঝ ধরতে পারি। আমি মহা আশ্চার্য হয়ে বলি তাই না কি ? শবনম আমার কথায় হাসে। বার বার আমার দিকে তাকিয়ে কথা বলে। আমি তাকালে তার চোখে চোখ পড়ে যায়। তার চোখের দিকে আমি তাকাতে পারি না। আমার বুকের ভিতরে ধুকধুক করে। সে অন্য দিকে তাকালে আমি তাকে চোরা চোখে দেখি।

বাড়ির লোকেরা কিনা কি ভাবে আমার সে চিন্তা হয়। তাই কম মেশার চেষ্টা করি। কমকম কথা বলি। তার মুখে কথার খৈ ফুটে। পাত্র ভেবে যতটুকু লজ্জা থাকার কথা তাতো নেইই, বাড়িতে মেহমান আসলে যেটুকু লজ্জা তাও নেই। বরং আরো বেশী আনন্দ উৎফুল্ল তার মন। মাঝে মাঝে ভাবি, কি জানি কেমন মেয়ে। কোন জাতের। লজ্জা শরম কি কিছুই নাই। নাকি এই এলাকার মেয়েরাই এরকম। আজকেই চলে যাব। এমন বাড়িতে এমন বেহায়া মেয়েকে বিয়ে করব না। এমন সিন্ধান্তও নিয়েছিলাম একবার।

বাড়ির কেউ তাকে বাড়ন করে না। আরো বলেদেয় যাও তোমার ভাইয়াকে নিয়ে ঘুরে আস। কোনদিন আসে নাই। তারাতো আর এভাবে ঘরে বসে থাকে না। আমি অবাক হই। বলে কি ? আমি এ বাড়িতে নতুন। তার পর আবার পাত্র। যে মেয়েকে দেখতে এসেছি সেই কিনা আমাকে নিয়ে ঘুরে। এ বাড়ির লোকেরাও ঘুরতে বলে। আশ্চার্য তো। পাশের বাড়ির লোকেরা এসেও তাকিয়ে থাকে। কানাকানি করে। একটা ফাঁপরে পড়ে যাই।

খাওয়া-দাওয়া সেরে বাকী সময় খেলা নয় ঘুরা। একটু আগেও একবার বলেছিল যাওয়ার জন্য। তার মা বলে আজ আর ঘুরতে যাওয়ার দরকার নেই বিকাল পড়ে গেছে। কাল যেও। তোমার ভাইয়াকে এখানে একটা পাটি এনে দাও।

উঠানে নাড়কেল গাছের নীচে আমরা বসি। নাড়কেল মুড়ি খাই আর লুডু খেলি। প্রতি বাড়িতেই লুডু আছে। রান্নাবান্না ছাড়া সারাদিন তেমন কোন কাজ নেই। ঘর উঠোন ছাড়া যাওয়ার জায়গা নেই। অলস সময় কাটানোর জন্য প্রতি বাড়িতেই চলে এই একটি মাত্র সহজ খেলা। বাচ্চা ছেলেদের মতো সোজাসুজি বলেদেয়, আমি ভাইয়ার সাথে খেলব। তোমরা কে কে খেলবা। এখানে লোক সংখ্যাও কম না। খেলার লোক সব সময়ই থাকে। আমি চুপ থাকি। আমার সাথী হয়ে খেললে তার আত্ম বিশ্বাস বেড়ে যায়। দুই ছক্কা পাঁচ এক ছক্কা কানা, সব ঘর তার মুখস্ত। আমার ঘুটিগুলো সে মুখস্ত চাল দেয়। সামনের কোন ঘুটি খেতে হলে কত কত পয়েন্ট লাগবে তাও তার জানা। আমি ছোট কৌটার ভিতর ঘটঘট নেড়ে ছক্কা চালার সময় সে জপতে থাকে - ভাইয়া একছক্কা পাঁচ একছক্কা পাঁচ। অথবা একছক্কা কানা একছক্কা কানা। বিপক্ষের কোন ঘুটি খাওয়া পড়লে খুব করে হাসে। ঘুটি চালার সময় আমি মুগ্ধ হয়ে তার সুন্দর চিকন চিকন আঙ্গুলের খেলা দেখি।

দুদিনেই তার প্রতি দূর্বল হয়ে যাই। তার সঙ্গ আমার খুব ভালো লাগে। তার কথা বলা, হাসি চাহনি ছেলে-মানুষি। তার সাথে ঘুরাঘুরি লুডু খেলা সব আমার মনের সাথে মিশে গেছে। বিশেষ করে আমার প্রতি তার সার্বক্ষণিক খেয়াল আমাকে বার বার মুগ্ধ করে। কোন প্রয়োজন ছাড়া সেও আলাদা হতে চায় না। সে যখন কাছে না থাকে তখন আমার খুব একা একা লাগে। তার অভাব অনুভব করি। সে কোথায় আছে তার অবস্থান জানতে আমার কান দুটো খাড়া হয়ে থাকে, কণ্ঠ শোনার জন্য। মাঝে মাঝে কল্পনার জগতে হারিয়ে যাই। মনে হয় আমাকে ডাকছে। তার জন্য মন ব্যকুল হয়ে পরে। তার অছিলায় চার দিকে থৈ-থৈ পানির মধ্যে বৈঠা হীন ভেলার মতো একচিলতে এই বাড়িটা আমার কাছে অনেক দিনের চেনা মনে হয়। বাড়ির মানুষ গুলোও মনে হয় কত আপন। আমার একটি মাত্র মন। তাকে আরো কাছে পেতে চায়। অনন্ত কালের সাথী হওয়ার বাসনা জাগে।


তাদের সরল মানসিকতা আর বিশ্বাস দেখে। আমার ভূল ধারণা ভেঙ্গে যায়। মানুষ এখনো এত ভালো হয়। কদিনেই আমাকে বাড়ির সবাই আপন করে নেয়। বুঝি এ বেহায়াপনা নয়। সরল মনে মানুষের প্রতি অকৃত্তিম ভালোবাসা। তাদের সহজ সরল মন আমাকে আপন করে নিয়েছে। আমিও বুঝি তাদের অসাধারণ মন মানসিকতা । এও বুঝতে পারি তারা আমাকে খুব পছন্দ করেছে। আমার হাতে শবনমকে তুলে দিতে আপত্তি নেই।

তার বাবা থাকে দেশের বাহিরে। বাড়িতে আর কোন পুরুষ মানুষ নেই। বাজারের দায়িত্ব পরে তার খালুর উপর। আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই আজ সারাদিন লুডু খেলব। কিন্তু শবনম আমাকে নিয়ে যেতে চায় বাজারে। তার প্রতি এখন আমার প্রচন্ড দূর্বলতা। তাই না বলতে পারিনি।

হাট স্কুল একি সাথে নদীর পাড়ে। শবনম আমাকে বাজার ঘুরিয়ে দেখাতে থাকে। স্কুলের মাঠে গিয়ে বলে এই আমাদের হাই স্কুল। আমিও তার সাথে ঘুরতে ঘুরতে কেমন এক ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করি শবনম কি খাবে ? না কিছু খাব না। চল মিষ্টির দোকানে যাই। শবনম চুপ হয়ে থাকে। খাওয়া শেষে জিজ্ঞেস করি তোমার কিছু লাগবে ? সে আমাকে উল্টো প্রশ্নের সুরে জবাব দেয় কি লাগবে ? আমতা আমতা করে বলি, না মানে তোমার কোন জিনিস পছন্দ হয় কি না। চল কসমেটিক্স্ দেখি। শবনম বলে না ভাইয়া আমার কসমেটিক্স্ আছে কিছু লাগবে না। আমি বলি চলনা যাই দেখি। তার হাত ধরে নিয়ে যাই এক দোকানে। এই প্রথম তার হাত ধরে আমি শিউরে উঠি। অন্য এক অনুভূতি আমাকে ছুঁয়ে যায়। কান ভোঁভোঁ করতে থাকে। সে কোন জিনিস ধরছে না। আমি এটা কি ওটা কি জিজ্ঞেস করে প্যাকেট করতে বলি। দোকানীকে প্যাকেট করতে না দিয়ে শেষে শবনম নিজেই পছন্দ করে দেয়। ওর হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে কোন জিনিস দেখা পছন্দ করা। আমাকে মোহিত করে। মুগ্ধ হয়ে দেখি পিছনে দাঁড়িয়ে।

আমার ভিতরে প্রচন্ড রকম এক অনুভূতি কাজ করে। প্রতিটা মুহূর্ত সুখানুভূতি। আমার শরীর বেয়ে ঘাম ঝড়ে। শবনম আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ভাইয়া আপনি এত ঘামছেন কেন? হাটতে খুব কষ্ট হচ্ছে ? আমি বলি না কষ্ট হবে কেন? দেখ আর কি পছন্দ হয়। সে বলে আমার সব নেওয়া শেষ, চলেন যাই। তারপর নিয়ে যাই একটি শাড়ীর দোকানে। দেখতো তোমার কোনটা পছন্দ হয়। সে হাসতে হাসতে বলে ভাইয়া আমার শাড়ী লাগবে না। আমি শাড়ী পড়ি না। আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলি। তার মুখের দিকে তাকাতে পারি না। অবচেতন মনে কি বলেছিলাম মনে নেই। তার পর হাতে পাই একটি প্যাকেট। খুঁজে বের করে তার খালুকে। শবনম চুপকরে বসে থাকে বাড়ির ঘাট পর্যন্ত।

পরের দিন সন্ধায় তার এক বান্ধবীর বাড়িতে নিয়ে যাবে। আমাকে তৈরী হতে বলে। শাড়ী পড়ে আমার কাছে আসতে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। চুল গুলো ছাড়া। দুকান বেয়ে পিঠের উপর লেপটে আছে। লাল শাড়ী পড়ে লাজুক হাসিতে দারুণ লাগে। আমি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকি। প্রথম একটু ইতস্থত করলেও পরে তার মনের সব বাঁধা ভেঙ্গেচুরে আমার কাছে আসে। মনে হয় এটাই একজন মেয়ে মানুষের চাওয়া। পরম পাওয়া জীবনের স্থান । পূর্বজনমে সে আমার ছিল। এখন ইহ কালে প্রত্যাবর্তন। যত দূর হোক যত বাঁধাই থাকুক তাকে যে আসতেই হবে। তার ঘন কালো টলটলে চোখে ফোটে সূর্যের হাসি। ঠোঁটে লাল গোলাপের বাহার। ঘাটের পুরনো ভাঙ্গা কোষাটি নিয়ে তার চাচার বাড়ি থেকে তাদের ভালো কোষাটি আনতে রওনা দিয়ে বলে, ভাইয়া আপনি বসেন আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসব।

তার শাড়ী পড়া দেখে বুঝি সে সচরাচর শাড়ী পড়ে না। আঁচল ঠিক রাখতে পারে না। নতুন শাড়ী পড়ে এলোমেলো হাটা দারুণ লাগে। আগে যেতে রাজি না হলেও এখন তার সাথে যেতে আমার তর সইছে না। আমার বুকের মধ্যে বিশ্বাস জাগে সে আমার। শুধুই আমার। বসন্ত কালে ফুটন্ত ফুলের মতো আমার শূন্য হৃদয় ফুলে ফুলে ভরে উঠে। সুবাসে আমার হৃদয় আঙ্গিনা মেতে উঠে। খুব আপন মনে হয়। খুঁশিতে আত্মহারা হয়ে অস্ফুট স্বরে বলি আচ্ছা তাড়াতাড়ি আস। আমি চেয়ে থাকি তার মুখের দিকে। আমার দিকে তাকিয়ে কচুরিপানার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে শবনম একটি ঘরের পিছনে আড়াল হয়ে যায়।

আজ পূর্ণিমা। থৈ-থে জলে নেমে আসবে চিকচিকে চাঁদের আলো। দুজনে আজ অনেক ঘুরে বেড়াব। দু’হাতে ধরে গায়ে মাখব চাঁদের আলো।

আনচান করে মন রঙে রঙ্গিন, নিরঞ্জন।
নিঃস্থব্ধ চারপাশ, আজ হবে নৌকা-বিলাস।

তাকে নিয়ে আমি আকাশের নীচে পানির উপড়ে চাঁদের আলোয় ভাসতে থাকি। হাত ধরে উড়ে বেড়াই কল্পনার রাজ্যে।

অনেক ক্ষণ হয়ে যায়। শবনম ফিরে আসে না। আমি ব্যাকুল হয়ে উঠি। তার ছোট ভাইকে বলি নিয়ে আসতে। অন্য একটি কোষা নিয়ে শবনমকে আনতে যাওয়ার সময় তার কান্নায় ছুটে যাই।

শবনমের নিথর মুখের দিকে হতবল হয়ে তাকিয়ে থাকি। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে। দুচোখে ঝাপসা দেখি। স্তব্ধ হয়ে যাই। হৃদয়ের মণি কোঠায় বাজে করুণ সুর। যেখানে শবনম ছোট্ট একটি ঘর বনিয়ে ছিল। সে ঘর থেকে কানে ভেসে আসে তার কণ্ঠের আকুতি ভরা মিনতি। ব্যকুল সুরে ডাকছে আমাকে - ভাইয়া আমি ডুবে যাচ্ছি শাড়ী আটকে গেছে। আমাকে ধরেন আমাকে বাঁচান ভাইয়া আমাকে বাঁচান।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement