লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ মার্চ ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ১১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগর্ব (অক্টোবর ২০১১)

অপরাজিতা
গর্ব

সংখ্যা

অনন্ত হৃদয়

comment ১৭  favorite ১  import_contacts ১,০৮৬
কি ব্যাপার আলো , তোমার মুখটা এমন মলিন হয়ে আছে কেন। কি হয়েছে ? অনু আর আলো হাঁটতে হাঁটতে সী-বিচের পশ্চিমে কিছুটা নিরিবীলি জায়গায় এসে দাঁড়াল। বাতাসে আলোর কাঁধ ছোয়া চুলগুলো উড়ে এসে নত মুখে আছড়ে পড়ছে।
না তেমন কিছু হয়নি। অনু আর আলো একটা বড় পাথরের উপর পাশাপাশি বসল।
কিছু যদি নাই হবে তবে আমার আলোর মুখে কেন এতো বিষ্ময়ের কালিমা ? তুমি আমায় বলবে না ?
বাবা-মা আমার বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে চাচ্ছে। তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল আমার নিজের কোন পছন্দ আছে কি না ? আলো এতোটুকো বলেই থামল। এখন ভাটার সময় চলছে সাগরে। আলো সামনে তাকিয়ে সমূদ্রের ছোট ছোট ঢেউগুলো দেখছে।
তুমি কি বললে ?
আমি তোমার কথা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি।
এতে ভাবনার কি আছে ? তুমি বলে ভালোই করেছ। আমিও ক'দিন থেকে ভাবছি তোমাকে একটা কথা বলবো। কিন্তু না না কারণে তা আর বলা হয়ে উঠেনি।
বেশতো- আমি আমার কথা বলেছি এবার তুমি তোমারটা বল।
অনু তার চোখ থেকে সানগ্লাসটা পকেটে রাখল। তুমিতো জান আলো বর্তমানে আমি বাবার সব ব্যবসা দেখাশোনা করছি। তাছাড়া আমি নিজেও আলাদা ভাবে শিপিং ব্যবসা শুরু করেছি। আজ আর আমার আর্থিক কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। তাই বাবা মাকে তোমার কথা বলেছিলাম। দাদুকে বলেছি আমি 'আলো' নামে এক অনিন্দ্য সুন্দরী মেয়েকে ভালোবাসি।
তুমি না ---। আলোর মুখের ম্লান মৌনতা ভেসে গেল তার লাজুক রাঙ্গা হাসিতে। সবশুনে তারা কি বললেন ? আলো একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে অনুর চোখের দিকে তাকাল।
তাদের কোন আপত্তি নেই আমাদের ব্যাপারে।
যাক একটা মস্তবড় টেনশন থেকে বাঁচা গেল।
কিন্তু একটা সমস্যা আছে আলো। অনু আলোর বা'হাতটা তার হাতের মুঠোয় অাঁগলে ধরল। মা পাখি যেমন তার ছানাকে অভয় দিয়ে ডানার অাঁড়াল করে রাখে ঠিক তেমনি অনু, আলোকে অজানা দুশ্চিন্তা থেকে আত্তস্থ করতে চাইছে। তুমিতো জান আলো, আমরা পূর্ব পুরুষানুক্রমে ধার্মিক ও যৌথ পরিবার। আমাদের পরিবারে নারীদের কে সবসময় পর্দার অাঁড়ালে রাখা হয়। আর পরিবারের যে কোন সিদ্ধান্ত আসে বঃয়োজ্যাষ্টদের পক্ষ থেকে।
তুমি কি আমার অবাধ চলাফেরার কথা বলছ ?
না আলো, আমি জানি তুমি এমন কোন আচরণে যাবে না যা আমার এবং আমার পরিবারের সম্মানে লাগে। বাবা-মা চাচ্ছে না তাদের বাড়ীর বৌ চাকুরী করুক।
কিন্তু কেন অনু ? আজকাল তো অনেক মেয়েই লেখাপড়া শিখে শিক্ষিত হয়ে স্বাধীনভাবে চাকুরী করছে, আমি করলে অসুবিধা কোথায় ?
অসুবিধা নয়, যা কখনও হয়নি সেটা তুমি করছ বলেই তারা আপত্তি করেছে। আমি তাদের কে বোঝাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের এক কথা, তাদের বাড়ীর বৌ পুরুষ মানুষের মতো চাকুরী করবে, পরিবার থেকে আলাদা থাকবে তা হতে পারে না।
পুরুষের মতো বলতে তুমি কি বোঝাতে চাইছ ? কর্মে আবার নারী-পুরুষ আছে নাকি ?
না মানে আমি বলি কি, তুমি বরং আর্মির চাকরীটা ছেড়ে দাও।
তুমি একে পুরুষ মানুষের চাকুরী বলছ কেন। আর্মিতে মেয়েরা আজ নতুন নয় আর তাছাড়া তুমি ভাল করেই জানো অনু, আমি বাবা মার বড় সন্তান। আমার আরাও ছোট ভাই বোন আছে। এ অবস্থায় আমি কি করে চাকুরী ছাড়ি। আলোর চোখের জ্যোতি কমে এলো।
আমি তোদের পারিবারিক ব্যাপারটা জানি আলো ! আমিতো তাদের কে অস্বীকার করছিনা। আমিতো বলিনি তুমি তাদের কে দেখো না। কিন্তু তার জন্যে তোমাকে চাকুরীই করতে হবে এমনতো নয় ? আমিতো আছি।
তুমি কি আমার ভাই বোনদের প্রতি দয়া দেখাচ্ছ ?
না আলো এটা দয়া নয়, তোমার প্রতি আমার দ্বায়িত্ব।
এটা দ্বায়িত্ব নয়-দ্বায়বদ্ধতা। আর আমি কেন চাইব আমার ভাইবোন তোমার অনুগ্রহে মানুষ হোক। তাতে কি আমার কোন সম্মান থাকবে তোমার পরিবারে ?
আলো তুমি বুঝতে চেষ্টা কর।
আমি বুঝেছি অনু। তুমি বরং তোমার বাবা মাকে একটু বোঝাও, ভালভাবে বোঝালে তারা নিশ্চয় বোঝবে। আলো কথা শেষ করতে পারলো না।
আমি তাদের কে বলেছি, তুমি কেন তা বুঝতে চাইছ না। অনুর চোখ রাগে জ্বল জ্বল করছে ।
তুমি এতো উত্তোজিত হচ্ছো কেন ? আর তাছাড়া এ চাকুরীতে সমস্যাটা কোথায় ?
সে তুমি বুঝবে না।
বুঝিয়ে বললে কেন বুঝবে না।
তুমি যদি তাই বুঝতে তা হলে এ চাকুরী করার জন্যে এতো জেদ ধরতে না।
তুমি কিন্তু আমার সাথে মিস্ বিহ্যাব করছ !
আমি করছি না, তুমি করতে বাধ্য করছ আমায়। তোমার যদি একান্ত কিছু করবার প্রয়োজন হয় তাহলে তুমি অন্য কিছু করতে পার, আমি নিজে তোমায় সাহায্য করব।
তা না হয় করলে, কিন্তু আমার এতো দিনের পরিশ্রম, সাধনা, কষ্টের কথা তুমি একটিবার ভাবলেনা ?
আমি সব ভেবেছি। কিন্তু এছাড়া আর যে কোন পথ নেই।
তোমার ভাবা উচিৎ ছিল, অনন্ত আমাকে শান্তনা দেবার জন্যে হলেও তোমার কি বলা উচিৎ ছিল না, "ভেবোনা আলো-আমরা দু\'জনে মিলে এ সমস্যার সমাধানের পথ বের করে নেব। যত কষ্টই হোক আমরা দু'জনে তা ভাগাভাগি করে এ বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করব"। কিন্তু তুমি তা একবারও বললে না।
তুমি সব কিছু এতো সহজ ভাবে নিও না আলো। ব্যাপারটা তুমি যতো সহজ ভাবছ ততোটা সহজ নয়।
কেন নয় ! আর তুমিই যদি এতো কঠোর হও তাহলে তাদের কে বোঝাবে কে ? আলো অনুর দিকে কান্না ভরা চোখে তাকাল। তুমি একবারের জন্যে হলেও বলতে পারতে, ভেবো না আলো আমরা দু'জনে দু'জনার ছায়া সঙ্গী হয়ে সকল বাঁধা বুক পেতে নেব। আমাদের দু'জনার আধিপত্যে সকল আদিমত্তা দূর হয়ে যাবে। অথচ তুমি কি না আমার উপর আক্ষেপ করছ। আলো তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রের সীমাহীন সমতলে তাকায়। ভাটির টানে সমুদ্রের পানি অনেক দূর নেমে গেছে। ছোট ছোট বাচ্চারা হুৈ হুলোর করে মেতে উঠেছে মনের আনন্দে। অসংখ্য নারী-পুরুষ খোলা পায়ে ভেজা বালুতে হেঁটে চলছে আনমনে আলোড়নে। কেউ বা আবার যুগলবন্দী হয়ে জীবনের যন্ত্রনা ভুলে জড়াজড়ি করে দেহের সাথে দেহাবরণ মিলিয়ে স্বপ্নের পানসী বেঁয়ে ভেসে চলেছে চোখের আড়ালে। আলো তাদের সাথে নিজের অজান্তেই লুকায় কষ্টের কবরে।
আমি তোমার মতো এতো আবেগ প্রবণ নই, আমি তোমার এতোসব বুঝি না। আবেগ দিয়ে জীবন চলে-আজ আর আমি তা মানি না।
কে বলেছে অনু আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। মানুষের জীবনে যদি আবেগ-কল্পনা-অনুভূতি নাই বা থাকবে, তাহলে তো মানুষ সামনের পথে, সাফল্যের পথে এগুতে পারতো না। আবেগ মানুষ কে আত্মপোলদ্ধি জাগাতে সাহায্য করে, সংগ্রামে শক্ত রাখে। আমার মাঝে আবেগ ছিল বলেই, আমি চলার পথে সকল বাঁধা, কষ্ট, পরিশ্রম অতিক্রম করে নিজের যোগ্যতা কে প্রমাণ করতে পেরেছি। আমার সাথে তোমার আমার স্বপ্ন ছিল বলেই না দীর্ঘ সাতটি বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজ আমি ক্যাপ্টেন হতে পেরেছি। সম্মান পেয়েছি, নিজের স্থান করে নিয়েছি। তুমি ভাল করেই জান অনু এমন দুঃসাহসী পেশা মেয়েদের এমনকি ছেলেদেরও দ্বিতীয়টি আর নেই। আর তোমরা কিনা বলছ সে চাকুরী ছেড়ে দিতে......আলো সাগরের বুকে ডুবন্ত লাল সূর্যের দিকে তাকিয়ে আনমনা হয়ে গেল।
তোমার এ চাকুরী নিয়ে সমাজে না না জনে না না কথা বলে, কুটুক্তি করে। তা আমাকে শুনতে হয়।
অনু এদের পরিসংখ্যান নিতান্তই কম। এসব লোক অতীতেও ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে। এদের কাজ হল নারীকে নরের অধীনস্থ করে রাখা। এরা কখনই চায় না নারীরা মাথা উচু করে আত্ম মর্যাদায় আপন ভুবন গড়ে তুলুক। আর তুমি কিনা এ যুগের ছেলে হয়ে সেকালের লোকদের মতো কথা বলছ ? লোকলজ্জার ভয়ে! বিস্ময়ে আলোর চোখ বিস্ফরিত হল। রক্তিম সূর্যের লালাভ আভা আলোর মুখে পরে বিস্ফোরিত হলে লাগল। আলোর এ অগি্ন ঝলসানো রূপ অনু এর আগে কখনও দেখেনি।

আমি এতো সব বুঝিনা, আমি বুঝতেও চাই না। আমি শুধু তোমাকে চাই, ব্যাস। অনু দূরে দৃষ্টির ওপারে তাকাল। অনুর এ কথা শুনে আলোর মুখে বিদু্যতের দ্রুতি খেলে গেল। তার নারীমন নাচতে লাগল।
একজন নারীর কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তী আর কি হতে পারে, সে যখন তার ভালোবাসার মানুষকে অপেক্ষার প্রহর শেষ করে চিরতরে পেতে যাচ্ছে। আলো, আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে পড়ল।
কিন্তু তোমাকে এ চাকুরী ছাড়তে হবে। অনুর গ্রীবা শক্ত হয়ে এলো। গলার স্বরে কঠিন প্রস্তুর শীলার কর্কশ আওয়াজ হতে লাগল।
তুমি কি আমায় বাধ্য করতে চাইছ ? আলোর আনন্দ ভরা মুখটা এক মুহুর্তে ম্লান হয়ে এলো অমাবশ্যার আঁধারে। শর্ত দিয়ে তুমি কি আমার স্বপ্নের সাথে সন্ধি করতে চাইছ ?
শর্ত নয়, আমি তোমায় অনুরোধ করছি।
তুমি এমন অন্যায় অনুরোধ করতে পারনা। প্রথম পরিচয়ে আমরা তো কোন শর্তে আবর্তিত হয়ে ভালোবাসার বন্ধন বাঁধিনি। তবে কেন আজ শেষ বেলায় পরিনয়ে এসে অনুরোধ, অনুনয়ের প্রশ্ন উঠছে ? রেশমী সুতোয় আমরা যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জাল বুনেছি, তাতে আজ কেন শেঁকল বাঁধার ছলনা ? কেন আজ সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে আমাদের এতদিনের সম্পর্ক কে সংঘাতে সংস্থাপন করছ ?
আমি তোমার এতো কেন'র জবাব দিতে পারব না। আমার তার উত্তরও জানা নেই। আমি শুধু বলতে পারব যেটাকে তুমি সামান্য ব্যপার বলছ তা মোটেও আমার কাছে সামান্য ব্যাপার নয়। আমার পরিবারে তা সমভ্রবের ব্যাপার।
তুমি অনু পরিবারের দোহাই দিয়ে তোমার দূর্বলতাকে প্রকাশ করছ। এটা কোন পৌরাষত্ত্ব নয়। তুমিতো কখনও এতোটা সংকীর্ণ ছিলে না, তবে আজ কি করে এমন কথা বলছ।
তুমি কি আমায় অপমান করছ?
সে সাহস যেন আমার কখনও না হয়। যাকে ভালোবাসি, যার ভালোবাসার সম্মোহীন শক্তিতে আমি এতোটা দূরের পথ পাড়ি দিয়ে আসতে পেরেছি তাকে কি অপমানের কথা ভাবা যায়, কষ্ট দেওয়া যায় ?
তাহলে তুমি এ চাকুরী ছাড়ছো ?
আমি কিন্তু তা বলিনি।
আলো তুমি আমার সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে দিচ্ছ।
অনু তুমি আমার হৃদয়ে রক্ত ঝড়াচ্ছ।
আমি সঠিক উত্তর চাই।
আমি চাই তোমার সুন্দর হৃদয়ের সম্মান ভালোবাসা।
তাহলে তুমি এই সামান্য একটা চাকরী ছাড়বেনা ? তুমি আমার ভালোবাসার জন্যে এতোটুকু করতে পারবে না ?
ভালোবেসে মানুষ যা কিছু বিসর্জন দেয় তার পেছনে একটা তৃপ্তী থাকে। কিন্তু আমি এ চাকুরী ছেড়ে দিলে মনে হবে আমি আমার ভালোবাসার জন্যে নয়, তিক্ততায় বাঁধ্য হয়ে আমার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। আর তাছাড়া তুমি একজন ছেলে হয়ে যদি তোমার পরিবারে কথা, বংশের কথা ভাবতে পার, তাহলে আমি কেন আমার দিকটা দেখবনা। ভালোবাসার নাম বোঝাপড়া, সমোপলব্ধি সমন্বয়। কিন্তু আমাদের মাঝে আজ এর কোনটিই নেই। তাহলে আমি কিসের জন্যে এ চাকুরী ছেড়ে দেব? আর তাছাড়া এটা শুধু একটা চাকুরীর কথা নয়, কথা হচ্ছে তোমার আমার সমমর্যাদার, সমসম্মানের। আমি তোমায় ভালোবেসে এ চাকুরী ছাড়বো কিন্তু তুমি আমার জন্যে কি করবে ?
এটাকি তোমার শেষ কথা ? তুমি তর্কে যেতে চাইছ আলো। অনু-আলোর পাশ থেকে উঠে দাঁড়াল।
চাকুরী ছাড়াই যদি তোমার একমাত্র কথা হয়, তবে ধরে নাও তাই। আলো অনুর চোখে চোখ রেখে তাকাল। এ চোখে এখন শুধু বিতৃষ্ণা আর বিদ্ধস্ত হবার বর্ণমালা। বিশ্বাস নেই, বিহলতা নেই শুধু সংশয় আর সন্দেহ ! সন্দেহ এতোটা পথ এক সাথে চলার। আলোর চোখের দিকে তাকিয়ে অনু বেশিক্ষণ চেয়ে থাকতে পারল না। অজানা ভয়ে, ভীতিতে তার চোখ নেমে এলো। অনু আতংকগ্রস্থ, দ্বিধা আর আত্মীক সংঘাতে তার ভেতরটা দূর্বল হয়ে গেছে। দাঁড়িয়ে থাকবার দৃঢ়তা এখন আর তার মাঝে নেই। অনু বালুর বুকে তাকিয়ে নিজের মাঝে শক্তি খুঁজতে লাগল।
এভাবে কতক্ষন নিয়তীর হাতে নিয়ন্ত্রন দিয়ে নিস্তেজ হয়ে আলো দাঁড়িয়ে ছিল তা খেয়াল নেই। সূর্যের তেজ কমে যখন আঁধার নেমে আসতে শুরু করল, তখন অনু আলোর চোখে তাকাল।
তুমি আরেকবার ভেবে দেখ আলো, তুমি সময় নাও সিদ্ধান্ত নেবার। এটা আমাদের দু'জনের সারা জীবনের ব্যপার। অনুর কথা শেষ হবার আগেই আলো বলল-
তুমি আর কিছু বলবার আগে আমার কিছু কথা শোন। তারপর তোমার যদি কিছু বলবার থাকে তখন বল। কষ্ট জেনেও মানুষ ভালোবাসে, এ পথে পা বাড়ায়-তাইনা? কিন্তু কেন ? কারণ এ এক মোহ, আর তার পেছনে থাকে মনের মুগ্ধতা, বিশ্বাস। ভালোবেসে পরিনতীর শেষ প্রান্তে এসে ঘর বাঁধার সাধ্য খুব কম মানুষের ভাগ্যে জোটে। তবু মানুষ ভালোবাসে। কারণ ভালোবাসা ছাড়া মানুষের জীবনে পূর্ণতা আসেনা। ভালোবাসার আরেক নাম যে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। আর সে দেওয়ায় কোন শর্ত থাকে না সংশয় থাকে না। অথচ আজ আমার ভালোবাসা ঠুনকো একটা ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। আজ আমার সকল কিছু ভুল মনে হচ্ছে। ভুল মনে হচ্ছে আমার এতোদিনের প্রত্যয়। আমি যে মানুষটিকে আশ্রয় করে, যার ভালোবাসার শক্তিতে আবদ্ধ হয়ে পৃথিবীর সাথে লড়াই করবার অনুপ্রেরনা পেয়েছি, শক্তি পেয়েছি, যে ছিল আমার সফলতার সিধকাঠী আজ জানলাম সে দূর্বল। ভুল আমার এতোদিনের বিশ্বাস, ভালোবাসা। ধ্রুবতারার মতো যে আমাকে সঠিক পথের দিক নির্দেশনা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে চুপিসারে, অদৃশ্যে, আজ জানলাম সে ধ্রুবতারা নয় নিস্তেজ হয়ে আসা জোনাকীর জরায়ুর শেষ অংশ। যে কিনা শুধু নিজের অাঁধার সরাতে ঐটুকো আলো জ্বালায়। যে বৃক্ষের বিশাল আড়ালে আমি তিল তিল করে স্বপ্নের নীড় রচনা করে আসছি, আজ দেখতে পেলাম তার শেকড়ে উপপোকার ডিবি। উইপোকায় ছেয়ে গেছে আমার সেই বটবৃক্ষ। তবুও, তারপরেও আমি এ চাকুরী হয়তো ছেড়ে দিতাম তোমার জন্যে। কিন্তু পরক্ষনে ভেবে দেখলাম এভাবে আমার মতো সকল নারীই যদি নিজ সুখের জন্য, সংসারের জন্য, স্বনির্ভরের পথ ছেড়ে দেয় তাহলে নারীরাতো আর কখনই স্বাধীনভাবে সমান হতে পারবে না। আমার ছোট বোন যে কিনা আমায় দেখে স্বপ্ন গড়ে, সে লেখাপড়া শিখে বড় হবে। ইঞ্জিনিয়ার অথবা পাইলট হবে। সীমাহীন আকাশে উড়াল দেবার যার এতো স্বাধ-সেতো সন্দেহে অংকুরেই শেষ হয়ে যাবে। আমার এ চাকুরী ছাড়াতো আমার চুড়ান্ত সফলতা নয়। ভালোবাসা বলে-যাকে ভালোবাস তার সবকিছুকেই ভালোবাস। আমি তোমাকে সে ভাবেই ভালোবেসেছি। এখন তুমি স্বনির্ভর, স্বাধীন, সম্ভ্রান্ত। এ আমার শান্তনা। তবে কেন তা সংহার হবে ? কেন তুমি আমাকে "আমার" মতো করে তোমার ভাবছ না ? কেন আমি আমার কথা ভেবে পথ ছেড়ে দিয়ে অন্যদের পথচলাকে দিকভ্রান্ত করে যাব। আমি তা কখনই পারবো না। আমি কখনই চাইবো না নারীরা নিমজ্জিত হয়ে নিয়তীর হাতে বন্ধী থাক আরো শত বছর। পুরুষ কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নারী চির জীবন পরাজিত হতে থাকবে-এ কেমন কথা ? আমি নিজের স্বার্থে পরাজয়ের এ পথ আরও সুদীর্ঘ করতে চাইনা। আলোর চোখে মুখে বিস্ফোরিত হবার আলোড়ন।
তাহলে কি জেনে যাব আমাদের এখানেই শেষ ? অনু চলে যাবার জন্য উঠে দাঁড়াল।
তোমার জন্যে শেষ হতে পারে কিন্তু আমি বলব আমার এখান থেকেই আবার শুরু। আমি আবার শুরু করব নতুন বিশ্বাসে। আমি তোমার ভালোবাসার শংসয় নিয়ে শেষ হয়ে যেতে চাই না। আমি আমার সাধ্যের শেষ দেখতে চাই। এ আমার বিশ্বাস-এ আমার শান্তনা।
দুজনেই ওঠে দাঁড়ালো । আলো আর অনু দু\'জনে দিগন্তের দু'দিকে হেটে চলছে। আলো হেটে চলছে সামনে দিকে। সাগরের বিশাল বুকে যেথায় ঐ লাল সূর্য ডুবে গেছে সেখান থেকে আবার নতুন সূর্যের সম্ভাবনায় আলো হেটে চলেছে। পেছনে পরে আছে তার ভালোবাসা এবং বিদ্ধস্ত এই দিনটি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • চৌধুরী ফাহাদ
    চৌধুরী ফাহাদ আমি গল্প ক, বুঝি। তারপরও বলতে হয় চমৎকার। ভুল ত্রুটি তো থেকেই থাকে। তা বড় কোন ব্যপার না। সুন্দর।
    প্রত্যুত্তর . ১৬ অক্টোবর, ২০১১
  • ফাতেমা প্রমি
    ফাতেমা প্রমি বাস্তব সমস্যা নিয়ে লেখা গল্পটি ভালই লাগলো। সংলাপ গুলো আলাদা ভাবে দেখালে আরো ভালো লাগত।
    প্রত্যুত্তর . ১৮ অক্টোবর, ২০১১
  • আসলাম হোসেন
    আসলাম হোসেন নিয়মিত হন ভালো কিছু করতে পারবেন।
    প্রত্যুত্তর . ২২ অক্টোবর, ২০১১
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া গল্পের শেষ তা পড়ে মুগ্ধ হলাম.
    প্রত্যুত্তর . ২২ অক্টোবর, ২০১১
  • তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
    তৌহিদ উল্লাহ শাকিল চমৎকার গল্প । বেশ ভাল লিখেছ । অনেক শুভকামনা রইল
    প্রত্যুত্তর . ২৪ অক্টোবর, ২০১১
  • আশা
    আশা নারীদের সীমাবদ্ধতা দুর করার সার্থক প্রচেষ্টা। কথোপকথন একটু কমিয়ে বর্ণনাতে প্রকাশ করলে গল্পের মান বৃদ্ধি পেত। লেখককে ধন্যবাদ সামাজিক সমস্যার একটি দিক তুলে ধরার জন্য। কিন্তু ভোটের অপশন বন্ধ কেন ?
    প্রত্যুত্তর . ২৫ অক্টোবর, ২০১১
  • ঝরা
    ঝরা sundor
    প্রত্যুত্তর . ২৭ অক্টোবর, ২০১১
  • সূর্য
    সূর্য লিঙ্গ বৈষম্যের আচরণগত এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠির দোলাচল, ভালবাসাও সেখানে ব্যর্থ............ বেশ ভাল করেই গল্পে ফুটিয়ে তুলেছ। কথোপকথন মূলক গল্পে একটা বিষয় যত ছোট অবয়বে আসবে ততই সুখপাঠ্য। ................ অতিতের অনন্ত হৃদয়কে এই লেখার অনন্ত হৃদয় ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৮ অক্টোবর, ২০১১
  • আনিসুর রহমান মানিক
    আনিসুর রহমান মানিক ভালো লাগলো /
    প্রত্যুত্তর . ২৮ অক্টোবর, ২০১১
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # অনেক সুন্দর গল্প । নিজের উপর বিশ্বাস আর ভালোবাসার সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টি ভঙ্গির বেহায়া রুপ এখানে বিকশিত হয়েছে ।।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ অক্টোবর, ২০১১

advertisement