লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ অক্টোবর ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ২৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসি তোমায় (ফেব্রুয়ারী ২০১৪)

জান্নাতের চাবি
ভালবাসি তোমায়

সংখ্যা

মোট ভোট

ইয়াসির আরাফাত

comment ৩  favorite ০  import_contacts ১,১৫৬
মুক্তা কোন মেয়ের নাম নয় এক ভাগ্যহত ছেলের নাম । তার বাবা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদআলী ।মুক্তার মা ছিলো সেইসময়ের রুপ ও শিল্প প্রদর্শনে আলোচিত যাত্রাপালার অভিনয় শিল্পী ঝিনুক । হাজার হাজার দেহকামী শকুনের দৃষ্টি পড়ে ঝিনুকের উপর । প্রতিকুলতার মাঝেও সতীত্ব ধরে রাখা ঝিনুকের সম্পর্ক গড়ে উঠে আবেদের সাথে । সমাজে একটি ভালো অবস্থান পাবার আশায় ধর্মান্তরিত হয়ে ঘর বাঁধে তার সাথে । মেকআপ ছাড়ায় এক আলোকিত জীবনের সুখপাখিদের গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠে ঝিনুকের চারপাশ ।ডানাকাটা স্বপ্নদের হাতছানিতে কয়েকমাস যেতে ঝিনুক গর্ভে ধারন করে মুক্তাকে । কিন্তু মুক্তাকে নিজের সন্তান বলে মেনে নেয়নি আবেদ তাই , বিবাহবিচ্ছিন্ন করে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে গ্রাম ছাড়া করে ঝিনুককে ।
ঝিনুক বেঁচে থাকার জন্যে যে পথে পা বাড়িয়েছে সে পথেই দেহকামি চোরাকাঁটা ও কাক, শকুনদের উৎপাত ।শেষ পর্যন্ত সন্ধানী অপেরার দয়াল চাচার কাছ সে আশ্রয় নেই এই শর্তে মুক্তার জন্ম হবার পড়ে নাচ গান ও দেহ দানের ভেলায় ভেসে বেড়াতে হবে ।
একযুগ পাড় হতে না হতে যাত্রাপালার সুদিন শেষ হয়ে এলো ।পাহাড়ি ঝর্ণার প্রপাত এর মত ঝড়ে পড়া শুরু হলো ঝিনুকের জীবন থেকে এক একটি দিন ।যাত্রাপালার ঝলমলে পোশাকহীন ঝিনুককে এখন কারো অপ্সরী মনে হয়না সদ্য ফোঁটা গোলাপওনা । মঞ্চ ছাড়া কাগজের নৌকার মত কোন রকমে খেয়ে পড়ে জীবন যাপন করাটা কঠিন হয়ে যায় । সময়ের ব্যবধানে পথ বদলে ফেলে ঝিনুক । বাধ্য হয়ে বাস ও রেল স্টেশন , পার্ক , আবাসিক হোটেল , বিভিন্ন ক্লাব ড্যান্স ইত্যাদি অন্ধগলিতে পদচারনা শুরু হলো ঝিনুকের ।কিন্তু ক্লাব ডান্সে কষ্ট অনুপাতে পয়সা পাওয়া যায়না ।তাই নিষিদ্ধ পল্লীর ফুলদানীতে রঙ মাখানো কাগজের ফুলের মত কৃতিম পারফিউমের সুবাস ছড়াতে লাগল সে । বিভিন্ন শ্রেণীর ভ্রমরের আগমন ঘটতে লাগল ঝিনুকের চারপাশে ।
সমাজের মানুষগুলো বড্ড অমানুষ সবকিছু জেনেও ঝিনুককে ইভটিজিং করে এটা সে মেনে নিতে পাড়ে । কিন্তু অনেক ভালো ভদ্র মেয়েদের যখন কেউ ইভটিজিং করে ঝিনু্কের সহ্য হয়না ।কোন ধর্ষণ এর খবর শুনলে সে উত্তেজিত হয়ে যায় ।চিতকার করে বলে খুবই প্রয়োজন হলে আমাদের কাছে আসতে তাদের ক্ষতি কি ?এই সমাজের মানুষদের বোঝাতে পারেনা স্বেচ্ছায় সর্বনাশ ভালো কিন্তু অনিচ্ছায় সামান্য আগুনের আঁচ ভালো নয় ।
ঝিনুক মুক্তার সুখ শুধু টাকায় ভেবে এসেছে তার ধারনা টাকায় দেবতা । মুক্তা এক পতিতার সন্তান বলেই যে খারাপ হবে এমনটা বিশ্বাস করেনা ঝিনুক ।সে খুব ভালো ভাবে বিশ্বাস করে অল্প শোকে মানুষ কাতর আর অধিক শোকে পাথর হয়ে যায় ।তাই মুক্তা কখনো পথ ভ্রষ্ট হতে পারেনা ।ঝিনুকের আত্নবিশ্বাস মুক্তা কোন ধর্ম যাজক না হলেও , ঈশ্বরের সাথে মুক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মুক্তা মানুষ হবে । খুব মহৎ মানুষ না হলেও সাধারণ একজন মানুষ হবে ।মুক্তা লক্ষাধিক পতিতার সন্তান , অনেক ভদ্র ঘরের অভদ্র সন্তানদের দেখিয়ে দেবে মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি ।
মুক্তাও ছেলেবেলা থেকে আঘাত পেয়ে মানুষ হচ্ছে পাড়ার কারো সাথে সে মেসেনা ।সমাজের মানুষদের ঠাট্টা বিদ্রুপ সহ্য করতে হয় তাকে প্রতিনিয়ত , মুক্তার চেয়ে অল্প বয়সী ছেলেরা মুক্তাকে প্রশ্ন করে তার মায়ের রেইট কত ? কেউ ঢিল ছুঁড়ে মাড়ে , ভেঙচি কাটে ,মুক্তাকে দেখে অনেকের ঘুমন্ত নষ্টামি মাথা চেড়ে উঁকি দেয় নগ্নতার পথে । মুক্তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে আর টিভির গোল টেবিলে ।মুখবুজে মানুষের দেয়া আঘাত সয়তে হয় মুক্তাকে ।একান্ত নীরবে অশ্রু ঝড়ায় সে ।দেবতা, মা বাবা এমনকি এই সমাজের কারো উপর তার কোন অভিমান নেই ।
রাগ ক্ষোভ বলতে মাত্র একটি দিনই মুক্তা রেগেছিলো সেদিন স্কুলে সহপাটিদের পাশাপাশি হেডস্যার ও ক্লাসে তামাসা করে যেদিন বলল মুক্তা তোমার কয়টা বাবা ?
মুক্তা রেগে উত্তর দিয়েছিলো আমার মা তো পরিস্তিতির স্বীকার , আপনাদের স্ক্যাডাল গুলো ভাইয়ু , ফ্রেন্ড , চাচ্চু , মামু , বিলাসিতা ,বস , আর্ট , বিকৃত মাসিকতার কুরুক্ষেত্র ।আপনারা আমাকে মসজিদে যেতে বাড়ন করেছেন পতিতার সন্তান বলে ?অথছ আপনার সন্তানরা নিজের মাকে নিয়ে চটি লিখে মসজিদে যাচ্ছে ! আপনারাও মসজিদে যাচ্ছেন বুক ফুলিয়ে?কিন্তু , আপনারাও তো পতিতাদের কাছে জান , মিথ্যে বলেন ,গীবত করেন ,অন্যার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেন ,দেশপ্রেম এর ছলে দেশের মানুষদের কষ্ট দেন নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির আশায় ।নিজেদের বিবেককে একটি বারের জন্য কেন প্রশ্ন করেন না আপনারা কত টুকু ভালো করছেন ?থাকুন আপনারা আপনাদের পথেই আমাদের জীবন কেটে যাবে লাথি , জুতা , ঠেলা গুতা খেতে খেতেই ।বিধাতার আদালতে আমরা বিচার পায়নি , আপনাদের আদালতে বিচার কামনা করিনা ।

স্কুল থেকে ফেরার পথে মুক্তা শেষ সিধান্ত নিয়েছে তার মাকে যদি এই পথ থেকে ফেরাতে না পাড়ে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করবে তার জন্মদাত্রী মা কেই ।সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে সে পৃত্রিপরিচয়হীন থেকে মাতৃতপরিচয়হীন জীবনযাপন করবে । মুক্তা সাহস করে বলল - মা সমাজের তিরস্কার ভালো লাগেনা ।সুখি হবার জন্য বেশি টাকার প্রয়োজন নেই মা ।যদি তুমি এই পথ থেকে ফিরে না আসো আমি আর তোমার সাথে থাকবনা তোমাকে মা বলে স্বীকার করবোনা ।
ঝিনুক – আমাকে মা বলতে লজ্জা হলে বলিস নে , আলাদা থাকবি থাকগে টাকার জন্য এই পথে আসতে বাধ্য হয়েছি ।আমি অনেক সম্পদের মালিক না হওয়া পর্যন্ত এই পথ থেকে ফেরবনা ।এই কুৎসিত সমাজের মত তুই ও যখন আমাকে ধিক্কার দিলি চলে যা সুখে থাকিস এই প্রাথনা করব সর্বদা ।তোর মুখ দেখতে ঘেন্না হচ্ছে । বিধাতা তোর মত ছেলে আর কারো কোলে যেন জন্ম না দেয় । টাকা পয়সা যা আছে নিয়ে যা , কিছুদিন পড় পড় কাউকে পাঠাস আমি টাকা দিয়ে দিবো । তোর মুখ যেন আমাকে দেখতে না হয় আর কখনো ।আমি যে পথে চলছি চলতে দে ।
মুক্তা রেগে বলল তোমার টাকার আমি নিকুচি করি । একটি সহজ কথা তুমি বুঝতে চাওনা ।বাবার সাথে জন্মের আগে সম্পর্ক ছেদ হয়েছে আজ তোমার সাথে করলাম । আজ থেকে আমি বেওয়ারিশ সন্তান আমি কোন ধর্মের নয় আমি মানুষ , কোন এক পতিতার কোলে জন্ম নেয়া আদম সন্তান । ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যায় মুক্তা ।
আরও এক যুগ কেটে গেলো ঝিনুক অনেকবার মুক্তার সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করেছে , মুক্তাকে মোবাইল করেছে কিন্তু মুক্তার বুকে জমে থাকা কষ্টের বরফ গলেনি ।মায়ের সাথে কথা বলেনি ।
শেষ পর্যন্ত দয়াল চাচার মেয়ে সুবর্নার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে মুক্তা ।তবু সে সুখি হতে পারেনা একটি অপূর্ণতা তাকে ঘিরে রেখেছে ।মনে মনে মায়ের কথা ভেবে অনেক কেঁদেছে অনুতপ্ত হয়েছে কিন্তু কারো সামনে প্রকাশ করেনি ।এক অপ্রত্যাশিত সুখ স্বপ্নে বিভোর থেকেছে মুক্তা ,তার মা আবার সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে । মা ও সুবর্নাকে নিয়ে সাজাবে সুখের সংসার ।কিন্তু জীবন নদীর ঘূর্ণিপাকে ঝিনুকের আবার বিয়ে হয়েছে কোন এক ধনীর দুলালের সাথে ।এই পথ থেকে অনেকটা ফিরে এসেছে । কিছুদিন আগে মুক্তা শুনল তার মা আবার অন্যের মা হতে চলেছে । মুক্তার মন চাই তার মায়ের সাথে কথা বলতে কিন্তু তার মায়ের সংসারের বিষ কাঁটা হতে চাইনা সে ।তার মা সুখে থাক এই কামনা করে সে ।একাকি নীরবে মায়ের কথাভেবে অশ্রু ঝড়ায় মুক্তা , ফিস কিস করে বলে মাআ মাগো তোমার থেকে দুরে আছি তবুও ভালবাসি তোমায় ।জদি পারো এই অবুঝকে ক্ষমা করে দিও মাগো ক্ষমা করে দিও ।মা একবার কান পেতে শুনে দেখো আমার ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ও চিৎকার করে বলছে তবুও ভালবাসি তোমায় ।

গল্পটি শেষ হয়ে গেলো কিন্তু গল্পের রেস শেষ হয়নি ।একদিন তার মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনল মুক্তা ।ছুটে গেলো মায়ের মুখটি শেষ দেখা দেখতে কিন্তু দেখা হয়নি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রু ঝড়াতে হয়েছে । সমাজের মানুষদের নতুন ধিক্কার তুই অমানুষ ।শেষ পর্যন্ত মায়ের পাশে থাকলিনা ।কোন প্রতিবাদের শক্তি ছিলোনা তার শুধু মনে মনে বলল যখন মায়ের কাছে ছিলাম তখনও ধিক্কার দিয়েছও মা কে ছেড়ে দুরে থাকলাম তবু ধিক্কার দিচ্ছ । পৃথিবীতে তোমাদের জন্ম হয়েছে শুধু ধিক্কার দেবার জন্য । দেবতার ক্ষমতা নেই আমার মনের কষ্ট তোমাদের বলবার , আমারো সাধ্য নেই তোমাদের বোঝাবার । আমি হাসি মুখে মেনেনিলাম আমি এক অমানুষ ।অন্তত আমার মাকে তোমরা ক্ষমা করেছো তাই ভালবাসি তোমায় হে সমাজ তবুও ভালবাসি তোমায় !
মুক্তা খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে কিন্তু অজান্তেই চোখ বেয়ে ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে ।সে যেন হারিয়ে যাচ্ছে অনুতাপ আর শূন্যতার অরন্যে ।এতো বেদনার মাঝেও কোন এক বাউল যেন তাকে গান শোনাচ্ছে ।

মা যার বেঁচে নেই তার মত দুঃখী নেই
খালা ফুফু মায়ের মত না
জান্নাতের চাবি তোমার মা

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement