লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২২

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগর্ব (অক্টোবর ২০১১)

গাজী হাতেম
গর্ব

সংখ্যা

মোট ভোট ২২

md.mustafa kamal

comment ২২  favorite ০  import_contacts ৬৫৫
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়,আবার কম নয়,দেখতে দেখতে যে কি ভাবে কেটে গেল পাচ টি বছর প্রবাসে,ভাবতে এখন নিজেরই অবাক লাগে,আমাদের গ্রামটা বেশ বড়,কখনো পুরাপুরি গ্রামটা দেখা হয়নি,এবার দেখব নিজের গ্রামটা ঘুরে,কয়েকদিন পর ধরে এমনি ভাবছি,গ্রামের দক্ষিনে রাস্তার ডানে বিরাট পাইন বাগান,অনেক আগে শুনেছি, ঠিক মধ্য রাতে নাকি জিন্হেরা কান্না করে,আশেপাশে যারা থাকত তারা শুনত,দিনের বেলায় ও অনেকে যেতনা ভয়ে,জিনের পাহাড় নামে এক নামে সবাই জানে,উত্তর পশ্চিম দু-দিকে ঘিরে রেখেছে পাহাড়,পাহাড় বন্দী মানুষ গুলো যাদের তোমরা পাহাড়ি- বাঙালি বলে বিভক্ত করে রাখো, আমি তাদের এক সুতোর বেষ্টনিতে সব সময় রেখেছি মনে,পূবে গিলাচরি,যে খান থেকে উত্পত্তি আমাদের ইছামতি খাল,বাজার বারে গোলাটে হয়ে যেত হাটু সমান পানি,কাচা পাকা কলা,আম,হলুদ আরো কত কিছু নিয়ে আসত বাজারে বাঁশের বানানো মাচাই দিয়ে.মনে পরে গেল হাতেম গাজীর কথা,বাঁশের বেত দিয়ে বানানো কত রকম খেলনা আর প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়া হাজির হত,পঙ্গু পায়ে অনেক খানি পথ পারি দিয়ে কি ভাবে যে আসত এত সব নিয়ে ভাবতে অবাক লাগে.মুক্তি যোদ্ধাসংবর্ধনার এক অনুষ্ঠানে হাতেম গাজীকে দেখে তো থ....
টক বকে যুবক হাতেম, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে,কিন্তূ কি ভাবে যে তার এমন অবস্থা হলো,জানতাম না জানার ইচ্ছে টাও ছিলনা,তখন বয়স টা যে ছিল এমন,সুযুগ পেলেই ছুটা ছুটি আর খেলাধুলা.সরকারের দেয়া মুক্তি যোদ্বা বাতার জন্য ঘুরেনি গাজী হাতেম,পেটের ক্ষুদা মেটাতে যাচ্ছে সংগ্রাম করে,যারা ত্যেগী তারা যে লুভি নয় হাতেম এক কাল সাক্ষী.৮-১০ বছর আগের কথা স্বরণ করে মনে হলো অন্ততত একবার জন্য হলেও সাক্ষাত করতে হয় ওই যুদ্ধার সাথে.কয়েকদিন পর ঘুরতে বের হলাম প্রিয় সেই পাইন বনে,কিন্তু একই দশা,হাতে গনা কয়েকটা গাছ ছাড়া,আছে শুধু নির্যাতনের কিছু চিহ্ন,তাও বুঝি যায় যায় শুকিয়ে.দাড়িয়ে অবলা পাহাড়,বুকে তার কয়েকটা প্রহরী,বাকি সব আঘাতে ক্ষত বিক্ষত দেহ,জ্বিনেরা বুঝি পালিয়ে গেল বহু আগে,তাদের বিচরণ স্থল জ্বিনের পাহাড় থেকে,কাকে জিজ্ঞেস করি কে করলো এমন নষ্টামি,কে আছে এমন বর্বতার সাক্ষী?এই যে ভাই একটু দাড়ান,
আপনি কি এখানে থাকেন?
-জ্বি,এখানেই থাকি ঐযে আমার বাড়ি.কিন্তু আপনি কে গো?
আমার কথা না হয় পরে বলি,আগে বলেন পাহাড় থেকে সব গাছ গেল কোথায় ?
-কত বছর পর আসছেন ?
সে অনেক বছর পর
-তা হলে ঠিক আছে,আপনি জানবেন কিভাবে,সব গাছ কেটে পেলছে চেয়ারম্যানের ছেলে,ইটের বাটাতে আগুন জ্বালাতে……….
কথাটা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম,বাধা দেয়ার বুঝি কেউ ছিলনা,কি ভাবে পারল নিজের পায়ে কুড়াল মারতে,?
আমার জানা ছিলনা,মানুষ নিজের অর্থ ক্ষুদা মেটাতে নিজেই করছে প্রকৃতির বিলীন…
নিরব ভূমিকা আমিও পালন করলাম,আর কি বা করার ছিল? আমার এত শক্তি কোথায়,দু-বারের চেয়ারম্যান যিনি তার ছেলের সামনে গিয়ে দাড়াই.
না না এভাবে নিজে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে জিজ্ঞাস করলে ক্ষতি কি ?
সন্ধ্যায় সাহস করে গেলাম.
কালো চেহারার মানুষটাকে মোটা সটা একটা জল্লাদের মতই লাগে,
পুরা চেয়ারটা জুড়ে আছে,অর্থ লুবি বৃক্ষ ডাকাত, আমাকে দেখে বলল...
আরে তুমি কখন আসলা?তুমি না বিদেশে ছিলা?আস আস ...বস ...
আমার কাছে মনে হলো এক রাক্ষস তার লম্বা লম্বা দাঁত দেখিয়ে হাসছে
আমাকেও বুঝি সবার করে মেটাবে তার ক্ষুদা,কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বসলাম.
তাকে বললাম,
আপনার সাথে কিছু কথা ছিল,
....বিদেশ থেকে আসছ ঘর তর বানাইবা নাকি? তুমি কোনো চিন্তা করবানা,সবচেয়ে ভালো ইট,আমি তোমাকেই দিব.
.....না না সেটা না আমি আপনার কাছে অন্য একটা কাজের কথা বলতে আসছি.
-- দেখো ভাই আমার কাজের কথা হইলে ভালো,আর যদি অন্য কোনো কথা বলার জন্য আইসা থাক তাহলে ভাই আমার সময় নাই
বুঝই তো গাছ ছাড়া আগুন জলবে কিভাবে..........
আপনার কাছে আমি এবেপারেই কথা বলতে আসছি.....
আমাদের পরম বন্ধু হচ্ছে গাছ ...........আমাকে র বলতে দিলনা...
--দেখো মিয়া আমাকে নলেজ দিতে আইসনা আমার এসব একদমই ভালো লাগেনা......
যতই বুঝাই ততই আমার দিকে আক্রোশ চোখে এক ভয়ঙ্কর রূপে তাকালো, আমি তো সেখানেই শেষ, কোনো রকম ভেজা বেড়ালের মত আপন লেজ গুটিয়ে পালালাম,
ওরা কয়েকজন হলে হয়ত পেরে উঠতাম,যত দিন গেল ...জানতে পারলাম.
কম বেশি সব যুবকদের উপার্জনের অন্য তম রাস্তা হলো বৃক্ষ হত্যা.
কাজ টাও সোজা, বনে যাও গাছ কাট বক্রি কর.
যত টুকু সাহস নিয়ে এগুতে চাই তত যেন অবাক হই,সাহস হারাই......
কি আর করব ....যে টুকু ছিল সাহস তাও পরিনত হলো ভয়ে...চুপ একদম চুপ,না হয়..
হয়ত মারা পরব.
জীবন যাবে, কেউ জানবেনা কেন, করা করলো .......
দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল একটা মাস,মা,বাবা,সবাই আমার বিয়ের কথা ভাবছেন,আমি অবস্যই এসব কছুই ভাবছিনা.
ভাবছি গাজী কাকার সাথে দেখা করব,কিন্তু কোথায় গেলে পাব তাকে,বাজারে তো প্রায় আসাহত,তাই ভাবছি বাজারেই গিয়া দেখি,দুপুর ২টা বাজে,এখন হয়ত কাউ কে পাবনা,তার পরও গেলাম,আমার নয়ন যাকে খুঁজছে তাকে পেয়ে গেলাম,খেলনা ঢুকাচ্ছে একটা কাপড়ের থলেতে.
একটা পা সামনে দিয়া বসে বসে, আর অন্যটা তো .............
পাশে যেতেই দুর্গন্ধ নাকে এসে লাগলো,বাজারের সমস্ত আবর্জনা স্তুপ দেয়া একটু দুরে.....
আচ্ছালামুআলাইকুম
ছালামের জবাব দিয়া,আমার দিকে তাকিয়া.
আমি বললাম..
বিক্রি করা শেষ নাকি কাকা?
--বাজারে তো তেমন কোন মানুষ জন নাই,তাছাড়া এখনকার ছেলে পেলেরা এসব খেলনা কিনতে চায় না ..
-কিন্তু কাকা আমি তো কেনব বলেই আপনার কাছে আসলাম.
চোখে মুখে একটা আনন্দের চাপ খুঁজে পেলাম,আমার কথা শুনে তো আরো অবাক হলেন মনে হলো, যখন বললাম আমি আপনার সব খেলনা কিনতে চাই,তবে একটা শর্ত জড়িয়ে দিলাম,আমার শর্তে রাজি হবার আগে,আমায় জিজ্ঞাসা করলো কে তুমি বাবা ?
উত্তরে আমি বললাম,
আপনার মত লক্ষ সাহসী যোদ্ধাদের করুনায়,এই দেশের এক অদম্য নাগরিক.
রাজি হচ্ছিলনা,অনেক বুঝিয়ে রাজি করলাম,
আর শর্ত টা হলো আমার সাথে গল্প করা,গল্পের কথা বলত্ একটু হাসলেন, গাজী কাকা বাড়ি গিয়া জানতে পারলাম,করুন কিছু কথা,ঘরে অসুস্থ স্ত্রী,টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছেনা ছোট মেয়েটাকে,পড়া লেখা বাদ দিতে হলো সেই অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পর থেকে,কি করবে ঘরে এমন যে কেউ নেই,গত তিনটে বছর ধরে মেয়েটা তার বাবার ঘরে গৃহিনী হয়ে রইলো, টাকা ছাড়া মেয়ের বাবা রা যে বড় অসহায়,সংসারটা চলে কোন রকম,একবেলা কিনবা দুবেলা খেয়ে,একসময় বলেই পেল্ল,

‘নিজের কাছে নিজেকে অনেক বড় বোঝা মনে হয়,
তার মুখে এমন কথা শুনে বড় কষ্ট পেলাম ....কি পেলাম আর কি দিচ্ছি তাদের,যারা আমাদের মুক্তির জন্য নিজেকে করেছে নিবিদিত প্রাণ.যারা না হলে আজও পেতাম না স্বাধীনতা,গোলামী করতে হত,নর পিশাস আর পশুদের শ্বাসনে.
কথার ফাকে পারভীন কে ডাকলো আমাদের নাস্তা দিতে, আমার নেয়া কলা বিস্কিট আর মুড়ি নিয়ে আসলো, এক ঝলক দেখলাম তাকে সাদা সিদে বেশ সুন্দর একটা মেয়ে,যে গল্প শোনার ইচ্ছে ছিল অনেক আগে থেকে,তা যেন মুহুর্তেই পাল্টে গেল পারভীন কে দেখে,নাস্তা শেষে চলে আসলাম,
মনে মনে একটা স্থির করলাম,বাবা মা কে পারভিনের কথা বলব,
কিন্তু একটা জিনিস ভেবে পাচ্ছিনা,৩৯ বছর আগে কাকার বয়স কত ছিল,? আরো অনেক প্রশ্ন মনের ভেতর জাগলো, আস্তে আস্তে জানতে হবে সব কিছু,

পরদিন সকালেই আমি মাকে পারভিনের কথা জানালাম, মা বাবা কে জানালো,কার মেয়ে মেয়ে দেখতে কেমন আরো কত কথা,বাবা আমার কথায় রাজি হলোও শুধু মা কে রাজি করাতে পারিনি,
সেদিন র কাকার সাথে দেখা করতে গেলাম না .২দিন পর আবার ও গেলাম,জানতাম সন্ধায় উনি কোথায়ও যায় না,আমাকে দেখে বলল.
আমি তো ভেবে ছিলাম তুমি আর আসবেনা,
-- কি যে বলেননা কাকা আমি তো এমন একটা দিনের অপেক্ষায় ছিলাম,বাজার করে নিয়ে এলাম খাবার খেয়ে আপনার সাথে গল্প করে তবেই না যাব,যত রাতি হোক আজ আর আপনাকে ছাড়বনা,তাছাড়া জোৎসনা রাতে গল্প সুনতে আমার খুব ভালো লাগে,,,,,,,
-আজ তো পূর্নিমা তাই না ?
জ্বি কাকা.......
সেদিন আমি কাকা কে আমার পরিচয় দেই নি কাকা ও জানতে চায়নি.
আজ নিজ থেকেই জানতে চাইল, বললাম,আমার বাবা কে উনি ভালো করে চেনেন,
কথা বলতে বলতে একসময় আমি রাজাকারদের কথা জানতে চাই লাম,বলল .....
--তাদের কথা আর কি বলব,সেই অসৎ মানুষ গুলি না থাকলে,নয় মাস যুদ্ধ করা লাগতনা,হয় তো আরো আগেই দেশ স্বাধীন হত,
কথপ কথনে জানলাম বর্বরতার সমান ভাগিদার ছিল বাঙালি মুখুস দাড়ি,রাজাকার আলবদর,শাম বাহিনী,
সে সময় কলা মিয়া নামে কাকার এক বন্ধু ছিল,যার নাম দিয়ে ছিল জল্লাদ কলা,তার মুখ থেকেই সুনেচি,পাক বাহিনী কিনবা রাজাকার যেই ধরা পরত,নির্ধিদায় জবাই করে মারতেন তিনি,তাই তার নাম জল্লাদ কলা মিয়া,যিনি যুদ্ধের মাঠে প্রান দিয়ে,হয়েছেন অমর.. শহীদ,
কিছুক্ষণ পর খাবারের জন্য ডাক আসলো,
খেতে বসে আমি যার দিকে এক চোখে তাকাচ্ছিলাম তার কোনো খবর নেই,বড় অবাক হলাম একবারের জন্য ও তাকালনা আমার দিকে,কেরোসিনের জ্বলা প্রদীপে আমার দিকে তাকালে কি বা ক্ষতি হত,কেউ দেখতেও পেতনা,আবার মনে মনে ভাবলাম হয়ত তাকিয়েচে,যা ছিল আমার দৃষ্টির আড়ালে,
খাবার শেষে উঠোনে গিয়ে বসলাম,আকাশে চাঁদের আলো ঝিলমিল করছে,চারি পাসে ঝিঝি পোকার ডাক শুনা যায়.নিস্তব্ধ চারি পাশ,আমি কাকার দিকে তাকিয়ে বললাম,
..আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল,আপনার সাথে বসে একটু গল্প করি,গল্প শুনি,এমন একটা গল্প যা আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মনে রাখবে,
আমি যখন কাকার দিকে তাকালাম,কাকা তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে,চাঁদটা তখন ঘরের কনে দাড়িয়ে থাকা ডালিম গাছটার আড়ালে,
---পূর্নিমার ঠিক দুদিন আগের রাত,কমান্ডার সাহেব তখন বল্লেন,
--হাতেম, রশিদ,তোমারা দুজন আরো দুজনকে সাথে নিয়ে,আজি চট্টগ্রামের দিকে রওয়ানা হবে,সেখানে গেলেই তোমাদের সব বুঝিয়ে দিবে সেখানকার কমান্ডার,আর একটা কথা,জীবন দিয়ে হলেও কাপ্তাই কে বাঁচাবে,
বিশাল পথ পারি দেয়া কঠিন ছিল,কিন্তু মায়ের জন্য আমরা যারা নিজের জীবনকে বাজি রেখেছি,তাদর জন্য কঠিন ছিলনা,
কিছুটা পথ সাইকেলে,কিছুটা বাসে,যে ভাবে পেরেছি নিজের গন্তব্যে এসে পৌছলাম অপারেশেনের জন্য,আমি লেখা পরা জানিনা,মুর্খ একজন মানুষ,রশিদ বোমার বেপারে খুব ভালো জানত.আর আমি নাকি খুব সাহসী,তাই রাশিদের সাথে আমাকে পাঠালো.
চট্টগ্রামে এসে জনলাম,কাপ্তাই যাবার পথে,লিচু বাগানের কিছুটা আগে একটা ব্রিজ আছে,আর সেখানেই আমাদের অপারেশন করতে হবে,উড়িয়ে দিতে হবে,কারণ আমাদের সবারই জানা ছিল,আমরা চার জন ছাড়া,বাকি যারা আছে সবাই আমাদের অপরিচিত,লক্ষ্য আমাদের একটা,
পূর্নিমার মধ্যরাতে অপারেশন করতে হবে,যুদ্ধ অনেক দেখিছি,অনেক করেছি,কিন্তু আজও ভুলতে পারিনি সে রাতের কথা,ভাবতে গেলে আমার শরীর শিহরণ দিয়ে উঠে,
রশিদ সব কিছু প্রস্তূত করে পেল্ল,আমাদের চার জনের দায়েত্ত্য ব্রিজ উড়ানো,আমাদের কভার করার জন্য আরো ৪০ জন মুক্তি বাহিনী,যাদের ব্রিজের দুপাশে চার ভাগে ভাগ হয়ে লুকিয়ে থাকতে বলা হয়েছে,
সব কিছুই প্রস্তুত সবাই চুপ,অপেক্ষা পাকিস্তানি গাড়ি বহর কখন আসবে,
একটু পরেই নজরে পড়ল গাড়ির লাইটের আলো,লাইটের আলো দেখে রসিদ বলল চারটা গাড়ি,৭০-৮০ জন হবে হয়ত,আমি তখন বললাম ..
রসিদ ভাই ...এমন সময় বম ব্লাস্ট জরতে হবে,যাতে করে ঐ পারে একটার বেশি গাড়ি না থাকে,
রসিদ ভাই বলল
ব্রিজে যদি একসাথে তিনটা গাড়ি একসাথে উঠে তাহলে,একসাথেই তিনটা উড়িয়ে দেয়া যাবে,বাকি যা থাকবে সবাই ভাগ করে খাব,
কাকা তখন একটু মুচকি হাসলেন,বুঝে নিলাম তখনও হয়ত শব্ধ হীন এমন করে মুচকি হাসিটা হেসেছেন,এবার একটু মলিন মুখে বলতে লাগলেন.....
পাকিস্তানি বাহিনী রা কি করলো জানো,ব্রিজের ওপারে দাড়ালো,বুকের ভেতরটা তখন কেমন করে উঠে ছিল,
হারামজাদারা কেন দাড়ালো বুঝে পেল্লনা তো,
রসিদ ভাই যখন আমাকে একথা বলল, তখন আমি বললাম একটা কেও ছাড়বনা বুঝলে বুঝোজ,রসিদ ভাই আমার কাদে হাত রেখে বলল,এই জন্যই তোমাকে সাহসী বলি...
একটু পরে দেখলাম একটা গাড়ি পার হচ্ছে,তার পর আরেকটা,
রসিদ ভাই আমাকে বলল দেখলা হাতেম সালাদের বুদ্ধি আছে,
যেই তৃতীয় গাড়িটা ব্রিজে উঠলো,আর তখনি .......
গাড়ি আর ব্রিজ দুটাই উড়ে গেল,তার পর সুরু হলো গোলা গুলি,
কিছুক্ষণ পর ওপার থেকে গর্জে উঠলো জয় বাংলার ধ্বনি,
এপারে তখনও গোলা গুলি চলছিল,কোত্থেকে একটা গুলি আমার হাটুতে এসে লাগলো,প্রথম বুঝতে পারিনি,মনে হলো কোনো গাছেন চিকন কোনো কিছু লেগেছে, যখন রক্ত বের হতে লাগলো,তখন আমার সারা শরীর কাপছিল.রসিদ ভাই তার শার্ট ছিড়ে দিয়ে আমার পা বেধে দিল, আর আমাকে বসতে বলল,কিন্তু আমি বসে থাকিনি লড়ে গেলাম,কাকার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি অবাক হয়ে গেলাম,হিংস্র বাঘের হিংস্র চেহেরা আমি দেখলাম মানুষের রূপে,শান্ত সভ্য মানুষ যখন আগুনের দাবা নলে পুড়ে আপনারে ভুলায়ে,ভেতরের তুফান বাহিরে প্রকাশ করে তখন,বাঘের মত গর্জে উঠে এক ভয়ঙ্কর রূপ নেয় আমি দেখেছি ৫৮-৬০ বছরের গাজী কাকার চোখে মুখে চেহারায়.জেনেছি তাইত বাংগালীরা বির.ওপারে থাকা যুদ্ধারা খালের পানি সাতরিয়ে এপারে এসে যোগ দিল,আমাদের বলা হয়ে ছিল যারা আত্ম সমর্পণ করবে,তাদের যেন জীবিত রাখা হয়,কিন্তু কাউকে ক্ষমা করা হয়নি,গুলি করে করে ওপারে পাঠিয়েছি তাদের,যারা আমার মা বনের উপর অত্যাচার করে ছিল,আমার নিরস্র ভাযদের হত্যা করেছিল,ছাড়িনি তাদের একটাকেও ছাড়িনি,হত্যা করেছি একজন একজন করে,কথা শেষ করে কাকা কেন জানি একটু থামল, তারপর আবার বলতে সুরু করলো,
আমার পাটা কেটে পেলা হলো,হাসপাতালে চিলামে প্রায় দুমাসের মত,যখন সুস্ত হলাম,তখন আমার শোনার বাংলা পরিচিত হলো বাংলাদেশ নামে বিশ্বের কাছে নতুন নামে,
জানতে চাইলাম তার মা বাবা ভাই বনের কতহা,বলল
আমার কোনো বন ছিলনা,মা বাবা আর ১৩-১৪ বছরের একটা ভাই,যাদের নিজের হাতে মাটি চাপা দিয়ে তুলে নিলাম অস্র,আমার জন্য আমার মা বাবা ভাই কে দিতে হলো জীবন,
কাকার চোখের পানি তখন আদা পাকা দাড়ি বেয়ে পরছে মাটিতে টপ টপ করে,
আমি তখন দাড়িয়ে একটা সেলুট দিলাম,আমার দিকে তাকিয়ে অশ্রু ভরা মুখে,অনেক কিছু বলার আশায়..................
আমি মনে মনে বললাম
একটি ফুল দিয়েছ মদের ,
সাজাতে বাগান তোমরা সুধালে ঋণ
বাচলে মায়ের মান.
তোমাদের দুর্সাহসে
আমরা হই সাহসী,
যাদের ঝাঝালো স্লোগানে
আমরা হই বিদ্রোহী.
ওহে বির চির উন্নত মমশির
তোমরাই হলে মদের গর্ব
তোমরাই হলে মোহা বির......

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement