লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ মে ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৭৮টি

সমন্বিত স্কোর

৬.০৮

বিচারক স্কোরঃ ৩.৮২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমুক্তিযোদ্ধা (ডিসেম্বর ২০১২)

একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মূর্তি চুরি রহস্য
মুক্তিযোদ্ধা

সংখ্যা

মোট ভোট ৪৯ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৬.০৮

মামুন ম. আজিজ

comment ১৮  favorite ০  import_contacts ১,৪৬১
[২১ শে ফ্রেব্রুয়ারী সংখ্যায় একটি গল্প লিখেছিলাম-‘মাতৃভাষা দিবস ও একটি তদন্ত’ যা ছিল আমার প্রথম লেখা কোন পূর্ণাঙ্গ গোয়েন্দা গল্প। গোয়েন্দা চরিত্রটির নাম ছিল মাহির এবং তার সহকারী একটি ছেলে ছিল যার নাম দিয়েছিলাম নিমিখ, প্রবল সাহস জুগিয়ে অতি অল্প সময়ে এক বসায় গোয়েন্দা গল্পের দ্বিতীয় সিকুয়্যাল লেখার প্রচেষ্টার প্রকাশ- এই গল্পটি। মূল গোয়েন্দা চরিত্র ‘মাহির’ নামটা বদলে ‘তড়িৎ’ নামকরণ করা হয়েছে এই সিকুয়্যাল থেকে এবং ভবিষ্যতে ‘মাতৃভাষা দিবস ও একটি তদন্ত’ গল্পটির গোয়েন্দা চরিত্রটির নামও ‘তড়িৎ’ হিসাবেই পুনঃ লিখন বা পুনঃ প্রকাশের সময় পরিবর্তন করা হবে। ]

এক.
‘আমি টোমাকে ভালোবাসি তড়িৎ’

শুধু এতটুকুই লেখা কাগজটিতে। কমলা রঙের একটি কাগজ, মসৃন বেশ।

সন্ধ্যার সময় তড়িৎ ভাইয়ের চিলেকোঠার দরজার সামনে কেউ ফেলে গেছে । সাত সকাল মানে সকাল সাতটা কিনা জানিনা তবে সেই সাত সকাল এখন। চিলেকোঠার দরজাটার ফাঁকফোকড় গলে সূর্যের আলো হু হু করে ঢুকছে। সেই আলো আড়াল করে আমিও ঢুকেই ধপাস করে আমার বিশাল দীর্ঘ দেহের বিশাল নিতম্বটা নিয়ে বসে পড়লাম তড়িৎ ভাইয়ের বিছানায়। বিছানাটা দুলে উঠল। মনে হলো সে খুশি হলোন। তড়িৎ ভাই তখনও চিৎ হয়ে শুয়ে কমলা রঙের কাগজে শব্দ চারটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।

আমি বললাম, কি করছো তড়িৎ ভাই?

পত্রিকার জন্য অপেক্ষা করছি। পত্রিকা ওয়ালা আসেনি এখনও নিমিখ, দেখতো?

গেইট দিয়ে ঢুকতে দেখলাম। এসে যাবে। তা তোমার হাতে ওটা কি? দেখি দেখি, এমা এ যে প্রেম পত্র...

পত্র, তুই পত্র পেলি কই, চিরকূট বলতে পারিছ, গোয়েন্দার সহকারী হয়েছিস চিরকূট চিনলিনা।

তা সে যা হোক, কে পাঠলো তোমাকে এ জিনিস?

যেই পাঠাক, সে আমি আমি ধরতে পেরেছি সহজেই...

কে বলো দেখি, গিয়ে একটা চড় মেরে আসি।

কেনো চড় মারবি কেনো, ভালবাসা কি অন্যায় নাকিরে। তবে কি জানিস এটা কোন মেয়ের হাতের লেখা নয়, মেয়েদেও হাতের লেখা গোটা গোটা হয়, এটা কেমন কাটখোট্টা টাইপ...

হলোনা তড়িৎ ভাই, বিখ্যাত গোয়েন্দা তড়িৎ তুমি ধরা খেয়ে গেলে...এটা অবশ্যই মেয়ের লেখা, আমার সামনেই তো লিখ...

বল আরও বল নিমিখ, ধরা তাহলে কে খেলোরে এবার? শোন, ‘তোমাকে’ যখন টোমাকে হয়ে হয়েছে তখন আর অন্য কিছু ভাবতে হয়না , ঐ পরবাসী সিমকি ছাড়া আর কেউ হতেই পারেনা, আর কোন মেয়ে ছাড়া এভাবে বর্ণের মসৃণ প্রান্তিকতা ছেলেরা লেখার সময় মেইন্টেন করেনা। তা তোর কাজিনটা সত্যি ভালবাসে, ডাকতো একবার।

ওরা তো কক্সবাজার বেড়াতে গেছে। এই কাজ করে আবার তোমার সামনে থাকবে, সাহস আছে নাকি...

ঠিক সে সময় আমার বাসার কাজের ছেলে ইসমাইল হোসেন দরজায় নক করল, তার হাতে পেপার। সে এগিয়ে দিতেই তড়িৎ ভাই বিছানা ছেড়ে উঠে পেপার হাতে নিলেন। ভাবনা এমন যেন পেপারটা আরেকটু দেরীতে এলেই জীবনাবসান হয়ে যেত। তড়িৎ ভাই প্রথম পাতার প্রতিটিা হেডিংয়ে চোখ বুলালে, তার পর পেছনের পাতা উল্টে মাথাটা বাম দিকে সরাতেই স্থির হয়ে গেলেন একটা ছবির উপর। তড়িৎ ভাইয়ের উৎকণ্ঠা দেখে আমিও মাথাটা এগিয়ে নিলাম। পড়লাম হেডিংটা-‘ পঙ্গু কোরবান আলীই মূল হোতা।’

খুব বড় নিউজ নয়, এক কলামে একটি ছবি সহ ছয় ইঞ্চি হবে বড়জোড়।


দুই.
তড়িৎ ভাই খবরটি পড়তে পড়তে দুই ঠোঁট একসাথে চেপে রেখেছেন। তার এই গভীর দুশ্চিনার কারন জানতইে আমিও দ্রুত খবরটি পড়ে ফেললাম। তেমন কি আছে ওতে বুঝলাম না।

কোরবার আলী একজন বয়স্ক লোক। কোন এক বস্তিতে থাকেন। তার ঘর থেকে ছোট আকারের একটি স্বর্ণের বৌদ্ধ মূতি পাওয়া গেছে। ঐ এলাকায় একটা ছোট বৌদ্ধ মন্দির আছে। সেখান থেকেই মূর্তিটা চুরি হয়েছিল। চুরিটা হয়েছিল যেদিন কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে ধ্বংস যজ্ঞ চালানো হয় ঠিক তার পরের দিন রাতে। বৃদ্ধ চুরির দায় স্বীকার করেছেন। এর সাথে শেষে এক লাইন লিখেছে -শুধু এই মূর্তি চুরিই নয় ধারনা করা হচ্ছে এই বৃদ্ধ কোন বড় চক্রের সদস্য যাদের সাথে রামুর ঘটনার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে পুলিশের ধারনা।

তড়িৎ ভাই বিছানার চিৎ হওয়া অবস্থা থেকে এখন উঠে বসেছেন। চিন্তা করছেন গভীরভাবে। জিজ্ঞাস করলাম, ভাই এ খবরে চিন্তিত হবার মত কি আছে?

তুই এই ছবির লোকটাকে চিনতে পারলিনা। মনে করে দেখতো? লোকটার নাম কোরবান আলী। তার বাম হাতটা নেই। একজন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা। এক হাতেই রিকশা চালাতেন এক সময়। মনে আছে, তুইতো ছিলি আমার সাথে একদিন, ঢাকা ভার্সিটির ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। মনে করে দেখ, আমি তার সাথে অনেক কথা বলছিলাম।

হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে পড়েছে ভাই, মনে পড়ছে, এ সেই লোকটা। আমরা রিকশা থেকে নেমে চা খেলাম। তুমি তার সাথে অনেক গল্প করলে। সত্যি আমি একটুও চিনতে পারিনি। উনি তো অনেক ভালো মানুষ। তারোপর একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।

হ্যাঁ, আসলেই অনেক ভালো মানুষ। আরও অনেকবার তার সাথে আমার দেখা হয়েছে , শুধু রিকশা নয় , জীবন জীবিকার জন্য ঐ এক হাতেই তিনি অনেক কাজ করেছেন একসময়। রাজমিস্ত্রীর কাজ, যোগালীর কাজ সব। এখনও বোধহয় করেন। কিন্তু কোনদিন কারও কাছে হাত পাতেন নি। রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়েছেন বলেছিলেন একদিন, এই বয়সে আর পারেন না চালাতে। আমার দেখা হয়না বহুদিন তার সাথে। আমরা নম্বর তার কাছে থাকার কথা, বলেছিলাম বিপদে পড়লেই কল করতে। করলোনা কেনো? এ লোক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, শুধু তাই নয় তিনি কখনই সাম্প্রদায়িক নন, আমি খুব ভালো করে চিনি। কোথাও পুলিশ একটা ভুল করেছে। এমন একটা সৎ নির্ভীক দেশ প্রেমিক...

ভাবলাম কই একটু কক্সবাজার যাব, সিমকিকে একটা ধকম খাওয়াবো তোমার কাছে, একটু ঘোরা ফেরা হবে, বাবার প্যাঁনপ্যাঁনি থেকে কিছুটা রিলাক্স হব। হলো না বোধহয় ...তা কোরবান আলীর জন্য কি করতে চাচ্ছ?

কি আবার, তাকে মুক্ত করতেই হবে। সে নির্র্দোষ এ আমি একজন গোয়েন্দা হয়েও চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি।

রেডী হ, খেয়ে নাস্তা করেই আমরা বের হয়ে পড়ব।


তিন.
জেলখানায় কোরবান আলীর সাথে দেখা করার অনুমতি ফোনেই জোগার করে ফেললো তড়িৎ ভাই । জেলার সাহেব ভাইয়ের খুবই পরিচিত মানুষ।

আমরা দু’জন জেলখানায় পৌঁছে গেলাম। গরাদের ভেতর এক কোনে বৃদ্ধ লোকটা ঝিুমচ্ছেন। আগে যখন দেখেছিলাম এত বয়স তো মনে হয়নি। এখন খুবই বৃদ্ধ মনে হচ্ছে তাকে। রিমান্ডের কারনে নাতো! এই বুড়োতে কি সত্যি রিমান্ডে নেয়ার প্রযোজন আছে-মনে মনে প্রশ্ন করি।

তড়িৎ ভাই কোরবান আলীকে কাছে ডাকলেন । লোকটা মাথাটা উঁচু করে একবার তাকালেন। বললেন, কে?

চোখে যে ভালো দেখতে পারেন না সেটা বোঝা গেলো। তড়িৎ ভাইই জোড়ে আরেকবার বললেন, কোরবান সাহেব আমি তড়িৎ, গোয়েন্দা তড়িৎ, আমাকে চিনলেন না।

এবার কোরবান আলী ডান হাতটা মাটিতে রেখে শরীরের ভার তার উপর চাপিয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং দ্রুত এগিয়ে এলেন। বললেন, তড়িৎ ভাই, আপনি, আপনি কেনো আইলেন আবার।

আপনার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার এই বিপদে আর আমি আসবোনা, এটা কি বলেন , তা চোখে বোধহয় খুব একটা ভালো দেখেন না এখন আর, মূতি চুরি করলেন কেমন করে?

তড়িৎ ভাই , আপনি চলে যান, কবে কি যুদ্ধ করেছিলাম তাই নিয়ে আপনি পইড়া রইছেন। তখন অভাব ছিলনা। এখন অভাব আছে তাই চুরি করছি , আপনি শুধু শুধু আপনার মূল্যাবন সময় নষ্ট করতাছেন। আমি সব স্বীকার কইরা নিছি। ঐ রিমান্ডের মারপিট এই বয়সে সহ্য হইবো না।

কিন্তু আপনাকে তারপরোও রিমান্ডে নেয়া হবে। ব্যবস্থা হচ্ছে দেখে এলাম। কেনো জানেন-আপনি বলে রামুর বৌদ্ধ মন্দির সহিংসঘটনায়ও জড়িত। এটাও কি স্বীকার করে নেবেন।

নিতে হলে নিবো, .আপনি জান, প্লিজ আপনি চইলা যান।

আচ্ছা আচ্ছা কোরবান আলী-যাব, আপনি আমাকে অনেক পছন্দ করেন, তাই না? যদি তাই হয় সেই পছন্দ থেকে শুধু তিনটি প্রশ্ন করবো, উত্তর পেলেই চলে যাব। আপনি মিথ্যা কথাতো আমার সাথে বলেন না কখনও, এখনও আশা করি তাই করবেন। প্রথম প্রশ্ন হলো, আপনি কি সামনের দেয়ালের তিনটে ছোট ছোট গর্ত দেখতে পাচ্ছেন চোখে।

উত্তর এলো-পাচ্ছি।

হুম। আচ্ছা আপনি জীবনে কখনও কোন বৌদ্ধ মন্দিরে ঢুকেছেন?

তড়িৎ ভাই , না ঢুকলে চুরি করলাম কেমনে?

তাইলে ওখানে তো তিনটে মূতি ছিল, আপনি একটাই চুরি করলেন কেনো?

কোরবানা আলী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, একটাই পাচার করবার ওর্ডার ছিল?
ঠিক আছে, ভালো থাকবেন কোরবান সাহেব, এ দেশটা আপনাদের, আপনারাই এ দেশটা রক্তের বিনিমিয়ে ছিনিয়ে এনেছেন, এ কথাটা মাথায় রাখবেন।

আর কথা বাড়ালেন না তড়িৎ ভাই, আমরা বেরিয়ে চলে এলাম।

চার.
জেলখানা থেকে সোজা গলে গেলাম আমরা দু’জন মন্দিরটার ওখানে। তড়িৎ ভাই আমাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেন, খুবই ছোট আকারের একটা মন্দির। মন্দিরের পুরোহিতের সাথে কথা বলে জানা গেলো সেখানে একটাই স্বর্ণের মূর্তি ছিল। এখন যেটা দেখা যাচ্ছে ওটাই সেটা। আর কোন মূর্তি নেই ওখানে।

কি বুঝলি নিমিখ, কোরবান আলী গর্তবিহীন দেয়ালেও গর্ত দেখতে পেলো, চোখে কিছুই মনে হয় দেখে না। আর উনি মন্দিরে দেখেছেন তিনটি মূর্তি। কিন্তু একজন সত্যবাদী মানুষ এমন অনর্গল মিথ্যে বলে যাচ্ছে কেনো? রিমান্ডে নেয়ার আগেই ওনাকে বের করে আনতে হবে। যেভাবেই হোক। এ শরীরে ওনার ধকল সইবে না মোটেও। চল ওনার ঘরটা থেকে ঘুরে আসি।

ঘরে কোরবান আলীর বড় ছেলের বউকে কেবল পাওয়া গেলো। বড় ছেলে ফোরকান আলীর প্রথম বউ। এই ঘরে তার দুটি ছেলে মেয়ে ছিল, সে সব ফেলে আরও বছর সাতেক আগেই ফোরকান আলাদা হয়ে চলে গেছে , নতুন একটা বিয়ে করেছে, সেখানেই থাকে। প্রথম বউ বাচ্চাকে বাবার ঘাড়ে ফেলে গেছে। কোরবান আলীর বউ মারা যাবার পর এই বউমা থাকায় দেখাশোনার একটা উপায় অন্তত হয়েছে। এসব গল্প সব আগেই কোরবনা আলী শুনিয়েছে তড়িৎ ভাইকে। ফোরকানের বাবার উপর খুব রাগ ছিল। এই ছেলেটাকে কিছুটা লেখাপড়া করতে শিখিয়েছিলেন কোরবান আলী। ইন্টর পর্যন্ত সে পড়েছে। এরপর আর টাকার অভাবে পড়া হয়নি। ফোরকারনের এই পড়ালেখা করানো নিয়েও তার অনেক রাগ। লেখাপড়া না জানলে অনেক কাজ করা যেত, শিখে নাকি সব কাজ করতে মন টানেনা। একটু ভদ্র কাজ খোঁজে সে, একটা চাকুরী। যুদ্ধে হাত হারিয়েছে, অথচ চাকুরীর জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাবার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট চেয়েছিল, বাবা তার দিতে পারেননি। কোরবান আলী জানতোই না সার্টিফিকেট বলে কোন বিষয় আছে। সকলেই তারে মুক্তিযোদ্ধ বলেই চেনে। গ্রামে ছিল চৌদ্দ গ্রামের লোক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বলে তার নাম জানত। ঢাকার এই বস্তিতেও সবাই জানে তার হাত না থাকার এই আত্মত্যাগের ইতিহাস। কে না জানে? কিন্তু কাগজের জানাটা যে মানুষের মনের জানার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন সে বিষয় অশিক্ষিত কোরবান আলী কেমন করে জানবে?

তড়িৎ ভাই বলেছিল অবশ্য তার সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেবে কিনা। ততদিনে ফোরকান রাগ টাগ করে দ্বিতীয় বিয়ে করে সেই বিয়ের সুবাদে ঢাকার অদূরে টঙ্গীতে একটা দোকনদারী করার সুযোগ পেয়ে বাবা মা সন্তান ফেলে কবেই চলে গেছে। কোরবান আলী অবশ্য কাগুজে সার্টিফিেেকটর প্রতি কোন আগ্রহ দেখায়নি। যে গেছে গেছে, বলেছিল , যে ছেলে আছে ওটা তো আর লেখা পড়া শিখলোনা কিছু , ওর ওসব লাগবোনা।

বড় ছেলের প্রথম বউটার কাছ থেকে তেমন কিছু জানা গেলোনা। এই বউটা খুব ভালো, কোরবনা আলীকে আপন বাবার মতোই শ্রদ্ধা করে। তাইতো তাকে ফেলে কোথাও যায়নি। পেটের সন্তান বড়টা মরে গেছে বিনা চিকিৎসায় অনেক আগেই। অন্যটা আছে। বয়স সাত, নাম হানিফ। এই তিনজন এই কুঁড়ে ঘরের দুটো ভাগে কোনমতে টিকে আছে। জানা গেলো মাস সাত আগে ছোট ছেলে আরমান আলীও ঘর ছেড়েছে।


কোরবান আলীর সাথে ঝগড়া হয়েছিল। ঝগড়া তেমন কোন গুরু কোন বিষয় থেকে নয়। আরমান আলী বাসের হেল্পার এর কাজ করত। ঢাকার এই অসহ্য জ্যামে আজকাল তার মেজাজ এমনেতেই খিঁচে থাকে। এর মধ্যে কোরবান আলীর কাছে এলাকার মানুষ কানাঘুষা শুরু করেছিল- তার ছোট ছেলের সাথে নাকি বড় ছেলের বড় বউটার লটর পটর চলছে। কোরবান আলী শুনে রাগ করলেও পরে ভেবেছিল , খারাপ নাতো , যদি সত্যি ছেলেটা বিয়ে করতে রাজী হয়। রাতে খাবার সময় কথাটা তোলার জন্য চেষ্টা করেছিলেন, বলেছিলেম, হানিফের মা আ কতদিন বিধবার মতো থাকবো। তুই ফোরকানের কাছে গিয়া ক হেরে ছাইরা দিতে, হেরে আমি বিয়া দিুম , যদি ত্ইু ...
কথাটা পুরো বলা হয়নি তার আগেই আরমান অন্য কথা তুলেছিল, বলেছিল, বাবা খান তো, হারাদিন জ্যামে বইসা বইসা মাথা ঠিক থাকেনা। এইসব পরে হুনমু নে। কি বালের যুদ্ধ করছিলেন, কি দরকার আছিল এমন একটা দেশ স্বাধীন করনের। কি লাভ হৈছে, দুবেলা খাইবার দেয়না আপনের মত একজন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধারের, কেন করছিলেন এই যুদ্ধ,ক্যান।

তুই আরমান কথা ঘুরাইতেছোস, হানিফের মার বিয়ার কথা কইতাছিলাম। হুনছ না কেন, তবে মাইষে যা কয় তা কি সত্যি ধইরা লমু নি।

দেশ স্বাধীন কইর হেইটারেই ঠিক করবার পারলানা, পোলারে আটকাইতে পারলনা। এখন আইছো আমারে আটকাইতে। কেন ভাবী মানুষ না, হের কষ্ট হয়না।

তুই বিয়া কইরা ফেলা? করমুনে সময় হৈলে।

সময় কবে হইবো। ফোরকানকে ক’ তালাক দিবার।

দূর, চুপ কইরা খান তো, এইসব প্যান পানি আপনেরে মানায় না। বুড়া হৈছেন, বুড়ার মতো থাকেন, যুদ্ধ কইরা আমাগোরে দিছেন এমন পঁচা একটা দেশ...

কোরবান আলী রেগে যায়। বলেন, দেশ পঁচা না , পঁচা হইলো মানুষ , তোর আমার মতোন মানুষ। তুই বড় বাড়ছোস। এ বাড়ি থেইকা বাইর হ তুই ও, যা আমার পোলা লগবোনা একটাও। হানিফার মার কাছেও আর আবিনা। আজকাই চইল্যা যা।



...হানিফের মার কাছ থেকে জানা গেলো আরমান সেই দিনের পর আর বাড়ী আসে নাই। ফোন করেছিল তার কাছে, সে এখন কক্সবাজার থাকে। সেখানে টেম্পু চালায়। আরও জানা গেলো সত্যি সত্যি সে হানিফের মাকে বিয়ে করতে চায়। দু’জনের মধ্যে সম্পর্কটা একেবারে মিথ্যে নয় ।

তড়িৎ ভাই বললেন, আরমান যে কক্সবাজোর থাকে কোরবান সাবে সেটা জানেন?

হানিফের মা বলল, জানেন।

বলতে বলতে সে আবার কেঁদে উঠল, বলল, বাবারে বাঁচান, উনি চুরি করে নাই। আমি জানি উনি চুরি করে নাই। উনি ফেরেশতার মত মানুষ। আল্লায় যে কেন হের ঘরে দুইটা শয়তান পঠাইলো, কেন?

আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাইলে কি আপনি জানেন কে চুরি করেছে, কে এখানে এনে রেখেছে?

না, আমি কেমনে জানমু, তবে বাবায় করে নাই। বাবায় করে নাই। মাস দুয়েক ধইরা উনি তো চোখেই ঠিকমতো দেখবার পারেন না। উনি মন্দিরে যাইবো কেমনে। তারোপর চুরি।

তড়িৎ ভাইয়ের অনুরোধে আরমানের কক্সবাজারের ঠিকানাটা পাওযা গেলো। সে অনেকদিন ধরে খোঁজও নেয়ানা। বাবা জেলে দুই ছেলের কারও খবর নাই।

হানিফের মা বলেন, আমার হৈছে জ্বালা কার কাছে যামু, বুইড়া বাবায় কি যে করতাছে জেলে, মইরাই যায় কিনা।
আমি থাকতে কোরবান আলীর মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিনা অন্যায়ের শাস্তি কখনই পেতে দেবোনা। কখনই না। আমি আজই কক্সবজার যাবো।

একটা কাজ কইরা দিবেন, হেরে পাইলে কইবেন, আমি কিন্তু পোয়াতি, হেরে কইবেন আমারে যেন বাঁচায় আইসা। আমারে যেন বাঁচায়। ---বলতে বলতে হানিফের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে।


পাঁচ.
তাইলে তুমি সত্যি কক্সবাজার যাচ্ছো।

হুম, সিমকিকে বল তড়িৎ ভাই আসছে, আমাদের জন্য হোটেলে একটা রুম এখনই বুকিং দিতে বল।

তোমার ধারনা, এ কথা বললে সিমকি আর থাকবে ওখানে। তোমার সামনে আর আসার সাহস আছে ওর। আছে, যদি সে সত্যি ভালবাসে তাহলে অবশ্যই সে থাকতে পারবে। ভালবাসিসনাইতো কখনও জানিস না, ভালোবাসার অনেক সত্যি। দেখলিতো হানিফের মা আরমানকে কত ভালবাসে।

কিন্তু তড়িৎ ভাই, বেটির যা পেট দেখলাম পোয়াতি বোঝার মতো কিছু সিগনিফিকেন্স নাই। সাত মাস আগে আরমান ঘর ছাড়লে ঐ বেটি কমছে কম সাত মাসের পোয়াতি, পেটতো তা বলেনা...

গুড অবজারভেশন নিমিখ। এটাই টার্গেট পয়েন্ট। দে সিমকির নম্বরটা দে। আমিই কথা বলে টিকিট জোগাড় করছি।

কি বলবা তুমি, কিছুই বলবনা। তাতেই কাজ হবে।

...সিমকি তড়িৎ ভাইর কথা শুনলো সত্যি সত্যি। আমাদের জন্য রুমও বুক দিযে দিলো। আমরা রাতেই রওয়না হয়ে গেলাম কক্সবাজরের উদ্দেশ্যে।

...এসি বাসে বসে আমি জব্বর একটা ঘুম দিয়ে সকালের সূর্যের আলোর সুরসুরিতে তাকাতইে দেখি ওই অদূরে নীল দিগন্ত দেখা যাচ্ছে। সাগর দেখেই মনটা আনচান করে উঠল। হোটেলে সিমকি মাথাটা নিচু করে ছিল।

তড়িৎ ভাই তার মাথাটা উঁচু করে তুলে ধরে বললেন, টোমাকে নয় তোমাকে হবে শব্দটা।

আ’ম সো সরি তড়িৎ ভাইয়া...

সিমকির সে কথায় তড়িৎ ভাই বললেন, শোনো মেয়ে ভালবাসা হলো সাগরের জলের মত। ওটা তীরে আছড়ে পরবেই, সে তুমি আটকাতে পারবনো। আর আটকাতে গেলে ঝড়ের সম্ভবনা আছে। কিন্তু বালু তীর কিন্তু খুব শুষ্ক, যতই আছড়ে পড়–ক জল, সে আবার শুকিয়ে যায়...

ঠিক বুঝলাম না ভাইয়া...

বুঝার দরকার নেই। তুমি খুবই লক্ষ্মী একটা মেয়ে, তোমার বিয়ে তে আমার দাওয়াত চাই , তা সে যে দেশেই হোক, বিদেশে হলে টিকেট ভিসা পাঠিয়ে দিও...

ও কথা বাড়ায়নি তড়িৎ ভাই। আমাকে বলল, এখুনি চল আরমানকে খুঁজে বের করি।

বললাম,কক্সবাজার এলাম একটু নোনা জলের ধারে ঘুরবনা।

তুই তাইলে সিমকির সাথে ঘোর। আমি একাই পারব। সমস্যা নেই। একাই ভালো হবে কাজটা আমার জন্য। বলেই তড়িৎ ভাই বেরিয়ে পড়লেন।

ভাই চলে যাবার পর সিমকি আমাকে সে যে কান মলাটা দিলোনা, বললো, জানলো কেমনে?

গোয়ন্দো কে বলতো, জানিস না, ওনার জানতে আবার ...আর তোমার যা ছিড়ি কেনো তোমাতে-টোমাকে হয়ে গেলো...

বলতে বলতে হাসতে হাসতে আমি খাবার জন্য সিমকির সাথে রেষ্টুরেন্টে ঢুকে পড়লাম।


বিকেলের দিকে তুড়িৎ ভাই হোটেলে ফিরে এলেন। আরমানকে খুঁজে বের করতে ভালোই কষ্ট হয়েছে। যে ঠিকানা হানিফের মা দিয়েছিল সে ঠিকানা এখন আর থাকেনা। কাছেই অন্য এক জায়গায় থাকে। আরমান তো জানেইন না তার বাবা যে জেলে। বাবাকে সে সত্যি অনেক ভালবাসে। রাতে আমাদের সাথে সেও ঢাকা ফিরছে।

মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ভাবলাম একটু ঘুরবো। সে কথা শুনে তড়িৎ ভাই আমাকে সিমকিকে সংগ দিতে থেকে যেতে বললেন। আমি তখন বুঝে গেছি রহস্যের সমাধান সম্ভবত হয়ে গেছে।শেষটুকু জানতেই হবে। কক্সবাজারের রূপের চেয়ে রহস্য সমাধান আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ন।আমরা রাতেই রওয়ানা দিলাম।

ছয়.
ঢাকায় পৌঁছে আমরা সোজা চলে গেলাম হানিফের মার কাছে। তার সামনে আরমানকে হাজির করালাম।

দু’জনে আমদের সামনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো। এক কান্না জড়ানো দৃশ্য। এরই নাম ভালোবাসা বোধহয়। বস্তির সেই ছোট ঘরেই চকির উপর তড়িৎ ভাই বসে পড়লেন। আমাকেও বসতে বললেন। আমার বিশাল নিতম্বটা রাখার মতো জায়গা কম , তবুও কোনমতে বসে পড়লাম পাশে। হানিফার মার হাতে দোকান থেকে আসর সময় কিনে আনা চা চিনির প্যাকেটটা দিয়ে বললাম, মাটির চুলার চা খামু আজকে আমরা। বানাইতে পারবেন।

কি যে কন স্যার। আপনারে আমার মা বাপ, আপনে আমারে বাঁচাইলেন। আরমান আইছে আমার আর চিন্তা নাই।

বলেই সে চা বানানোর আয়োজনে নেমে পড়ল।

তড়িৎ ভাই কথা শুরু করলেন, দেখো হানিফের মা, আমরা জানি তোমার পেটে যে বাচ্চা সে আরমানের না।

হঠাৎ চোখ ঘুরিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো হানিফের মা। বলল, এটা কি কন, না আরমান তুমি তো জান, তুমি আমার লগে আছিলা যাবার আগে।

আগে শোন হানিফের মা, তুমি সময়ের হিসাব হয়তো করনাই। আমরা করেছি। আরমানের সাথে আমার খোলাখুলি কথা হইছে। আমার ধারনা এই বাচ্চাটা ফোরকান আলীর। সে তোমার কাছে এখনও আসে গোপনে। সম্ভবত কোরবনা আলী চোখে কম দেখার সুযোগটা কাজে লাগায় সে। তুমিও মানা করতে পারনা।

আরমান আমাকে আরও বলেছে যেদিন কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে আগুন দেয়ার ঘটান ঘটেছি সেদিন সন্ধ্যায় কক্সবাজারে সে ফোরকানকে দেখেছে কক্সবাজারে বাস স্ট্যান্ডে। ডাকও দিযেছিল, সে শোনেনি বা শুনতে চায়নি। আমার ধারনা ফোরকান আন্তর্জাতিক মুর্তি চোরাচালানির সাথে জড়িত। আর তোমার এই ঘরটি সে মুর্তি রাখার কাজে ব্যবহার করে। দেখে তুমি সত্যি কথা বললে কোরবান আলীর মত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধ এই বয়সে অপমান হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। তাকে তুমি বাবার মত ভালবাস তুমি নিজেই বলেছো। আমি খোঁজ নিয়েছি আজই তাকে রামুর ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে রিমান্ডে নেয়া হবে। উনি বাঁচবেননা রিমান্ডে নিলে । তুমি কি চাও ...কার জন্য চাইছো, ফোরআর আলী তোমাকে কেবল ব্যবহার করছে। সে তোমার ভালো চাইলে তোমার পেটে আরেকটা বাচ্চা দিয়া দূরে পালাইতো না। তুমি কি বুঝতে পারছ।

আরমান মুখ খোলে, কও হানিফের মা, কও। আমি এবার তোমারে বিযা করমু ভাইবাই আইছি। ওই বাচ্চা আমার নামেই জন্ম হইবো। বড় ভাই ধরা পড়লেই হের কাছ থেকে আমি তালাকে সই করাই নিমু। তুমি ভাইবো না।

হানিফার মা, দুর্বল মহিলা। আরমানের বুকে এসে মাথা রেখে অঝোরে কেঁদে ফেললো। গড়গড় করে সব বলে গেলো। এটাই প্রথম মূর্তি না, আরও অনেক মূর্তিই সে রেখেছে এখানে জানা গেলো। মাঝে মাঝে রাতে আসতো , প্রথম বউয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্কটা নতুন করে শুরু করার উছিলা বানাইছিলো। হানিফার মা যতই যা হোক স্বামীকে মানা করতো পারেনি। পুরো বস্তিতে, পুলিশে কাছেও কোরবান আলী সৎ পঙ্গু মুক্তিযোদ্বা হিসেবে পরিচিত ছিল, এ বাড়িটাই তাই সবচেয়ে নিরাপদ ভেবেছিল চোরাকারবীর দল আর ফোরকান।


পরিশিষ্ট.
তড়িৎ ভাই দেরী করলোনা। হানিফার মাকে রাজ স্বাক্ষী বানিয়ে চাটশীট তৈরী করে দ্রুত ফোরকান আলীকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করালো। কোরবান আলী একদিন পরেই মুক্ত হলো। একটু কাঠখড় পোড়াতে হলো তড়িৎ ভাইকে। গোয়েন্দা বিভাগের মহব্বত আলীর সাথে সম্পর্কটা এক্ষেত্রে ভালো কাজ দিলো।

কোরবান আলী তড়িৎ ভাইয়ের মুখে সব শুনে একটা মুচকি হাসি দিলেন। বললেন, আমিতো ভাবছিলাম আমার ছোট পোলাডায় ঐ কাম করছে। একটারে তো মানুষ করাবার পারিনাই লেখা পড়া করাইয়াও। হেইটাও বুঝি হইলোনা। এমনেতো বড় ভাবীর লগে কিসব। তারপর কক্সবাজার গেছে গা, ঠিকই ঐ রামুর কি আগুন টাগুন দেয়ার কথা হুনলাম হেদিন, হেয়ও এর মধ্যে গেছেগা। পোলায় ঠিকই কইছিলো মনে হইলো, কিসের লাইগ্যা কি যুদ্ধ করলাম। কি লাভ হইলো। নিজের দুইডা পোলায়ই অমানুষ হইলো। আমগো দেশের বৌদ্ধরা কি দোষ করছে? হেরা কি যুদ্ধ করে নাই। হেগোর কি দেশ না। এইসব কি শুরু হৈছে দেশে। আমরা আরর বাঁচবার ইচেছ করেনা। পোলার অভিযোগ কিছুই করাবার পারিনাই হের লাইগ্যা। জেলে গিয়া হেরে বাঁচাইতে চাইলাম। একবারও ভাবলাম না ফোরকান শয়তানটাও করবার পারে। একবারও না। তাইলে কি আর শেষ জীবনে আপনার মতো ফেরেস্তার সাথেও মিথ্যে কথা বলি। আপনে আমারে ক্ষমা দেন।

ছিঃ ছিঃ, ক্ষমা আপনাদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আমাদের চাওয়া উচিৎ। আমাদের।

তড়িৎ ভাইয়ের সে কথায় ছলছল করতে দেখলাম বৃদ্ধার চোখ ।

ততিড় ভাই বললেন, আপনার চোখ আজই ডাক্তারকে দেখাতে হবে। দেরী করা যাবেনা মোটেও। আপনারা সেদিন এই চোখ দিয়ে স্বাধীনতার সূর্যকে উদিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বিশ্বাস করেছিলেন, বলেই তো আমরা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে পা মাড়িয়ে চলছি। আপনাদের সেই স্বপ্ন আর বিশ্বাস আমাদের আবার প্রয়োজন, খুব বেশি প্রয়োজন আজ ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • বশির আহমেদ
    বশির আহমেদ এমন সাবলিল ভাবে লিখে গেছেন মনে হয়নি কোন গল্প পড়ছি মনে হয়েছে আমি নিজেই তড়িৎ হয়ে কোরবান আলী মুক্তযযোদ্ধার জীবন পঞ্জী প্রত্যক্ষ করছি ।
    প্রত্যুত্তর . ৭ ডিসেম্বর, ২০১২
  • তানজিয়া তিথি
    তানজিয়া তিথি মামুন ভাই, খুব ভাল লিখেছেন গল্প । দু একটি বানান ( জোগার , স্বাক্ষী ) ঠিক কি না ; আমার জানা নেই । ভাল থাকবেন ও সালাম নিবেন ।
    প্রত্যুত্তর . ৭ ডিসেম্বর, ২০১২
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধা- এত সিরিয়াস একটা বিষয়কে শুধু মাত্র যুদ্ধক্ষেত্্‌ হত্যা, ধর্ষণ এই সব বর্ণনার বাইরেও যে কত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় তার প্রমান আপনার লেখা এই গল্প। খুব সুন্দর লিখেছেন।
    প্রত্যুত্তর . ১১ ডিসেম্বর, ২০১২
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক সুন্দর গল্প মামুন ভাই...সিলেক্টিভ বিষয় নিয়েও যে এত সুন্দর গোয়েন্দা গল্প হতে পারে...তা আপনার কল্পনা শক্তির বিস্তৃতির পরিচ্য়ায়ক...ধারাবাহিকতা আর বাক্য গঠনগুলো সত্যিই চমত্কার...খুব ভালো লাগলো...শুভ কামনা...আমার গল্পটা পড়ার অনুরোধ থাকলো....
    প্রত্যুত্তর . ১১ ডিসেম্বর, ২০১২
  • লুতফুল বারি পান্না
    লুতফুল বারি পান্না গল্পের মজায় একটানে পড়ে গেলাম। এককথায় দারুণ লাগল। তবে ইদানিং আপনার মাথায় পরকীয়ার ভূত পাকাপাকিভাবে চেপে বসেছে দেখতে পাচ্ছি। সুদর্শন মামুন ভাই- এটুকুই যা দুশ্চিন্তার.. :D
    প্রত্যুত্তর . ১৩ ডিসেম্বর, ২০১২
  • সালেহ  মাহমুদ
    সালেহ মাহমুদ এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম মামুন ভাই। খুব ভালো লিখেছেন। সমসাময়িক বিষয়ের সাথে মিল আছে বলে আরো ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ ডিসেম্বর, ২০১২
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার চারিত্রিক বিষয় বস্তু আর একজন গোয়েন্দার দ্বারা খুব সুন্দর কাহিনীর বিন্যসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা প্রশংসার দাবিদার....গল্পটি ভীষণ ভাললাগলো ....তবে তাড়াহুড়ো ছিল তা বোঝাই যায়...মামুন ভাইয়ের হাতে গোয়েন্দা গল্প আছে তারও প্রমান প...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
  • আহমেদ সাবের
    আহমেদ সাবের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে গোয়েন্দা গল্পের এমন মসৃণ মিশ্রণ মামুনের মতো উঁচু দরের গল্পকারের পক্ষেই সম্ভব। অসাধারণ গল্প। বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
    প্রত্যুত্তর . ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় গল্পটি যে ভালো লিখেছেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই আমার.তবে একটা দুটো মিসটেক চোখে পড়েছে.তার মধ্যে বিশেষ যে দুটি তা হলো:(১)গল্পের শুরুর একজাগায় লিখেছেন--"সূর্যের আলো হু হু করে ঢুকছে "--হু হু করে সূর্যের আলো কি ঘরে ঢোকে?(২)গল্পের শেষের দিকে-'আমাদের',এ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২২ ডিসেম্বর, ২০১২
    • মামুন ম. আজিজ আমাদের শব্দটির আগে একটা কমা (,) দিলেই লেঠা চুকে যাবে ভাইজান। আার হু হু করে তবে কি ঢোকে , বাতাস বুঝি?..হতে পারি। আমি কল্পনা করলাম সূর্যের আলো ঢুকছে ..ইহা কল্পনা মাত্র..কল্পনার কোন সীমা রেখা থাকেনা কবি সাহিত্যিকের কাছে। .////
      প্রত্যুত্তর . ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # অনেক সুন্দর গল্প ।
    প্রত্যুত্তর . ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

advertisement