লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ মে ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৭৮টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftসরলতা (অক্টোবর ২০১২)

ঝরে পড়া চুল
সরলতা

সংখ্যা

মামুন ম. আজিজ

comment ৪১  favorite ৪  import_contacts ১,৫৪৮
এক.
‘আহ্! কি যেন করনা তুমি। ঠিম মত শ্যাম্পু দিচ্ছোনা আজকাল? নামী দামী ব্রান্ডের সব শ্যাম্পু...তারপরও চুল উঠছে। বলতো এই চুলগুলো শার্টে লেগে থাকে যদি আর আমি অফিসের বস-ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে মিটিংয়ের মধ্যমণি হয়ে বসে আছি, দুটো চুল নড়ছে...দৃশ্যটা একবার কল্পনরা করতো, মিটিমিটি হাসবে সবাই ...ঐ ক্যবলাকান্ত ইঞ্জিনিয়ারটা, এসিসটেন্ট মেয়েটাও।’

শ্যামলী হ্যাঙ্গার থেকে হালকা আকাশী সাদা স্ট্রাইপের শার্টটা ছাড়িয়ে নিতেই দুটো লম্বা কালো চুলের দিকে চোখ গেলো, যেন স্বচ্ছ জলে দুটো কাল কেউটে ভেসে উঠেছে। পাশেই হিমেল দাড়িয়ে ছিল। তার চোখও গেলো। শ্যামলী কিছু বলার আগেই নিজের গলার স্বরটা একটু চড়া করলো হিমেল ।

শ্যামলী সারাক্ষণই হাসে। বিয়ের আগে হিমেলকে যতজন শ্যামলীর কোন প্রশংসা করেছে কেউ-একটা কথা বলতে ভোলেনি-‘মেয়েটোর হাসিতে ভীষণ সরলতা।’ এক ঢিলে দুইপাখি শিকারের নেশা হিমেলের আজন্ম। একে ধনীর কন্যা তারোপর শান্ত সরল। সরলতার মাঝেই তার সুখ। সরলতার পর্দায় সে ঢেকে নেবে নিজের অন্ধকার আলাদা-বিচ্ছিন্ন জগতগুলো।

চুলদু’টো সরাতে সরাতে শ্যামলী হেসে উঠলো। হাসলে হালকা টোল পড়ে। খুব হালকা। সেই হালকা টোলে টোকা দিয়ে হিমেল সাদা গেঞ্জি পড়া বুকের সাথে চেপে ধরল শ্যমলীর পূর্ণ চাঁদের মত গোলাকার বুকের বিশেষ আকর্ষনদুটো। সকালের এলো চুল ছড়িয়ে পড়ল হিমেলের কাঁধে। তারপর সরে যেতেই শ্যামলী খেয়াল করল একটাও চুল খসে পড়েনি। সে জানে তার চুল এত ঠুনকো নয়। সারারাত বিছানায় হিমেলের দুটো বাহুর মাঝে এপাশ ওপাশ গাড়গাড়ি খেলেও সকালে বিছানায় চুল কখনও সে পড়ে থাকতে দেখেছে বলে মনে পড়েনা। তবুও শ্যামলী হাসে। হিমেল হাসি চুরি করে গিলে নেয়। সকালের শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ভিজে ওঠে। শার্ট থেকে কড়া একটা লেডিস পারফিউমের গন্ধ এখনও মিইয়ে যায়নি। ঠিকই সে গন্ধ শ্যামলীর নাসারন্দ্রে ঢুকে অশনী সংকেত জানানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়। মনটা মুষঢ়ে যেতে যেতে সামলে নেয় সরলতার প্রতিমূর্তি শ্যামলী।

এক পা দুপা করে দরজা পেরোচ্ছে হিমেল। শ্যামলী ডান হাত নেড়ে বিদায় জানায়। অন্য হাতে তার ঠিকই ধরে রাখা সেই দুটো লম্বা চুল। মুখে তখনও বিদায়ের সরল মিষ্টি হাসি। মনে ঠিকই টার্বাইন চলছে। স্পষ্ট মনে পড়ছে শ্যামলীর, গতকাল সন্ধ্যায হিমেলে ফেরার পর এই শার্ট খোলার আগ পর্যণÍ কোন আলিঙ্গন হয়নি দু’জনার। তার সরল মনে গড়লের কালো রঙের কিছুটা পলি জমে উঠল।

দুই.
‘বের হবার আগে খেয়াল করোতো তোমার চুলটুল যেন শার্টে গায়ে লেগে না থাকে। আজতো আরেকটু হলেই প্রশ্ন করলেও করে ফেলতো শ্যামলী। অবশ্য ও যে সরলমনা, আমিই আগ বাড়িয়ে চুল পড়া নিয়ে কথা শুনিয়ে দিলাম, সুন্দরী অথচ কি নিটল সরল সোজা বউ আমার। ভাগ্য বটে। ভাগ্য না হলে তোমার মত সুন্দরীর সাথে এই বিছানায়...।’

হিমেলের খোলা বুক থেকে মাথাটা উঠিয়ে রুহিতা হিমেলের মুখের দিকে তাকায়। পরনে তার দু টুকরো কাপড় মাত্র। একটু পরে তাও থাকবেনা। হিমেলের হাতের আঙ্গুল বুকের আচ্ছাদনটা খোলার পায়তারা শুরু করেছে ঠিক সে সময় হিমেলের মোবাইলটা শব্দ করে উঠল। রোমাঞ্চে ভাটা পড়ল। রুহিতার ঠোঁটা বেঁকে উঠল, ‘মোবাইলটা বন্ধ করে রাখতে বলি, তা করবেনা।’

‘ওহ! ডার্লিং অফিসের ফোনতো আসতে পারে।’

অফিসের ফোন না, শ্যামলী লঠ করেছে । জিজ্ঞেস করল- কোথায়, খেয়েছে কিনা?

ব্রার হুকটা খুলতে খুলতে উত্তর দেয় হিমেল- ‘হু, খেয়েছি, একটা মিটিং আছে, তাড়াতাড়ি বল যা বলার।’

শ্যামলীর সরল উত্তর,‘ না, ঠিকাছে, আসলে একটু বের হব, শপিংয়ে যা...’

‘গাড়ী লাগবে?’

‘না মানে, যদি কোন গাড়ী ফ্রি থাকে তবে...’

‘ছিঃ, তোমার জন্য ডার্লিং সব গাড়ী ফ্রি, আধাঘন্টায় পৌঁছে যাবে। ঠিকাছে আর কল দিওনা, মিটিংয়ে থাকব। বাই।’

‘ডার্লিং, না!..., সবাই ডার্লিং!’

‘সরল মন, এতটুকু না বললে ... ভালতো শুধু তোমাকেই বাসি, ওতো কেবল একটা সম্বল, উত্তরার বাড়িটা শ্যামলীর নামে, এই ব্যবসার আর্ধেক অংশীদার শ্যামলীর বড় ভাই...ওদের থেকে কামাব তোমাকে সাজাব, ভরে দেব, সোনা দানায় আর আদরে...’

‘হয়েছে, এত সরল সোজা ভেবোনা, নারীদের তুমি কতটুকু চেন, নারী যখন ক্ষ্যাপে তখন সাত আসমানও কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

‘তুমিও পার? কোন প্লান আছে নাকি?’

‘হয়েছে, আমার প্লান শুধু তোমার সংগ, সে তুমি ভাল করেই জান। শুধু তোমার সংগ পাবার জন্যেই আমি তোমার কম্পিউটার এসিসটেন্টের চাকরিটা ছাড়ছিনা। না হলে ...’

‘না হলে কি...?’

‘কিছু না, তুমি বোঝনা? তবে তুমি শুনলাম তোমার সরল বউটাকে ইন্টারনেট চালানো শিখিয়েছ, দেখ ঐ জগত তাকে আবার চালাক চতুর বানিয়ে ফেলে কিনা?’

‘আরে দূর , কি যে বল, ওত ঘিলু ওর ঘটে নেই। ইন্টারনেট তো দিয়েছি কেবল লেটেস্ট মুভি আর হিন্দি সিরিয়াল গুলো ডাউনলোড করে দেখার ন্য। হিন্দি সিরিয়ালের যে পাগল। একটা মিস হলে চোখে তার জল চলে আসে। তাই বলেছি মিসি হলে ডাউনলোড করে সে এপিসোড দেখে নিতে। ওতটুকুই শিখিয়েছি। আর এত কাচা ভাবলে কেনো। প্রতিদিন আমি ওবেক হিস্ট্রি ঘেঁেট দেখি, ফেসুবক , টেসুবুক কিছুতেই সে ঠোঁকেনা। পতিব্রতা স্বামী। বন্ধু জোটাবে সে ওর দ্বারা সম্ভব নয়। ওসব চিন্তা বাদ দেও। এস বুকের মধ্যে মিশে যাও, ঢুকতে দাও তোমার অগ্নি গুহায়...।’

তিন.
শ্যামলীর বড় ভাই অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন। ঢাকায় বিসনেজ পুরোটাই তাই এখন হিমেলের দখলে। ব্যবসা চলছেও ভালো। বড় ভাইয়ের একটাই ছেলে। স্ট্যান্ডার্ড টু’তে পড়ে মাত্র। অনলাইনের যাবতীয় শিক্ষা এই পুঁচকে ভাতিজার কাছ থেকেই নিয়েছে শ্যামলী। অনেক কিছু শিখে ফেলেছে, ফেসবুকে বেশ কয়েকজন ভালো বন্ধুও হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের সাথে শ্যামলীর সখ্যতা বেশ। রোজই কথা হয়। ফোনেও কথা হয়। একজন ডাক্তার। নাম রাহাত। আরেকজন মোবাইল কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার আবির। ভাতিজার পরামর্শেই প্রতিবার লগআউটের পরে ব্রাউজারের সকল হিস্ট্রি মুছেও দিতেও সে শিখে গেছে। যে দিন হিমেলের গলার কাছে লাল দাগগুলো দেখে ফেলেছিল, তার সরল মনেও সেদিন সন্দেহ দানা না বেঁধে পারেনি। সাবধানতা তাই তার অব্যবহৃত বু্িদ্ধমতায় আপনাতেই কার্যকর হয়ে উঠেছে।


সকালে দুটো ছিন্ন চুলের কথা একটু আগে রাহাতকে ফেসবুকে সরল মনেই জানিয়ে ফেলল। বেশ ভালো বন্ধু তারা এখন। রাহাতের হাসপাতালে গিয়ে একবার দেখাও করে এসেছে। এমনই লাবণ্য মুখশ্রী শ্যামলীর, রাহাত মুগ্ধ না হয়ে পারেনি। বন্ধুত্বের গভীরতা তাই সে ইচ্ছেই করেই বাড়িয়ে দিয়েছে, যদি কোনদিন আরেকটু কাছে আসার সুযোগ হয়। শ্যামলী তার সাথে অনেক কিছুই শেয়ার করে। আজও করল তেমন। তারপরই পরামর্শটা জানাল শ্যামলীকে সে।

ড্রাইভার চলে এসেছে। ফেসবুকেই ছিল এতক্ষণ শ্যামলী। রাহাতের কাছে আসছে জানিয়ে, লগ আউট করে, ব্রাইজার হিস্ট্রি মুছে বেরিয়ে পরল। বের হবার আগে আবিরকে একটা কল করতে ভুললোনা। হিমেলের নাম্বারটা তাকে দিয়ে জানাতে বলল ঠিক এই মুহূর্তে সে কোথায় আছে। আবীরের জন্য সহজ কাজ। নম্বর ট্রেস করতেই জেনে গেলো সেটা মতিঝিল নয়, গুলশানে। হিমেল ছেলেটা বয়সে শ্যামলীর ছোট। কিন্তু খুবই হিউমারাস। কথায় কথায় খুনসুটি তার। বলল, ‘ বর কি গুলশানের রেস্টহাউসে অন্য কারও দেহের সুবাস নিচ্ছে নাকি?’

‘নিলে তোমার কি?’

‘না, সে ক্ষেত্রে তুমি প্রতিশোধ পরায়ন হবে, আমারও একটা সুযোগ আসবে।’

‘মেয়ে কিন্তু একটা দেখেছি তোমর জন্য বলতো দেখাদেরি ব্যবস্থা করে দেই।’

‘ছিঃ, নেটে এমআইএলএফ লিখে একটু সার্চ দিও, সিনিয়র কারও সাথে মজাই আলাদা।’

‘হয়েছে, বেশি বেশি হচ্ছে, কাজটা করার জন্য ধন্যবাদ। একটু বেরোব, পরে কথা হবে।’

হিমেলের সাথে দেখা হয়নি কখনও। শ্যামলী ভালোই বোঝে ঐ বয়সের ছেলেদের মতি গতি, কিন্তু অকারণ সময়কাটানোর জন্য ছেলেটা বেশ। হাতছাড়াও সে করতে চায়না।

...রাহাতের হাসপাতালটা গ্রীণ রোডে। বসুন্ধরায় শপিং মলে নেমে পড়ল শ্যামলী। ড্রাইভার গাড়ী নিয়ে বেসমেন্টের দিকে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ সে দিকে তাকিয়ে রিকশা নিয়ে চলে গেলো রাহাতের হাসপাতালে। বেশিক্ষণ দেরি করলনা। সকালের সেই চুল দুটো আর নিজের মাথার একটা চুল ছিড়ে আলাদা করে দিয়ে এলো রাহাতের কাছে। বের হবার সময় রাহাতকে বলল, ‘তোমার বউটার সাথে পরিচিত হব। বল বাসায় নেবে কবে।’

‘যেদিন বউ থাকবেনা।’

‘সে হবেনা। তুমি আমার ভালো বন্ধু , তোমার সংসার আমি ভাঙতে দেবোনা।’

দু’জনেই হেসে উঠল। তারপর বেরিয়ে এল শ্যামলী রাহাতের চেম্বার ছেড়ে।

চার.
এক সপ্তাহ পর...
একটু আগে রাহাত অফিস থেকে ফিরেছে। কাছে আসতেই স্পষ্ট নাকে এল লেডিস পারফিউমের সেই কড়া গন্ধটা। পরশুদিন হিমেলের অফিসে গিয়েছিল একবার শ্যামলী। কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদের সেও একজন ডিরেক্টর , কালে ভদ্রে বিশেষ কোন মিটিংয়ে সে যায়। তেমনই এক মিটিংয়ে সেদিন গিয়েছিল। রুহিতা খুব কাছেই বসেছিল। গন্ধ মিলাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। সরল মনে তার সব কিছু স্পষ্ট ধরা দেয়। সরলতার এটা সবচেয়ে সুবিধা। সেই গন্ধটাই এখন নাকে আসছে।

ফ্রেশ হয়ে হিমেল ড্রইং রুমে চা খেতে বসল, পাশে এসে বসল শ্যামলী। তারপরই তুলল কথাটা। কোন রাকঢাক নেই। স্পষ্ট সরল উক্তি -‘কয়টা মেয়ের সাথে সম্পর্ক তোমার, আমি কী জানতে পারি হিমেল?’

‘হোয়াট, হোয়াট আর উই সেইং, আই হেভ আ ওয়াইফ লাইক ইউ, মোস্ট গর্জিয়াস...কি বলছ?’

‘না গর্জিয়াস বাট একটু পানসে মনে হয়, না হলে কেনো অন্য নারীর কাছে যাচ্ছো?’

‘শ্যামলী, আমাকে বাজিয়ে দেখার এই বুদ্ধি কে দিল, নিশ্চয় বড় ভাবী। ফোন দিয়েছিল নাকি... দেখো এসব রসিকতা বাদ দাও, আমাদের এই সরল সুন্দর সম্পর্কে এসব অকারন কথা বার্তা টেনে সম্পর্ক নষ্ট কেনো করতে চাইছ। দুষ্টামী করছ, তাই না?’

‘সরলতা দেখেছো আমার , কিন্তু আমাকে কী অস্পূর্ণভাব? কী করে ভাবলে তোমার শার্টের ঐ পারফিউমের কড়াূ গন্ধ আমার নাকে আসবেনা।?’

‘ওহ! এই কথা। ছিঃ আরে ঐ রুহিতার পার্সটা আমার হাত লেগে টেবিল থেকে পড়ে গেলো, যা! বেচারার দামী পারফিউমের বোতলটা ভেঙে গেলো মাটিতে পরে। ওটা উঠাতে গিয়েই তো এই গন্ধ ছড়ালো শার্টে, আমি অবশ্য দাম দিয়ে দিয়েছি। তুমি তো ওর পাশে বসেছ অনেকবার, মনে করে দেখোতো এই পারফিউমই কিন্তু ও মাখে। মনে পড়েছেনা।’

‘সো স্মার্ট ডিয়ার ইউ আর, মনে পড়েছে। কিন্তু ভালোয় ভালোয় স্বীকার করছ না কেনো? তুমি কি চাও আমিও তোমার মত অন্য কারও গন্ধ গায়ে, কাপড়ে অন্তর্বাসে জড়িয়ে নিয়ে আসি?’

কিছুটা রেগে গেলো এবার হিমেলে- ‘তুমি আমার বউ হয়ে এমন কথা বলতে পারলে, ইউ শাট আপ। লজ্জা করে না তোমার পরপুরুষের কাছে যেতে চাও। কোথায় যাবে, কার কাছে , তোমার কোন ছেলে বন্ধুই তো নেই। ’

‘আল্লাহ যে রূপ আর হাসির সরলতা দিয়েছে তাতে তোমার মত শয়তানই পটে গেলো, দু’একটা মানুষ পটাতে আর এমনকি? স্বীকার কর, রুহিতা একাই না আরও কেউ আছে, গুলশানে কোন রেস্ট হাউসে যাও? রিফাত ভাইয়া ওটার মালিক, তাই না। ’

এবার কিছুটা সরে বসল হিমেল। রাগে গাটা তার কাঁপছে। টের পাচ্ছে শ্যামলী। তারপর সামলে নিলো সে আবার। বলল, ‘এসব গাঁজাখুড়ি গল্প বলে কোন লাভ নেই।’

‘আসলেই নেই, তবে ...’ বলেই দ্রুত উইে বেডরুমের দিকে এগোলো শ্যামলী। ড্রয়ারটা খুলে রিপোর্টটা বের করে হিমেলের সামনে এনে ছুঁড়ে মারল।

হাতে নিয়ে অবাক হয়ে গেলো হিমেল। এই তার সেই সরল বউ? সরলতার আড়ালে এত বুদ্ধি। এও কি অসম্ভব! চুলের ডিএনএ টেস্ট! মুহূর্তে ভ্রু কুঁচকে গেলো হিমেলের। তারপর সামলে নিয়ে একটু কাঁপা স্বরে বলে উঠল, ‘এ দিয়ে কী প্রমাণ করতে চাও?’

‘যা প্রমান করতে চাই, তা নিশ্চয় বুঝেছ, আমি অত সরল নই যতটা সরল আমার হাসি। তোমাকে এ বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারি। ভাইয়াকে জানাতে পারি। তোমার মত নষ্ট হয়ে যেতে পারি...তুমিই বল, তুমি কোনটা চাও?’

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement