লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ মে ১৯৭৮
গল্প/কবিতা: ৭৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৮৩

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমা (মে ২০১১)

সত্যিকারের মা
মা

সংখ্যা

মোট ভোট ৮৩

মামুন ম. আজিজ

comment ৩৭  favorite ৫  import_contacts ১,৫৬৭
\\এক\\
'একজন মাকে ফাইন্ড আউট করার জন্য দেশে যাচ্ছি ।'

কেনো হঠাৎ দেশে যাচ্ছি আসাদের সে প্রশ্নের জবাবে শুধু ওটুকুই বলা যথেষ্ট মনে হলো। আমরা এমন কোন বন্ধনে আবদ্ধ তো নই যে সকল ইচ্ছের পথ রচনা করতে বিস্তর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে হবে। উন্নত বিশ্বে দীর্ঘদিন বসবাস করতে করতে বন্ধন হীন যুগলবন্দীত্ব বিষয় তো আমাদের মাঝেও সঞ্চারিত হয়েছে। আমরা তো সেই হাজার মাইল দূরে আমাদের জন্মভূমির বন্ধন রীতি না মেনে একসাথে বাস করছি। যাকে দেশে লিভিং টু গেদার নামে ইদানীং ডাকা হয়। ছিঃ ছিঃ করা হতো একসময়। এখনও হয়। তবে এখন লজিক জুড়ে দেয়ার মত লোক বাংলাদেশেও বিস্তর। ওসব তো আমরা ভাবি নি।

আসাদ লন্ডনে স্যাটেল বহু বছর আগে থেকেই । মেডিক্যাল এর লেকচারার হয়েছে আমি আসার আগেই। তার সাথে থেকেই আমি চিকিৎসা বিদ্যার উচ্চতর ডিগ্রী চর্চা করছি। ধীরে ধীরে সিনিয়র ব্যক্তিটির প্রতি ভাল লাগা। তারপর প্রেম তারপর কাছে আসা। এক সাথে থাকার বিষয়টি লন্ডনের মত জায়গায় তাই বাড়তি কোন অভিব্যক্তি বা ভাব সঞ্চার করার কথা না। আমার করেনি। আসাদের ই বা কেনো করবে?

দেশ থেকে বাবা বিজনেসের কাজে এসেছিলেন কয়েক সপ্তাহ আগে। বাবা মাঝে মাঝেই আসে। সাথে এবার মাকেও এনেছিলেন। মার খুব ইচ্ছে করছিল আমাকে দেখতে। আমি সেই এসেছি কবে আর তো দেশে যাইইনি। আচ্ছা এ যুগে দেখা কোন বিষয়? রোজ রাতেই তো অনলাইনে দেখছি সরাসরি।

আসাদকে তাদের খুব পছন্দ হয়েছে। আশীর্বাদ করে গেছেন। লিভিং টুগেদার নিয়ে তারা কোন ভাবনা মনে জাগিয়েছেন কিনা তা আমি ভাবি নি। ওনারা অতি আধুনিক মানুষ। হাউ সোসাইটিতে বিলং করেন। আমাদের লন্ডনের আবাসস্থলেও তারা আসেননি। আমরাই হোটেলে গিয়ে প্রতিদিন কিছু সময় কাটিয়ে এসেছি। তবে যাওয়ার সময় মা বলেছিলেন, 'বিয়ে করার যখন ফুরসত হবে জানিও মা মণি, আমরা অলওয়েজ রেডি। তবে শর্ত একটাই অনুষ্ঠান কিন্তু দেশেই হবে। মহা ধুমধামে হবে।'

বাবা মা চলে গেছেন দেশে। আমারও ক'দিনের ছুটি মিলেছে। আসাদের অবশ্য ছুটি নেই। থাকলে একটা ইউরোপ ট্যুর দেয়া যেত। সেটাও সম্ভবন নয়। ব্যাস, সেই পুরাতন স্মৃতির টুকরো টুকু নিয়ে ঘাটাঘাটির এই তো মক্ষম সময়। আমি যাবার আয়োজন আসাদকে না জানিয়েই করে ফেলেছি। সেটাও তার এই বাড়িত ব্যাখ্যা জানতে যাওয়ার কারণ হতে পারে। একে তো শিক্ষক তার উপর দৈহিক বিষয়াদির অংশীদার , এটাও একটা অধিকার তো বটে, একটা বন্ধনও। তাই হয়তো জানতে চায় -'এর মানে কি মিথিলা?'

আমি রাগার কোন কারণই দেখি না।
তাই ঠাণ্ডায় মাথায় বললাম, 'মানে কিন্তু তোমার জানা নয়, আবার অজানাও নয়। ইউ আর রিয়েলি সো ইনটেলিজ্যান্ট। ইনফ্যাক্ট তোমাকে ভাল লাগার দ্যা মোস্ট লজিক্যাল পার্ট ইজ দ্যাট ইন্টেলিজেন্স ওফ ইউ অফকোর্স। অনেক ক্লু কিন্তু রয়েছে তোমার খুব নিকটে কাছেই। রাগ করো না লক্ষ্মীটি। একটু ভাবতে থাক। দেখবে তুমি ভাবতে ভাবতেই আমি দেশ থেকে চলে আসব। তুমি না সেদিন বলছিলে আমরা একটা সুন্দর ফুটফুটে মেয়ে নেব। তুমি সারা ইউরোপ সেই ফুটফুটে মেয়েকে নিয়ে ঘুরবে। অনেক মজা করবে। আমি চুপ ছিলাম বলে একটু অভিমান ও করেছিলে। আসলে আমি সেদিন ভাবছিলাম। ভাবছিলাম, সন্তান কি আমরা বিয়ে করে নেবো, না কি এইভাবেই এই সহ অবস্থানে থেকেই। ভেবে ভেবে দেখেছি, মন বলেছে বিয়ে নামক সামাজিক চাহিদাটা আমাদের মিটিয়ে নিয়েই বাচ্চা নেয়া উচিৎ। তুমি অনেক লজিক দেখাতে পার। কিন্তু দেখিও না। কারণ আমি জানি তুমি আমাকে বিয়ে করতেও রাজী। যদিও বিয়ে নামক কাগুজের বিষয় তোমার কাছে বাহুল্যই মনে হয়। বাট জাস্ট মনে করবে বিয়েটা এজ অ্যা গিফট ফর মি। তবে তাও ভেবে দেখ এই দশদিন। দশদিন পর তো আমি চলেই আসছি। তবে হ্যাঁ তুমি আমার ঐ কথার ক্লু খুঁজতে থাক। না পেলে আমি এসেই বলব। আমাদের সন্তান নেয়ার সাথে ওটার একটা সম্পর্ক থাকতেও পারে।'

'কি সব বলছ। একটু জাস্ট ক্লিয়ার মি ডিয়ার। ইউ নো আই এম সো বিজি। ডোন্ট মেক মি পাজেলড। আই লাভ ইউ। লাভ ইউ সো মাচ।'

'কোন সমস্যা নেই। তোমার কোন সময়ই এতে ব্যয় হবে না। রিলাঙ্ ডিয়ার। কিছু না। এখন ব্যাখ্যা দেয়ার মত ডিটেইলস আমার হাতে নেই। সো, প্লিজ!'



\\দুই\\
আসাদ আর কথা বাড়ায়নি। ভোরেই আমি দেশে চলে আসি। মাকে বলে আসিনি। বাবা অবশ্য ফোন দিয়েছিল। বলতেই হয়েছে। তবে মার জন্য সারপ্রাইস এর সুযোগ বাবাও হাত ছাড়া করেন নি।

মাকে দেখার সাথে সাথে চিরকালের মতো জড়িয়ে ধরলাম। কোমল গালের সাথে ঘষলাম আমার তারুণ্য উজ্জীবিত গাল। মার চামড়া কিছুটা কুঁচকে গেলেও ধনীদের অসব ঢেখে রাখা কোন কঠিন বিষয়ই না। মাকে এখনও দেখেলে আমার চেয়ে বছর চারেক বড় বৈ কিছু মনে হয় না। অসম্ভব সুন্দরী আমার মা। আমার তুলনায় কমকরে হলেও ১০০ গুন। বাবাও কিন্তু কম সুন্দর এবং হ্যান্ডসাম না। ওনারা দু'জনেই এত ফর্সা আর আমি তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান। সৃষ্টি কর্তা আমাকে করেছে শ্যামলা। কলেজ পর্যন্ত এই শ্যামলা ফর্সা বেশ খচখচ করত মনে। এখন বুঝি সৌন্দর্য শুধু রং নয়। আরও অন্য কিছুও বটে। সে সৌন্দর্য আছে হয়তো , আসাদ তো বলেই।

কিন্তু অন্যসময় মাকে জড়িয়ে ধরে যে অনুভূতি হয়, এখন যেন সেরকম হলো না। একটা সঙ্কোচ, একটা ভীতি কাজ করছে। হৃদপিণ্ডটার গতি যেন বেড়ে গেছে। কেমন যেন মনে হচ্ছে বহুদূর থেকে হাত বাড়িয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরেছি আমি।

কিন্তু মাকে কিছুতেই সে অস্থিরতা আমি বুঝতে দেইনা। আমি স্বাভাবিক থাকি ভীষণ অথবা স্বাভাবিক থাকার প্রানন্ত চেষ্টা করি।

ডিএন এ রিপোর্ট গুলো আমি সাথে করে নিয়ে আসেনি। পাছে কোন ভাবে কোন কোইনসিডেন্ট ঘটে আর মা বাবা কারও হাতে পড়ে যায়। সে রিস্ক নেয়া যাবে না। তবে লন্ডনে এমন জায়গায় রেখে এসেছি যেখানে আসাদের চোখ এই দশদিনে একবার হলেও পড়তেই হবে। সেটাই তো আমি চাই। অত আধুনিক মুক্তচিন্তার বড়াই করে আসাদ। আমি দেখতে চাই মনের মাঝে হীনমানসকিতার ঘুণ তার আদৌ কাজ করেকি এখনও?

মা এবার যখন লন্ডনে গিয়েছিলেন। চেক আপের নামে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আমি গোপনে ডিএনএ টেস্টটা করিয়ে নেই। ডাক্তার হবার এটুকু সুবিধা আমি পেতেই পারি। রিপোর্ট হাতে পাবার পর চরম বিস্মিত হই! আমার সাথে ম্যাচ করে নি। বাবার টা তো আরও আগেই করিয়ে নিয়েছিলাম। ম্যাচ করেনি। মার টাও ম্যাচ না করায় একটা লাভ হয়েছে। মার প্রতি একটা প্রচ্ছন্ন বিষাদ মনে ঘুরপাক খেতে চাচ্ছিল। বাবার জন্য মায়া হচ্ছিল। এখন সব থেকে মুক্ত। এখন আমি শতভাগ নিশ্চিত মিঃ মাসুদ এন চৌধুরী এবং মিসেস মাসুদ এন চৌধুরী অরফে মিতা আমার কেউ নন। কিন্তু আমি অনেক ভেবে দেখেছি কথাটা মিথ্যে। কেবল জন্ম দিলেই পিতা মাতা হওয়া যায় না, লালন পালনও বাবা মা হওয়ায় শর্ত হিসাবে মোটেও তুচ্ছ নয়। সো তারাই আমার মা বাবা। কিন্তু মনের সব লজিকের পরেও আমাকে আমার প্রকৃত বাবা মার সন্ধান করেতই হবে।

মা বাবাকে কিভাবে যে কি বুঝিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাব সেটাই মাথায় আসছে না।



\\তিন\\
আবার কোইনসিডেন্ট। অনেকই বলবে এটাকে ভাগ্য। সে যা হোক আমার গ্রামে যাবার উপায় হয়েই গেলো। ছোট বেলাতেই শুনেছি আমার বাবার দাদা ছিলেন মস্তবড় জমিদার। গ্রামে এখন জমিদারী নেই। মাতব্বরি আছে। মাতব্বরিটা এখন করেন বাবার চাচাতো ভাই মুনেম হায়দার চৌধুরী। বেশ কয়েকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন । আমাদের ঢাকার বাড়ীতে তিনি বেশ অনেক বারই এসেছেন। সে সূত্রে দেখাও হয়েছে। গ্রামে কখনও আমার যাওয়া পড়েনি। বাব মাকে কালে ভদ্রে যেতে দেখেছি কিন্তু আমাকে কোন দিন নেননি। পড়াশুনার চাপ আমাকে এতই চেপে রেখেছিল জীবনের অনেক আহ্লাদই পূরণ করার সাধ মিটে গিয়েছিল। এখন আমার বুদ্ধিদীপ্ত মন বলছে আমাকে গ্রামে না নেয়ার পেছনেও কোন রহস্য আছে।

মুনেম হায়দার বাবার চেয়ে বয়সে বড়। গায়ের রঙ অবশ্য বাবার মত না। একটু শ্যামলা তিনি। তার লম্বা সাদা দাঁড়ি। কোঁকড়ানো চুল। হাতে স্বর্ণ খচিত লাঠি। নবাবী স্টাইল তার মাঝে ভরপুর। খুব কম কথা বলেন। তাকে দেখলেই বোঝা যায় যৌবন বয়সে তার দাম্ভিকতা বেশ ছিল। বাবার মত অতটা অমায়িক হন নন। জমিদারী দাম্ভিকতাই ধারণ আর পূজন করেছেন তিনি। কিছু সে সব কাহিনীও ছোট বেলা চাকর বাকরদের কাছে শুনেছিও।

যে কবার আমার সাথে তার দেখা হয়েছে তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেছেন। সুন্দর সুন্দর উপহার নিয়ে আসতেন আমার জন্য। মনে আছে একবার একটা অনেক বড়, আমর চেয়েও বড় পুতুল এনেছিলেন। আমি কি যে খুশি হয়ে ছিলাম। সেদিন প্রথম চাচার মুখে হাসি দেখেছিলাম। তাছাড়া উনি আর কখনও আমাদের বাসায় এসে হেসেছেন এমনটা আমি দেখেনি।

আমি লন্ডন থেকে আসলাম রাতে আর পরদিন সকালেই গ্রাম থেকে এলো মুনেম চাচার খাস লোক। ওনার বডি গার্ড বলা যেতে পারে। এসিসটেন্ট বলা যেতে পারে। নামটা এনায়েত। এই লোকটা ঢাকায় প্রায়ই আসেন। আমার সাথে তার অনেক খাতির। ছোটবেলা উনি আমাকে নিয়ে ঢাকা শহর ঘুরতেন। বাবা মার তো সময় হতো না। এই এনায়েত চাচাকেই পেয়ে আমি আমার ফন্দি পেয়ে গেলাম।

দশ দিন ছুটি কিভাবে কাটাবো। একটু গ্রামে আমাদের জমিদারি ঐতিহ্য টা দেখেই আসি না। বাবা মা আর এনায়েত চাচা একটু ভাবনার মত চেষ্টা করেও না বলার কোন কারণ হয়তো খুঁজে না পেয়ে বললেন, 'যাও কিন্তু দুতিনদিনের বেশী থেকো না। আবহওয়া সু্যট করবে না।'



\\চার\\
বাবার বিএমডবি্লউটা নিয়ে এনায়েত চাচার সাথে গ্রামের পথে রওয়ানা হলাম পরদনি সকাল সকাল। আমাদের গ্রামে যেতে শুনেছি ঘণ্টা তিনেক সময় লাগে। দুপুরের আগেই পৌঁছালে বিকেলটা পাওয়া যাবে। হয়তো কেউ আমার প্রশ্নের সমাধান দিতে পারবে। কারও কাছে আসল তথ্য পেয়েও যেতে পারি। এক বুক আশা নিয়ে রওয়ানা হলাম।

ঢাকার শেষ প্রান্তে আশুলিয়া এলাকাটাতে আমি আগেও অনেক ঘুরতে গিয়েছি। এ রাস্তা আমার চেনা। টঙ্গী ব্রিজের পাশ কাটিয়ে বামে আশুলিয়ার রাস্তার দিকে এগিয়ে চলেছে আমাদের গাড়ী। চাচার দিকে তাকালাম , তিনি ড্রাইভার কাকুর পাশে বসে ঝিমচ্ছে। আমি রাস্তার দুধারে তাকাতে তাকে হাঁটছি। হঠাৎ চোখ পড়ল। ভীষণ কষ্ট হলো দেখে। রাস্তার থেকে হাত দশেক দূরে । একটা ডাস্টবিনের মত। ডাস্টবিনটার কাছেই একটা বড় সড় খাবার হোটেল। হোটেলের উচ্ছিস্ট খাবার প্যাকেট ডাস্টবিনের ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। একজন মহিলা ডাস্টবিনটার পাশে কোল থেকে ছোট্ট হাড্ডিসার শিশুটিকে নামিয়ে বসিয়ে দিল। তারপর উচ্ছিস্ট খাবারের প্যাকেট থেকে খাবার তুলে নিচে এক মুঠো খাচ্ছে আর এক মুঠো তুলে দিচ্ছে চার পাঁচ বছরের শিশুটির মুখে। কি ভয়াবহ দৃশ্য! এ দৃশ্যে যার হৃদয় কাঁপবে না সে মানুষই না। আমার নিজেকে মানুষের দলে নিজে ফেললেও আসলে কি আমরা মানুষ। মানুষ হয়ে মানুষের এ দৈন্য দশা আমরা সহ্য করি কেমনে?

'ড্রাইভার কাকু গাড়ীটা সাইট কর।'

'কে কেনো মা, কি হয়েছে?'- এনায়েত চাচু জিজ্ঞাস করলেন।

'নামুন , আসুন আমার সাথে , বলছি।'

এনায়েত চাচু বুদ্ধিমান লোক। আমার এগিয়ে যাবার পথের দিকে তাকিয়েই বুঝলেন।


বললেন, 'মা , এ দেশে এমন কত দৃশ্যই তো তোমার চোখে পড়বে। এ সমস্যার সমাধান কঠিন।'

'কঠিন! সে তো আমাদের মত বিত্তবানের কারণেই , তাই না ?'

'এক কথায় বললে তাই, কিন্তু ব্যাখ্যা করলে কিন্তু সব তা না।'

আর কথা বাড়ালাম না। উচ্ছিস্ট খাদক মা ও শিশুটিকে কাছে ডাকলাম। চাচাকে বললাম হোটেল থেকে খাবার কিনে ওদের দিতে।

খাবার প্যাকেট ওদের হাতে তুলে দিতেই মধুর হাসি দুজনের মুখেই। পারলে আমার পায়ে ধরে সালাম করল। আমি সে মায়ের হাতে একটা পাঁচশ টাকার নোটও গুজে দিলাম।

এনায়েত চাচা বললেন, 'খুব ভাল মা, তোমার রক্তেই তো থাকবে এমন দানের নেশা। কিন্তু এতে কিন্তু সব সমাধান হলো না।'

'চাচা , সমাধান কি আমার একার দায়িত্ব। নিজের সমস্যা সমাধানই তো আমি করতে পারব কি না জানিনা?'

'তোমার কি সমস্যা? শুনলাম কাকে যেন বিয়েও করতে যাচ্ছ?'

হুম ঠিক শুনেছেন।

তারপর আর কথা না বাড়িয়ে দু'জন এগিয়ে যেতে লাগলাম গাড়ীর দিকে। হঠাৎ মাথার মধ্যে একটা ভাবনা এল। মনে হলো এনায়েত চাচুকে জিজ্ঞাস করলে কেমন হয়? তিনি জন্ম থেকেই এই বংশের সাথে আছেন। ওনার বাব দাদারাও জমিদারের খাস লোক ছিল শুনেছি। উনি অবশ্যই জানেন। কিন্তু উনি কি বলবেন? জিজ্ঞেস করে দেখতে দোষ কি? উনি আমাকে এত আদর করেন। সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। এত মিষ্টি করে মা আমাকে বাবাও ডাকেন না। কিন্তু বাবা -মাকে যদি বলে দেন?

আর ভাবলাম না।
বললাম, 'চাচু বলছিলেন না কি সমস্যা?'

'হুম।'

'সমস্যা জটিল। কিন্তু আপনাকে বলা যায় কি না বুঝতে পারছি না। আপনি যদি কাউকে না বলেন এবং আমাকে সাহায্য করেন তবে বলব'।

'তুমি মা আমাকে বিশ্বাস করতে পার। আমি তোমাদের বংশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত একজন। তোমার বাবা চাচারা সবার কাছে আমি বিশ্বস্ত। আমি সে জন্য গর্বিতও।'

'ঠিক আছে চাচা। কিন্তু গাড়ীতে নয়। ড্রাইভার কাকুর সামনে বলা যাবে না। আসুন , কোথাও বসি।'

দু' জনে উল্টো ঘুরে হোটেলটায় ঢুকে গেলাম। , একটা নিরিবিলি স্থান দেখে বসে চা এর ওর্ডার দিলাম। তারপর শুরু করলাম।

'চাচা, আপনি প্লিজ মিথ্যে বলবেন না। কারণ আমার বিশ্বাস আপনি অবশ্যই জানেন।'

'কি আশ্চর্য তোমার সাথে মা আমি মিথ্যে বলব, তা হয়।'

'তা হলে বলেন তো সত্যি করে , আমার মা - বাবা কে? চুপ থাকবেন না। আমি যেমন করেই হোক জেনেছি ওনারা আমার জন্ম দাতা মা -বাবা নন।'



\\পাঁচ\\
এনায়েত না বলে পারল না। তবে কথা নিয়ে নিল আমি যাতে কাউকে না বলি। আমি কথা দিলাম। আমারও সবাইকে বিশেষ করে মা বাবা আর ছোট ভাইটাকে জানিয়ে অযথা অশান্তি আর কষ্ট ছড়ানোর মত মানসিকতা মনে নেই।

বললাম, 'চাচা দেখেন , আমি তো তাহলে বাবা কে কিংবা মাকেই জিজ্ঞাস করতে পারতাম। তাহলে আমার এই এত শিক্ষা কি কাজে আসল। আমি মনে প্রাণে ওনাদেরকেই বাবা মা জেনেছি। জানব। শুধু জন্মদাতা মা কে আমার একটিবার দেখার ইচ্ছে। একটিবার। তারপর আমি আবার আগের মত সেই মিথিলা হয়ে রব। আর আপনার ক্ষতি হবে আমি বুঝি।'

এনায়েত চাচা তারপর শুরু করলেন-

'সে অনেক দিন আগের কথা মা। আমি তখন ২৫ বছরের দুরন্ত যুবক। মুনেম হুজুর চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রথম বারের মত নির্বাচিত হয়েছেন। পুরো জমিদার বাড়ীতে হৈ হৈ রব। ঢাকায় মাসুদ ভাইদের কাছেও প্যাকেট প্যকেট মিষ্টি পৌঁছে গেলো।

সে সময় শায়লা নামের একটি মেয়ে জমিদার বাড়ীতে কাজ করত। মূলত মুনেম হুজুরের স্ত্রীর দেখাশোনা এবং ফারফরমাইশ খাটাই তার কাজ। মেয়েটা গ্রামের এক দরিদ্র কৃষকের মেয়ে। একটুকরো ভিটে ছাড়া তার কিছু ছিল না। ঐ মেয়ে আর সে আর তার ভিটে। জমিদার বাড়ীর কৃষি জমিতে বর্গা খেটে তার জীবন চলে।

কোথা থেকে কি হয়ে গেলো। মেয়েটা পোয়াতি হয়ে গেলো। কানা ঘুষা চারদিকে। সদ্য চেয়ারম্যান। তারউপর মুনেম হুজুরের এই বদনাম । কিন্তু মুনেম হুজুর রে গ্রামের লোক জমের মত ভয় পেত। ভয়ের ব্যাপার জমিদার বাড়ীর ঐতিহ্যের মতই।

শায়লার বাবার লাশ যেদিন ক্ষেতের মধ্যে পাওয়া গেলো তারপর থেকে কেউ আর মুখ খুলল না। শুনেছিলাম তাকে মারা হয়েছিল। আমার এক আপন চাচাই হয়তো সেই কাজ করেছিল। জমিদারের লঠিয়াল বাহিনীর সর্দার ছিল সে কালে। গ্রামের সবাই জানলেও মেনে নিল ওটা ছিল স্বাভাবিক মৃতু্য। বর্তামন কালে তোমরা যাকে হার্ট অ্যাটাক বল। সে রকম মেনে নিল সবাই। সে মৃতু্যতে মুনেম হুজুরের অপকর্ম রটনাও ধামাচাপা পড়ে গেলো।

তোমার মা মানে মাসুদ ভাইয়ের স্ত্রী ঢাকা থেকে এসে এক রাতে গোপনে শায়লাকে ঢাকা নিয়ে গেলেন। সেখানেই তার কোলে জন্ম নেয় একটি মেয়ে। সেই মেয়েটাই তুমি, মিথিলা।

মুনেম হুজুর মেয়েটাকে অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে শায়লাকে গ্রামে পাঠিয়ে দিতে বললেন। সেখানে তিনি তার জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। তোমার মা শুনলেন না। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। মাসুদ ভাই মুনেম হুজুরকে জানালেন মেয়েটাকে মানে তোমাকে রেখে দিবেন। নিজের নাম দেবেন।

ওদিকে শায়লাকে গ্রামে নিয়ে আমার বড় ভাই এনামুলের সাথে বিয়ে দেয়া হলো। এনায়েত ঢাকাতে পড়াশুনা করত। পড়াশুনায়া ভালো ছিল বলে তাকে মুনেম হুজুরই খরচ দিয়ে পড়াতে পাঠান। হুজুরের কথা ফেলা সম্ভব নয়। কেউ মানা করলাম না। আমার ভাই শায়লার ঘটনা কিছুই জানত না। সে জানলও না। আমরা মুখ খোলার সাহস পেলাম না।

মোটামুটি সমাধান হয়ে গেলো। শায়লাও ভয়ে চুপ করেই সব মেনে নিতে বাধ্য হয়। সে মেনে নিয়ে ভাইয়ের সাথে সংসার ও করতে থাকে। আর তুমি বড় হতে থাক মাসুদ ভাইয়ের সন্তান হিসেবে। দু'বছর কেটে যায়। তোমার মা আবার সন্তান সম্ভবা হন। সে সময় তার আবার তোমার কথা মনে হতে থাকে। মাঝে মাঝে একটু পাগলামি শুরু করেন। এনামুল ভাই ডাক্তার দেখান। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষ করে যখন জানতে চান আগের সন্তান কি মারা গিয়েছিল? আমার ভাই তো আকাশ থেকে পরেন। আমাকে ডাকেন। সে সব তখন সে জানতে পারে।

সে কোন ভাবেই আর শায়লাকে রাখবে না। ওদিকে হুজুরের কানে গেলেও আরও সমস্যা। শেষে আমি থেকে ডিভোর্সের একটা ব্যবস্থা করে দিই। এনামুল আর আমি মিলে শায়লার নামে ব্যাংকে এক লক্ষ টাকা জমা করে দেই আর তাকে একটা গার্মেন্টস এ কাজ জোগার করে দিই। শায়লা মানে তোমার মাকে আমি কোন কারনে বেশ পছন্দ করতাম। মাথা খারাপের সমস্যাটা শায়লার বাড়ছিল। একদিকে পেটে সন্তান তার উপরে হিষ্ট্রিয়ার মত রোগ। বেশ কষ্টে ছিল। মাঝে মাঝে আমি খোঁজ ও নিতাম। তা নিয়ে আমর বউয়ের সাথে আমার কিছু কথা কাটাকাটিও হয়। এক সময় খোঁজ নেয়া আমিও বন্ধ করতে বাধ্য হই।

তারপর আর জানি না।'

'কিন্তু না জানলে কি করে হবে চাচা। আমাকে যে একটি বার তাকে দেখতেই হবে।'

'চোখের পানি টা মোছ মিথিলা। মানুষজন দেখছে। চল। একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। দেখি না খুঁজে। একটা উপায় তো আছেই। যে ব্যাংকে টাকা রেখেছিলাম সে ব্যাংকের ম্যানেজার আমার পরিচিত। ওনার কাছে গিয়ে কোন রেকর্ড পাওয়া যেতে পারে।'



\\ছয়\\
ম্যানেজার হেল্প করলেন। এই ব্যাংকে জমিদার বংশের অনেকেরই বড় বড় একাউন্ট। হেল্প তো করবেন ই। কিন্তু ২৫ বছর আগের রেকর্ড বলে কথা। অনেক খুঁজে যা পাওয়া গেলো তাতে জানা গেলো অনেক আগেই ঐ একাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। আরেকটু ঘেটে জানা গেলো শায়লা মারা গেছেন আরও ২৩ বছর আগেই।

কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যজনক খবর হলো শায়লা মরে যাবার আগে বলে যান সে মারা গেলে তার ঐ টাকাটা মিসেস মাসুদ এন চৌধুরীর একাউন্টে ট্রান্সফার হবে।

শায়লা মায়ের জন্য যে এক বুক কষ্ট মনে গর্ত খুঁড়ে চারা গাছ হয়ে গজাচ্ছিল তার সাথে মিতা মায়ের জন্য হঠাৎ আরও গর্ববোধ হলো। আমি খুবই অবাক হলাম। আমার এক মাই আরেক মায়ের পাশে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। কি আশ্চর্য কথা? আমি আমার বর্তমান মায়ের জন্য আনন্দ অনুভব করি। বর্তমান মা বলছি কেনো। আসলেই ইনিই তো মা। শায়লা মা তো এক লুকায়িত অতীতের টুকরো মাত্র।

ম্যানেজার সাহেব অনেক কষ্টে শায়লার একটা পাসপোর্ট ছবি খুঁজে বের করে দেখালেন আমাদের। আমি দেখে তো হতবাক। এ মহিলার সাথে ছবি আছে আমার। আমি দেখেছি অ্যালবামে। আমি স্মৃতির পাতার হাতড়ে সেই ছবি তোলার সময়ের কথা মনে করার চেষ্টা করি। খুব একটা মনে পড়ে না। অনেক ছোট তো তখন আমি। মহিলার কোল আমরা ছোট ভাই মিথুন। মিতা মায়ের জন্য আরেকবার মনে উচ্ছাস জাগে। সত্যি উনি শায়লা মাকে আমাদের কাছে এনেছিলেন। কিন্তু বলেন নি কেনো? বললে কি আসলেই ভালো হতো?

চোখের জল কষ্ট করে চেপে রাখি। এনায়েত চাচু আর আমি শায়লা মায়ের ছবিটা নিয়ে ম্যানজার সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে পড়ি।

বাইরে এসে চোখের জল আর আটকাতে পারি না।

এনায়েত চাচাকে বলি, 'তাহলে মিথুন , আমার ছোট ভাইটা সেও শায়লা মায়েরই উদরজাত সন্তান?'

'ওতটা আমিও জানতাম না, মা। এখন তো মনে হচ্ছে তাই। মাসুদ ভাইয়ের সন্তান হয় না তাই তো জানতাম। মিথুন হবার পরে অবশ্য সবাই সে ধারনা বদলে নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটাই সত্যি ছিল। কাউকে এসব বল না। তুমি জানলে, তোমার মধ্যেই রাখ। মিথুনকেও বলো না কখনও। ও হয়তো তোমার মত এতটা মুক্ত চিন্তার হয়ে ওঠেনি।'

'অবশ্যই চাচা। অবশ্যই। মিতা মা সত্যিকারের মায়ের মতই কাজ করেছে। তার তুলন না হয় না। তিনি অতুলনীয়। তিনিই তো আমাদের মা। তিনিই সত্যিকারের মা। আর কোন মা থেকে থাকলে সে তো মনের , সে কেবল গোপনের।'

'চলো এবার গ্রামের পথে রওয়ানা দেই। অনেক দেরী হয়ে গেলো তো।'

'না চাচা , গ্রামে আর যাব না। আর কি হবে গিয়ে? যে জন্যে যাওয়া সে উদ্দেশ্য তো পূরণ হলোই। আর আপনার ঐ মুনেম হুজুরের মুখ দেখার আমার আর ইচ্ছে নেই।'

এনায়েত চাচা এবার একটু মাথা নিচু করে থাকেন।

ঠিক সে সময় ফোন এল আমার মোবাইলে। লন্ডন থেকে কল করেছে আসাদ।

আসাদ বলল, 'পেয়েছ তোমার সত্যিকারের মাকে?'

'সত্যি তুমি ইন্টিলিজেন্ট। ডিএনএ রিপোর্ট গুলো পেয়েছ তাহলে। বেশ হলো। সত্যিকারের মাকেও আমি পেয়েছি। তুমি যে মাকে দেখেছ সেই তো সত্যিকারের মা। মিসেস মাসুদ চৌধুরী। আমার লক্ষ্মী মা। মমতাময়ী মা। তার মত মা পেয়ে আমি ধন্য।'

'তাহলে কি রিপোর্ট গুলো ছিঁড়ে ফেলব না সাথে করে নিয়ে আসব?'

'অবশ্যই ছিঁড়ে ফেলবে। আর কোন দরকার নেই ওগুলোর। কিন্তু তুমি আসবে মানে?'

'হুম ! ঠিক করলাম আর দেরী না। আমাদের বিয়েটা করেই ফেলা উচিৎ। অন্তত তুমি অবিবাহীত মা তো হতে চাইছো না মনে হয়। আমি কালই আসব। মা-বাবাকে বিয়ের আয়োজন করতে বল।'

'কিন্তু আসাদ আমরা জন্মদাতার কথা শুনবে না। সে কিন্তু কাজের লোক ছিল। আমি তার না জায়েজ সন্তান জেনেওবিয়ে করবে?'

'নাজায়েজ! হাসালে! না জানলে লিভিং টুগেদারেই চলত। জেনেছি বলে বিয়েটা করে তোমার বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় করে দেই।'

ফোন টা রেখে চোখের জল মুছে ফেললাম। আর কেনো কাঁদব । এনায়েত চাচা কে বললাম, 'চলেন বাসায় যাই। আসাদ আসছে আমাকে বিয়ে করতে। গ্রামে না যাবার এই অজুহাতই যথেষ্ট। আপনারও যাওয়া হচ্ছে না। বিয়ের আয়োজন তো আপনাকেই করতে হবে।'

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মাহমুদা rahman
    মাহমুদা rahman প্রথম অংশটা একটু এলোমেলো অগোছালো লেগেছে তাছাড়া ভালো লেখা ...র একটু ইংরেজি শব্দ বেবহার এড়িয়ে গেলে ভালো হত মনে হয়
    প্রত্যুত্তর . ২২ মে, ২০১১
  • খন্দকার নাহিদ হোসেন
    খন্দকার নাহিদ হোসেন আপনার দুটো গল্পই খুব ভাল লাগলো। এটাতেও ৫ পেলেন।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ মে, ২০১১
  • সঞ্জয় কুমার
    সঞ্জয় কুমার গল্পের প্লটটি বেশ ভালো, অনেক সুন্দর লিখেছেন.
    প্রত্যুত্তর . ২৫ মে, ২০১১
  • নাজমুল হাসান নিরো
    নাজমুল হাসান নিরো অন্যরকম ভাবনার আর অন্যরকম দক্ষতায় লেখা একটা গল্প। এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম এত বড় সত্ত্বেও। গল্পের মেসেজটাও অনেকটা ভাল লেগেছে। আমার কাছে বানান ভুলটা কোন ব্যাপার মনে হয় নি। টাইপিং মিসটেক হতেই পারে। তবে প্রমিত বাংলা বানানরীতির ব্যবহারের ঘাটতি বেশ চোখে পড়েছে।
    প্রত্যুত্তর . ২৭ মে, ২০১১
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ ২৫ শে এপ্রিল রাত শেষ হবার পর গল্পটা শেষ হযেছিল । বানানা রিভিউ করতে গেলে জমা দেয়ার সময় চলে যেত। সে কারনে কিছূ ভুল ভ্রান্তি এখানে বেড়েছে হয়তো।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ মে, ২০১১
  • রাজিব ফেরদৌস
    রাজিব ফেরদৌস মামুন ভাই, আপনার লেখাটি পড়লাম। মন্তব্যে তেমন কিছুই বলছি না। শুধু নিজেই নিজেকে একটি প্রশ্ন করছি, ভাল মান সম্মত লেখাগুলো কি এই সাইটে কোনদিন মুল্যায়ন পাবে???
    প্রত্যুত্তর . ২৯ মে, ২০১১
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ আশাবাদি হলে বলতে হয়, রাজীব মূল্যায়নতো আমরাই করছি। আমরা করতে থাকলেই হবে। ......নেরাশ্যবাদী মানুষ হলে বলতে হয়, এটা জাতিগত সমস্যা, মূল্যায়নের যথার্থতা আসরেই আসবে না কোনদিন।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ মে, ২০১১
  • মোঃ মুস্তাগীর রহমান
    মোঃ মুস্তাগীর রহমান এত ভালো লিখে কী হবে ছোট ভাই?দান করে যদি প্রতিদান না পাও?তোমার লেখাটি আমার প্রিয়তে জমা রাখলাম.হারিয়ে গেলে খুঁজে দেখ.........
    প্রত্যুত্তর . ২৯ মে, ২০১১
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ ম. রহমান ভ্রাতা, যদি সত্যিই ভালো লিখেই থাকি, তবে সে প্রশংসাবাণীই তো পরম প্রাপ্তি। এর চেযে বেশি আর কি চাওয়ার থাকে একজন লেখকের। আমি তো পলিটিসিয়ান নই যে ভোটের কাঙাল হব, ভোটের জন্র করব কারচুপি। লেখকের কি ভোট বিজয় নেশা মানায়?
    প্রত্যুত্তর . ৩০ মে, ২০১১
  • ওবাইদুল হক
    ওবাইদুল হক মামুন ভাই একটা সত্যিকারের কথা বলেছেন । যার কারন তোমাকে অন্তর থেকে সম্মান না দেখিয়ে পরছিনা । সেটা হল ভোট তো মেম্বার দের দরকার তােদর কারছুপি করতে হয় । আমরা হলাম সাধারন এক জন । আমাদের ভোটের কোন প্রয়োজন নেই । লোকে আমাদের কে যাই ভাবুক অন্তত আমার নিজেকে ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৩০ মে, ২০১১

advertisement