বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৭
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

সমন্বিত স্কোর

৬.৯৭

বিচারক স্কোরঃ ৪.৬২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৩৫ / ৩.০

একুশের সকালে

গভীরতা সেপ্টেম্বর ২০১৫

ভূতের বিয়ে

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

গাজা হতে

অসহায়ত্ব আগস্ট ২০১৪

ক্ষুধা (সেপ্টেম্বর ২০১১)

মোট ভোট ৯৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৬.৯৭ ফাঁস

মোঃ মুস্তাগীর রহমান

comment ১০০  favorite ৯  import_contacts ১,৫০৯
আসরের নামাজের পরেই মুকবুলের কব্জি হতে হাত দু’টি কেটে ফেলা হবে।উৎসুক মানুষ তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে!একটি নিম গাছের সাথে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছে।আসরের নামাজের আর বেশী দেরী নেই। নামাজের শেষেই আসবে বিচারক মন্ডলী,রায় প্রদানকারী আজব আলি মতাব্বর.......!তারপরেই মুকবুলের কব্জি হতে হাত দু’টি কেটে ফেলা হবে!


মানুষের কিছু কিছু ঘটনা আছে,যা সরল রেখার মত চলে;আবার কিছু কিছু ঘটনা আছে ,যা বক্র রেখার মত চলে।আবার কিছু ঘটনা আছে সুতাই গিট বাঁধার মত;শত চেষ্টাতেও গিট খোলা যায় না।মুকবুলের জীবন প্রবাহটা ঠিক সুতাই গিট বাঁধার মত।

মুকবুলের স্ত্রী, মেয়ের জন্ম দিয়েই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।আত্মীয় বলতে শুধু মেয়েই রইল।সে কবে ফরিদপুর ছেড়ে রাজশাহী এসেছে পেটের তাগিদে, আর ফিরে যাইনি।অনাত্মীয়রা কিছু কিছু আত্মীয় হয়েছে বটে;কিন্তু আত্মীয় অনাত্মীয়র পার্থক্যটা সে ভালোভাবেই অনুভব করে।

তবুও জীবন চলেছে,কখনই সরল রেখায় নয়;বক্র রেখাই।যদিওবা কোনো মানুষের জীবনই সরল রেখাই চলে না,তবুও ত কখনও কখনও কোনো কোনো মানুষের জীবনে সরলতা আসে,সরলভাবে চলে?কিন্তু মুকবুলের জীবন কখনই সরলভাবে চলেনি।

মুকবুল মূর্খ মানুষ!কোন বিষয় নিয়ে গভীর ভাবে ভাবতে হয়,এ বোধ তার কখনই ছিল না।মেয়ের বয়স যখন তের;মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিল।তের বছর বয়সে যে,একটা মেয়ের বিয়ে দেওয়া ঠিক কাজ নয়;এ জ্ঞান তার মধ্যে কখনই ছিল না।

মেয়ের বিয়ে দিয়ে,মুকবুল যত না খুশী হয়েছিল,তার চেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছিল।একাকীত্ব জীবন নিয়েই তাঁর পথ চলা,সে পথে,তাঁর স্ত্রী এসে সঙ্গ দিয়েছে,কিছু সময়ের জন্য,রেখে গেছে মেয়েকে।বাবাকে মায়ের স্নেহ দেবার জন্য।সেই মা,তাঁর মেয়ে হাসুর জীবনও যে সুতাই গিট বাধার মত হবে,কুৎসিত কালো মেঘের ন্যায় প্রবাহিত হবে,মুকবুল তা কখনই ভাবেনি।

মুকবুল মেয়ের বিয়ে দেবার পর হতেই,তাঁর জীবনে নেমে এল এক অশনি সংকেত।বিয়ের কিছু দিন পর হতেই তাঁর মেয়ের ওপর শুরু হল অত্যাচার।যৌতুক নামক কুলষিত অস্বীকৃতি এক নিয়ম হাসুর কাঁধে ভর করল।হাসু জানে,কোনরুপ অর্থ দেবার ক্ষমতা, তাঁর বাবার নেই।তের বছরের হাসু নিরুপায়!তবুও সে তাঁর বাবার কাছে,তাঁর দাম্পত্য অত্যাচারের কথা,অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলতে বাধ্য হল।

মুকবুল একজন ভ্যান গাড়ি চালক।বয়সভারে ভ্যান চালাতে তাঁর কষ্ট হয়।তবুও ক্ষুধা নামক পেট যন্ত্রণার তাগিদে,তাঁকে ভ্যান চালাতেই হয়। ভ্যান চালিয়ে যা পাই,তিন বেলা না হলেও দু’বেলা তাঁর খাবার জুটে।কিন্তু মেয়ের বিয়ে দেবার পর হতে,সেটাও তাঁর ভাগ্য হতে সরে গেল।ভাগ্যের পরিহাস!মেয়ে হাসুর জন্য এমন কোনো স্থানীয় N.G.O নেই যে,সেখান হতে ঋণ নিতে বাকী রইল না তাঁর।অবশেষে,N.G.O কিস্তি তাঁর গলাই এমনভাবে বাঁধল যে, খাদ্য নামক বস্তুটি আর তার পেট পর্যন্ত পৌঁছাল না।ক্ষুধা তার নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে গেল।তবুও সে মেয়ে হাসুর মুখে হাসি দেখতে চায়।

হাসু মা হল।তাও আবার মেয়ের।বাঙ্গালি সমাজে,প্রথম “মা”, এটা একটা আনন্দের বিষয়।কিন্তু হাসুর জীবনে নেমে এল,আগুনে পোড়া কাঠ-কয়লার মত জীবন।হাসুর বাবার আর কিছুই নেই যে, তাঁর জামাই মফিজকে কিছু দেবে।বিধায় হাসুর ওপর মফিজের অত্যাচারের পরিমানটাও বৃদ্ধি পেল।

একদিন সন্ধ্যার একটু আগে,হাসু তাঁর বাবার ঘরে এল।বাবা মুকবুল উঠোনে এটা খুঁটিতে হেলনা দিয়ে বসেছিল।হাসুকে দেখে,তাঁর অন্তরের মধ্যস্থল শূণ্য হয়ে গেল,ধক করে আওয়াজ করে ওঠল তাঁর হৃপিন্ড!হাসুর চেহারার দিকে তাকাবার তাঁর সাহস হল না।সে মাথা নিচু করে নিল।

বাবা। হাসু ডাকল।মুকবুল আস্তে আস্তে তাঁর মাথা তোলে হাসুর দিকে তাকাল।বলল,
মা,দে,তোর মেয়েটা আমার কাছে দে।হাসু তাঁর মেয়েকে,তাঁর বাবার কাছে দিল।তাঁর দু’চোখ দিয়ে নদীর ধারার ন্যায় পানি গড়িয়ে পড়তে থাকল।

ওরা তোকে তাড়িয়ে দিয়েছে,তাই নারে?হাসুর মুখ থেকে কোন কথা বের হল না।
আমি জানি,ওরা তোকে তাড়িয়ে দিয়েছে.....আমি কী করব বল?তোর বাবা যে
অক্ষম,তোকে দেবার মত,আমার যে আর কিছু নেই মা।

হাসু হো-হো করে কেঁদে ওঠল;কিন্তু তাঁর কাঁন্নায় কোন তীব্রতা নেই।মুখ থেকে কথা বের করবে, এ ক্ষমতাও যেন তাঁর নেই।খুব ক্ষীণ স্বরে বলল,বাবা,তুমি আমাকে রাখবে না?তুমিও কী.....!মুকবুল কোন কথা বলল না।মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়ল।বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেল বাবা-মেয়ের এই দুঃখ-কষ্টের সন্ধিক্ষণ।তারপর বাবা মুখ খুলল-

তোর খুব ক্ষুধা পেয়েছে,তাই নারে?

যাঁর জন্ম ক্ষুধা নিয়ে, তাঁর কী কখনও ক্ষুধা লাগে বাবা?ক্ষুধা ত আমাদের পথের
সঙ্গী,জীবনের সাথী......


আমি জানি,আমি জানি,তোর পেটে বড় ক্ষুধা!ক্ষুধার যন্ত্রণায় তুই কাতর।কিন্তু
আমার ঘরে ত পানি ছাড়া কিছই নেই মা।যা মা,তোর মেয়েকে নিয়ে ঘরে যা,ওরও
হয় ত ক্ষুধা পেয়েছে.....

বাবা-মেয়ের সাথে আর কোন কথা হল না।হাসু তার মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঢুকে
গেল।

রাত দ্বিপ্রহর।তন্দ্রাচ্ছন্ন মুকবুল খুঁটিতে হেলান দিয়ে আছে। হাসুর মেয়ের কাঁন্নার চিৎকারে,মুকবুলের তন্দ্রাচ্ছন্ন কেটে গেল।মেয়েটা এত কাঁদছে কেন? তাঁর মনের মধ্যে প্রশ্ন হল।সে আস্তে আস্তে ওঠে দাঁড়াল।ঘরের মধ্যে ঢুকে দিয়াশলাই খোঁজার চেষ্টা করল।তাঁর দিয়াশলাই খোঁজার শব্দ পেয়ে হাসু বলল,কে,বাবা?

হ্যাঁ মা।তোর মেয়েটা এত কাঁদছে কেন?বোধ হয় ক্ষুধা পেয়েছে.....একটু দুধ দে
না।

যাঁর পেটে দু’দিন পানি ছাড়া কিছুই পড়েনি তেমন,তাঁর বুকে দুধ আসবে কোথায়
থেকে বাবা!

মুকবুলের মুখ হতে কোনো কথা বের হল না।সে দিয়াশলাই খোঁজার চেষ্টা করতে লাগল।দিয়াশলাই পেয়েও গেল।বাতি জ্বালাল।বাতির আলোতে হাসুর মুখ দেখে সে চমকে গেল।সে মনে মনে বলতে লাগল এমন অর্থব বাবা যেন,পৃথিবীতে আর দু’টি না হয়।

মা,মারে,তুই আর একটু কষ্ট কর,আমি তোর আর তোর মেয়ের জন্য যেমন করে
হউক খাবার যোগাড় করে নিয়ে আসছি।

এত রাতে তুমি কোথায় খাবার পাবে বাবা?তাছাড়া,তুমি আমার জন্য আর কত
কষ্ট করবে?

এই রাতে যদি তোর আর তোর মেয়ের জন্য খাবার আনতে পারি,এ ত আমার কষ্ট
নয়রে মা,এ আমার সুখ!


মুকবুল আর কথা বাড়াল না।সে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।কোথায় খাবার পাবে,সে চিন্তা তাঁর মাথায় নেই;সে শুধু জানে,যেমন করে হউক,তাকে খাবার যোগাড় করতেই হবে।মুকবুল হাঁটছে,ভাবছে,হঠাৎ তাঁর মাথায় এল, মতাব্বরের গোয়ালে গেলেই হয়।সেখানে অনেক গরু।একটু দুধ নিয়ে এল মতাব্বরের তেমন কিছু হবে না।কিন্তু হাসু আর হাসুর মেয়ে কষ্ট থেকে বেঁচে যাবে।সে দেরী করল না।

মুকবুল ভাবতেই পারেনি, মতাব্বরের গোয়ালে একটু দুধ নিতে এসে ধরা পড়ে যাবে।দুধ চোর নয়;গরু চোর হিসাবে তাঁকে চিহ্নিত করা হবে।মুকবুল সবাইকে তাঁর অবস্থাটা বোঝানোর চেষ্টা করল অনেক;কিন্তু কেউ তাঁর কথা বুঝল না।

রাতের শেষ প্রহরে মুকবুল ধরা পড়ল।তখন হতেই শুরু হল তার ওপর শারিরীক অত্যাচার।শারিরীকভাবে ত নয়ই;মানুষিকভাবেও এ অত্যাচার ধারণ করার ক্ষমতা মুকবুলের ছিল না।সে জ্ঞান শূণ্য হয়ে পড়ল।সে চারপাশ অন্ধকার দেখল।তাঁর মনে হল, ক্ষুধার্থ হায়েনার দল, লোভাতুর দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রয়েছে।আকাশ ঘিরে রয়েছে শকুনিরা।তাঁর মুখে কথা নেই;ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে.......

নজু আজব আলি মতাব্বরের সেনাপতি নামে খ্যাত।সে ই মুকবুলের হাত দু’টি কবিজ হতে কেটে ফেলবে।সে কুঠারে ধার দিচ্ছে আর মাঝে মঝে কুৎসিত দৃষ্টিতে মুকবুলের দিকে তাকাচ্ছে।নজুকে দেখলেই মনে হয়,তার মনের মধ্যে জঘন্য এক আনন্দের স্রোত বইছে।সে মাঝে মাঝেই বলছে,অনেক দিন রক্ত দেখি নাই.....অনেক দিন রক্ত দেখি নাই।এরুপ কথা শুনে মুকবুলের মধ্যে কোনো রুপ অনুভূতি জাগ্রত হচ্ছে বলে মনে হয় না।তাঁর মস্তিস্ক যখনই একটু সজাগ হচ্ছে,তখনই শুধু হাসু আর হাসুর মেয়ের কথা মনে পড়ছে।কব্জি হতে যে তাঁর হাত দু’টো কেটে ফেলবে,সে ভয় কখনই তাঁর বোধ হল না।

আসরের নামাজ আদায় করে বিচারক মন্ডলী,আজব আলি মতাব্বর ও মুসল্লিরা এল।মসজিদের ইমাম সাহেবও রয়েছেন।ইমাম সাহেব মুকবুলের দিকে এগিয়ে গেল।রক্ত লোভাতুর নজুর মুখে শব্দহীন ভয়ংকর হাসি।একবার মুকবুলের দিকে তাকাই,একবার কুঠারের দিকে তাকাই।

ইমাম সাহেব মুকবুলের কাছে গিয়ে বসল।মুকবুলের মাথায় হাত দিয়ে বলল,মুকবুল,আমি জানি, তুমি একজন ভালো মানুষ।অর্থ কষ্টে প্রায়শই ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগো।তবুও তুমি কোনোদিন কারও কাছে কখনও হাত পাতনি;কারও কিছু কখনও চুরি করনি।আমি বিশ্বাস করি, মতাব্বরের গোয়ালে তুমি গরু চুরি করতে আসনি।কিন্তু আমি বুঝে উঠতে পারছি না, মতাব্বরের গোয়ালে কেন গিয়েছিলে?যায় হউক,আমার অনুরোধে তোমাকে এ যাত্রা ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।তুমি আর এমন কাজ করবে না,এ অনুরোধটা রেখ।....নজুমিয়া,মুকবুলকে এবার ছেড়ে দাও।

এমন কথা শুনে নজুর মন ভার হয়ে গেল।সে মতাব্বরের দিকে তাকাল। মতাব্বর,নজুকে ইশারা করে বলল,মুকবুলকে ছেড়ে দিতে। মতাব্বরের এহেন আচরণ দেখে মনে হয়;তারও ইচ্ছে নেই।ইমাম সাহেবের অনুরোধে, মুসল্লি সকল একমত পোষন করাই,আজব আলি বাধ্য হয়েছে।

নজু মুকবুলের হাত দু’টি খুলে দিতে দিতে বলল,তোর ভাগ্যটা ভালো।আমার জনমে আমি কখনই এমনটি দেখিনি.....যা,যা চলে যা.......

মুকবুলের ওঠে দাঁড়াবার মত শক্তি নেই;কিন্তু যখন তাঁর চোখের সামনে হাসুর মুখটা ভেসে ওঠল,কোথা হতে যেন শক্তি এসে গেল তাঁর দেহে।মুকবুল ওঠে দাঁড়াল।চারদিক সে তাকিয়ে দেখল।হাজারও চোখ যেন তাঁকে ঘৃণাভরে দেখছে।সে দিকে তাঁর দৃষ্টি নেই;তাঁর বারবার মনে হতে লাগল,হাসু আর হাসুর মেয়ের জন্য সে এখনও কিছু জোগাড় করতে পারেনি।তাঁকে যে ভাবেই হউক,কিছু খাবার তাঁকে নিয়ে যেতে হবে।

মুকবুল কোনো কথা বলল না,কারও দিকে তাকালও না।সে সোজা হাঁটতে শুরু করল।তাঁর মনের মধ্যে নানান প্রশ্নের জন্ম নিল।কেন সে,এ বয়সে তাঁর মেয়ের বিয়ে দিল?বিয়ে না দিলে ত,তাঁকে N.G.O ঋণ নিতে হত না। N.G.O ঋণ না নিলে ত,তাঁর এত অভাব দেখা দিত না।ভ্যান চালিয়ে যা’ আয় হত,তাতে ত, বাবা-মেয়ে দু বেলা খেত পেত?সব কিছুর জন্য সে নিজেকে দায়ী করতে লাগল।

মুকবুল ভাবতে ভাবতে কখন যে,সে তাঁর বাড়ি পৌঁছে গেছে,সে বুঝতেই পারেনি।উঠোনে ওঠতে গিয়ে মুকবুল থমকে গেল।তাঁর গা টা কেমন ছম-ছম করে ওঠল।ভেতোরে কোনো সাড়া-শব্দ নেই কেন?নিজেকেই সে প্রশ্ন করল।বুকের ভেতোরটা তাঁর ধক করে ওঠল।তবুও সে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ল।

ঘরে ঢুকেই তাঁর চোখ দু’টো বন্ধ হয়ে গেল।তাঁর দেহ মন অসাড় হয়ে গেল।ঘুনে ধরা কাঠ বা পোকা লাগা জীবন্ত গাছ,হঠাৎ করে যে ভাবে পড়ে যায়;মুকবুলের দেহটা ঠিক সে ভাবেই মটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল।সে এমন দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তুত ছিল না।তাঁর অসাড় দেহে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করল।চোখ দু’টো খুলার চেষ্টা করল।কিন্তু কোনো ভাবেই সে চোখ দু’টো খুলতে পারল না।

শাড়ির ফাঁসে হাসুর ঝুলন্ত লাশ!নিচে তাঁর মেয়ে প্রাণহীন এক জড় পদার্থ...বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রয়েছে,সে যেন এ সমাজকে ধিক্কার দিচ্ছে.............
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন