লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ মার্চ ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

সন্ধি এবং সন্ধিক্ষণের নষ্টা চাঁদের গল্প: গুড বাই রিয়্যানা...!
ভালবাসা

সংখ্যা

রুবেল আশরাফ

comment ২১  favorite ৪  import_contacts ১,০৫১
১. স্টিয়ারিং:
ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে রিয়্যানা। দৃষ্টিটা বিষণ্ণ। সমসাময়িক দিনগুলো আপডেট হচ্ছেনা কিছুতেই। সকাল ৮:৫৫মিনিট। বস আসবেন এখনি। কিন্তু লোকাল এ্যাসাইনমেন্টের কাজটা শেষ হয়নি। বাড়ন্ত শরীরের কানাগুলো ওত পেতে আছে জানান দিতে। স্মার্ট রিয়্যানা আবারো মনটাকে সেট করলো। সকাল ৯:০৯ মিনিট। ইনডিকেটরটা বিপ করে জানান দিচ্ছে বস এসেছেন। রিয়্যানা রিম লেস গ্লাসের মধ্যে দিয়ে তাকিয়ে আরটিএল-এর চেয়ারম্যান রুদ্র মাহমুদ। নিজেকে সামলে রিয়্যানা বলল, ইয়েস বস। আজকের এ্যাসাইনমেন্টের কি অবস্থা! চলছে। ওকে, তাড়াতাড়ি শেষ করো। রিয়্যানা ফিরে গেলো নিজের ল্যাপটপের সামনে কিছুটা আচ্ছন্ন হয়ে। শীতকালের এমেচার স্পর্শ করছে না রিয়্যানার ঘেমে থাকা নাক আর বাম কপোলের মাধুরী তিলটাকে। এয়ারফোনে বাজছে, তুমি যদি... আমাকে কাছে এসে ভালোবাসো, কি জানি হয়... হৃদয়ে...।
২. সিচুয়েশন
এয়ারপোর্টের এয়ার কন্ডিশন রুমে ঘামছেন মি. রুদ্র। সেলুলারে ম্যাসেজ এসেছ। রিয়্যানা ইজ কোয়াইট সিক্। রিয়্যানাকে হসপিটালাইজড করা হয়েছে। একজন এক্সিকিউটিভ এসেছেন মি. রুদ্রকে নিতে। ড্রাইভ, হসপিটালে। অপারেশন থিয়েটারে যাবার এ্যাটেনশন চলছে। হসপিটালের ডিরেক্টরের রুমে রুদ্র নির্বাক। প্রয়োজনীয় ফরমালিটিজ শেষে ওপেন করা হল অপারেশন থিয়েটারের সার্চ লাইটগুলো। সবাই ব্যস্ত একটি নবজাতকে ডেলিভারি করার কাজে। রিয়্যানার চোখে দ্যুতি। তাকে একটি ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। রিয়্যানা ক্রমেই হারাচ্ছে তার নরমাল দৃষ্টি এ্যানেসথেসিয়ার গুনে। চলচ্ছে ছুরি কাঁচির খেলা। একটা সময় সবগুলো কড়া বাতি নিভে গেল। ব্যস্ত ডক্টররা বেরিয়ে এলেন স্কাই ব্লু কালারের এ্যাপ্রোন পড়ে। জানালেন, গুড নিউজ। জন্ম হ্যালো একটি ওয়ারিশ! বাইরে চলছে শীতকালীন আনএক্সপেক্টেড বর্ষা বিলাস।
৩. ক্লাইম্যাক্স
রাত ৩টা। নিশাচর রাতপ্রহরীর নেই কোন হাঁকডাক। নিঃশ্চুপ মধ্যপ্রহরে ক্ষণে ক্ষণে জাগিয়ে তুলছে এ্যালসেশিয়ানগুলো। শরতের আকাশে শিমূল তুলো মতো মেঘের ছায়া পড়ছে রুদ্রের ডাইলেটেড চোখে....। সিগ্রেটের শেষাংশে সম্বিৎ। সেলুলারে একটা শর্ট ম্যাসেজ এসেছে। রিমেমবার মি হোয়েন অ্যাম গান অ্যাওয়ে, গান ফার অ্যাওয়ে ইনটু দ্য সাইলেন্ট প্লেস...হোয়েন ইউ ক্যান নো মোর হোল্ড মি বাই দ্য হ্য মেসেজটির রিপ্লাই করলো না রুদ্র। নিউরন ব্যস্ত এ্যলকোহলিক কানামাছিতে। রিয়্যানার ভাবনাগুলো কিছুটা না হয় হোঁচট খাক স্বপ্নের বালিয়াড়িতে। ট্র্যাকটি নিজের মধ্যেই আছে.... নিজস্ব বৃত্তে, সে তো অবস্থান বদলাতে চাইবেই। কারণ, চিরায়ত নিয়মে সবাই আপাত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী...!

৪. রিয়ালিটি
বিবস্ত্র রিয়্যানা এবং রিয়ালেস্টিক রুদ্র মুখোমুখি রিয়্যানার রঙিন ফ্ল্যাটে। রুদ্রর সিগ্রেটের ধোঁয়া ঘরময় ঘুরে ফিরচ্ছে ভারী ওয়েদারকে আরও বেশি রিয়ালেস্টিক করতে। রুদ্র বাম হাত চেয়ার থেকে নামিয়ে ঠোঁট নাড়লোঃ রিয়্যানা এখন তুমি কি বলতে চাচ্ছো! রিয়্যানা নিশ্চুপ! পার হয়ে গ্যালো আরও ১০/১৫টি মিনিট পরিবেশটাকে গম্ভীর করতে করতে! অবশেষে সে বলল: আমি চাই আপনার কোন ছায়া শিশুটার ওপর না পড়ুক। কিন্তু, কণ্ট্রাক্ট পেপার কি বলে: আমি মানিনা... শিশুটি আমার; সে আমার ওয়ারিশ, তুমি শুধু তাকে ১০মাস ১০দিন পেটে ধরেছ .... নট মোর দ্যান। তার মানে আমি কি আমার প্রাপ্য...। রিয়্যানা তুমি পাস্টকে অস্বীকার করতে চাচ্ছো ক্ষয় ঊর্ধ্ব, দৈন্যটা, আর নষ্ট সেই দিনগুলো...। স্যার, আমি জানি এই রঙিন ফ্ল্যাটের সব আপনার, বাইরের গাড়িটিও আপনার, আপনি এগুলো আমাকে দিয়েছেন আমার এই গর্ভটির ভাড়া মাত্র। কিন্তু, নাড়ির বাঁধন আমি কিভাবে ফেলে যাবো। দ্যাখো রিয়্যানা এত কিছু ভাবার মতো সময় আমার নেই। কন্ট্রাক্টে যা আছে, তাই তোমাকে করতে হবে। এই প্যাকেটটিতে তোমার ফ্লাইটের টিকিট সহ সবকিছু কনফার্ম করা আছে। আমি চাই শেষ সময়টুকু তোমার ভালো কাটুক শিশুটার সাথে.... গুড বাই।
৫.অপটিমস্টিক
এঞ্জেলের মতো শিশুটি খেলছে নিজের মনে। রিয়্যানাকে দেখে সে মুখে হাসি ফোটালও। একবিন্দু অশ্রু আটকে আছে রিয়্যানা চোখের পাতায়। ফ্লাওয়ার ভাসের পাশের সাইড মিররে সামনে এসে দাড়ালো রিয়্যানা। আকাশ পাতাল ভাবনা তার নিউরনে ঘুরপাক খাচ্ছে। ফ্লাইটের সময় বাকি আর মাত্র ৫৬মিনিট। যা ভাবতে হবে....খুব দ্রুত। রিমুলেশনে ফিরে আসছে....মায়ের শেষ সময়ের আচ্ছন্ন মুখটা, সমাজের কিছু পাপী মুখচ্ছবি, নষ্ট হবার দিনগুলোর কথা। রিয়্যানা আর কিচ্ছু ভাবতে পারছে না। মাথার পেছনটা খুব পেইন করছে। এতক্ষণে মনে হয় পয়জন ট্যাবলেটগুলো ষ্টমাকের এনজাইমে মিশতে শুরু করেছে... নিরাশ বসন্তের মাতাল হাওয়ায়...

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement