লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৩ অক্টোবর ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

ভালোবাসা
ভালবাসা

সংখ্যা

Masud Parvej PARVEJ

comment ১২  favorite ৪  import_contacts ৩,৯০৩
ভালোবাসা আমার জীবনের একটি সুন্দর শব্দ। কাউকে ভালবাসলে ভালোবাসা উপলব্ধি করা যায়। আসছে ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দিবসকে কেন্দ্র করে অনেক লেখক তাদের সুন্দর অভিব্যক্তি প্রকাশ করবে। প্রথমেই বলে রাখছি আমি কোন লেখক বা কবি নই। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলৰে আমি আমার জীবনের একটি বাস্তব গল্প আপনাদের কাছে ব্যক্ত করবো। এটি আমার জীবনের একটি সত্যিকারের ঘটনা। হ্যাঁ, আমার জীবনে একটি ভালবাসার গল্প আছে। আমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি আপনাদের কাছে উপস্থাপন করছি।
প্রথমেই বলে রাখছি আমি বর্তমানে একটি Freight Forwarding কোম্পানিতে এসিন্টেট ম্যানেজার পদে কর্মরত আছি।
সময়টা ছিল ২০০৬ইং সালের ডিসেম্বর মাস। আমি তখন থেকেই Freight Forwarding কোম্পানিতে কাজ করে আসছিলাম। আমার স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ালেখার সময় আমার জীবনে ভালোবাসা আসেনি। আমার মনে ভালোবাসা ছিল। কিন্তু ভালোবাসার মত আমার সঙ্গিনী পছন্দ করতে পারেনি। সবাইকে বন্ধু মনে করতাম। কিন্তু হঠাৎ করে আমার জীবনের একটা ছন্দ পতন হল। আমি আমার ভালোবাসার মানুষটার সন্ধান পেলাম। ঘটনাটি আপনাদের খুলে বলছি। প্লিজ বিরক্ত হবেন না।
২০০৬ইং সালের ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার। আমি বাসা থেকে বের হলাম আমার এক মেয়ে বন্ধুর অনুরোধে। তার নাম ইসমত আরা (রিতা)। আমরা দুজনে খুব ভাল বন্ধু ছিলাম। যাই হোক ওর কথামত আমি বাসা থেকে বের হলাম। রিতার সাথে দেখা হবার পর ও বলল চলো সামনে তো ঈদ, বসুন্ধরা সিটিতে আমার কিছু কেনাকাটা আছে তুমি আমার সাথে যাবে। এবং এও বলল আমার এক বান্ধবী আমাদের সাথে যাবে। আমি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলাম না, বললাম তোমরা তো দুজন আছো তোমরা যাও আমার বাসাতে কাজ আছে। রিতা কিছুতেই আমার কথা শুনলো না, একরকম জোর করে আমাকে নিয়ে যেতে চাইল। কি আর করা আমি রাজি হলাম, বললাম তোমার বান্ধবীকে আমরা কোথা থেকে তুলে নেব। রিতা তখন বলল মিরপুর -১০ এ অপেৰা করবে। আমরা রওয়ানা দিলাম। মিরপুর ১০ এ এসে যখন নামলাম তখন পিছন থেকে একটি মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেলাম। মেয়েটি বলছে এই রিতা শোন। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম এক অপরূপ সুন্দরী দাঁড়িয়ে আছে। আমার মনে হল আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একটি মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম। রিতা এসে আমাদের দুজনের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দিল। আমাকে দেখিয়ে বলল আমার নাম পারভেজ, আর মেয়েটির নাম বলল লাবনী। ওরা তখন ওদের মতো করে কথা বলতে লাগলো। আমি বললাম কি ব্যাপার এখানে কথা বলবা নাকি বসুন্ধরা সিটিতে যাবা। ওরা তখন বলল অবশ্যই যাবো। অনেকদিন পর দেখা তো তাই বান্ধবীর সাথে অনেক কথা বলার ছিল, ঠিক আছে চলো আমরা যাই। একটি সিএনজি করে আমরা রওয়ানা দিলাম। সিএনজিতে বসে রিতাকে বললাম রিতা তুমি তো সুন্দর কিন্তু তোমার বান্ধবী তো আরো অনেক সুন্দর। লাবনী তখন বলল আপনি বাড়িয়ে বলছেন। আমি বললাম যা সত্যি তাই বলছি। ও তখন মিষ্টি হাসি দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলো।
সত্যি কথা বলতে কি আমি ওকে দেখার পর কি বলছি আমি নিজেও জানিনা। যাই হোক আমরা বসুন্ধরা সিটিতে এসে পৌঁছলাম। আমি বললাম তোমরা মেয়েরা তোমাদের মত করে কেনা-কাটা কর আমি অষ্টম তলাতে সিনেপ্লেক্স সামনে থাকব। রিতা বলল তুমি কোথাও যেতে পারবে না, তুমি আমাদের সাথে থাকবে। আমি বললাম আমি থেকে কি করব আমি তো মেয়েদের কেনা-কাটায় কখনও অংশ গ্রহণ করিনি। রিতা বলল তোমার কিছুই করতে হবে না তুমি শুধু আমাদের সাথে থাকবে। আমি অপলক দৃষ্টিতে মেয়েটিকে লৰ করতে লাগলাম। আমার ওর সব কিছুই ভাল লাগল। ওর কথা-বার্তা, আচরণ ইভেন ও যে ড্রেসটি পড়ে এসেছিল আহামরি কোন সুন্দর না, কিন্তু আমার কাছে মনে হল ও একটা পরী। আকাশ থেকে এইমাত্র নেমে এসেছে। ও শুধু বললো আপনি কি করেন? আমি বললাম এইতো একটি ছোটখাটো চাকরি করছি। ও অবাক হল বললো আপনি চাকরি করেন। আমি বললাম এতে অবাক হবার কি আছে। পড়াশুনা শেষ করেছি এখন তো বাবার ব্যবসা-বাণিজ্য নেই, তাইতো চাকরি করছি। এই ছিল আমাদের মধ্যে কথোপকথন। আমরা কাজ শেষ করে লাঞ্চ সেরে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। পথে আর আমাদের মধ্যে কোন কথা হল না। ওরা দুই বান্ধবী অনেক দিন পর দেখা হবার পর ওদের যেন কথা শেষ হচ্ছিল না।
রিতা তার পরদিন দেশের বাড়িতে যাবে কারণ সামনে ঈদ। আমি লজ্জায় রিতার কাছ থেকে লাবনীর মোবাইল নাম্বারটা চাইতে পারলাম না। মাঝখানে এক সপ্তাহের মত সময় কেটে গেল। রিতার সাথে আমার মোবাইলে কথা হত কিন্তু লাবনীর নাম্বারটা কিছুতেই চাইতে পারলাম না। আমার বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে থাকল। আমি অপেৰা করতে থাকলাম কবে রিতা ঢাকাতে আসবে। সারাদিন শুধু লাবনীর কথা ভাবতে
থাকতে লাগলাম। কোন কাজে মন বসছিল না। রিতা এক সপ্তাহ পরে ঢাকাতে আসল। আমি রিতাকে ফোন দিয়ে বললাম তুমি তো ঢাকাতে এসেছ তোমার সাথে দেখা করবো। তখন ছিল প্রচণ্ড শীত। রিতা বলল তুমি কি পাগল হয়েছো। এই শীতে কেউ বাহিরে বের হয়। আমি বললাম প্লিজ তুমি একটু বাহিরে এসো। অনেক কষ্টে ওকে রাজি করলাম। আমাকে দেখে বললো এই শীতে আমাকে ঘর থেকে বের হতে বললে, কোথায় যাবা।
আমি বললাম এই তো চল একটু সামনে যাই। যেতে যেতে ওকে বললাম ওর সাথে কথা হয়েছে। রিতা বলল কার সাথে কথা হবে। আমি বললাম লাবনীর সাথে, ও বলল আসলে দেশের বাড়িতে গেলে কি পরিমাণ যে ব্যস্ত থাকতে হয় তা তোমাকে বোঝাতে পারব না। আমি বললাম তাহলে ওকে একটা ফোন করো। রিতা তখন হেঁসে ফেললো। আমি বললাম তুমি হাঁসছো কেনো। রিতা বলল আমি এখন বুজতে পারছি কেনো তুমি আমাকে এই শীতের মধ্যে বাহিরে আসতে বলেছিলে। আমি লজ্জা পেলাম, বললাম ওর নাম্বারটা কি আমাকে দেওয়া যায়? ও তখন মোবাইল সেটটি বের করে আমাকে নাম্বারটা দিল। আমি ফোন দিলাম, ওপাশ থেকে বললো হ্যালো, কে বলছেন। আমি তখন বললাম আমার নাম পারভেজ, আমি একজনের বন্ধু। লাবনী আমাকে চিনতে পারল বলল রীতা কি আপনার সাথে আছে। আমি বললাম হ্যাঁ, কেনো কথা বলবেন। বলল দেন, রিতার সাথে কিছুৰন কথা বলার পর মোবাইলটা রেখে দিল। রিতা বলল কি এখন কাজ হয়েছে আমি তাহলে যাই। আমি বললাম যাই মানে চলো কোথাও গিয়ে বসি। ও বলল না বাবা এই শীতে আর বাহিরে থাকা যাবে না। আমিও যাচ্ছি তুমিও বাসায় যাও।
আমি ওকে বিদায় দিয়ে লাবনীর কথা ভাবতে লাগলাম। মনে হচ্ছে ওর সাথে যদি দেখা করতে পারতাম। সত্যিকার অর্থে ওকে প্রথম দেখাতেই মনে মনে ভালোবেসে ছিলাম। আমি আবারও বলছি লাবনী ছিল আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী মেয়ে। ওর সুন্দররের কাছে পৃথিবীর সব সৌন্দর্য মলিন।
পরেরদিন আমি লাবনীকে ফোন দিলাম। কেমন আছেন, বলল ভাল আছি, আপনি কেমন আছেন। আমি বললাম খুব একটা ভালো নেই। লাবনী বলল কেন, ভালো নেই কেন। আমি বললাম আপনার সাথে কি দেখা করা যাবে। ও বলল কেনো দেখা করার দরকার কি আছে? আমি বললাম চলেন আগামীকাল আমার অফিস হাফ আছে বিকালে দেখা করি। লাবনী বলল কোথায় দেখা করবেন। আমি বললাম আপনার যেখানে ভালো মনে হয়। লাবনী বললো আমি আপনাকে পরে জানাই। কি আর করা চাতক পাখির মত অপেৰা করতে লাগলাম।
লাবনীর সাথে কিভাবে দেখা করা যায় আমি ভাবতে লাগলাম। মাথায় তখন একটি বুদ্ধি বের হলো। রিতাকে বলে একটা ব্যবস্থা করতে হবে। রিতা এবং লাবনী তখন ইডেন কলেজে পড়াশুনা করতো। রিতাকে বললাম প্লিজ লাবনীর সাথে আমাকে একটু মিট করিয়ে দাও। ও তখন বলল কি ব্যাপার সামথিং সামথিং। আমি বললাম আসলেই সামথিং সামথিং। ওকে নো প্রব্লেম আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। রিতা আমাকে বলল তুমি মিরপুর ১০ থাকবা আমি লাবনীকে নিয়ে আসছি।
সত্যি সত্যি রিতা লাবনীকে নিয়ে মিরপুর ১০ এ উপস্থিত হল। আমাকে দেখে লাবনী তো ভীষণ অবাক। আমি অভিনয় করে বললাম কাকতালীয় ভাবে তোমাদের সাথে দেখা হয়ে গেলো। বাই দা ওয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ। লাবনী বললো অনেকদিন কলেজে যাওয়া হয়নি কলেজে যাচ্ছি। আমি বললাম আমি তো হাজারীবাগ যাব তোমাদের সাথে নিউমার্কেট পর্যন্ত যাওয়া যাবে। আমরা তিনজন একটি বিকল্প বাসে করে নিউমার্কেটের উদ্দেশে রওয়ানা দিলাম। পথে তেমন কোন কথা হলো না। আসলে ওকে দেখলে আমি অনেক নার্ভাস ফিল করতাম। ওরা ওদের মত করে গল্প করতে লাগল। একসময় নিউমার্কেটে পৌঁছলাম। রিতা বলল তোমরা একটু দাঁড়াও আমি একটা সাইবার ক্যাফে থেকে একটা ই-মেইল করে আসছি। আমরা দুজন তখন ওর জন্য অপেৰা করতে লাগলাম। তখন আমাদের মধ্যে কিছু কথোপকথন হল। একসময় রিতা চলে আসলো। আমি ওদেরকে বিদায় দিয়ে হাজারীবাগ আমার খালার বাসায় চলে গেলাম।
আমি তখন লাবনীকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। সব সময় ওর কথা ভাবতাম। আমার ইচ্ছে হচ্ছিল ওর সাথে একান্ত কিছু কথা বলি। একসময় সেই সময়টা চলে আসলো। আমার অনেক রিকোয়েস্টে লাবনী তার পরদিন দেখা করতে চাইল। আমি বললাম ঠিক আছে তুমি বিকাল ৪টায় মিরপুর কাজীপাড়া বাস স্ট্যান্ডে থাকতে পারবা। বলল ঠিক আছে আমি থাকব।
বিকাল ৪টায় আমাদের দেখা হলো, আমরা জিয়া উদ্যানের উদ্দেশ্যে রিক্সা করে রওয়ানা দিলাম। পথে আমাদের দুজনের সম্পর্কে জানাশোনা হল। জিয়া উদ্যানে গিয়ে কিছুটা সময় বসলাম। আমি তো ওকে তখন মনে প্রাণে ভীষণ ভালবাসি, কিন্তু এটা বললাম না কারণ আমি আর কিছুদিন সময় নিতে চাইলাম দেখি ওর মধ্যে আমার ফিলিংসটা আসে কিনা। এরপর বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। দুজন পাশাপাশি বসে আছি। আমার কাছে মনে হচ্ছিল এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। একসময় লাবনীকে বললাম তোমার হাতটা কি একটু ধরতে পারি? ওতো অবাক হয়ে গেল এটা কি বলল। আমার আসলে তখন সবকিছু এলোমেলো লাগছিল। কি বললাম, আমি নিজেই অনেক অবাক হলাম। আমি তারপরও আরেকবার বললাম প্লিজ আপনার হাতটা কি একটু ধরতে দিবেন? লাবনী বললো আপনিই নিয়ে নেন, আসলে এখন বুজলাম ও কিছুটা আমার প্রতি দুর্বল হয়েছে। আমি লজ্জার মাথা খেয়ে ওর হাতটা ধরলাম। এটা ছিল আমার জীবনের কোন মেয়ের প্রথম হাত ধরা। লাবনী অনেকটা
কেঁপে উঠল। আমি হাত ছেড়ে দিলাম, আমার ভিতরটা যেন কেমন করে উঠল, আসলে কখনও কোন মেয়েকে আমি স্পর্শ করিনি। রাসত্দায় আমাদের আর তেমন কোন কথা হল না। একসময় লাবনীদের বাসার কাছাকাছি চলে আসলাম। সত্যি কথা বলতে কি ওকে তখন ছাড়তে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু কিছু করার নেই। আমার মনে হচ্ছিল আমার মন যা বলছে লাবনীর মন ও হয়ত তাই বলছে। আমি ওর চোখে চোখ রেখে বললাম আবার আমাদের কবে দেখা হবে। লাবনী তখন মৌনতা অবলম্বন করল, আমার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল আজ তাহলে যাই।
এর পরদিন ছিল শুক্রবার। কিভাবে লাবনীর সাথে দেখা করবো। শুক্রবার ওর বাবা ওর বড় ভাই বাসায় থাকে। ওর বের হওয়ার কোন উপায় নেই। আমি তারপরও ওকে ফোন দিলাম প্লিজ আমার সাথে একটু দেখা করবে। লাবনী বলল কোন ভাবেই সম্ভব নয়। আমি বললাম প্লিজ ... একটু দেখা কর। লাবনী মোবাইল রেখে দিল। আমি অস্থির হয়ে রইলাম। আমার ইচ্ছে হচ্ছিল ওদের বাসায় চলে যাই। কিন্তু তা সম্ভব না জেনে বাসাতেই বসে থাকলাম।
ভালবাসা এমন একটা জিনিস যার মধ্যে এটা একবার প্রবেশ করবে সে কিছুতেই তাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। সারাৰন মনে হয় সে যেন আমার পাশে থাকে, তার সাথে কথা বলি, তাকে স্পর্শ করি। আমি ভালবাসায় এতটা অন্ধ ছিলাম যে, অফিস ফাঁকি দিয়ে লাবনীর সাথে পরেরদিন ইডেন কলেজে একসাথে গেলাম। ওখানে ওর কাজ সারার পর আমার টিএসসিতে চলে গেলাম। ঐদিন আমরা একান্তভাবে অনেকটা সময় খুব কাছাকাছি বসে কথা বলেছিলাম। কিন্তু ভালবাসার কথা বলতে পারলাম না। লাবনীকে সেদিন আমাদের বাসাতে নিয়ে আসলাম। আমার মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। লাবনীর সাথে কিছুৰন কথা বার্তা বলল। ওর বাবা-মা, ভাই-বোনের কথা জিজ্ঞেস করল। এক কথায় ছোট খাট ইন্টার্ভিউ। আমি বুজতে পারছিলাম লাবনী অনেক নার্ভাস ফিল করছে। মা লাবনীকে ভীষণ পছন্দ করল। মা আমাকে অন্য রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলল, সত্যি করে বলতো মেয়েটি কে? তুই কি মেয়েটিকে ভালবাসিস? আমি বললাম এত প্রশ্ন কর নাতো মা। মেয়েটি আমার পরিচিত। মা বলল মেয়েটিকে আমার ভীষণ ভাল লেগেছে।

এভাবে আমাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা হতে লাগল। আমি যেমন এতদিন ওকে না দেখে থাকতে পারতাম না ওর মধ্যেও সেরকম লৰ করলাম। একদিন সত্যি সত্যি ওদের বাসার সামনে চলে গেলাম, মোবাইলে বললাম তুমি একটু বাইরে এসো। লাবনী তো আকাশ থেকে পড়ার মত অবস্থা, ও আমাকে রিকোয়েস্ট করল প্লিজ তুমি চলে যাও। ও ওর ভাইয়া এবং আব্বুকে খুব ভয় করত। চলে আসলাম ঠিকই কিন্তু মনটা পড়ে রইল।
শুক্রবার বাসাতে বসে টিভি দেখছি, রিতা ফোন দিল তুমি কি মিরপুর ১০ শাহ আলী মার্কেটে আসতে পারবা, সারপ্রাইজ আছে। আমি কিছুটা বুজতে পেরে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে চলে গেলাম। একটা ফুলের তোড়া নিয়ে গেলাম। ফুলের তোড়াটি লাবনীকে দিতেই ও বেশ অবাক হল, বলল ফুল কেনো। আমি বললাম প্রিয় মানুষকে ফুল দিতে আমার খুব ভাল লাগে। আমি বললাম তুমি কি আমার দেওয়া এই উপহারটি গ্রহণ করবে। লাবনী আমার উপহারটি গ্রহণ করল কিন্তু মনে মনে কি যেন ভাবছিল। রিতা বলল আমার একটু কাজ আছে তোমরা থাকো আমি যাচ্ছি। আমি লাবনীকে নিয়ে রিক্সায় করে ঘুরতে লাগলাম। লাবনী বলল আমার খুব ভাল লাগছে, এরকম কখনও লাগেনি। আমরা অনেকৰন ঘুরার পর লাবনীকে ওদের বাসার কাছাকাছি গেলাম।
আমি লাবনীকে তখন বললাম লাবনী একটা সত্যি কথা বলবে, তুমি কি কাউকে ভালোবাসো। লাবনী বলল হ্যাঁ আমি বর্তমানে একজনকে খুব ভালবাসি, এবং সেও আমাকে খুব ভালবাসে। আমি লাবনীকে বললাম তুমি একটা ফুটন্ত লাল গোলাপ তোমাকে তো সবাই ভালবাসতে চাইবে, তবে আমার উপদেশ হল। জীবনটা তোমার, ভেবে চিন্তায় কাউকে মন দিয়ো। ও তখন বলল আপনি কি কাউকে ভালবাসেন। আমি বললাম আমি একজনকে খুবই ভালবাসি, তার জন্য আমার সব কিছু হারাম হয়ে গেছে। আমার ঘুম, খাওয়া দাওয়া, কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি সে আমাকে ভালবাসে কিনা এটা বুজতে পারছি না। লাবনী বলল, আপনি ওনাকে প্রপোজ করেননি। আমি বললাম প্রপোজ করে কি হবে, সে যদি আমাকে ভালবাসে তাহলে একদিন সেও আমাকে ভালবাসবে। লাবনী বললো এটা আপনি ঠিক করছেন না। আপনি যাকে ভালবাসেন তাকে সরাসরি বলেন। আমি লাবনীকে বললাম আপনি যাকে ভালবাসেন সে কি সরাসরি আপনাকে তার মনের কথাটি খুলে বলেছে। লাবনী বলল তা বলেনি কিন্তু আমি বুজে নিয়েছি। কি করে বুজলেন, লাবনী বলল আমি বুঝে নিয়েছি। লাবনী আমাকে কি বলা যায়, সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিটি কে, অবশ্যই বলা যায় তবে জাস্ট ওয়েট। লাবনীর ইচ্ছে করছিল না আমাকে ছেড়ে বাসায় যেতে। আমি বাসায় যেতে অনুরোধ করলাম।
আমাদের মধ্যে তখন নিয়মিত টিএসসি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিয়া উদ্যানে দেখা হতে লাগল কিন্তু দুজনের কেউই মুখ ফুটে বলতে পারছিলাম না আমি তোমাকে ভালবাসি। এর মধ্যে অফিস থেকে আমাকে এবং আমার আরো দুজন কলিগকে ভারতে এক সপ্তাহ ট্যুররে একটা টেকনিক্যাল কাজে পাঠাবে। আমার মনটা ভেঙ্গে যাচ্ছিল। কিন্তু অফিস আদেশ যেতে তো হবেই। প্রতিদিন সকালে আমি অফিসে গিয়ে লাবনীকে ফোন দিয়ে গুম থেকে উঠতাম। লাবনী বলল এই এক সপ্তাহ কে আমাকে উঠাবে। আমি বললাম মাত্র তো এক সপ্তাহ। তবে বিশেষ কোন কোন কারণ বশত আমাদের ভারতের ট্যুর আর হাল না। তবে আমি লাবনীকে এটা বলিনি, কারণ আমি
দেখতে চেয়েছি আমার প্রতি ওর কতটা ফিলিংস। আমি ঢাকাতেই ছিলাম কিন্তু কোন ফোন করিনি। বলেছিলাম ওখানে কোন ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না। একটু কষ্ট করতে হবে, তখন দেখলাম ওর চোখ ছলছল করছিল। আমি এই এক সপ্তাহ মোবাইল বন্ধ রাখলাম। আমার যে কি কষ্ট হয়েছে বুঝাতে পারব না। আমি তখন উপলব্ধি করতে পারলাম এটাই মনে হয় সত্যিকারের ভালবাসা।
যা্ই হোক এক সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পর আমি ওকে ফোন দিলাম আমি ঢাকাতে এসেছি। আমি যখন ফোন দিয়েছি রাত তখন ১১.৫০ মিনিট। আমি বুজতে পারলাম লাবনীর সম্ভব হলে এখইন আমার সাথে দেখা করত। লাবনী বলল এই এক সপ্তাহ তুমি কেমন ছিলে, আমি বললাম তোমাকে ছাড়া কি ভাল থাকা যায়। লাবনী বলল কাল ঠিক ৯টায় কি আমার সাথে তুমি দেখা করবে। আমি বললাম আমার তো অফিস আছে, অফিসে যাব না, লাবনী বলল আমি কিছু জানিনা, তোমার সাথে কাল দেখা করব। সত্যিকার অর্থে আমিও চাচ্ছিলাম ওর সাথে দেখা করি।
এই এক সপ্তাহ আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সময় ছিল। আমি যে কিভাবে কাটিয়েছি এক আল্লাহ ছাড়া আর কেউই বুজতে পারবে না।
সকাল ৯টায় আমাদের যখন দেখা হল তখন মনে হল দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরি। কিন্তু কিভাবে সম্ভব আমরা তো ভালবাসার কথা কেউ কাউকে বলিনি। তবে ওর চোখে আমি তাকিয়ে দেখলাম এক আনন্দের অনুভূতির ছাপ।
একসময় আমাদের ভালবাসার সেই মহেন্দ্রৰণ চলে আসলো। ২০০৭ ইং সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আমি ঠিক করলাম ঐদিন আমি লাবনীকে আমার ভালবাসার কথা বলবো। ১৩ই ফেব্রুয়ারি অফিস থেকে ফেরার পথে ওর জন্য লাভ ডল, নূপুর, গল্পের বই কিনলাম। বাসায় এসে একটা চিঠি লিখলাম। এটা ছিল আমার জীবনের প্রথম কোন ভালবাসার চিঠি। আট পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখলাম। চিঠিতে আমার ভালবাসার বিষাদ বিদারণ লিখলাম। ফোনে বললাম কালকে অবশ্যই আমরা টিএসসিতে দেখা করছি।
যথারীতি আমরা দেখা করলাম, আমার গিফট এবং চিঠি ওকে দিলাম বললাম এই চিঠিতে আমার মনের কথা সব বলা আছে। লাবনী বলল চিঠির কথা মুখে বলা যায় না। বলব জাস্ট ওয়েট। ও বলল তুমি অফিসে যাও আমরা বান্ধবীরা মিলে অনেক মজা করব। আমি বললাম আমাকে বাদ দিতে তোমার কোন কষ্ট হচ্ছে না। লাবনী কিছুই না বলে আমাকে বিদায় করে দিল। ৩০ মিনিট পরে ও আমাকে ফোন করল তুমি কি অফিসে। আমি বললাম না এখনও পৌঁছায়নি। লাবনী বলল তুমি ধানমন্ডি লেকে চলে আসো। আমি তোমার জন্য অপেৰা করছি। আমি বললাম কেন বান্ধবীদেরকে সময় দিবে না। লাবনী বলল আমি তোমাকে ছাড়া এখন কিছুই ভাবতে পারছি না। I Love You. একটি দেশ জয় করার যে আনন্দ আমার তখন মনে হচ্ছিল আমি ভালবাসায় জয়ী হয়েছি। আমি তখন বললাম I Love You too.
ধানমন্ডি লেকে দেখা করলাম। আমি তখন ওর চোখে চোখ রেখে সরাসরি বললাম আমি তোমাকে ভীষন ভালবাসি। তুমি আমার প্রথম প্রেম। তোমাকে ছাড়া আমার চলবে না। আমি তোমাকে আমার জীবন সঙ্গী করতে চাই। লাবনী বলল, তুমিই আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসার পুরুষ। তোমাকে আমি ভীষন ভালবাসি। আমি মনে করি তোমাকে পেলে আমাদের ভালবাসাটা পরিপূর্ণ হবে। এভাবে বেশ কয়েকদিন চলে গেল। আমাদের ভালবাসাটা আরো অনেক গভীর হল। একটা মুহূর্ত ওকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারিনা। সকালে, বিকালে, রাতে সারাৰন ওর সাথে মোবাইলে কথা হয়, দেখা করি।
এতৰণ যা কিছু বললাম এটা ছিল আমাদের ভালবাসার কথা। ভালবাসার বিজয় হয় বিয়ে। আপনারা যদি আমার গল্পটা পড়ে মজা পেয়ে থাকেন তাহলে আমার ভালবাসার বাকি গল্পটুকু বলতে চাই।
১৯ মার্চ ২০০৭ইং সাল ওইদিন লাবনীকে বেশ বিষণ্ণ মনে হচ্ছিল। আমি বললাম লাবনী তোমার কি হয়েছে। লাবনী কেঁদে ফেললো। লাবনী বলল আমার বাবার অবস্থা খুবই খারাপ, তুমি তো জানো আমরা দুই বোন এক বড় ভাই। আমার পরিবার চাচ্ছে আমি তো বোনের মধ্যে বড় আমাকে বিয়ে দিবে। আমি তখন লাবনীকে আশ্বস্ত করে বললাম তুমি কোন চিন্তা করোনা। আমি তোমার পরিবারের সাথে দেখা করব। লাবনী বলল, তুমি কবে দেখা করবে। আমি বললাম তুমি যেদিন চাইবে। লাবনী বলল, ঠিক আছে তুমি আগামীকাল সকাল ১০টায় আমাদের বাসাতে এসো। কারণ তখন আমার বড় ভাই এবং বাবা বাসাতে থাকবে না। আমি বললাম কেনো, আমি তো ওনাদের সাথে দেখা করতে চাই। লাবনী বলল আগে আমার মার সাথে দেখা কর। ওকে, আমি তাহলে আগামীকাল ১০টায় তোমাদের বাসাতে যাব।
২০ মার্চ ২০০৭ইং সাল, কলিং বেল টিপলাম, দরজা খুলে দিল ওর ছোট বোন। আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। ওলাইকুম ছালাম, কেমন আছো পিংকি। লাবনীর ছোট বোনের নাম ছিল পিংকি। ভাইয়া ভাল আছি, আপনি কেমন আছেন? ভাল। আমাকে ড্রইং রুমে নিয়ে গেল। পিংকি বলল ভাইয়া কি অফিসে যাচ্ছিলেন, আমি হাঁ সূচক বলে বললাম খালাম্মা কোথায়? পিংকি বলল ভাইয়া আম্মা বাসাতেই আছে। বললাম, খালাম্মাকে একটু আসতে বলবে। পিংকি বলল ভাইয়া বসেন আমি আম্মুকে ডেকে দিচ্ছি। একটু পরে লাবনীর আম্মা আসল, লাবনী আসলো তার পিছু পিছু। মনে হচ্ছিল ওর ভীষন ভয় হচ্ছে, রাতে হয়ত ঘুমতে পারেনি। আমি খালাম্মাকে পা ছুঁয়ে ছালাম করলাম, বললাম খালাম্মা ভাল আছেন। ভাল আছি বাবা তুমি কেমন আছো। আমি বললাম ভাল আছি, খালুর শরীর ভাল আছে। না বাবা তোমার খালুর শরীর খুব একটা ভাল নেই। খারাপ শরীর নিয়ে অফিসে গেছে, হয়ত এই মাস চাকরি করে আর করবে না। ভাইয়ার ব্যবসা কেমন চলছে। ভাল বাবা। আমি পিংকি এবং লাবনীকে বললাম তোমার একটু অন্য রুমে যাবে, খালাম্মার সাথে আমার কিছু কথা আছে। ওরা চলে যাওয়ার পরে আমি আমার নিজের এবং আমার পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিলাম। আমি বললাম আমি লাবনীকে বিয়ে করতে চাই যদি আপনাদের কোন সমস্যা না থাকে। খালাম্মা একটু চুপ করে থেকে বলল ঠিক আছে আমি তোমাদের বাসায় গিয়ে তোমার আব্বা-আমার সাথে কথা বলি। আমি বললাম ঠিক আছে আগামী শুক্রবার ২৪-০৩-২০০৭ইং তারিখে আপনারা আমাদের বাসাতে আসতে পারেন।
২৪ মার্চ ২০০৭ইং তারিখে লাবনীর আম্মা এবং পিংকি আমাদের বাসায় আসল। আমার আম্মার সাথে খালাম্মার কথা হল। খালাম্মা বলল ঢাকাতে আমার বড় ভাই, ছোট ভাই, ওর চাচা এবং আমার হাসবেন্ডের সাথে কথা বলে আগামী সপ্তাহে আপনাদের বাসায় দেখা করবো। আমার মা বলল ঠিক আছে সবার সাথে কথা বলে বিষয়টা ফাইনাল করা উচিত।
৩১ মার্চ ২০০৭ইং তারিখে ওর আত্মীয় স্বজন আমাদের বাসায় আসল। একটা কথা বলে রাখছি আমার বাবা ব্রেন স্টোক করে প্যারালাইজড। আমার খালু, খালা, মামা ওনারা ঐদিন আমাদের বাসাতে আসছিল। দুই পৰের কথা বলার পর ফাইনাল হল ১৩ই এপ্রিল আমাদের বিয়ে হবে।
আমার ভালবাসায় কোন ভিলেন ছিল না। সময়মত আমাদের ভালোবাসার পরিপূর্ণতা পেল। আমাদের বিয়ে হয়েছিল ১৩ই এপ্রিল।
আমি গল্পটা লেখছি ২৫ জানুয়ারি ২০১১ইং সাল। এখন আমাদের একটা মেয়ে আছে। গত ২১শে জানুয়ারি আমার মেয়ের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আমরা খুবই সুখী একটা ফ্যামিলি।
এটা ছিল আমাদের ভালবাসার গল্প। জানিনা আপনাদের এই গল্পটা কেমন লাগল। তবে আমি আমার জীবনে ভালবাসাতে আমি সাকসেস। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে আমরা একে অপরকে উপহার দেই। আর আমাদের সবচেয়ে বড় উপহার হচ্ছে আমাদের ছোট্ট সুন্দর একটি মেয়ে। আমার মেয়ের নাম তারানা তাবাসুম (ত্বোয়া)।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement