লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ এপ্রিল ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ১১টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৯৮

বিচারক স্কোরঃ ২.৩১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৭ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশাড়ী (সেপ্টেম্বর ২০১২)

কারিগর
শাড়ী

সংখ্যা

মোট ভোট ৫৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৯৮

ঈশান আরেফিন

comment ২৫  favorite ০  import_contacts ১,১১৯
১. ঘরটি ছোট, খুপরির মতন। সূর্যের আলো পৌঁছাবার মতন কোন ব্যবস্থা এতে রাখা হয়নি, তাই ঘুটঘুটে অন্ধকার। অবশ্য ইসহাক মিয়া ঘরটির অবস্থা দেখতে পারছে না। কারন তার দু চোখ কালো কাপড়ে শক্ত করে বাঁধা। লাল উর্দি পড়া ইংরেজ সেপাহিরা তাকে এ ঘরে হাত আর চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে গেছে অনেকক্ষণ হল। সে এখন ইংরেজদের বন্দি। ইসহাক মিয়া প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত,তাছাড়া চোখ শক্ত করে বাঁধায় মাথাটা চিনচিন করছে।

কিন্তু এখন ইসহাক মিয়ার এই খুপরির মতন ঘরে বন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার কথা না। আজ সকালে ইংরেজ সেপাহিরা তাকে ধরে না আনলে তার রওনা দেবার কথা ছিল ময়মনসিংহ। সেখানে তার তৈরি মসলিন শাড়ী দুইটির সওদা হবার কথা। ইসহাক মিয়ার এবারের শাড়ী দুইটি হয়েছেও বেশ বাহারি। প্রায় এক বছর ধরে রাত দিন খেঁটে সে এই দুইটি শাড়ী বানিয়েছে। মসলিনের কারিগর হিসেবে ইসলামপুরের ইসহাক মিয়ার খুব নামডাক আছে। তার মতন নরম আর বর্ণালী মসলিন শাড়ী এ তল্লাটে কেউ বানাতে পারে না। মসলিনের কারিগরি ইসহাকের মিয়ার বাপ দাদার পেশা। তার বাবা ছিলেন ঢাকার বিখ্যাত মসলিন কারিগর, কালা মিয়া।

ইসহাক মিয়া যে পেটের দাঁয়ে মসলিনের কারিগরি করে তা কিন্তু না। বাপ দাদা যে জমি রেখে গিয়েছিলো তা বর্গা দিয়ে ইসহাক মিয়ার ছোট পরিবারের বেশ কেটে যায়। তবে ইসহাক মিয়া আসলে মসলিন কে ভালোবাসে, তাই মনের সুখে মসলিনের কারিগরি করে যায়। কিন্তু ইসহাক মিয়ার বিবিজান ফুলবানু তাকে খুব করে বলে এ কাজ ছেড়ে দিতে। কারন কিছুদিন আগে সরকারি আদেশ এসেছে, মসলিনের কারিগরি বন্ধ করতে হবে, নাহলে ভয়ংকর শাস্তি। কিন্তু ইসহাক মিয়া এসব কথা কানে তুলে না। তার বাপ দাদার পেশা সে ছাড়ে কি করে? তবে মাঝে মাঝে তার আদরের একমাত্র মেয়ে ফাতেমার দিকে তাকিয়ে খানিকটা দুশ্চিন্তা কাজ করে। তার কিছু হলে মেয়েটার কি হবে?


২. ইসহাক মিয়া মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছিল। সাদা চামড়ার এক ইংরেজের ডাকে তার ঘুম ভাঙে। ইসহাক মিয়াকে তারা এখান থেকে নিয়ে যেতে এসেছে। কিন্তু কোথায় নিবে তা সে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ তার খুব ভয় লাগতে শুরু করে। নাহ, নিজের জন্য তার তেমন কোন চিন্তা হচ্ছে না। কিন্তু ফুলবিবি আর ফাতেমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। তাকে যখন সেপাহিরা নিয়ে যাচ্ছিল তখন ফুলবিবির কান্না আর দেখে কে। আচ্ছা, ফাতেমা এখন কি করছে? মেয়েটা হয়েছেও খুব বাপ পাগলী। তাকে ছাড়া এক দণ্ডও থাকতে পারে না।

ইসহাক মিয়াকে এক ইংরেজ বাবুর সামনে আনা হয়েছে। বাবু ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় তাকে জিজ্ঞেস করে, নিষেধ করা সত্ত্বেও কেন সে মসলিনের কারিগরি চালিয়ে গেল। ইসহাক মিয়া কিছু বলে না। অসহায় চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাবু এক সেপাহিকে ডেকে কি যেন বলে। সেপাহিটি একটি ছোঁরা নিয়ে আসে, আর চারজন সেপাহি ইসহাক মিয়াকে শক্ত করে ধরে। বাবু ছোঁরাটি দিয়ে ধীরে ধীরে ইসহাক মিয়ার দুই হাতের দশটি আঙ্গুল কেটে নেয়। তার বুকফাটা আর্তনাদে কেঁপে উঠে ইংরেজ কুঠির শক্ত দেয়াল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক একটি ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে ধংস করার গল্প অল্প পরিসরে ফুটিয়ে তুলেছেন...একটু ডিটেলস হলে সত্যিই একটা মিরাকল হত...আগামীর প্রত্যাশায় থাকলাম...খুব ভালো লাগলো...
    প্রত্যুত্তর . ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • মনির  মুকুল
    মনির মুকুল পরিণতিটায় যেন শুধু ইংরেজ কুঠির শক্ত দেয়াল কেঁপে ওঠেনি, তার সুর আমার পাঠকহৃদয়েও পৌঁছে গেছে। বেশ সুন্দর একটি অণুগল্প।
    প্রত্যুত্তর . ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া অসাধারণ থিম নিয়ে গল্প বা অনুগল্প যাই বলি ভালো লাগলো , আর সবার মন্তব্য পড়লাম , সবার সাথে একমত , এগিয়ে যাও সামনে এই শুভকামনা .
    প্রত্যুত্তর . ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • আরমান হায়দার
    আরমান হায়দার প্রথম কথা গল্পটি ভাল লাগল। পরবর্তী কথা সমুহ এরুপ - (১) একটি শিল্পকে ধ্বংশ করার জন্য দন্ড হিসেবে মসলিন বুননের জন্য কারিগরদের হাতের আঙ্গুল কেটে দেওয়া হত বলে কোন কোন সুত্রে লোক কথা পরিচিত আছে। সম্ভত সে রকম একটি লোককাহিনীর উপর ভিত্তি করেই হয়তো গল্পটি লেখা হয়...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন
    মোহাম্মদ ওয়াহিদ হুসাইন ..........................ছোট, কিন্তু চমতকার একটা গল্প। ভাল লাগল। শুভেচ্ছা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • প্রিয়ম
    প্রিয়ম দারুন একটা বিষয় ...........ভালো লাগলো অনেক অনেক |
    প্রত্যুত্তর . ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • তানি হক
    তানি হক অনেক সুন্দর করে লিখেছেন ...ভালো লাগলো ...ধন্যবাদ আপনাকে
    প্রত্যুত্তর . ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ ঐতিহাসিক গল্প লেখার সাহস দেখানোয় পূর্ণ মার্কস। দারুন ।
    প্রত্যুত্তর . ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • জাকিয়া জেসমিন যূথী
    জাকিয়া জেসমিন যূথী অসাধারণ সিলেকশন; গল্পের বিষয়ের। ইতিহাস নিয়ে লেখা খুব দুরুহ কাজ। সেই কাজটি হাতে নেয়ায় অভিনন্দন। শুভকামনা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ঈশান আরেফিন
    ঈশান আরেফিন এক সাগর আনন্দের ঢেউ.........:)
    প্রত্যুত্তর . ২ অক্টোবর, ২০১২

advertisement