লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঘৃনা (আগস্ট ২০১৫)

ডায়রি
ঘৃনা

সংখ্যা

আলমগীর মাহমুদ

comment ৪  favorite ০  import_contacts ৮৮৩
ডায়রী
- আলমগীর মাহমুদ

মিসেস বিলকিছ ভানু। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। অনেক কিছু দেখেছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম দেখেছেন। কালের স্বাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

বসার ঘর। গোছানো, সুন্দর। একটি ইজি চেয়ারে শুয়ে আছেন। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। হাতে একটি ডায়রী। গল্পের শুরু এখানে।

১৯৭১ সন। তখনো যুদ্ধ শুরু হয়নি। আমি আমার পরিবারের সাথে গ্রামের বাড়িতে থাকি। বাবা স্কুল শিক্ষক। আমি, মা, বাবা আর আমার পিঠাপিঠি ছোট ভাই। ঐ সময়টায় আমার বয়স কত হবে পনের কিংবা ষোল। ভাইয়ের তের কিংবা চৌদ্দ। ভাইয়ের সাথে আমার বয়সের পার্থক্যটা খুব কম হওয়ায় আমাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মত। সারাদিন আমরা দুষ্টুমি করতাম। একসঙ্গে স্কুলে যেতাম। মাঠের আল ধরে চলে যেতাম দুরের গ্রামে। আবার ফিরে আসতাম। বৃষ্টির দিনে বাড়ির পাশের খোলা মাঠটিতে দুজনে ভিজতাম। কি দারুণ আর সুখের ছিল আমাদের সেই দিনগুলো। বাবা স্কুলের শিক্ষক আর মা গৃহিনী। ঘরের গৃহস্থালী কাজ করে মায়ের দিন কাটে। আমি মাকে মাঝে-মধ্যে সাহায্য করি। এভাবে আমাদের দিন এগিয়ে যায় সামনের দিকে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায় আমাদের দিনগুলো।

বাবা একদিন মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলেন। চোখে-মুখে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। বাবাকে আমি কোনদিন এতটা অস্থির হতে দেখিনি। ঐদিন বাবার চেহারায় যে আতঙ্ক দেখলাম তাতে মনে হলো কিছু একটা হয়েছে। বাবা এসে বললেন দেশের অবস্থা খুব একটা ভালনা। আন্দোলন হচ্ছে এবার কিছু একটা হবে। আমি আর ভাই কিছু বুঝলামনা।

বাবা আমাদের বাইরে বেরোতে মানা করলেন। ঘরের দরজা-জানালা প্রয়োজন না হলে খুলতে বারণ করে দিলেন। কিন্তু কি হয়েছে, কেন বাইরে বেরোতে পারবোনা কিংবা কেনই বা ঘরের দরজা-জানালা খোলা যাবেনা সেটা কিছুই বুঝতে পারলামনা। শুধু মনের মধ্যে চিন্তা বাইরে বেরেতো পারিনা। মাঠে খেলতে যেতে পারিনা। ঘরের ভেতর দম বন্ধ হয়ে আসে। বাইরে বেরোনোর ইচ্ছাটা আরো তীব্র হয়। ঘরের ভেতরেই আমাদের দিন কাটছে। ভাইয়ের সাথে দুষ্টুমি করে, মাকে রান্নার কাজে সহযোগিতা করে। আমাদের কাছে কোন কিছুই স্পষ্ট নয় কেন এসব হচ্ছে।

বাবা আমাদের বোঝালেন দেশের পরিস্থিতি ভালনা। পাকিস্তানিরা আমাদের মাতৃভুমি কেড়ে নিতে চায়। আমাদের পরাধিন করে রাখতে চায়। বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা চায়। বাঙ্গালী জাতি আর পাকিস্তানিদের শাষণ মানতে চায়না। এবার যুদ্ধ হবে, স্বাধীনতার যুদ্ধ, এবার যুদ্ধ হবে মাকে রক্ষার যুদ্ধ, এবার যুদ্ধ হবে দেশকে শত্রু মুক্ত করার যুদ্ধ, এবার যুদ্ধ হবে পরাধিনতার গ্লাানি মোছার যুদ্ধ। বাঙ্গালী জাতি তৈরী হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের জন্য।

তারপর বাবা যে কথাটি বললেন তা শুনে আমার ঘৃণা হলো। কিছু বাঙ্গালী নাকি পাকিস্তানিদের সাথে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। বিভিন্ন গ্রামে মিলিটারি ঢুকছে। আর মিলিটারিদের ঢুকতে সহযোগিতা করছে এদেশেরই লোক। মিলিটারিদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করছে তারা। থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আমার মনের মধ্যে তীব্র এক ঘৃণা জন্ম হলো ঐ সকল লোকগুলোর জন্য। এও কি সম্ভব। ভাইকে কিভাবে ভাই খুন করবে ?

বাবা আমাদের শতর্ক করে দিলেন। আমি আর ভাই ঘর থেকে বেরোইনা। স্কুল বন্ধ। বাবা ঘরে চুপচাপ বসে থাকেন। কি হচ্ছে দেশটায় কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা। আমাদের বাসায় ছিল ছোট্ট একটা রেডিও। আমি আর ভাই সেই রেডিওতে গান শুনতাম। ইদানিং বাবা সেই রেডিও নিয়ে বসে থাকেন। কানের কাছে নব ঘোরান।

০৭ ই মার্চ। বাবা রেডিও নিয়ে বসে আছেন। শুধু বলছেন বঙ্গবন্ধু আজ ঘোষণা দিবেন। কি ঘোষণা দিবেন আমরা কিছুই বুঝতে পারলামনা। বঙ্গবন্ধু মানে শেখ মুজিবুর রহমান। বাবা আমাদের বুঝিয়ে দিলেন। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক কিছু বললেন। বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর দেশের প্রতি ভালবাসার গভিরতা, বঙ্গবন্ধুর দেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনার কথা বললেন আমাদের। তখন বঙ্গবন্ধুকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করতো। একজন মানুষ কিভাবে এত ভাল হয়। একজন মানুষ কি ভাবে একজন অনেক বড় মাপের মানুষে পরিণত হয়। একজন মানুষ কিভাবে দেশের মানুষকে নিজের সন্তানের মতো ভালবাসে। আমার খুব ইচ্ছে করলো বঙ্গবন্ধুর পা ছুঁয়ে সালাম করতে। জানিনা কোনদিন আমার সেই সৌভাগ্য হবে কিনা। এত কিছু চিন্তা করতে করতে হঠাৎ রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর দরাজ কণ্ঠ ভেসে আসে। আমি বঙ্গবন্ধুর ভরাট কণ্ঠ মুগ্ধ হয়ে শুনি। ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে যখন বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণ শেষ করলেন আমি তখন স্তব্ধ হয়ে যাই।

আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। বাবার চোখে মুখে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। বাবা বারবার শুধু একটা কথাই বলছেন। আমার জন্য কোন চিন্তা নেই। চিন্তা শুধু আমার আর ভাইয়ের জন্য। কি করবেন, কোথায় আমাদের রাখবেন। কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না বাবা। আমরা শুধু বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।

আমাদের এখানে তখনো মিলিটারি ঢোকেনি। কবে ঢুকে পড়ে সেই আতঙ্কে এখন গ্রামের মানুষ। গ্রামের কিছু যুবক যুদ্ধে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমারও খুব ইচ্ছে হলো সক্রিয় ভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়ার। কিন্তু বাবাকে কথাটি বলার কোন সাহস পাইনা। ভাই আর আমি যুদ্ধে যাবার জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নিতে থাকি। ভাবি একদিন বাবাকে বলে যুদ্ধে চলে যাবো। কারণ আমার মাকে রক্ষা করতে হবে, ভাইকে রক্ষা করতে হবে, বাবাকে রক্ষা করতে হবে, নিরিহ মানুষকে রক্ষা করতে হবে, এ দেশকে রক্ষা করতে হবে হায়েনাদের হাত থেকে।

২৫ মার্চ। দেশজুড়ে আতঙ্ক। ঢাকায় নাকি সারারাত পাকিস্তানি মিলিটারিরা গুলি চালিয়ে নিরিহ মানুষদের হত্যা করেছে। ভয়ে আমার গা শিহরে উঠে। আমি আঁৎকে উঠি। ভাইয়ের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখি ও কাঁদছে। ভাইকে ঁিজজ্ঞেস করলাম ও কাঁদছে কেন ?। ভাই বললো মানুষ মানুষকে এভাবে কেন মারে ? এ প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারিনি। ওর কথা শুনে আমার চোখে জ্বল এসে যায়। বালিশে মুখ চেপে গুমড়ে কেঁদে উঠি। বাবা আমাদের নানা বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন বলে ঠিক করলেন। আমি বললাম আমরা কোথাও যাবনা। আমরা সবাই একসাথে থাকবো। আর যদি মরতে হয় তাহলে একসাথে মরবো। কিন্তু বাবার যে অন্য চিন্তা মাথায় কাজ করছে আমরা বুঝতে পারিনি। পড়ে মা আমাদের বুঝিয়ে দিলেন তিনি যুদ্ধে যাবেন। বাবার কাছে আমি বায়না ধরলাম বাবা আমি যুদ্ধে যাবো। বাবা বললেন তোদের এখন যুদ্ধে যাওয়ার দরকার নেই। তোরা থাক তোদেরকে রক্ষা করার জন্য আমি যুদ্ধে যাবো।


বাবা আমাদের নানা বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। বাবা যুদ্ধে চলে গেলেন। আমার মনে আছে সেদিন বাবাকে জড়িয়ে আমি কোন কান্না করিনি। গর্বে আমার বুকটা ফুলে উঠেছিলো। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে যাচ্ছে। বাবার চোখে মুখে তখন যে ছাপ দেখেছিলাম তাতে আমি নিশ্চিত ছিলাম এ দেশ স্বাধীন হবে। আমি বাবার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্যালুট দিয়েছিলাম। বাবা হিসাবে নয় একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যদি কোনদিন কোন মুক্তিযোদ্ধার সাথে দেখা হয় তাকে ঠিক এইভাবেই স্যালুট দিবো।

বাবা আমাদের নানা বাড়িতে রেখে চলে যুদ্ধে, মাতৃভূমিকে রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে। আমাদের বাড়িটি পড়ে রইলো। আমরা বাবাকে বললাম নানা বাড়িতে যাওয়ার দরকার নেই, এ বাড়িতেই আমরা থাকি। বাবা বললেন আমি যুদ্ধে গিয়েছি এটা যদি পাকিস্তানিরা জানতে পারে তাহলে প্রথমে এ বাড়িতেই আক্রমন করবে। তখন তোদের আর কেউ রক্ষা করতে পারবেনা। বাবা চলে গেলেন, আমরা নানা বাড়িতে।

আমরা নানা বাড়িতে আছি। রাতে সবাই এক ঘরে গাদাগাদি করে ঘুমাই। একদিন ভোর বেলা, সূর্য উঠি উঠি করছে, ঠিক এই সময়, হঠাৎ চারদিকে চিৎকারের শব্দ, দুর থেকে ভেসে আসছে করুণ আর্ত চিৎকার।

আমাদের বুঝতে বাকি রইলোনা গ্রামে মিলিটারি ঢুকেছে। যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই গুলি করছে। আমরা বাড়ির সবাই ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। পাশের স্কুলে আশ্রয় নিল মিলিটারিরা। আর আমাদের গ্রামের কয়েকজন তাদের খেদমতের জন্য উঠে-পড়ে লাগল। জানা গেল তাদের মধ্যে আমার এক দু:সম্পর্কিয় মামাও রয়েছে। আমি চিন্তাও করতে পারলাম না আমার মামা কিভাবে এ কাজে জড়িয়ে পড়ল। তার কথা ভেবে ঘৃণায় তার প্রতি থু থু ফেললাম। আর যদি কোনদিন দেখা হয় তাহলে তার মুখে একবার থু থু ফেলব।

মিলিটারিদের অত্যাচার দিন দিন বাড়তে লাগলো। কোন বাড়িতে কোন মুক্তিযোদ্ধা অথবা কোন যুবক পেলে তাকে ধরে নিয়ে গুলি করে মারছে। শিশু, বৃদ্ধ কিংবা যুবক কেউ তাদের হাত থেকে বাদ পড়ছেনা। আর আমার সেই মামা নাকি এ কাজের মূল হোতা। মাথায় টুপি পড়ে দু-একটি উর্দু ভাষায় কথা বলে মিলিটারিদের সাথে হাত মিলিয়ে তারা শান্তি কমিটি করেছে গ্রামে শান্তির জন্য। আমার মামা সেই শান্তি কমিটির প্রধান। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে পুঁজি করে এ কাজ করে বেড়াচ্ছে।

একদিন রাতের বেলা আমরা কোন রকমে রাতের খাবার খেয়ে শোয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। হঠাৎ করেই বাড়ির ভেতরে দরজায় সজোরে লাত্থি মেরে ঢুকে পড়ে মিলিটারি। মা আমাকে আর ভাইকে নিয়ে ভেতরের ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রইলেন। বাড়ির অন্যরা যে যার মতো লুকিয়ে রইলেন। আমার নানি, বৃদ্ধ তিনিই শুধু মিলিটারিদের মুখোমুখি হলেন। নানি এশারের নামায পড়ে কোরআন পড়ছিলেন। তার হাতে তখনো পবিত্র কোরআন। মিলিটারির একজন নানিকে কি জিজ্ঞেস করলো তারপর আর কোন কথা শুনতে পেলামনা শুধু কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পেলাম।

কিছুক্ষণ পর মিলিটারিদের চলে যাওয়ার শব্দ শুনতে পারলাম। ওরা চলে যেতেই আমরা সবাই বেরিয়ে এসে দেখি নানির বুকে পবিত্র কোরআন পড়ে আছে আর বুক থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে। মা কান্না ভেঙ্গে পড়লেন। আমি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিন্তু আমরা ভাবতেও পারিনি আমাদের জন্য আরো ভয়ংকর বিপদ অপেক্ষা করছে। নানির দেহের উপর মা পড়ে কাঁদছে, আমি নির্বাক দাঁড়িয়ে আর মুহুর্তের মধ্যেই মিলিটারির দল পুনরায় ঢুকে পড়লো বাড়িতে। ঢুকেই আমাদের সকলের দিকে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে রইলো। কিছু বলে উঠতেই গর্জে উঠলো বন্দুকগুলো, মুহুর্তেও মধ্যে আমার মা মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লো। কে একজন থামো বলতেই থেমে উঠলো বন্দুকের গর্জন। তারপর আমার ভাইকে ধরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেললো, আর আমাকে একজন মিলিটারি জোড় করে ধরে রাখলো। ভাইয়ের দিকে বন্দুকের নল। ভাইয়ের চেহারার মধ্যে বাঁচার আর্তনাদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো ভাই লুটিয়ে পড়বে মাটিতে। ভাইয়ের করুণ চাহনি আমার বুকের অদ্ভুত এক ভালবাসার সৃষ্টি করলো। আমি মিলিটারির পায়ে ধরে বললাম আমার ভাইকে ছেড়ে দিতে। কি ভেবে জানিনা, মিলিটারি আমার ভাইকে ছেড়ে দিলো কিন্তু আমাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে চললো। আমার বিনিময়ে ওরা ভাইকে ছেড়ে দিলো। তবুও সান্তনা ভাই বেঁচে রইলো। মনে মনে আল্লাহকে ধন্যবাদ দিলাম।

আমাকে নিয়ে যখন গাড়িতে উঠায় কিছুদুর চোখ যেতেই দেখি আমার সেই মামা। দুরে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত হাসি হাসছে। আমার আর বুঝতে বাকি রইলোনা। ইচ্ছে করছে সেই মামার মুখে থু থু দিয়ে আসি। আমি পাকিস্তানিদের বললাম “ঐ যে দুরে দাঁড়িয়ে লোকটা আমি তার সাথে একটু দেখা করতে চাই” ওরা রাজি হলো, বন্দুকের নল তাক করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো মামার সামনে। আমি দেরী না করে মামার মুখে থু থু ছিটিয়ে দিলাম। মামা অবাক হয়ে গেলো, আর বললো “লে যাও ওছকো”। আমি ভাবলাম অন্তত: নিজের ঘৃণাটা প্রকাশ করতে পারলাম।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement