লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ আগস্ট ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকষ্ট (জুন ২০১১)

কষ্ট কাকে বলে?
কষ্ট

সংখ্যা

মোট ভোট ২০

Meshkat

comment ১৯  favorite ১  import_contacts ১,৭৮৫
।।১।।
সা
তক্ষীরার একটি এলাকা পারুলিয়া। সেই এলাকায় বাস রাশেদুল করিম (ছদ্মনাম) নামের একজন স্বল্প আয়ের মানুষ। দুই ছেলে, স্ত্রী ও বাবা-মাকে নিয়ে সুখের সংসার তার। স্ত্রী রাবেয়া বেগম হাসিখুশি মানুষ। শশুর-শাশুরির আদরের পুত্রবধু। রাবেয়া-করিমের দুই ছেলে মন্টু ঔ মিন্টু। বড় ছেলে মন্টুর বয়স আট বছর আর মিন্টুর সাত। সম্প্রতি আরো একজন নতুন অতিথি আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাবেয়া সন্তানসম্ভবা।

।।২।।
বাড়িতে অনেক মেহমান এসেছেন। উপলক্ষ আর কিছুই নয়। ঘরের নতুন অতিথি রায়হানের আজ আকিকা। ভীষণ তোড়জোড় আয়জন হয়েছে দুদিন আএ থেকেই। এই নিয়ে মন্টু আর মিন্টুরও আগ্রহের কমতি নেই। বলতে গেলে তারাই সবচেয়ে আনন্দ করেছে। আকিকার ছাগলটি নিয়ে তাদের বেশি আনন্দ। দুই ভাই মিলে ছাগলের মুখে কথা ফোটানোর চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত। মোদ্দা কথা ছাগলটির সাথে একরকম বন্ধুত্বই পাতিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তারা জানে যে কি বিপদ তাদের সামনে অপেক্ষা করছে।
যাই হোক, নির্দিষ্ট সময়ে আয়োজন শেষ হল। মন্টু মিন্টুর প্রিয় ছাগলটিকেও জবাই করা হল। তারা অবশ্য আপত্তি করেছিল। কিন্তু আদের বাবা বুঝ দিলেন যে এটা করতে দিলে ছাগলটি আর ভাল ও নাদুস নুদুস হয়ে ফিরে আসবে। শৈশবনোত্তীর্ন মন্টু আর মিন্টু এই ছলনাটুকু বুঝতে পারল না। তারা হাসি মুখেই সম্মত হলো।

।।৩।।
আকিকার কয়েক সপ্তাহ পরের ঘটনা এটি।

মন্টুদের বাড়িটি সুন্দর তেতলা। তবে ছাদে পুরোপুরি রেলিং নেই।
রায়হানের বয়স তখন তিন মাস। বেলা ১০ টার হাল্কা রোদে ছাদের সিঁড়ির নিচে উঠানে গামলায় করে পানি নিয়ে রায়হানকে গোসল করাচ্ছেন তার মা। আর দুই ভাই ছাদে খেলছে। হঠাত তার কানে এল মন্টুর তারস্বর চিৎকার। তিনি বেশ বিরক্ত হয়েই কোন পাত্তা দিলেন না। নিশ্চই মারামারি করছে হতভাগা দুটো। কিন্তু পরমুহূর্তেই দেখতে পেলেন সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে জমাট বাঁধা রক্ত। রবেয়া যা বঝার বুঝে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে তার মন্টুর কিছু একটা হয়েছে। তিনি পড়িমরি করে ছুটলেন ছাদের দিকে। ছাদের দরজার কাছে এসে তিনি যা দেখলেন, তাতে তিনি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। মিন্টুর হাতে রক্ত মাখা ছুরি আর তার পাশেই ডাঙ্গায় তলা মাছের মত তড়পাচ্ছে গলাকাটা অবস্থায় পরে থাকা মন্টু..............................।


।।৪।।
মন্টুঃ ইস্, আমি যে কত চিকন! দেখেছিস মিন্টু?
মিন্টুঃ এক্কেবারে শুঁটকি মাছ। হি!হি!হি!
মন্টুঃ চুপ! এমন এক থাবড়া দেব। জানিশ, আমিও মোটা হব। ঠিক
মামার মত। তখন দেখিস। তোকে এই এক হাত দিয়ে তুলব, আর
আছাড় মারব।
মিন্টুঃ কিন্তু, হবে কিভাবে? স্বপ্নে?
মন্টুঃ কেন। বাবা সেদিন বলল না যে জবাই করলে নাদুস নুদুস হয়?
আমাকে জবাই করলে আমিও একদম ইয়া বড় হয়ে যাব।
মিন্টুঃ মা যদি বকা দেয়?
মন্টুঃ মাকে জানাবই না। শোন, আগে তুই আমাকে জবাই কর। তারপরে
আমি মোটা হয়ে এসে তোকেও মোটা করে দেব।
মিন্টুঃ ঠিক আছে। মনে থাকে যেন। তুমি ফিরে এসে আমাকেও জবাই
করবে কিন্তু।
মন্টুঃ নে, নে, আর দেরি করিস না। ছুরিটা ধর।

তারপর মিন্টু সেই কসাইয়ের ছুরি দিয়ে মন্টুর গলায় পোঁচ বসিয়ে দেয়। ছুটতে থাকে গরম রক্তের ফোয়ারা।


।।৫।।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মাকে অমন ভাবে ছুটে আসতে দেখে মিন্টু ভাবল মা হয়ত পাগল হয়ে গেছে, তাকে কামড় দিতে আসছে। তাই সে ভয়ে উলটো দিকে দৌড় দিল। কিন্ত পালাতে পারল না। নিচু রেলিং এ পা বেধে ছাদ থেকে নিচে পরে গেল সে। সদ্য নির্মিতব্য বাড়ির বেষ্টনী দেয়ালের বেরিয়ে থাকা চোখা রড রক্তাক্ত এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল তার বুক। এই ভাবেই মায়ের চোখের সামনেই বীভৎস মৃত্যু হল দুই ছেলের।


।।৬।।
এখানে শেষ হলেও হত। মা জননি হয়ত শিশু পুত্র রায়হানকে নিয়ে শোক ভুলে থাকতে পারত। কিন্তু ভাগ্যে লেখা ছিল অন্য কথা। হঠাত নিচ থেকে রাবেয়ার শাশুরির প্রাণপণ চিৎকার শোনা গেল। পাড়া বেড়িয়ে সবেমাত্র বাড়ি ফিরছেন তিনি।
কি দেখে চিৎকার করলেন তিনি?
বাড়িতে ঢোকার পথে তিনি দেখলেন ..................
গামলা ভর্তি পানির ভেতর ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে আছে শিশু রায়হানের লাশ...।
আসলে রক্ত দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারেননি রাবেয়া। তাই মনের ভুলে আদরের রায়হানকে গামলার জলে ফেলেই ছুটে যান। সেই গামলা থেকে আর উঠতে পারেনি রায়হান।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • Meshkat
    Meshkat ভাই, সাতক্ষীরায় আমার নানি বাড়ি। কয়েকদিন আগে নানির সাথে ফোনে কথা বলার সময় আমি ব্যাপারটি জানতে পারি। এক সাথে তিন মৃত্যুর ঘটনাটি সত্য। তবে হ্যাঁ, কিছু কিছু জায়গা আমি ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি। ভাইরে, এমন ট্র্যাজিক বিশ্বাস করা শক্ত। তবে আমার অনুরোধ, সন্দেহ ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৪ জুন, ২০১১
  • সেলিনা ইসলাম
    সেলিনা ইসলাম গল্পটা পড়ে সত্যি কেদে ফেলেছি । আল্লাহ কেন এমন নিষ্ঠূর হন মাঝে মাঝে ? আমার দেখা আমার এক কাজিনের টুইন ছেলে সুইমিং পুলে পড়ে মারা গেছে । তবে একটা কথা মুরুব্বিরা কিন্তু বাচ্চাদের সামনে কোন কিছু জবাই করতে নিষেধ করেন এমন কি কোরবানির পশুটিও বাচ্চাদের সামনে জবাই ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৮ জুন, ২০১১
  • আযাহা সুলতান
    আযাহা সুলতান একসঙ্গে তিন তিনটি মৃত্যু! অনেক দুঃখের কথা ভাই, এমন কষ্ট কারও কাম্য নয়। এ রকম একটা অভিনব মৃত্যুর ঘটনা আমি শুনেছিলাম বাস্তবে...যাই হোক, আইয়ুব নবির এগারটি সন্তান মসজিদের মিনার ভেঙে একসঙ্গে মারা গিয়াছিল! মুসলিম-ইতিহাসে বড় দুঃখের ঘটনা বোধহয় এটি। মণিহারা ফণী আর...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৮ জুন, ২০১১
  • মিজানুর রহমান রানা
    মিজানুর রহমান রানা সদ্য নির্মিতব্য বাড়ির বেষ্টনী দেয়ালের বেরিয়ে থাকা চোখা রড রক্তাক্ত এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল তার বুক। এই ভাবেই মায়ের চোখের সামনেই বীভৎস মৃত্যু হল দুই ছেলের।-----------জীবন চলার পথে কতো কিছু ঘটে। কেউ মনে রাখি কেউ রাখি না। সেই বাস্তবচিত্রগুলো মনের আয়না থেকে...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৮ জুন, ২০১১
  • Meshkat
    Meshkat আসলে পাঠকেরাই লেখকের শক্তি। তাদের প্রশংসা পেয়ে আমরা উৎসাহিত হই। আর তারাই আমাদের ভুলগুল শুধরে দেন।
    প্রত্যুত্তর . ২১ জুন, ২০১১
  • Muhammad Fazlul Amin  Shohag
    Muhammad Fazlul Amin Shohag Valo Laglo
    প্রত্যুত্তর . ২৪ জুন, ২০১১
  • ঝরা
    ঝরা গোলপটি আমি আমি আর ও শুনেছি।
    প্রত্যুত্তর . ২৬ জুন, ২০১১
  • সৌরভ শুভ (কৌশিক )
    সৌরভ শুভ (কৌশিক ) কষ্ট কাকে বলে?দুর্নীতিবাজেরা যখন দেখি বুক ফুলিয়ে চলে /
    প্রত্যুত্তর . ২৭ জুন, ২০১১
  • সৌরভ শুভ (কৌশিক )
    সৌরভ শুভ (কৌশিক ) তোমার লেখা পরে ,কষ্টে বুকটা গেল ভরে /
    প্রত্যুত্তর . ২৭ জুন, ২০১১
  • Meshkat
    Meshkat @কৌশিক ভাইঃ ধন্যবাদ রইল আপনার তরে/
    প্রত্যুত্তর . ২৮ জুন, ২০১১

advertisement