লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ১০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftরাত (মে ২০১৪)

চোর এবং শেষ রাতের গল্প
রাত

সংখ্যা

মোট ভোট

অমৃত অন্তক

comment ১০  favorite ০  import_contacts ১,২০৮
এই রাত। বড় গভীর, শান্ত, নিঃশব্দ। নিজের শ্বাস, বিরক্তিকর ঘসঘসে।

অন্বেষণ অথবা অভিসার। আমি বলি বাঁচার তীব্র ইচ্ছা।

পা তুলি পা ফেলি। নিঃশব্দ।

ও বাড়ীর কুত্তা, বড় বেশি ঘেউ ঘেউ করে। ইচ্ছা হয় মারি এক থাপ্পর। এবারের মত খেপিস না বাপ। গত রাতে ঝড়-বৃষ্টি, আগের রাতে মহাজনের মা মরেছে। তিনদিন পেটে কিছু নাই।

বউ আর থাকেনা, না খেয়ে বেশীদিন থাকা যায় না। মেয়েটা কাল এসেছিল, ভারি সুন্দর। যদি এবার বড় দান পাই, কটাদিনের জন্য নিয়ে আসব না হয়।

উফ! মশাগুলো বড্ড জ্বালায়,থাপ্পরও দিতে পারিনা, পাছে শব্দ হয়ে যায় ।

আধকোনা চাঁদ, তোর মুখটা একটু বন্ধ কররে বাবা। দিনে উঠতে পারিস না!

গড়গড়, গড়গড়। মদন জ্যাঠার কল্কে। সারাদিন হুক্কা টানে। বেটা হদ্দ! ঘুম নাই তোর! ঘুমা।

রাত বাড়ে, ধীরে ধীরে। সময় বুঝি থেমেই গেল। অপেক্ষা! বড়ই দীর্ঘ, কমেনা, বাড়ে।

কোদালটার ধার কমে গেছে, কাটতে চায় না। বয়স বাড়ছে না? অকেজো, তারপরও উর্ধ্বমুখ।

তেল তেল করছে, বড্ড বেশি অপচয় করি ইদানিং। একটু কম করে মাখলেও চলে। ভয় পাই, যদি ধরা পরি। ফসকাতে হবেতো।

লুঙ্গিটা বেশি বিপদের, একবার খুলে গেলেই বিপদ। একদম দৌড়ানো যায় না। ওইবার তো একটুর জন্য বেঁচে গেলাম। একটা হাফ প্যান্ট কিনেছি। বেশ কাজের।

রাত বাড়ছে। কাজে নেমে পরা দরকার। মদন জ্যাঠা তো থামছেই না।

ঝোপটাকে বড়ও চেনা মনে হয়। এখানেই, ঐ তো ঐ পাশেই। কানে ধরে সটান দাড়িয়ে ছিলাম। গলায় জুতো। এক যুগ যেন।

ঐ বড় জামরুল গাছ, যেখানে মহাজনের ছোট্ট খুকি দোলনায় দোল খায়, ওখানটায়। ঐ দোলনার রশি দিয়ে বাঁধা হোল আমায়। সেই নিয়ে খুকির কী কান্না। হা হা হা। কেন তার দোলনা ভাঙা হোল?

দোলনা ভাঙলেও আমার মন ভাঙেনি। আমি প্রতিশোধ নিবোই। দেখিয়ে দেব, আমি এটা পারি।

সেদিন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে গ্রামের বার করেছিলি। তারপর অনেক বছর। রাতের অন্ধকারে আজ আবার এসেছি। জানি ভাল হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু হয়নি।

অনেক রাত। এই রাতের অপেক্ষা কতো দিনের। চলছে, চলবে। কতো রাত কেটেছে নির্ঘুম। উসখুস যন্ত্রণায়!

না এতো কিছু না, তিন ধরে পেটে কিছু নাই। যদি জানতি, ক্ষুধার যন্ত্রণা কী? তবে, তুই কী করতি ভেবে দেখ!

বেশি তো কিছু না। দুবেলা দুমুঠো ভাত। বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি তো আর চাইনা। কিপ্টামি করস কেন এত?

মনে পরে অনেক কথা।

না, আমি ভাল হয়ে যাইনি। ঠিক আগের মতই আছি। অথবা কিছুটা বেশি।

এই আমার রাত। প্রতিদিন। কোনদিন কিছু যদি পাই, অমনি ধরে ঘাপুস ঘুপুস খাই। ফ্রি প্রাইমারিতে ছড়া পরেছিলাম। সুন্দর ছড়া। এখনকার বাচ্চারা কিসব ছড়া পড়ে, কোন মানে ছাড়া। যতসব!

কোন কোন দিন কোন উপার্জন থাকেনা, না খেয়েই থাকি। আর ধরা পরলে তো কথা নাই। ধোলাই খেয়ে এমন পেট ভরে যে ৭-৮ দিন আর নড়াও যায় না।

যারা নেশা করে তারা কি সহজে তা ছাড়তে পারে, পারে না। এই যে মদন জ্যাঠা সেই যুগ যুগ ধরে হুক্কা টানে, ইচ্ছা করলেই কি ছাড়তে পারবে? এটা ওরা কেন বোঝেনা যে এটা আমার একটা নেশা, ছাড়তে পারিনা। তার চেয়ে বড় কথা এটা তো আমার পেশা । ওরে বাবু তোর যে এত ব্যাবসা, ইচ্ছা করলেই কি ছাড়তে পারবি?

মদন জ্যাঠা থামছে, এইবার যাই। হে ইশ্বর, আমাকে সফল কাম কর। তিন দিন খাই নাই, এই অভুক্ত মানুষকে তুমি বিপদে ফেল না। জয় রাম, জয় রাম।

কপালটা মনে হয় ভাল। কোত্থেকে মেঘ এসে চাঁদকে ঢেকে দিছে। অন্ধকার। অন্ধকার আমার খুব প্রিয়। বৃষ্টি না নামলেই হয়।

জামরুল গাছের তলা দিয়ে গুটি গুটি পায়ে ভিতরে ঢুকতে হবে।

ওমা! এটা কি?

কার পা যেন আমার মুখে লাগলো। মৃদু গোঙানির শব্দ পাচ্ছি।

মেঘ সরে গেল। উজ্জ্বল আলো। একি দেখলাম! আমাদের বাবুর ছোট মেয়ে দড়িতে ঝুলছে। কিন্তু কেন? আত্মহত্যা!

এমন চিৎকার জিবনে আর কোনোদিন দেইনি! আর সেই শেষ।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement