লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ জানুয়ারী ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভালবাসা (ফেব্রুয়ারী ২০১১)

ওর ফাগুনের প্রতিক্ষায় ও
ভালবাসা

সংখ্যা

শামস্ বিশ্বাস

comment ৫১  favorite ৭  import_contacts ৩,৯০৯
সোহেলের সাথে আমার কবে পরিচয় ক্যালেন্ডারের কিংবা ডায়রিতে লিখে রাখিনি। ওর চাল চলন দেখে প্রচণ্ড বিরক্ত হতাম, হিংসাও করতাম। ১ সময় দেখি দেখি বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। মিল না থাকলে বন্ধুত্ব হয় না। আমাদের মিল ছিল ২ জনে প্রেমে বার্থ শুনতে কেমন লাগলেও সত্য তো, শহুরে সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ২ জায়গায় আমাদের কমতি ছিলও: পড়ালেখায় আর চেহারায়-রঙে।
লোপার শত অপমান অবহেলার পরও ওর পিছনে চক্কর দিয়ে যাচ্ছি চোখে মাথা খেয়ে। সোহেলও তাই। পুরুষেরা বলে জোর করতে পারে। পৃথ্বিরাজ কিংবা ঈশা খানের মত আমাদের অত সাহস ছিল না শক্তিও ছিল না দেবদাসের মত শেষ হবার। মাজেদা হোটেলে সিগারেট আর চায়ের ধোঁয়ার রঙিন স্বপ্ন বুনি। ১দিন সোহেল তার চিরায়াত গোমড়া মুখে হাজির: বাড়ীর অথবা মিমির কারণে। কিছুক্ষণ ধারে চুপ থেকে বলে ২য় টার জন্য। দীর্ঘশ্বাস ফেলি। সোহেল রাগে ফোস ফাস করে বলে হয় তোর ব্যাচেলার ক্লাবে জয়েন্ট করবে, না হলে ওর থেকে সুন্দর মেয়েকে বিয়ে করে দেখিয়ে দিবো।
টুপটুপ করে শিশিরের মত করে পড়ে যায় সময়। স্কুলের শেষ বেড়া অতিক্রম করে কলেজে উঠি উচ্চ মাধ্যমকি এ। নতুন কিছুই ঘটে না জীবনে। লোপা এখনও ঐখানে, যেখানে সে ছিল। আমি চারপাশে ঘুর ঘুর করছি কুকুরের মত। জৈষ্ঠ্য মাসের কাঠ ফাটা গরম তেরখাদিয়ায মহিদুলের দোকানে সোহেল বলে বেটা আর সহ্য হচ্ছে না, বোধায় পাগল হয়ে যাবো। দরকার নাই এ হিজড়ার মত জীবন। লাস্ট বারের মত জিজ্ঞাসা করবো হাঁ হলে হল না বললে মাথায় গুলি করে জীবনটাকে শেষ করে দিবো।
তুই আত্মহত্যা করবি! ও মাথা ঝুকায় আমরা সবাই উকণ্ঠায় ওকে নানা ভাবে বুঝায় ও তাতে চোটে গিয়ে বলে সত্যি-সত্যি না এ্যাকটিং করবো। আমি সুসাইড করতে চাইলে ও নিশ্চয় চায়বে না তখন হাঁ বলে দিবে। আমরা সবাই ওর বুদ্ধিতে হাঁ হয়ে যায়। কিন্তু এখানেও সমস্যা বন্দুক-পিসত্মল পায় কৈ? তার উপর ধরা পড়লে...। তাই এ পরীক্ষিত ফর্মুলা বিপজ্জদজনক বলে বাতিল করা হচ্ছিল বাবু প্রস্তাব করে ঘুমের ঔষধের। কিন্তু সমস্যা এখানেও ফার্মেসী দিবে না। আমরাও কম না ১টা নকল প্রেসক্রিপশনস জোগাড় করে মেডিক্যালের আশে পাশে লক্ষ্মীপুরে মোড়ের প্রায় প্রতিটা দোকান থেকে ১টা ২টা করে ৩টা যোগাড় করে ফেলি এখন শুধু নির্দিষ্ট দিনের পালা। ১ দিন সকালে সোহেল এসে ঔষধগুলো নষ্ট করে দেয়। কারণ বলল আমি প্রেম চাই করুনা না। এগুলো দেখালে করুণা করে বলবে,ভালোবেসে না।
১০০% সঠিক। আমরা তালপাতা সেপাইরা ১টা দর্শন মন্ত্র কিংবা স্লোগান দাঁড় করায় আত্মহত্যার কিংবা ড্রাগ এডেকটেড হলে ১ বারে না হলে দ্রুত জীবনটাকে শেষ করা যায় কিন্তু স্বাভাবিক থেকে তিলে-তিলে শেষ হওয়ার মধ্যে টেস্ট আছে।
সোহেল ১সময় সিগারেটও ছেড়ে দেয়। কারণ সুস্থ সবল হয়ে থকাতে চায় আর মিমি সিগারেট পছন্দ করে না। লেখা পাড়াও সিরিয়াস ভাবে শুরু করে, ও চায় বড় কিছু হয়ে প্রেমিকাকে জয় করতে। কিন্তু ফল তেমন আসে না। পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না।
আমি ঢাকায় চলে আসি ১ বছর ফিরি রাজশাহী। খুব কম সময় না অনেক কিছু বদলে গেছে, নতুন হয়েছে। অন্যান্য গুলোর মত বদলানই কারো কারো মন। সোহেলের সাথে দেখা হয় এখনও আগের মতই আছে না ঘরের না ঘাটে। ব্যাচারা মন খারাপ ওর মিমির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই ফুঁসে উঠি, এ হতে পারে না! গ্যাঙের সবাই মিলে ঠিক করি পাত্র কে ডেকে বোঝান হবে। না বুজলে ধোলাই পাত্র যদি শের হয় আমরা সোয়া সের।
আমরা ঐ ভদ্রলোককে ধোলায়ের জন্য প্রস্তুত। এখানেও কাপুরুষ সোহেল পিঠ দেখিয়ে পালায়। মেজাজটা খারাপ হয়ে যায় ঠিক করি ওর সাথে যোগাযোগ রাখ বোনা। বন্ধুরা প্রায় সবাই ওরে ত্যাগ করার চেষ্টা করি। আড্ডায় আসলে অপমান করি; তাও যায় না। সাফায় গায়-কি দরকার ঐ ছেলেকে মারার? ঐ কি দোষ করেছে? দোষ তো আমার আমি কেমন ভালোবাসি যে আমার হয় না। আমারই ভুল তা হলে ও কেন এতদিনও ভালবাসল না। তোরা নিজেদের কথা ভাব...। আমাদের সবার সবচেয়ে দুর্বল জায়গায় আঘাত, যুক্তি অখণ্ডনীয়।
এহসান নতুন প্রস্তাব দেয় মারার দরকার নাই আমরা কৌশল নিতে পারি। তাতে কোন সম্বন্ধ আসবে না। আমরা রটাবো মেয়ের চরিত্র খারাপ। সোহের হুংকার দিয়ে তেড়ে যায়। আমরা ওদের আলাদা করে মীমাংসা করে লিয়। সোহেল এহসানের কাছে ক্ষমা চায়। এহসান প্লানে সংশোধন আনে বলতে পারি সোহেলের সাথ সম্পর্ক আছে। সবাই যদি বিশ্বাস না করে।

তাহলে এক কাজ করা যেতে পারে নকল বিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে নিয়ে গোপন বিয়ের কথা রটাতে হবে। যেমন পরিকল্পনা তেমন কাজ ১৫ দিনের মধ্যে তৈরি। সোহেল এখানেও বেঁকে বলে- ঠিক হবে না অন্যায় হয়ে যাবে। আমরা বুঝায় প্রেমে আর যুদ্ধে তো সব জায়েজ। কিন্তু শুনে না। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলতে পারি না। বারবার এমন করায় বন্ধুরা চটে যায়; কেও যদি বারবার এমন করলে কার না খারাপ লাগে।
আমাদের ১ বন্ধু নাকিব জেলে। ঢাকয় ফেরার আগে ওর সাথে দেখা করতে যায় ১০টা থেকে ১২টা অনেক কথা হটাৎ কি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে লোপার কি হল? উত্তর দিতে পারি না। সোহেলকে জিজ্ঞাসা করলে ইয়র্কই করে বলে মিমির সাথে চুটিয়ে প্রেম করছি। অবিশ্বাস নিয়ে তাকালে বলে দেয় না রে। নাকিব হতাশ হয়ে বলে তোরা এখনও ওমনি থাকলি। তোদের দ্বারা হবে। কথাটা শোলের মত এসে বুকে লাগে। স্বাভাবিক থেকে হাসাবর জন্য বলি, আরে মেতো মজনু ধোবিকা কুত্তা/ না ঘার কা না ঘাটকা। হাসি আসলেও মলমের কাজ করে না ব্যথাটা আরও বাড়িয়ে দেয়।
কমাস পর খবর পেলাম মিমির বিয়ে হয়ে গেছে। সেখানে সোহেলকে কনের পক্ষের হয়ে সব কিছুর তদারক করেছে। এমন কি কন্যা পক্ষে অন্যতম সাক্ষী হয়েছে। খবরটা শুনে সোহেলের উপর রাগ উঠে- ইচ্ছা করে গালে গালে থাপ্পড় মেরে আসতে। ইচ্ছাটা দমে যায় যখন আবেদ বলল- তোকে বোঝান যাবে না কি কষ্টে বিয়ের কদিন কাটিয়েছে সোহেল।
এক এক সময় চিন্তা করি লোপা কেন আমাকে ভালোবাসে না? বোধায় আমার ভবিষ্যৎ নাই কিংবা ফ্যামিলি ফটো সুন্দর আসবে না: কারো সমানে গর্ব করে পরিচয় করাতে পারবে না তাই। আমার এক চাচার বিয়ের পর চাচী লজ্জায় কুৎসিত স্বামীকে বান্ধবীদের সামনে নিয়ে যায়নি। অনেক দিন পর কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও বলে এক সাথে রিক্সায় উঠে না। উঠেও বোরখা পরে। আরে আমি যেখানে সুন্দর পরীকে যে চাচ্ছি সেখানে কেন ও সুন্দর সুপুরুষকে চাইবে না।
হটাৎ শুনি সোহেল ডিভি লেগে গেছে। সবাই খুব খুশি যাক একটি হিল্লে হল। কদিন পর খবর পেলাম বেকুব যাবে না। সে আমেরিকার নীতিকে ঘৃণা করে। ছোড়াকে মেইল করে প্রচণ্ড গালিগালাজ করলাম হুজ্জতির জন্য কিন্তু বলল না শুধু শুনে গেল। ৭ দিন পর কুরিয়ারে চিঠি পেলাম তাতে উত্তর সেটার সারসংক্ষেপ: মিমিকে ও ভালোবাসে ওর বিয়ে হলেও পরোয়া নাই। তার ভালোবাসা সত্য হলে নিশ্চয় মিমি বুঝতে পারবে। আর আমেরিকা কেন যাবে যারা নিজেদের হীন স্বার্থে গবীর দেশের অসহায় মানুষের উপর বোমা মারে।
আমি সেহেরে ব্যথা কিছুটা অনুভব করতে পারি। কেন না আমারও ওরকম ক্ষত আছে, অনেক কষ্টে কাঠ কয়লা পুড়িয়ে সোহেল দেশি এক সিগারেটের কোম্পানিতে সেলস অফিসারে চাকুরী জুটায় বন্ধুরা রাগাবার জন্য বলে বিড়ি ফেরি করা ও তাতেই সন্তুষ্ট ৯টা থেকে ৯টা হাড় ভাঙা খাটুনি। তাতে ১টাই আশা মিমি! কিন্তু মিমি নিশ্চয় ওর প্রতীক্ষায় নাই স্বামীর সংসারে হাড়ি ঠেলছে, বাচ্চা মানুষ করছে, ডেলি সোপে মৌজ করছে, সপ্তাহে ২-৩ বার বাজার যাচ্ছে। সোহেলে কথা কি ভাবে? মনে হয় না।
বর্ষায় কোন ১দিন মতিঝিলে সোহেলকে দেখি বৃষ্টি মধ্যে ছাতা নিয়ে ছুটছে। চেহারা শরীর খুব খারাপ হয়ে গেছে। ওকে ডাকার সময় পেলাম না। ভিড়ে কোথায় হারিয়ে গেল। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম মিমি এখন স্ব-পরিবারে ঢাকায়। ফলে সেও চলে এসেছে। অতিরিক্ত পরিশ্রমী এ অবস্থা।
১লা ফাল্গুনের সন্ধ্যায় যখন ধোঁয়াটে আধারের চকচক করে লাল কৃষ্ণচূড়া, রঙিন পাঞ্জাবী পড়ে প্রেমিকরা খোঁপায় গোলাপ গুঁজে গরুয়া শাড়ীতে প্রেমিকারা ফিরছে বসন্তের রঙ বিলাতে বিলাতে সে সময় সোহেলকে আবার দেখতে পায় গুলশান- ১ নম্বরে ৬ নম্বর বাস ধরার জন্য ব্যাগ বগলদাবা কাছে ছুটছে। ডাকতে গিয়ে ডাকলাম না, শুনতে পাবে না, পেলেও কি দরকার...। প্রচণ্ড হিংসা হয় হেরে গিয়ে পালিয়ে গেছি আর ও লড়ে যাচ্ছে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement