১.
আজকাল পাখির দিকে ফিরি, নদীর দিকে
ফিরি। উনুনে জ্বালিয়ে রাখি প্রতীক্ষার পল। সমস্ত
উড়ন্ত ডানাই মেঘ নয় জেনে বৃষ্টির কাছে
শুনি ধ্রুপদী বিষাদ।

২.
কানকোতে জমিয়ে রেখেছি নিঃশ্বাস- কখনো
নিপুণ বড়শীর টানে তুলে নাও যদি! জ্বালিয়ে
রেখেছি চোখে আশা নাকি আশঙ্কার বাদামী নিওন।

তেমন রম্ভা পেলে ধ্যান ভেঙে জেগে
ওঠে প্রাচীন তাপস। তোরঙ্গ গুছিয়ে রাখি-
তেমন মরণ যদি আসে!

৩.
আমার চোখ তো কাঁচেরই। তুমি চাইলে আয়না
ভাবতে পার। এই যে ক্রমেই হারিয়ে ফেলছি স্পর্শানুভূতি।
কিছুই আর ছুঁতে পারছি না। বাড়ানো হাত প্রতিবার
ভেদ করে যাচ্ছে বস্তুবোধ। যেন দেহধারী নই আর; অথবা
গুলিয়ে ফেলছি মন আর শরীরের সূক্ষ্ম কম্পনবিন্দু।

আমার শরীর তো পাথরেরই। তুমি চাইলে খুঁজে নিতে
পার হৃদয়। হয়ত তোমারই জন্য অপেক্ষা
করে আছে- কাঁচের মধ্যে এক টুকরো আয়না। পাথরের
মধ্যে একটা আশ্চর্য হৃদয়।