লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ আগস্ট ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ২১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftক্ষুধা (সেপ্টেম্বর ২০১১)

ক্ষুধার জন্য
ক্ষুধা

সংখ্যা

Firose Hossen Fien

comment ২৩  favorite ০  import_contacts ৯৫৭
সু-প্রিয় পাঠক আজ আপনাদের এক গ্রামের একটি অসহায় দুঃখী পরিবারের বাস্তব ক্ষুধার কাহিনী শুনাব। একটি গ্রাম নাম তার শান্তিপুর এখানে অনেক লোকের বসবাস সবাই বেশ শান্তিতেই তাদের দৈনন্দিক জীবন অতিবাহিত করে। কিন্তু শান্তিপুরে শুধু শান্তিই আছে তা নয় এর মধ্যে আবার কিছু অশান্তিও আছে এই গ্রামে তেমনি একটি অশান্তি ক্ষুধা,দ্রারিদ্র, অবহেলিত পরিবারের কথা বলছি পরিবারে মাত্র একটি সত্নান তবুও ক্ষুধার জ্বালায় তাদের অনাহারে থাকতে হয় দিনের পর দিন। জন্ম নেওয়ার পর থেকেই দ্রারিদ্র যেন ছিল ধরাবাধা । সংসারে চাল আনতে না আনতেই চাল ফুড়ায়। কথায় বলে গরীবের নাকি ক্ষুধার জ্বালা বেশী। দু-বেলা কোন মতো দুমুঠো ভাত খেয়ে দিন যেতে লাগল আমাদের অভাবী সংসারের। এরই মধ্যে সেকেন্ড,মিনিট,ঘন্টা, দিন,সপ্তাহ, পক্ষ, বছর পেরিয়ে আমি এখন প্রাপ্ত বয়স্ক। মা-বাবা সংসারের দু-বেলা অন্ন জোগাড় করার জন্য বের হয় সেই ভোরে আর বাড়ি ফিরে ১০/১১ঘটিকায়।

দিনরাত তারা বাহিরে থাকে অন্ন যোগাড় করার জন্য মেয়ের দিকে তাকানোর তাদের সময় নেই। আর বাবা সে ও টাকা দু-চারটা যা কামাই করে তা তার পান খেতেই শেষ হয়ে যায়। তার মধ্যে আবার দুটো বউ। এক বউয়ের বাড়িতে গেলে গরীবের দু-চারটা গাল খেয়ে আবার অন্য বাড়িতে যায় সেখানেও জায়গা না হলে কখনো কখনো রাস্তার কোন ফাকা জায়গায় অথবা রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে। একদিন প্রচন্ড ক্ষিদে লাগল পেঠে কি যে করি ঘড়ে দানা পরিমানও কিছু নেই যে খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করবো । গ্রামের দোকানের দিকে গেলাম দেখি যে যার মতো খাবার কিনে চলে যাচ্ছে তাদের খাবার নিবারণ করার জন্য কিন্তু আমি কি করবো হাতে যে কোন টাকা নেই। দোকান থেকে বাড়ি আর বাড়ি থেকে দোকানে এভাবে কোনমতে দিন কাটে। শনিবার, রবিবার,সোমবার এভাবে কেটে গেল প্রায় ১৩ দিন। পরিবারের অবস্থা সেই আগের মতো । চালের কেজি ৪০ টাকা শুনতেই যেন গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। কি যে করি মাথায় তেমন কোন বুদ্ধি পায়না। পেটে ক্ষুধা থাকলে কি মাথা থেকে বুদ্ধি বের হবে। কয়েক দিন হচ্ছে মায়ের শরীলের অবস্থা তেমন একটা ভালো নয় তবুও অভাবের সংসার বের না হলে পেটে দানা পানিও পরবে না। তাই ইচ্ছা না থাকা সত্বেও বের হতে হলো। এদিকে দুপুরে ক্ষুধার জ্বালায় পেট চো চো করছে ভাবছি কি যে করি দোকানের দিকে গেলাম গিয়ে দেখলাম যে যার মতো করে প্রয়োজন অনুসারে জিনিস কিনে নিয়ে যাচ্ছে ।

আমার কাছে তো টাকা নেই আমি কি দিয়ে জিনিস কিনব ভেবে পাচ্ছি না। এভাবে কিছুদিন দোকানে যাই আর বাড়ি ফিরে আসি । বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ি কিন্তু ঘুম তো আসছে না ক্ষুধার জ্বালায়। এই রকম একদিন আমি ক্ষুধার জ্বালায় কেঁদে কেঁদে ক্ষুধার জ্বালায় ঘুমিয়ে পড়লাম। সন্ধ্যা শেষে দেখলাম রাত্রের বেলায় আমাদের বাড়িতে সেই দোকানদার তার নাম ধনী, ভাগ্যবান, যুবক ইত্যাদি যে কোন একটি নাম সে আমাকে বললো কি ব্যাপার তুমি প্রতিদিন আমার দোকানে যাও অথচ কিছু নিয়ে আসো না ব্যাপার কি।

আমি বলি মানে ...আমি,,,(বলার ভাষা পাচ্ছে না এমন অবস্থা)

ঠিক আছে আর বলতে হবে না । আমি বুঝে গেছি শুনো এবার থেকে প্রতিদিন তুমি আমার দোকানে যাবে এবং জিনিস নিয়ে আসবে পরে কথা বলবো। আজ আসি। চলে গেল গরীব অসহায় মেয়ে ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারল না । কি ব্যপার হঠাৎ এই রকম কথা বলার কারণ কি? রাত শেষে দিন আসে দিন শেষে রাত পেটের অবস্থা ঠিক আগের মতোই। কি যে করি দোকানে যাবো না টাকা নিবে না তো বলে গেলো কিন্তু কি কারণে সেটা চিন্তা করতে করতেই হঠাৎ দেখি দোকানদার। হাতে কিছু খাবার নিয়ে আমার ঘরের দরজায় আস্তে আস্তে ডাকছে। আমি কিছু বুঝতে পারছি না রাত তখন ১০টা মা একনো আসলো না । দোকানদার বলছে দড়জা খোল তোমার সাথে আমার কথা আছে। আমি দড়জা খুলে দিলাম । দোকানদার বলল নেও খাও খাওয়ার পরে কথা বলবো।
আমি বললাম না খাবো না, কিন্তু এটা আসলে আমার মনের কথা ছিল না। আমাকে আসলেই প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে আমি কি যে করি সব কিছু ভুলে আমি খেতে লাগলাম। খাওয়ার পরেই আমি
ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়লাম.........।

তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার পড়নের কাপড়া ঠিকই আছে কিন্তু আমার যে সতিত্ত সেটি আর রইল না। আমি বুঝতে পেরেছি গত রাতে খারারের পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সেই দোকানদার আমার সতিত্তকে নষ্ট করে দিয়েছে। এই ব্যাপারটি কেউ জানলো না শুধু আমি আর সেই দোকানদার। আমি আমার সমাজে বেঁচে থাকার ভয়ে ব্যাপারটি কাউকে বলতেও পারলাম না। এবাবে এখন সেই দোকানদারটি আমার ঘরে প্রায় যাওয়া আসা করে। এখন আমি ছাড়াও আরো কয়েকজন ব্যাপারটি জানতে পেরেছে। এভাবে সপ্তাহ মাস পেরিয়ে হঠাৎ আমার শরীলে পরিবর্তন আসলে আমি ব্যাপারটি আমার মাকে ও বাবাকে জানায় কিন্তু ফলাফল স্বরূপ আমি যা দেখতে পেলাম। একদিন গ্রামে একটি সালিস বসলো সবাই আছে আমি দোকানদার মেম্বার,মহিলা মেম্বার আমাদের পরিবারের সদস্য সহ গ্রামের আরো অনেকে।

বিচার শেষে সিদ্ধান্ত হলো মেয়েকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। মেয়ের মা তার ভাইকে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলো তারপর কয়েক দিন ভালোমতো খাবার খেলো ক্ষুধার ভয়ে। তারপর আবার সেই আগের মতো। কিছুদিন পর দেখা গেলো তার কোলে একটা ছেলে হয়েছে। এমনিতে ক্ষিতের তারড়ায় নিজের খাবার জোটে না তার মধ্যে আবার আর একজন শিশুর জন্ম কি যে করি। এভাবে কষ্টের মধ্যে দিন যেতে লাগল। এখন ক্ষুধা আমার একার লাগে না তার সাথে আমার ছেলে সত্নানেরও ক্ষুধা লাগে। এই পৃথিবীতে কি শুধু সৃষ্টিকর্তা আমার এবং আমার পরিবারের জন্যই ক্ষুধার সৃষ্টি করেছে না আর অন্য কারো জন্যও ক্ষুধা আছে। অল্প কিছুদিন পর আমি খবর নিয়ে জানতে পারি। ছেলে সত্নানটি আর এই ক্ষুধার রাজ্যে নেই মারা গেছে। একটি কারণ তা হলো ক্ষুধা । আর সে মেয়েটি এখন নিয়মিত প্রতিদিন এক জনের যৌন চাহিদা পূরণ করছে। আর সেই দোকানদারটি সে এখন সমাজে ২চারটি কথা শুনতে শুনতে রাগ করে বিদেশে চলে গেছে। এই হলো একটি গরীব মেয়ে ও ক্ষুধার বাস্তব গল্প। প্রিয় পাঠক গল্পটি প্রাকৃতপক্ষে একটি বাস্তব ঘটনা এটি লিখলাম এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার জন্য। খোদা হাফেজ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement