লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩১ জুলাই ১৯৮৭
গল্প/কবিতা: ৩২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৪৩

বিচারক স্কোরঃ ২.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগর্ব (অক্টোবর ২০১১)

পা
গর্ব

সংখ্যা

মোট ভোট ১২৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৪৩

খন্দকার নাহিদ হোসেন

comment ৬৫  favorite ১২  import_contacts ১,০৭২
বুকে অস্থিরতা। এর মাঝেও ফ্যানের ঘটাঘট আওয়াজটা মাথায় ঢুকে যাচ্ছে। কাউকে বলবো কিনা ফ্যানটা বন্ধ করতে বুঝতে পারছি না। মজার কোন স্মৃতি ভাবতে পারলে হয়তো সময়টা কাটানো যেতো কিন্তু কিছুই মনে পড়ছে না। বারবার শুধু ছেলেবেলায় এক পায়ে কানে ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম তাই মনে পড়ছে। কোন মানে হয়। অবাক হয়ে ভাবছি মজার কোন ঘটনা কি ঐ জীবনের নেই কিংবা একান্ত ব্যক্তিগত কোন শ্লাঘা? স্মৃতিও বড্ড নেমকহারাম। ব্যাটা শুধু থুথু খাওয়া সময়ই মনে রাখে আত্নতৃপ্তি তার কাছে সতীন। হারামজাদা।

চারপাশের সব কিছুতেই কেমন যেন বিরক্তি লাগছে। পরিচিত একগাদা মুখ, সবাই আপনজন তবু এমন অসহ্য লাগছে অথচ এরা আমার জন্য কেমন করেই না মুখটা গম্ভীর করে আছে। ছোট ছেলেটা কি খেতে চেয়ে যেন মায়ের কাছে মার খেল, বড় মেয়েটা ভাইটাকে কোলে নিয়ে একটু দূরে সরে গেলো, ওপাশে কারা যেন চিৎকার করছে...কি কুৎসিত মুহূর্ত। সময়ও রাবারের মতো লম্বা হয় কাউকে যদি বলি সে বিশ্বাস করবে? যদিও আমায় এসব কিছুই স্পর্শ করছে না শুধু ফ্যানের ঘটাঘট আওয়াজটা ছাড়া। কে যেন বললো, ‘ভাইজান, ইমামের কাছ থেকে খবরটা আনা হয়েছে।’ আমি হাত ইশারায় তাকে থামিয়ে দিলাম। বড্ড মন চাচ্ছে কীর্তনখোলার পারে যেয়ে পা ডুবিয়ে বসে থাকতে সেই প্রথম যৌবনের মতো। বট গাছটা কি এখনো আছে? আহারে, জীবন কতো পরেই না জানায় সে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয় না।

একবার দৌড়ে প্রথম হয়েছিলাম বলে মা আদর করে কোলে নিতে নিতে বাপকে বলেছিল, ‘দেখছোনি আমাগো পোলা কেমুন দৌড়ায়?’ কি দুরন্তই না তখন ছিলাম। পাখির সাথে পাল্লা দিতাম দৌড়াতে দৌড়াতে কীর্তনখোলার পার ঘেঁষে। পাখি পাড়েনি আমি দৌড়ে জিতে একদিন নিজেকে আবিষ্কার করেছি এই ভীষণ ব্যস্ত শহরে। আজ রাগ লাগছে কেন সেদিন মার হাতে পুরষ্কারের গ্লাসটা দিয়েছিলাম, রাগ লাগছে কেন পাখি হেরে গেলো এই ভেবে ভেবে। শেষমেশ অর্জনগুলো- কিছু টুকরো শ্লাঘা মুহূর্ত জীবনের পাশে কতো তুচ্ছই না লাগে। অথচ মা কিন্তু দিনটাকে তার গল্পের ভাণ্ডারে রীতিমতো প্রশ্রয় দিয়ে তুলে রেখেছিলো। মমতাময়ীরা মাঝে মাঝে বড় তুচ্ছ জিনিসও বুকের ঘরে আগলে রাখে। কে জানে কি তার রহস্য।


মন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে বেশ বুজতে পারি। এক জীবনের অপ্রিয় অনেক কিছুই কেন জানি আর অপ্রিয় লাগে না। পা ছুঁয়ে সালাম করাটা এক সময় এতো বাজে লাগতো তবু চিত্রা যেদিন সালাম করতে করতে বললো বাবা মেডিকেল এ চান্স পেয়েছি তখন কেন জানি আর ব্যাপারটাকে অতো খারাপ লাগেনি। আজকাল ছেলেমেয়ের খুশির খবরে কত অবলীলায়ই না পা এগিয়ে দেই। জানালার বাইরে চেনা স্যাঁতস্যাঁতে আকাশ। কালো কালো মেঘগুলো হয়তো দিনভরই ভেবে ভেবে চলবে রাতটাকে কতোটা ঝড়-বৃষ্টিতে মুখরিত করা যায়। আচ্ছা চিত্রার মা কি আর কখনো ঝড়-বৃষ্টির রাতে বিয়ের শাড়িটা পড়বে? কি রাতই না ছিল সেদিন- ঝড়ের ধাক্কায় ইলেক্ট্রিসিটি গেলো চলে, বাসর ঘরের ছোট্ট দরজায় মাথা বাঁচিয়ে ঢুকতে যেয়ে পায়ে যা একটা হোঁচট খেলাম...দরজা লাগিয়ে দেখি আর নড়তে পারছি না। শেষমেশ গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেছি ও কি বসে থাকবে নাকি লজ্জা ভেঙ্গে এসে হাত ধরবে ভালোবাসায় এই ভাবনায়। ঝড়-বৃষ্টির সেই রাতে ও উঠে এসেছিল।

ফ্যানের আওয়াজও যে এতো বিচ্ছিরি হতে পারে কে জানতো। এখন আওয়াজটা পাল্টে যেয়ে রীতিমতো গোঁ গোঁ করছে পশুর গোঙানির মতো। আমি একবুক অস্থিরতা নিয়ে চিত্রার মার দিকে তাকালাম। বেচারি আবারো কেন জানি ছোট ছেলেটাকে চড় মারলো। আমি চিত্রাকে হাই চাপতে চাপতে বললাম, ‘মাগো ফ্যানটা বন্ধ করে দে তো।’ চিত্রা ফ্যানটা বন্ধ করবার সাথে সাথেই আমার ডাক এসে গেলো। চোখের উপর তীব্র আলো। চেয়ে থাকতে পারছি না বলে চোখ পিটপিট করছি। ডাক্তার বললো, ‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনি কিছুই টের পাবেন না। আশ্বাস দেয়ার জন্যই কথাগুলো বলা তবু কেমন জানি ভয় ভয় লাগছে। ইমাম সাহেব কি বলেছিল তা শুনিনি বলে এখন বড্ড আফসোস হচ্ছে। কাটা পা দুটোকে কি কবর দিতে পারবো? পা দুটোর জানাজা হবে কিনা এই ভাবতে ভাবতে আমি অপারেশন টেবিলে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছি। বুকে অস্থিরতা। কি ভয়ঙ্কর সেই অস্থিরতা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • M.A.HALIM
    M.A.HALIM সংক্ষেপে বলে গেলাম, সাহিত্য জগৎটা আলোকিত করতেই বোধহয় তব পদার্পণ। চমৎকার।
    প্রত্যুত্তর . ২৫ অক্টোবর, ২০১১
  • সালেহ  মাহমুদ
    সালেহ মাহমুদ খুব ভালো লাগলো গল্পটা পড়ে | অস্থির সময়ের ভাব যখন ভাষা পেয়ে যায় তখন তা সবার মন না ছুয়ে পারে না| আমিও আবেগে আপ্লুত | ধন্যবাদ নাহিদ |
    প্রত্যুত্তর . ২৬ অক্টোবর, ২০১১
  • হোসেন মোশাররফ
    হোসেন মোশাররফ পা দিয়ে গল্পের জগতে শুভ পদার্পণ, শুভ হোক .....
    প্রত্যুত্তর . ২৬ অক্টোবর, ২০১১
  • আহমাদ মুকুল
    আহমাদ মুকুল অনেক দেরীতে আসলাম তোমার গল্পে। কবিতার ক্ষেত্রে কিন্তু এই উন্নাসিকতা দেখাতে পারি নি। তবে সামনে যদি আরো লেখ, নিশ্চিতভাবেই দৌড়ে পড়তে আসব। কেন বুঝলে তো? দারুন নজর কেড়েছ।
    প্রত্যুত্তর . ২৬ অক্টোবর, ২০১১
  • খন্দকার নাহিদ হোসেন
    খন্দকার নাহিদ হোসেন মুন্না ও আমার আমি, বড় ভালো লাগলো আপনাদের মন্তব্য পেয়ে। Akhteruzzaman ভাই, আপনার মতামতের অপেক্ষায় ছিলাম। রানা ভাই, ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। আরফান ভাই, ভালোবাসাটুকুই যথেষ্ট। আর আবু ওয়াফা মোঃ মুফতি, ম রহমান,Zayed Bin Zakir (Shawon) ,খন্দকার আযহা সুলতান ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৭ অক্টোবর, ২০১১
  • আদিব নাবিল
    আদিব নাবিল আমার প্রিয় কবির গল্পে পদার্পন। শুরুর লেখা হিসেবে ‘মন্দ নয়’ এটা বলব না। তাতে অন্যায্য কথন হবে। দারুন হয়েছে, ভাই।
    প্রত্যুত্তর . ২৭ অক্টোবর, ২০১১
  • প্রজ্ঞা  মৌসুমী
    প্রজ্ঞা মৌসুমী অনেকদিন পর তোমার গল্প পড়লাম। তা কি করব? আমরা কি তোমার মত কলম কামড়ানোর কথা ভাবব? লেখায় আর বিষয় নির্বাচনে ভিন্নতা তো আছে। সুন্দর বর্ণনা। পা নিয়ে আরো কিছু ঘটনা/ শ্লাঘা মুহূর্ত পেলে ভালোলাগাটা বাড়তি হত। পা কাটার পর সত্যি কি করা হয় জানতে ইচ্ছে করছে...
    প্রত্যুত্তর . ২৮ অক্টোবর, ২০১১
  • খন্দকার নাহিদ হোসেন
    খন্দকার নাহিদ হোসেন প্রজ্ঞা আপু, আপনার নিয়মিত না হওয়াটা সবসময়ই জ্বালায়। তবুও সময় সুযোগ করে যখন দেখা দিয়ে যান বড্ড ভালো লাগে। জীবনের প্রথম লেখা গল্প বলেই বড় করতে চাই নি। আমি শুধু চেয়েছি যতটুকু লিখেছি ততটুকু পড়ে আরো কিছু পড়বার মতো আগ্রহ পাঠকের মাঝে জাগাতে পারি কি না। যদি পারি ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৮ অক্টোবর, ২০১১
  • খন্দকার নাহিদ হোসেন
    খন্দকার নাহিদ হোসেন নীরব ভাই থেকে আদিব নাবিল পর্যন্ত সকলকে অনেক ধন্যবাদ। গল্পে আমার আরো চেষ্টা থাকবে। তবু বলতেই হয় আপনাদের ভালোবাসা আমায় মুগ্ধ করেছে। ভীষণ ভালো থাকুন সবাই।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ অক্টোবর, ২০১১
  • এস, এম, ইমদাদুল  ইসলাম
    এস, এম, ইমদাদুল ইসলাম বাহ ! খুব ভাল লাগল ।
    প্রত্যুত্তর . ৩১ অক্টোবর, ২০১১

advertisement