লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৫ অক্টোবর ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৬২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৮২

বিচারক স্কোরঃ ২.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftক্ষুধা (সেপ্টেম্বর ২০১১)

ক্ষুধার সাধনা
ক্ষুধা

সংখ্যা

মোট ভোট ১২৯ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৮২

এফ, আই , জুয়েল

comment ৫৭  favorite ৭  import_contacts ১,৪৭৬
সে সব সময় কাছে থাকতে চায় । জীবনের সাথে গভীর ভাবে জড়াতে চায় । তার চুমুর হালকা পরশ ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকলে অসহ্য মনে হয় । আর যদি সজোড়ে চেপে ধরে তাহলে দেহ-মন অস্থির হয়ে উঠে । তার প্রেমের প্রভাব বেশী হলে আর সহ্য করা যায় না । সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে মৃত্যুও হয়ে যেতে পারে । এর থেকে রেহাই পেতে যার সাথে খাতির জমাতে হয় , তার সাথে মহব্বত বেশী হলে আবার আর এক বিপদ । এই দুইজনের সাথে প্রেমের ভারসাম্য রক্ষা করে চলা খুবই কঠিন ব্যাপার । এদের প্রেমের মায়াবী ছোঁয়া জীবনের সাথে এমন ভাবে জড়িত যে , তা থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব নয় । এই দুই জনের আবার একদম মিলে না । কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না । এটা আর এক বিপদ । এদের মন রক্ষা করে দু'জনের সঙ্গে একই সাথে প্রেম করা কিন্তু সহজ ব্যাপার নয় । পাকা প্রেমিকরা পর্যন্ত হিমশিম খেতে বাধ্য হয় ।

" ক্ষুধা , খাদ্য ও জীবন " ------ এই তিনের একটা রহস্যময় সুন্দর সমীকরন আছে । আধ্যাত্মিকতার সবকের প্রথম দিনে শীলা দেবী অনেকটা হালকা চালে এর একটা মারাত্মক ব্যাখ্যা দিয়েছিল । তার ভাব আর ভাবনার সাথে রসিকতা করে বলেছিলাম ,---- " ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় , পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি ।"--- তুমি কি জানো , এটা কার কথা ?

সে বলেছিল ,--- অত কিছু জানার দরকার নেই । তবে কথাটা ভাল । এর মধ্যে কিছুটা রোমাঞ্চ আছে । কিন্তু জীবনের রোমাঞ্চের অভিমূখ অন্যদিকে । সেটা আধ্যাত্মিকতার পথ ধরে চলতে থাকে । এ পথে রয়েছে বিভিন্ন রকম প্রেমের মনোরম মিতালী । এরপর সে আমাকে Love you বলে দিয়ে একটা অন্য রকম হাসি হাসে । কিন্তু আমি Love you বলাতে সে খানিকটা অন্যরকম হয়ে যায় । সে বলতে থাকে ,--- কাকে , কিভাবে , কি বলছো তুমি ? তুমি কি এটা বলার যোগ্য হয়েছো ? জ্ঞানসহ ধ্যান রপ্ত না করা পর্যন্ত এখানে প্রেম শিখতে থাকো । প্রেম নিবেদনের দুঃসাহস করো না ।


ভরা দুপুর । আকাশে প্রখর রবি । উত্তপ্ত বালুকনা । কোনো এক রমজান মাসে নদীর ধারে ক্ষুধার রাণীর সাথে আচমকা দেখা হয়েছিল । তাকে খুব মোহনীয় লাগছিল । তাকে নাকি বেশী ভালবাসা হয় না ,---- এই তার অভিযোগ । কিন্তু তাকে বিশ্বাস করাবার জন্য বার বার Love you বলে বলে মুখে ফেনা তুলতে হবে নাকি ?
বুঝলে বুঝুক, না বুঝলে নাই ।

" লাভ নেই প্রিয়া প্রেম আশা করি মনে ,
আমার মত ভ্রান্ত কে বলো ? ভব এ ভূবনে ।"

এবার ক্ষুধার রাণী নরম হয়ে বলতে থাকে ,--- তুমিতো সওয়াবের আশায় এই ক্ষুধার যাতনা মেনে নিয়েছ । আমাকে ভালবেসে নয় । আর সন্ধা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খাদ্য দেবীর সাথে যে অন্তরঙ্গতা আর মাখামাখি চলতে থাকে ,-- সেটা মেনে নেয়ার মত নয় । এ রকম Love you তো আরো অনেককেই বলো ।

সেটা প্রয়োজন হলে বলতে হয় । তাতে তোমার অসুবিধাটা কোথায় ? আচ্ছা বলোতো ,--- ক্ষুধার খাদ্য কি । এই কথা বলার সাথে সাথে ক্ষুধার রাণী এক ঝটকায় দূরে সরে গেল । মনে হলো , তার গায়ে যেন আগুন লেগে গেছে । আর থাকা যাবে না । চলে যেতে হবে । পরে কথা হবে । এখন বিদায় ।

সে কেন এসে কেন গেল ? শুধু শুধু হালকা প্রেমের ভাব জমাল । সন্ধা ঘনিয়ে এলো । ফিরে এলাম শীলা দেবীর আঁখড়ায় ।

যদি ভাতের অভাব = হা-ভাত হয় । আর খাদ্যের অভাব = দূর্ভিক্ষ হয় । তাহলে ক্ষুধার অভাব = কি হবে ?
হালকা হাসির পরশ মেশানো শীলা দেবীর স্পষ্ট আওয়াজ " ধ্বংস " । মানে ক্ষুধা না থাকলে নিথর, নিস্তব্ধ প্রকৃতিকে ধ্বংসের মোহনায় মিলিত হতে হবে । ক্ষুধা ও খাদ্যের ভারসাম্যে হের-ফের হলে বির্পযয় অনিবার্য । ঐশী গ্রন্থের ধারনা অনুযায়ী,--- স্বপ্নে পাওয়া মিশর অধিপতির সময়ে ইতিহাস কাঁপানো দূর্ভিক্ষের মোকাবেলায় ইউসুফ নবীর বুদ্ধিভিত্তক খাদ্য নিরাপত্তার সু-ব্যবস্হাপনা----, আজো বিশ্ববাসীর বিস্ময় সৃষ্টি করে চলেছে । অবাক ব্যাপার হলো , পৃথিবীতে মহা মহা দূর্ভিক্ষগুলোর সময়ে খাদ্যের মজুদ কিন্তু কম ছিল না । শুধু সু-ব্যবস্হাপনার অভাবে ক্ষুধার রাণী বেহায়া নৃত্যের তালে তালে বেসামাল করার সুযোগ পেয়েছিল ।



ক্ষুধার রাণীর সাথে দেখা হয়েছিল , ---- একথা শুনামাত্র শীলা দেবী অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে আমাকে কাছে টেনে নেয় । তারপর সব কথা শুনে অপূর্ব মধুময় একটা চুমু দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে থাকে ,--- সাধনার সব সুরে একই সাথে ঢেউ তুলতে না পারলে ক্ষুধার রাণী সাধারনত অমন করে দেখা দেয় না । তুমি অনেকটা সফল । সাধনা করতে থাকো । আরো সফল হতে পারবে । এখন যা বলি ভালো করে শুনো ,------ স্রষ্টার উদ্দেশ্য সাধন ও পূর্নতার পথে চলার জন্য সময় ও স্হান ভেদে আত্মার জন্য বিভিন্ন রকম বাহন বা সওয়ারীর প্রয়োজন হয় । ইহকালে ইহজগতে আত্মাকে এই দেহরুপী বাহন দিয়ে চলতে দেয়া হয়েছে । দেহ ও আত্মার বিভিন্ন রকম ক্ষুধা নিবারনের জন্য বিভিন্ন রকম খাদ্যের ব্যবস্থা করা আছে । ক্ষুধা ও খাদ্যের প্রভাবে এই ধরার বুকে আত্মাসহ দেহ সজীব ও সচল থাকে । ক্ষুধার সাথে ভালবাসা কম-বেশী করা যেতে পারে । কিন্তু একেবারেই ছিন্ন করা ঠিক নয় ।
আরো বলি শুনো ,---- একবার খলিফা হারুনর রশীদ ভারত, ইরাক, রোম ও আবিসিনিয়া-- এই চার দেশ হতে চারজন খ্যাতনামা চিকিৎসককে একত্রিত করে বললেন ,--- এমন ঔষধের কথা বলুন যাতে কোনো রোগ হয় না । ভারতীয় চিকিৎসক হরিতকী , ইরাকী চিকিৎসক তেরাতীযক, রোমীয় চিকিৎসক গরম পানির কথা বললেন । তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন আবিসিনিয়ার চিকিৎসক । তিনি বললেন , -- হরিতকী পাকস্থলী সংকীর্ন করে । তেরাতীযক পাকস্থলী নরম করে । গরম পানি পাকস্থলী দূর্বল করে । তার মতে খাদ্য তখন খাওয়া উচিত যখন ক্ষুধা প্রবল থাকে এবং খাওয়া তখন শেষ করা উচিত যখন ক্ষুধা কিছুটা বাকী থাকে । যদিও মানব জীবনে জ্বীন ,যাদু ও গ্রহ-নক্ষত্রের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে , তবুও এটা সকল রোগ থেকে দেহ-মনকে নিরাপদ রাখতে অনেকটা কার্যকরী । ---- এই বর্ননায় ক্ষুধা , খাদ্য ও জীবনের সমীকরনের সুন্দর একটা উপমা পাওয়া গেল ।

রাত গভীর হয়েছে । আমি চলে যেতে চাইলে শীলা দেবী বলল ,--- না , যাবে না । আজ সারারাত আমার সাথে থাকবে ।
ঐ দেখো পূর্ণিমার চাঁদ কি হাসিটাই না হাসছে । আজকে আকাশের যে জায়গায় এই চাঁদ ডুববে ,-- তখন সেখানে সুবে কাজেব ও সুবে সাদেকের আসা-যাওয়ার দ্বন্দ্ব এবং প্রকৃতির সাথে মিতালীর অপরুপ দৃশ্যটা তোমাকে দেখাব । আর এখান থেকে শুরু হবে তোমার সাধনার পরের স্তরের পথ চলা ।

এবার সুযোগ পেয়ে বললাম ,---- তাহলে তখন কি আমি তোমাকে Love you বলতে পারব ?

ঠোঁটের কোনে হাসি লুকিয়ে শীলা দেবী বলল ,--- পারবে । কিন্তু সেই Love you এর তীব্রতা সহ্য করার অবস্থা তখন হয়ত আমার থাকবে না ।

কেন ?

আমার সাধনার গতি যেখানে শেষ , তোমার পথচলা সেখান থেকে শুরু । রাত পোহাবার সাথে সাথে তুমিই আমার গুরু হয়ে যাবে । তখন শুধু তোমার ভালবাসা নেয়া যাবে কিন্তু দেয়ার উপায় থাকবে না । আধ্যাত্মিকতার পথে তোমার সাথে চলতে থাকা আলোর নাচন দেখে আমি শুধু মুগ্ধু হব ।
চেয়ে চেয়ে দেখব আমি অপূর্ব ঐ তোমার চোখে ,---- অন্তরের ঈষদ হাসি ,
যেন গন্ডে বিকশিত ।
শরতের চন্দ্র যেন
ত্রিলোক মোহিত ।।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement