আমার গল্পটি এক বয়স্ক বৃদ্ধকে নিয়ে,যিনি তার জীবনের শেষ সময়ে এসে বাংগালীর জাতীয় সৃতিসৌধতে ফুল দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানোর ইচ্ছা পোষন করেন।কিন্তু ঢাকায় এসে তিনি মুখোমুখি হন বিভিন্ন পরিস্থিতির যা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার অন্তর চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়,তিনি তার মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দিতে লজ্জা পান। আমরা বাংগালীরা যে আমাদের স্বাধীনতার মূল্য হারাতে বসেছি,তার প্রমাণ এই গল্প।স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করেই তাই এসব ফুটে উঠেছে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ নভেম্বর ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৬৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৮৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - স্বাধীনতা দিবস (মার্চ ২০১৯)

আমি একজন...
স্বাধীনতা দিবস

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৬৯

সাজ্জাদুর রহমান

comment ১  favorite ১  import_contacts ১৯০
০১. ছামসুর সাহেব দীর্ঘ ২২ বছর পর আনার ঢাকায় আসলেন। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নেমে সামনে পা বাড়ালেন। ২৭ বছরের চেনা শহরটাকে আজ তার কাছে অচেনা ঠেকছে। যেদিকেই তাকাচ্ছেন, তার দৃষ্টি আটকে যাচ্ছে। চারিদিকে শুধু ইয়া বড় বড় ইটের তৈরি বাড়ি। তিনি একটি রিকশা ডাকলেন। তার হাতে একাতি কাগজ যেখানে তার দূর সম্পর্কের এক ভাগ্নের ঠিকানা লেখা। তিনি নিজেই তার এই ভাগ্নেকে চেনেন না, সুতরাং,ভাগ্নে যে তাকে চিনবে,তার প্রশ্নই আসেনা। তাই ছামসুর সাহেবের মনে কিঞ্চিৎ সন্দেহ,তার এই ভাগ্নে তাকে তার বাসায় থাকার অনুমতি নাও দিতে পারে।
"স্যার,আইয়া পড়ছি,নামেন" রিকশাওয়ালা তাকে নামতে বলছে। তিনি কাগজের সাথে ঠিকানা মিলিয়ে দেখলেন,হ্যা ঠিক আছে। রিকশা থেকে নেমে তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন। বাসায় ঢুকবেন কি ঢুকবেন না,এ নিয়ে তার মনে সংশয় কাজ করছে। এমন সময় বাসার সামনে রিকশা থেকে নামনেল মি.শামীম। মি.শামীম রিকশাওয়ালার দিকে ১০ টাকার একটি নোট এগিয়ে দিলেন। কিন্তু রিকশাওয়ালা খুশি হল বলে মনে হল না। সে বলল, -কিযের দশ টেকা দেন? কাচাবাজার তে এনে দশ টেকা ভাড়া? জিগান মানুষরে। পনরো টাকার নিচে নিতাম না। -ওই শালা,এত চটাং চটাং কথা কোথায় শিখেছিস?এই নে দশ টাকা,যা ভাগ। -লাগত না, আপনেই রাখেন। ছামসুর দাহেব সবিস্ময়ে লক্ষ্য করলেন, লোকটা রিকশাচালকর গালে ঠাস করে একটা চড় বসাল,তারপর তার দিকে ১০ টাকা ছুড়ে দিলেন। ছামসুর সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, -এটা কি করলেন আপনি? -ওই মিয়া,আমি কি করি না করি, তা আমার ব্যাপার,তাতে আপনার কি?কে আপনি?বাসার সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন? -না..মানে আমি একজন.. "যওসব"বলে লোকটা বাড়িতে ঢুকে গেলেন। দামসুর সাহেব যখন বাড়ির থেকে জানতে পারলেন,ইনিই হচ্ছেন তার ভাগ্নে,তখন তিনি আর এ বাসায় উঠার সাহস পেলেন না। স্টেশনেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
০২. ভোরবেলা উঠেই তিনি মগবাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রেডি হলেন। কাল রাতে একটু মশা কামড়িয়েছে,তাছাড়া যার ঘুম ভালই হয়েছে। কাল রাতেই তিনি আজ মগ বাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন,সেখানেই তিনি তার জীবনের ২৭টি বছর উপার্জন করে কাটিয়েছেন।

ঢাকা শহরের মত অফিসটাকেও আজ তার কাছে অচেনা ঠেকছে।ওই তো,কোনার ওই টেবিল-চেযারটা এখনো আগের মতই আছে,যেখানে বসে তিনি কাজ করতেন,শুধু মানুষটা বদলে গেছে। এক পাশে গিয়ে তিনি বললেন।তাকিয়ে আছেন সেই টেবিলের দিকে। এক লোক ফাইলের ভিতর ৪ টি এক হাজার টাকার নোট ভরে এগিয়ে দিচ্ছে,আর চেয়ারে বসা লোকটিও তা হাসিমুখে গ্রহণ করছে।শুধু একজন বা দুজন না,যারা আসছেন,সবাই এরকম ৩-৪টি নোট ঢুকে দিচ্ছে ফাইলে। ছামসুর সাহেব উঠে দাড়ালেন। চেয়ারে বসে থাকা ব্যাক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন,ভাই ফাইলে করে এভাবে টাকা নিচ্ছেন কেন? লোকটি তার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল।বলল, -আপনার এত মাথাব্যাথা কেন? কে আপনি? যে আপনাকে বলতে হবে? -না,মানে আমি একজন.... তিনি কথা বলতে পারলেন না,তার মুখে কথা আটকে গেল। তিনি আবার স্টেশনে চলে এলেন।

০৩. -বাবারা,একটু শোন তো এদিকে.. ছামসুর সাহেব দুজন ছেলেকে ডাকলেন। তারা এগিয়ে না আসায় তিনিই তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন। বলছি কি, সৃতিসৌধটা কোন দিকে,যদি একটু বলতে,অনেক দিন ধরে ঢাকায় আসি না। তো..ভুলে গিয়েছে.. -অযথা আমাদের বিরক্ত করছেন কেন?অন্য কাউকে জিজ্ঞেস কররেন। তিনি এখনো দাঁড়িয়ে আছেন। ছেলে দুটি মোবাইলের দিকে তাকিয়ে কি কি যেন বলছে,তার মাথায় ঢুকছে না। "ইয়ো ব্রো,আজ হল স্বাধীনতা দিবস। সো লেটস সেলিব্রেট টুডে এন্ড সেই সাথে চলবে লাইক প্লাস শেয়ার।" ছামসুর সাহেবকে যেতে না দেখে ছেলে দুটি বলল,আপনি এখনো যাননি মানে? কে আপনি শুনি? -ইয়ে..আমি একজন.. ছামসুর সাহেবের মুখ দিয়ে আর কথা বেরোয় না। অবশেষে ২৬ মার্চের সকালে তিনি পৌছে যান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে।একগুচ্ছ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন সৃতিসৌধের সামনে। ফুল রাখতে সাহস পান না। মনে পড়ে যায় ৪৮ বছর আগের দিন গুলোর কথা। যে দিনগুলোতে কাধে কাধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল শিক্ষক,অফিসার আর রিকশাওয়ালারা যুদ্ধ। করেছিলেন সমাজ থেকে সকল অন্যায় ধূলিসাৎ করতে,চেয়েছিলেন নিজের সংস্কৃতিকে নিয়ে গর্বের সাথে বাচতে। আজ তার মনে হচ্ছে, সব ভেস্তে গেছে।তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তা কীভাবে সহ্য করেন?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement