দুজন ভালোবাসার মানুষ তাদের ভ্যালেন্টাইনের সারাটা দিন মেতে ওঠে অদ্ভুত এক খেলায়। পাগলামি, লুকোচুরি, অভিনয় আর সবশেষে একটা প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইলে পড়তে হবে এই গল্প।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ মে ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ১৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভ্যালেন্টাইন (ফেব্রুয়ারী ২০১৯)

নিভৃতে যতনে
ভ্যালেন্টাইন

সংখ্যা

আহাদ আদনান

comment ২  favorite ০  import_contacts ১৩৬
আজ ফেব্রুয়ারির তেরো তারিখ। মাঝে ভ্যালেন্টাইনের রঙ। সেই রঙিন দিনটা পার হলেই বিয়ে। গায়ে-হলুদের সাজে জড়ানো মেয়েটার কাছে মাঝ রাতে খুদে বার্তা আসে। ‘আর একটা মাত্র দিন। তারপর তুমি হয়ে যাবে নতুন কারও। একটা মাত্র দিন, সারাদিন, ভ্যালেন্টাইনের দিন। দিবে আমাকে? এতদিনের সম্পর্কের এই একটু দাবি আমি কি করতে পারি’?
ভ্যালেন্টাইনের ভোর ছয়টায় জিমি যখন বের হয়ে যায় কেও জানতে পারে না। সবাই তখন ঘুমে। একা গাড়িটা চালিয়ে চলে আসে সাভারের বিশ্ববিদ্যালয়টার ক্যাম্পাসে। অঞ্জন বলেনি, কোথায় কখন দেখা করতে হবে। কিন্তু জিমি জানে মন প্রচণ্ড উথাল পাতাল হলে পাগলটা কখন কি করতে পারে।
‘দুই জন ভালোবাসার মানুষের মাঝে একটা বেতার তরঙ্গ থাকে। কিছু বলতে হয়না। এই যেমন তুমি এসে পড়লে ঠিক। একবার ভেবে দেখো, এই তরঙ্গ পৃথিবীর কোথাও পাবে না। এটা শুধুই তোমার আর আমার এক্সক্লুসিভ। বিয়েটা করবেই, জিমি’?
দুইজনের মুঠোফোন বন্ধ। গাড়ি পড়ে থাকে ক্যাম্পাসে। মোটরসাইকেল নিয়ে উড়াল দেয় অজানায়। একটা সময় সামনে পড়ে ছোট একটা নদী। নৌকায় বসে অঞ্জন জিমি’র হাত ধরে ভাসতে থাকে। ‘নদীর জলের একটা ভাষা আছে। তুলোর মত কোমল এর বর্ণমালা। তুমি পড়তে পারো, জিমি? আমি তোমাকে শিখিয়ে দিব, সারা জীবন। এমন অভিধান কোথায় পাবে তুমি? থাকবে আমার সাথে এই জীবনটা? ঠিক এখন যেভাবে আছি’? বাদাম মুখে জিমি মিটিমিটি হাসতে থাকে।
এদিকে বাড়িতে তোলপাড়। জিমি নেই, ফোনও বন্ধ। কি যে করেনা মেয়েটা? সম্ভাব্য সব জায়গায় ফোন দিয়ে পাওয়া যায় না খোঁজ। মেয়েটা এখন কোথায়?
জিমি তখন নাম না জানা গ্রামের সকালের বাজারে। ‘আমাদের মধ্যে একটা রসায়ন আছে। অনেকটা হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের মত। একজনকে ছাড়া চলেনা আরেকজনের। আবার পদার্থবিদ্যাও আছে। এই যেমন তুমি কাছে থাকলে একটা চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়। আমার মস্তিষ্কের অণুগুলো তোমাকে ছাড়া ভাবতেই পারেনা কিছু। আমি প্রতিদিন তোমাকে আবিষ্কার করব কলম্বাসের মত। তোমার উষ্ণ চুম্বন আমার নোবেল। এমন রোমাঞ্চবিলাসি নাবিক কোথাও পাবে না কিন্তু তুমি। একটা জীবন তুমি থাকবে এই গ্যালাক্সিতে’? জিমি চোখ বাঁকিয়ে না করে।
দুপুর গড়াতেই অনেকের মনে হতে থাকে, পুলিশকে জানানো উচিত। নাকি তখন কেলেঙ্কারি বাড়বে? এই সিদ্ধান্তহীনতার দুপুরটায় অঞ্জন, জিমি আসে একটা পুরনো জাদুঘরে। ‘এই জাদুঘরে একদিন রাজা ছিল, রানী ছিল। তারা নেই, রয়ে গেছে তাদের চিহ্ন। তোমার কি মনে হয়না জিমি, এই পৃথিবীতে তুমি আমি মিলে একটা সুন্দর স্মৃতিচিহ্ন রেখে যেতে পারি? বিশ্বাস কর, আমি খুব নিপুন শিল্পী’। অঞ্জন আর জিমি খুব কাছাকাছি কিছু হাওয়া শ্বাসের সাথে ভাগাভাগি করতে থাকে। অঞ্জনের বুভুক্ষু ঠোঁট আঙুল দিয়ে নেড়েচেড়ে দৌড়ে পালায় মেয়েটা। হাসিতে খেলা করে দুষ্টুমি।

এখন ফিরে যাওয়া উচিত। গ্রামের হোটেল, জাদুঘর, কাশফুল, নদীকে বিদায় জানিয়ে দুইজন আবার মোটরসাইকেলে। ‘আমার কাছে দিনটা ছিল স্বপ্নের দিন। জীবনের শ্রেষ্ঠ ভ্যালেন্টাইন। তোমার প্রতিটা দিন আমি রাঙিয়ে দিতে পারি। পৃথিবীতে কারও হাত ধরে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে পারা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। এমন ভাগ্য সবার হয় না জিমি। তুমি স্বপ্ন দেখবে? আমি দেখাবো। শুধু আমিই দেখাতে পারি স্বপ্ন। বিয়েটা করতেই হবে তোমাকে? আমাকে হারাতে ভালো লাগবে তোমার’? ক্যাম্পাস এসে গেছে। গাড়ির হাতলটা খুলতে খুলতে জিমি জানায়, ‘হ্যা, খুব ভালো লাগবে। হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন’। এখনও মুখে হাসি। চোখে এক ফোঁটা জল নেই। কি অদ্ভুত এই ভালোবাসা!

নিজের প্রিয় হ্যান্ডিক্যামটা চালিয়ে দিয়ে লেন্সের সামনে বসে জিমি একটা লাল শাড়ি পরা বউ সেজে কি যেন বলছে। ‘একটা পাগল ছেলে ছিল। অনেক ভালোবাসি পাগলটাকে। আজ আমার ফুলশয্যা। খুব মনে পড়ছে ওকে। আর কি দেখা পাবো ওর? নাকি হারিয়ে ফেলেছি ওকে’?
মনিটরে বউটার হাসি হাসি মুখ কি বলছে এসব? এমন সময় আরেকজন এসে দাঁড়ায় মনিটরে। এইতো মুখ দেখা যাচ্ছে। খুব চেনা চেনা লাগছে মুখটা। জিমি মাথা কাঁত করে দেয় লোকটার কাঁধে।
‘দেখুন, পাগলটা এখন জামাই সেজে বসে আছে। রাজ্যের পাগলামি করতে পারে, আর বিয়ে করতেই যত ভয়। তোমার এই পাগলামিটাকেই খুব ভালোবাসি। আমি নতুন কারও হতে চাইনা। সেই চেনা অঞ্জন আমার হাত ধরে থাকবে সারাজীবন। যদি দেখি কোনদিন এই হাতটা ছেড়েছ, তাহলে.....’?
মনিটর আদ্র হতে থাকে। আমরা দৃষ্টি সরিয়ে নিই। পৃথিবীতে কারও হাত ধরে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে পারা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। এমন ভাগ্য সবার হয় না। অঞ্জন, জিমি’র নিভৃতে যতনে দেখা স্বপ্নগুলো থাকুক একান্তই ওদের।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement