শারীরিক ত্রুটি মানুষের জীবনে বড় কষ্টের কারন হয়ে দেখা দিতে পারে। প্রিয় মানুষের কাছে এই ত্রুটির কারনে ভুক্তভোগী হতে পারে অবহেলিত, নিন্দিত। Love is blind কথাটা সত্যি বটে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে...
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৫ জুন ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভ্যালেন্টাইন (ফেব্রুয়ারী ২০১৯)

যেতে হবে নীরবে একা
ভ্যালেন্টাইন

সংখ্যা

আবু আরিছ

comment ২  favorite ০  import_contacts ৮১

সকাল বেলাই মনটা এমন বিষাদে ভরে যাবে কে ভেবেছিলো।

সি.এন.জি স্ট্যান্ডের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল সে। বড্ড তাড়াহুড়া । আটটায় অফিস ধরতে হবে। তখনি একটা লোক উঁচু গলায় বলল, ওই যে, ওই দ্যাখ্, ন্যাংড়া কেমনে দৌড়াইতেছে। এই ঊনত্রিশ বছরের জীবনে তাকে ন্যাংড়া খোড়া জাতীয় কটাক্ষ কত যে শুনতে হয়েছে। তবু সে নির্বিকার হতে পারেনি বরং গাঢ় এক বিষাদ তাকে নিস্তেজ করে দিয়েছে সব সময়। অভ্যস্ত হওয়া বলেতো একটা ব্যাপার থাকে, তা তার ক্ষেত্রে ঘটেনি। তীব্র এক অভিমান তা হতে দেয়নি কখনো। একে নেহাত ভাগ্য বলেও উড়িয়ে দিতে চায় না সে। কেন প্রকৃতি তাকে নিয়ে এই নিষ্ঠুর খেলা খেলছে তার রহস্য উদ্ধার না করে তার মনে শান্তি নেই কিছুতেই।

একদিন সে ভাবতে বসল পৃথিবীর তাবৎ অস্বাভাবিক প্রাণগুলি নিয়ে। ছেলেমানুষী কান্ড যাকে বলে। সাভারের ওভার বিজ্রের উপর দুই পা কাটা, হাত কাটা কয়েকজন ভিকারীর দৃশ্য তার চোখে ভাসতে লাগলো। বিভৎস দৃশ্য। গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে। অথচ যাত্রা পথে তাদেরই কিনা প্রতিনিয়ত দেখতে হয়। কেউ কেউ আবার তাদের দেখে পায় প্রশান্তির স্পর্শ। ঘিনঘিন করে দুরে সরে পরে। সুস্থ শরীর নিয়ে এই দুরে সরে পরাতেই যেন আছে এক আনন্দ। ভাবতেও অবশ্যি মন্দ লাগে না, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে ইচ্ছে করে, আহারে কি দুঃসহ জীবন! প্রকৃতি কেন যে তাদেরকে এই নিদারুণ কষ্ট যন্ত্রনার ভিতর রেখেছে তা জানার কোন উপায় নেই। হয়তোবা তারা এই জীবনটাকেই কোন না ভাবে ফিল করে। করলে করতে পারে। যেকোন সিচুয়েশনে মানুষের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা প্রায় অসীম পর্যায়ের। বলা হয়া নারী সর্বংসহা, প্রকৃতপক্ষে সকল মানুষই সর্বংসহা। তাদের স্থানে তারা হয়তো তাদের মত করে অসুখী নয়। আর মানব জীবনে সুখী অসুখী হওয়ার ব্যাপারগুলি বড়ই ঠুনকো এবং মামুলি ধরনের হয়ে থাকে। কিন্তু সবাই কি তা পারে? না, সবাই পারে না। জীবনানন্দের ভাষায় যাদের অর্ন্তগত রক্তের ভিতর আরো এক বিপন্ন বিষ্ময় খেলা করে, ক্লান্ত ক্লান্ত করে, তারা পারে না। এরা কি করে? এরা নিত্য নতুন বেদনার ভিতর দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে।


অফিসের সিঁড়ি ভেঙ্গে দ্রুত উঠতে গিয়ে হাতের মোবাইলটা নিচে পরে গিয়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। ভাগ্যিস কারো মাথায় পরেনি। নিচে নেমে সিম ও মেমরি কার্ড ব্যতিত আর কিছুই নেওয়ার মত খুজেঁ পেল না সে। যা হওয়ার তাই হলো আজও তিন মিনিট লেট।
-কি সমীর ভাই আজও...ফানিপার্টে অংশ নেয় তার কলিগ জামাল সাহেব। কোনো জবাব জোটে না সমীর সাহেবের মুখে। শুধু শুকনো হাসি খেলে যায়।

টেবিলে বসা মাত্রই সমীর সাহেব খালাকে ডেকে পাঠালেন চা আনতে। মূলত তার তেষ্টা পেয়েছে সিগারেটের। কিন্তু এই অফিস আবার ধুমপান মুক্ত অফিস। শুধু ধুমপানের পারমিট আছে ইফতেখার সাহেবর। এমডি জিএম এদের সাথে তার আবার হৃদ্যতা প্রচুর। সমীর সাহেবের একবার মনে হলো ইফতেখার সাহেবকে গিয়ে বলে, প্লিজ, জাস্ট ওয়ান শলাকা। পরক্ষনেই মনে হলো, না, না, কি সব আজেবাজে বিষয় ভাবছে সে, এত সহজ সম্পর্কতো তার সাথে নেই তার। শুধু সে কেন কারো সাথে নেই। ক্রমান্বয়ে কি এক বিকার যেন তাকে করে তুলেছে একা ও বিছিন্ন। তার একটা পায়ে সমস্যা, সে খুড়িয়ে হাটে, এই কি তার কারন, ভাবতে ভাবতে কপাল ঘামে ভিজে ওঠে সমীর সাহেবের।

ফিরতি পথে সিএনজি স্ট্যান্ডের পাশে থমকে দাড়াল সে। যে লোক সকাল বেলা তাকে কটাক্ষ করেছে সেই লোকটি এখনো আছে কিনা এখানে। তাকে দু'একটি কথা বলতে মন চাচ্ছে তার। আজ সারাদিন সে ভেবে রেখেছে কথাগুলি। সে তাকে বলবে, আচ্ছা ভাই, খুব ছোট কালের কথা আপনার কি মনে পরে কখনো? যেমন ধরুন আপনি যখন হামাগুরি দিতেন, হাঁটা শিখেননি, লোকটি নিশ্চয় বলবে না মনে নাই, তখন সে বলবে আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন একটা বাইসাইকেল আমার পায়ের উপর পরে যায়,আমি ছিলাম মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান, আমার বাবা মার সাধ্য ছিল না আমাকে উচ্চ চিকিৎসা দেয়ার। অগত্যা আমাকে সারা জীবনের জন্য মেনে নিতে হয় ন্যাংড়া লুলার জীবন। সেই সব কোনো স্মৃতিই আমার মনে নেই। কিন্তু যখন বড় হতে লাগলাম ক্রমেই বুঝতে লাগলাম জীবনের তীক্ত স্বাদ কি জিনিস। যখন কলেজ জীবন পেরিয়ে ভার্সিটি লাইফে এলাম তখন পর্যন্ত জুটলো না ভালো কোনো মেয়ে বন্ধু। অর্নাস শেষ বর্ষে তুলি নামের একটা মেয়েকে খুব ভালো লেগে গেল আমার। ওকে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর হয়ে রইলাম সারাক্ষণ। ওকে ভাবতেই বুকে সুখের মত ব্যথা লাগে। একবার দেখতে পেলে মন আনন্দে পরিপূর্ণ হয়। বুঝতে পারলাম এটাই প্রেম। আমার এক মুখফোড়া বন্ধুর নাম তুষার, মুখফোড়া বুঝলেনতো মুখফোড়া হলো যার মুখে কোনো কথাই আটকায় না, অবলীলায় যা খুশি তাই বলতে পারে, তো একদিন ও তুলিকে বলে ফেলল আমার কথা । আমার কথা শোনামাত্রই তুলিতো রেগেমেগে ফায়ার, কি ওর এত বড় সাহস, ওই ন্যাংড়া আমার সাথে প্রেম করতে চায়। পরে তুষারের কাছে এসব কথা শুনে হাসতে লাগলাম আমি। কারন আমি জানতাম মেয়েদের মুখে এক, ভিতরে আরেক। আর উইলিয়াম শেকসপিয়ারের একটা উক্তির প্রতি আমার খুব বিশ্বাস ছিল, সেটি হলো


সে যাহোক এখন আপনাকে কিছু উপদেশমুলক কথা বলি। যদিও উপদেশ কারোই তেমন ভালো লাগে না। এর কারন কি জানেন, এর কারন হলো যে উপদেশ দেয়, সেই উপদেশের সাথে তার নিজের আত্মপ্রসংশাও কিছু অংশ ঢুকে যায়। জানেন পৃথিবীতে সব থেকে মধুর সুর কি, প্রসংশার সুর, তবে তা নিজের না অন্যের। আপনি আবার শুরুতেই বলে বসবেন না যেন, আপনার উপদেশ, আমার জান শেষ।

এখন শুনুন, সুরা আত ত্বীন-এ মহান আল্লাহ কি বলেছেন জানেন, তিনি বলেছেন, আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দর অবয়বে। আসলেই মানুষ সুন্দর। তারপরেও পৃথিবীতে কিছু অসুন্দর মানুষও আছে। আমি একজন ফাইলেরিয়া রোগাক্রান্ত মহিলাকে দেখেছিলাম। ভয়াবহ দৃশ্য।

আপনি কি ওই গল্পটি জানেন, কতগুলো ব্যাঙ একটি পুকুরে বাস করতো, সেই পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল কয়েকজন দুষ্ট ছেলে। পুকুরে ঢেল ছুরে তারা খেলা করছিল। তাদের ঢেলে ব্যাঙগুলি একের পর এক মারা পড়ছিল। তখন একটি বৃদ্ধ ব্যাঙ বলল, হে বৎসরা! বন্ধ কর তোমাদের এই নিষ্ঠুর খেলা। তোমাদের জন্য যেটি খেলা, আমাদের জন্য সেটি মৃত্যু । আমার ক্ষেত্রেও ঠিক একই ব্যাপার বুঝতে পারছেন। আপনার জন্য যেটা আনন্দের, অন্যের জন্য সেটা হতে পারে প্রাণ সংহার করার মতোই বেদনাদায়ক।

এই সব কথা সে নিজে নিজেই বলে। কোনোদিন কাউকে বলা হয়নি। ভবিষ্যতেও যে বলা হবে তাও কিন্তু নয়। জীবন কন্টক পথে ফুল কিংবা লাল গালিচা সে আর আশা করে না কখনো। সে নিজেকে মনে করে ঘর পোড়া গরু আর দৈনন্দিন জীবনের সুখকে মনে করে সুদুর পরাহত সিঁদুরেমেঘের হাতছানি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement