উল্লেখিত বিষয়ের সাথে গভীভাবে আমার লেখা গল্পে। বিষয়ের সাথে ভাবগত অর্থগত বৈশিষ্ঠগত ভাবেও মিল রয়েছে। আমার গল্পটি উল্লেখিত বিষয়কে আকষর্ণীয় করবে বলে আমার ধারণা।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ এপ্রিল ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ২০টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৮৫

বিচারক স্কোরঃ ২.৪৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - কৃপণ (নভেম্বর ২০১৮)

কৃপণের গল্প
কৃপণ

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৮৫

মোঃ মাসুদ রানা

comment ১৬  favorite ০  import_contacts ৩৭৪
ছোটবেলা থেকেই দাদা দাদি আর নানা নানির কাছে বিভিন্ন গল্প শুনে শুনে সবাই হেসে কুটি কুটি হতাম আবার ভয়ও পেতাম । সে সময়ে আমরা নানা ধরনের নানান রকমের গল্প শুনতাম। মাঝে মাঝে রাক্ষসের, ভুত পেতের গল্প শুনে শরীর ভয়ে কাপতে থাকতো। আবার শুনতে শুনতে ঘুমিয়েও যেতাম। তবে মাঝে মাঝে কৃপণ মানুষের গল্পও মুগ্ধ করতো। ভাবতাম মানুষ আসলেই এ রকম হয়ে থাকে। আসলে বাস্তব জীবনে এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে। তবে কৃপণের গল্প হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে "হারকিপ্টে" নাটক দেখে। কৃপণ যে কত প্রকার হতে পারে সেখান তার বাস্তব চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এরকম নানান অভিজ্ঞতা থেকেই আজকে কৃপণের গল্প লিখতে বসেছি।

পাটুয়াটুলী গ্রাম। ঘনবসতি আর নানান পেশাজীবি মানুষের বসবাস এখানে। কেউ কেউ কৃষকের কাজ করে, আবার কেউ শ্রমিক, আবার কেউ কেউ তাঁতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এই গ্রামে যে ধনী মানুষ নেই সেটা না বললেই না। আসলে ধনী মানুষ বলতে আমরা যাদের সম্পদ টাকা পয়সা, জমি-জমা ইত্যাদি রয়েছে তাদেরকে বুঝে থাকি। তবে এগুলো থাকা সত্বেও মজিবুর মিয়া নিজেকে ধনী হিসাবে মানতে নারাজ। সে নিজেকে সবসময় গরীব হিসেবেই পরিচিত হতে চায়। কারন, সে জানে ধনী হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিলে আশেপাশের সবাই আসবে দানখয়রাতের জন্য। মসজিদ মাদ্রাসাতে, গ্রামের উন্নয়নে টাকা দিতে হবে। এজন্য তিনি নিজেকে সবসময় লুকিয়ে রাখে। কিন্তু নিজে বললেই কি সব কিছু করা সম্ভব। মোটেই না। গ্রামের মানুষ জানে তিনি যথেষ্ট ধনী ও সম্পদের মালিক। গ্রামের মানুষ এটাও জানে তিনি প্রচন্ড কৃপণ প্রকৃতির মানুষ। নিজে দেবে না কিন্তু অন্যের কাছে থেকে চাইবে।

মজিবুর মিয়ার যে সম্পদ, জমিজমা আছে সবই তার পিতার কাছে থেকে পাওয়া। নিজেও কিছু করেছে তবে সেটা হাতে গোনা।
মজিবুর মিয়ার সংসার বলতে সে আর তার স্ত্রী। ছেলে সন্তান নেই। অনেক কবিরাজ ধরেও কোন লাভ হয়নি।
এ নিয়ে যে সে খুব চিন্তিত তাকে দেখে সেটা মনে হয় না। গ্রামের লোকজন তাকে আবার বিয়ে করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিয়ে করেননি। যদিও বিয়েতে মজিবুরের স্ত্রীর সহমত ছিল। মজিবুর ভাবতো বিয়ে করলে খরচ বেড়ে যাবে। বউ এটা চাইবে ওটা চাইবে। আত্মীয় স্বজন আসবে এবেলা ওবেলা ইত্যাদি ইত্যাদি।
এজন্য সে আর বিয়ে করতে রাজি হয়নি।
মজিবুরের কাছে অনেক গচ্ছিত টাকা ছিল। গরুর দুধ বিক্রি করে, ধান ও পুকুরের মাছ বিক্রি এ টাকা গুলো জমিয়ে সে। অনেক দিন ধরেই টাকা গুলো আছে তার কাছে। তবে টাকা যদি গচ্ছিত রাখা হয় তবে টাকা গুলো কমে যাবে এই চিন্তায় করতো সারাদিন। কেউ জমিও বিক্রি করছেনা যে সে কিনবে। এই চিন্তা তাকে বারবার নাড়া দিতে লাগলো। রাতে ঘুমাতে গেলে মনে হয় এই বুঝি চোর এসে চুরি করে নিয়ে গেল। এই বুঝি ডাকাত বাড়িতে হানা দিল। তাই সারারাত না ঘুমিয়ে সে চিন্তা করলো সকাল হলে গঞ্জে গিয়ে অনেক সোনা কিনে আনবো। যেই কথা সেই কাজ। সকাল হলেই যখন মজিবুর বাড়ি থেকে বের হবে ঠিক তখন তার স্ত্রী বলে উঠল এত সকাল সকাল কোথায় যাচ্ছেন আপনি?
মজিবুর শুধু ঘাড় নাড়লো আর কিছু বললো না। সোনা কিনে নিয়ে আসার পর তার মাথায় আবার চিন্তা হতে লাগলো এই সোনা রাখবো কোথায়। আবার যদি চোর আসে, ডাকাতি হয়।এই চিন্তায় আবার তার মাথা ঘুরতে লাগলো। সে ভাবলো এই সোনা বাড়িতে রাখা যাবে না।তাহলে কোথায় রাখবো? ভেবে ভেবে যখন ক্লান্ত ঠিক তখনই তার মাথায় একটি বুদ্ধি এলো। সে ভাবলো যদি মাটি খুরে মাটির নিচে রাখি তাইলে আর কেন চিন্তা রইলো না। কথা মতোই সে কোদাল নিয়ে বাড়ির পাশে বাঁশের ছোপে গেল। এবং মাটি খুরতে শুরু করলো। মাটি খেরা শেষে সোনার টোপলাটা সেখানে পুঁতে রাখলো। বাড়ি আসার পর আবার তার চিন্তা হলো কেউ যদি নিয়ে যায়? এই চিন্তা আবার তার রাতের ঘুম কেড়ে নিল। সকাল হলেই আবার কোদাল নিয়ে বাঁশের ছোপে গেল এবং মাটি খুরে দেখে আসলো সোনার থলে ঠিক আছে কিনা। এভাবে প্রতিদিন সকাল আর সন্ধ্যায় শুধু এই কাজটিই করতে লাগলো। মজিবুরের এরকম চালচলন, চিন্তিত চেহারা দেখে মজিবুরের রাখালের সন্দেহ হলো। সে ভাবতে শুরু করলো নিশ্চয়ই মালিকের কিছু একটা হয়েছে। সে আবার এরাও চিন্তা করতে লাগলো যদি সে মালিককে জিঙ্গেস করে তাহলে মালিক বলবে না। এজন্য মালিক কোথায় কোথায় যায় খেয়াল রাখতে শুরু করলো।

হঠাৎ একদিন খুব সকালে রাখাল দেখতে পেল তার মালিক হাতে কেদাল নিয়ে বাঁশের ছোপের দিকে যাচ্ছে। রাখাল নিজেকে আড়াল রেখে সবকিছু দেখতে শুরু করলো।রাখাল দেখতে পেল তার মালিক কিসের থলে দেখেই আবার পুঁতে রেখে দিল।মালিক আসার আগেই রাখাল গোয়াল ঘরে চলে গেল। রাখাল ভাবতে শুরু করলো নিশ্চয়ই তার মালিক সেখানে গুপ্ত ধন রেখেছে। মজিবুর গরুর দুধ দোয়ানো শেষ করেই গঞ্জে বিক্রি করতে নিয়ে গেল। এই সুযোগে রাখাল হাতে কোদাল নিয়ে বাঁশের ছোপের দিকে রওনা হলো।এবং মাটি খোঁড়া শেষে সে ওই থলেটা পেল। থলে খুলতেই সে অবাক হয়ে গেল। এত্ত সোনা।যেন তার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। কারণ সেতো এতো সোনা আগে কখনও দেখে নাই।
রাখাল অন্য আরেকটি থলে এনে ওখানে আবার পুঁতে রেখে চিরদিনের জন্য পালিয়ে গেল। এদিকে সন্ধ্যা হলেই মজিবুর কোদাল হাতে বাঁশের ছোপে গিয়ে দেখে তার থলের জায়গায় অন্য আরেকটি থলে। সেখানে সোনা নেই ভেবেই মজিবুর অঙ্গান হয়ে গেল। খানিকটা সময় শেষে মজিবুরের জ্ঞান ফিরলে মজিবুর কাঁদতে শুরু করলো।
মজিবুরের কান্নার আওয়াজ শুনে তার স্ত্রী দৌড়ে ছুটে আসলো এবং জিঙ্গেস করলো কি হয়েছে? তখনও মজিবুর সবকিছু তার স্ত্রীকে খুলে বললো। তখন মজিবুরের স্ত্রী তাকে পরামর্শ দিলো - আপনি যদি কিছু টাকা দান করেন তাহলে আপনার সোনা ফিরে আসতে পারে।
মজিবুর পরদিন তার বৌয়ের কথামতো একটি পাঁচ টাকার কয়েন নিয়ে এখানে সেখানে ঘুরলো কিন্তু কোন ফকির মিসকিনের দেখা পেল না।দেখা পাবই বা কি করে যেখানে ফকির মিসকিন থাকে সেখানে মজিবুর যায়নি। কারণ সে ভাবছিল এমনিতেই এত সোনা হারিয়েছি আবার আরও পাঁচ টাকা।
দুপুরের টাটকা রৌদ্রে যখন মজিবুর হাটতে ছিল তখন তার হাতে রাখা পাঁচ টাকার কয়েন হাতে মুড়িয়ে রাখার জন্য হাত ঘেমে যাচ্ছিল। এই দেখে মজিবুর বলতে শুরু করলো, ওরে আমার পাঁচ টাকা আর তোমাকে কাঁদতে হবে না চলো বাড়ি চলো।

এই কৃপণের গল্পটি এতক্ষণ নীরবে শহীদুল, কুদ্দুস, ও রাসেল শুনছিল রোকনের কাছে থেকে। কারণ ওদের বন্ধুদের মধ্যে বাজি হয়েছিল কে সবচেয়ে ভাল কৃপণের গল্প বলতে পারে। তৃতীয় হিসেবে এতক্ষণ কিছুটা অগোছালো করে মৈনাক গল্পটি বলছিল। সে নাকি গল্পটি তার দাদির কাছে থেকে শুনেছিল যখন মৈনাক ছোট ছিল। মৈনাক গল্প শেষ করতে না করতেই শহীদুল বলে উঠলো রাসেল এবার তোর পালা। রাসেল বলল তো তো করে বলে উঠল আজকে বাদ দে অন্য দিন বলবো। কিন্তু ওই যে বাজি। রাসেল বলতে চাইছিল না তার একটা কারণ ছিল, সপ কথা বলতে গেলে তোতলাতো। কিন্তু তারপরও রেহাই হলো না। রাসেল বললো সে নাকি এই গল্পটি তার নানার কাছে থেকে শুনেছে। রাসেল বললো তোদের গল্পের চেয়েও বড় এক কৃপণের গল্প শোনাব এখন। কুদ্দুস বলে উঠলো আগে শোনাতো দেখি। রাসেল বললো এটা আসলে গল্প হিসেবে ধরা যায় না ইসলামের এক নিদর্শন স্বরূপ।কুদ্দুস বললো আচ্ছা সমস্যা নেই, ইসলামের কাহিনী সেটাতো আরও ভালো। এবার রাসেল বলতে শুরু করলো ‘এক লোক মহানবী (সা)-এর কাছে এসে বলল, আমার বাগানে অমুক ব্যক্তির একটি খেজুর গাছ আছে, যা আমাকে কষ্ট দেয়। মহানবী (সা) তখন খেজুর গাছের মালিককে ডেকে পাঠালেন। বললেন, গাছটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও। লোকটি বলল, না। তাহলে আমাকে দান করে দাও। সে এবারও বলল, না। না হয় জান্নাতের একটি খেজুর গাছের বিনিময়ে গাছটি আমার কাছে বিক্রি করো। লোকটি এবারও না বলল! মহানবী (সা) তখন তাকে বললেন, আমি তোমার চেয়ে বড় কৃপণ আর দেখিনি।’

কুদ্দুস বলল, সত্যিই তো রাসেল, স্বয়ং মহানবীর প্রস্তাব যে ফিরিয়ে দিতে পারে, সে তো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃপণ। রাসেল বললো, আরে! গল্প তো এখনও শেষই হয়নি। ঐ ব্যক্তির চেয়েও কৃপণ লোক আছে।
কুদ্দুস বললো কি বলিস? জান্নাতের খেজুর গাছের বিনিময়েও যে লোক পৃথিবীর সামান্য খেজুর গাছ ছাড়তে পারে না, তারচেয়েও বড় কৃপণ আছে হয় নাকি ?
রাসেল বললো , হ্যাঁ। ঐ লোকটিকেই মহানবী (সাঃ) সবশেষে বলেছেন, "যে সালাম দিতে কৃপণতা করে, সে তোমার চেয়েও অধিক কৃপণ (আহমদ, বায়হাকী)"।

(আসুন আমরা একে অপরকে সালাম প্রদান করি)

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement