ঝড় কেবল প্রকৃতিতেই হয় না । মানুষের মনের ভিতরও কখনও কখনও ঝড় উঠে । সে ঝড় মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলে, দিশেহারা করে দেয় । এক গোধূলীর ঝড়ে ভামিনির সঙ্গে বিক্রমের পরিচয় , পথচলা শুরু । কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে ভামিনি বুঝতে পারে বিক্রমের আসল রূপ । দুই দুইবার কন্যার জন্ম দিয়ে যেন পাতকীর কাজ করেছে সে । তৃতীয়বার গর্ভধারণ করলে বিক্রমসহ পরিবারের ছেলে সন্তানের দাবির কাছে মুষড়ে পড়ে ভামিনি। ছেলে যেন হাতের মোয়া । তুকতাক করে বিক্রমের সন্দেহ যে এবারও মেয়েই এসেছে গর্ভে । সে গর্ভ নষ্ট করতে চাপ দেয় ভামিনিকে । ভামিনির ভিতরের চিরকালীন 'মা' প্রতিবাদ করে ওঠে । সে কিছুতেই গর্ভ নষ্ট করবে না । তার মনের ঝড় প্রকৃতির ঝড়কেও ছাপিয়ে যায় । সে এক ঝড়কে থামাতে আর এক ঝড়ের প্রত্যুষে অনিশ্চিতের পথে পা বাড়ায়।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ডিসেম্বর ১৯৬২
গল্প/কবিতা: ১০টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৭৭

বিচারক স্কোরঃ ৩.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঝড় (এপ্রিল ২০১৯)

'ঝড়কে পেলেম সাথি'
ঝড়

সংখ্যা

মোট ভোট ১৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৭৭

ARJUN SARMA

comment ১৪  favorite ০  import_contacts ৪৪৭
ভ্রূণের ভবিষ্যত ভ্রষ্টের ভাবনায় ব্যতিব্যস্ত ভামিনি । ভিতরে ভিতরে ভয়।বাইরের ব্যক্তিবিশেষেও বিষয়টা ব্যক্ত । বাড়ীর বড়ো বউ বিমলাও ভীষণ ভীত । বাতিকগ্রস্ত বিক্রমের ব্যবহারে ভামিনি বাক্যহারা, বজ্রাহত । বুকে ব্যথা বাজলেও বাইরে বলতে বাধা । বুকের বিপুল ব্যথা ভামিনিকে বাণবৎ বিদ্ধকরণে ব্রত । বুকে বর্ধমান বহ্নিসিখাসম বাতি । ভারাক্রান্ত ভামিনি ভারিবর্ষণের বলাহকসম বুক বয়ে বহমান । ভামিনি বিনিদ্র ।
আশ্বিনের জ্যোৎস্নাবিধৌত আকাশে মাঝরাতে হঠাৎ মেঘের আভাস । বাতাসশূন্য চারপাশের প্রকৃতি থমথমে । ঝড়ের পূর্বাভাস । ভামিনির বুকে জমে থাকা প্রলয়ংকরী ঝঞ্ঝার মত । কার দাপট বেশি বুঝা যাচ্ছে না । প্রহরের পর প্রহর পার করে ভামিনির দুচোখে উৎকন্ঠা । নিশি বোধ হয় শেষের পথে । শূন্য প্রকৃতি পূর্ণ করতে সোঁ সোঁ শব্দে ধেয়ে আসছে দূরন্ত বাত্যা । পুঞ্জমেঘে ঢেকে গেল সদ্যস্নানশেষে পুজারিণীর ললাটশোভিত জ্বলজ্বলে চন্দনফোঁটাসম হাসিমাখা শর্বরীর কপালের সুশোভিত শশধর । ঝড় এল বলে ।
বাড়ির বড়ো বউ বিমলা দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে আগেই অলক্ষ্মীর তকমা লাভ করেছে । বিক্রমের বউ হয়ে আসার পরেই বিমলা ভামিনিকে এবাড়ির ছেলেসন্তানের দাবির একরোখা মনোভাবের কথা বলেছিল । বিক্রম-বিমলার ভালবাসার বিয়ে । প্রথমে বিমলার কথা আমল না দিলেও ভামিনি ক্রমশ উপলব্ধি করতে থাকে যে এবাড়ির সকলেই তার কছে ছেলে সন্তান দাবি করছে । উঠতে বসতে হাঁটতে চলতে ফিরতে ‘ছেলে চাই’ শ্লোগান কায়দা করে কানে বিঁধে দেয় । ছেলেসন্তান যেন অর্ডারী সওদা ! শ্বশুর শাশুড়ি স্বামী সকলেই খোঁটা দেয় তাকে । ভামিনির প্রথম সন্তান আসার আগে কত রকমের তাবিজ কবজ লাগানো হয়েছে তার ঠিক নেই । পারিবারিক গণক গোপাল আচার্যি আমতা আমতা করে বলেছিল ‘মেয়ে আসছে’ । তবুও সকলে অপেক্ষা করছিল একটি ছেলের , বংশরক্ষার একমাত্র ধারকের । সবার প্রত্যাশায় জল ঢেলে দিয়ে ভামিনি প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম দিল বিয়ের একবছর ঘুরতেই । বিক্রম অখুশী না হলেও প্রথম সন্তানের বাবা হিসেবে উচ্ছ্বাস দেখা যায় নি । এটা ভামিনির বুকে বেজেছিল বেশি ।
একবছরের প্রেমপর্বে সুদর্শন বিক্রমের আদপ কায়দায় ,কথার জালে কলেজপড়ুয়া ভামিনি মোহমুগ্ধ । সকালে ঘুম ভাঙলেই মনে হত তার পিঠে দুটো ডানা গজিয়েছে । শুধু উড়ানের অপেক্ষায় ক্ষণ পল গুনত। দিনটা যেন হ্রস্বতর মনে হত । একদিন বিক্রমের সঙ্গে দেখা না হলে দিনটা ব্যর্থ হয়ে যেত । আলো নিবে যেত দিনমানের । বিক্রম কথার জাল বুনে যেত আর সেই মাকড়সার জালে জড়িয়ে পেঁচিয়ে বন্দি হয়ে যেত ভামিনি ।
প্রেমিক আর আটপৌরে স্বামী এক নয় । এই কথা শোনা এবং জীবনে উপলব্ধি করার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ । যার বাইকের পেছেনে চড়লে মনে হত পঙ্খিরাজে উড়ছে ,হাতে হাত রাখলে মনে হত চাঁদ হাতে পেয়েছে , কাঁধে মাথা হেলিয়ে দিলে মনে হত শাজাহানের মখমলের গালিচায় বিছানো তাকিয়ায় হেলান দিয়ে আছে,কথার সুরে তানসেনের অনুরণন শোনা যেত , একবছর ঘর করেই পঙ্খিরাজ হারিয়ে গেছে অচিন দেশে ,চাঁদ হয়ে গেছে ‘ঝলসানো রুটি’,সুখের তাকিয়া অধরা আর কথা তো নয় যেন বোলতার হুল ! কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে যে কীরকম পাতকীর কাজ করেছে তা অন্যদের কাছে বারবার শুনেও যে কষ্ট পায় নি তার হাজার গুণ বিধেঁছে বিক্রমের আচরণে । একবিংশ শতকের এতগুলো বছর পার করেও যে একটা পরিবার এমন অবিবেচকের মতো একটা মেয়ের কাছে অর্থহীন দাবি করতে পারে তা ভামিনির চিন্তার বাইরে ।
প্রথম কন্যা পৃথার বয়স দুবছর ঘুরতেই দ্বিতীয়বার গর্ভসঞ্চার হয় ভামিনির। কায়মনোবাক্যে ঈশ্বরকে ডেকেছে সে যাতে এবারের সন্তান ছেলে হয় । তার কাতর রোদন শোনে নি ঈশ্বর । মেয়েই হল দ্বিতীয়বারও । পারিবারিক মানসিক চাপ কেমন হবে তা অনুমান করলেও চরম আঘাতটা এসেছিল বিক্রমের কাছ থেকে । মেয়ে হয়েছ শুনে দুইদিন হাসপাতালে পড়ে থাকা ভামিনিকে একবারের জন্যও দেখতে আসেনি বিক্রম । এমনটা ভামিনি মেনে নিতে পারে নি কোনভাবেই । রায় পরিবারের কৃষ্ণা নামের অনাকাঙ্খিত মেয়েটির বয়স এখন চারবছর ।
মানুষ মানুষই,পশু নয় । তবে পাশবিক ইচ্ছা মানুষের মনের অন্দরে ওঁত পেতে থাকে । জল হাওয়া পেলে তা ডালপালা মেলে পল্লবিত হয়ে ওঠে । বিক্রম ভামিনিও এর বাইরে নয় । বিক্রমের অদমনীয় ছেলে-আকাঙ্খা ,অবজ্ঞা,অবহেলা কখন কোন্ ছুঁতোয় ,মনের কোন্ দুর্বল মুহূর্তে পাশবিক ইচ্ছার কাছে হেরে গিয়ে ভামিনিকে কাছে টেনে নেয় তা সে নিজের মনকে জিজ্ঞেস করেও উত্তর পায় না । অথচ বিক্রমকে কাছে ঘেঁষতে দেবে না বলে নিজের মনের কাছে কত প্রতিজ্ঞা করেছে । ক্ষণিকের তরে নারী হৃদয়ের চির-আকাঙ্ক্ষিত ভালবাসা নাকি রিপুর কাছে আত্মসমর্পণ বুঝতে পারে না ভামিনি । ফলস্বরূপ তৃতীয়বারের মত গর্ভবতী সে । খবরের সত্যতা যাচাইয়ের পর বিক্রমের সেই দ্বিতীয় রূপ তার দাঁত নখ বের করে দৃশ্যমান । ভাবটা এমন, এসপার ওসপার হবেই এবার । হয় এবার ,নয় কখনও নয় । তাবিজ কবচ হস্তবিশারদ কিছু বাদ নেই । ক্রোমোজোমের খেল যেন কবচ ঘুরিয়ে দেবে ! অনেকের কাছে যেতে হয়েছে ভামিনিকে । শেষে বিক্রম স্থির নিশ্চিত হল যে গর্ভের ভ্রূণ মেয়েই । কঠোরতর , কঠিনতর , জঘণ্যতম হল বিক্রমের আচরণ । এ বিক্রমকে ভামিনি কোনকালেই চেনে না । কোন অশরীরীর ছায়া যেন ভর করেছে বিক্রমের দেহে । অনেক বাকবিতণ্ডার পর পাষণ্ড বিক্রমের বিচারের বজ্রকঠিন রায় নির্ঘোষিত হল, এ ভ্রূণ নষ্ট করতে হবে । হাতে পায়ে ধরেও সিদ্ধান্ত থেকে টলানো যায় নি । আগামী পরশু দিন ধার্য হয়েছে রায় কার্যকরী করার । কোথায় যেন গেলেই চুকে যাবে ল্যাটা ,ঘুঁচে যাবে তৃতীয়বার কন্যাজন্মদানের পাপ !

এক পক্ষকাল ভামিনি যুঝেছে নিজের সঙ্গে । তার অন্তরেরে চিরকালীন ‘মা’ বিদ্রোহ করে উঠেছে । শাঁসিয়েছে তাকে ,থাপ্পড় মেরেছে কষিয়ে তার গালে । যে অমৃতের সন্তান আসতে চাইছে , যাকে আহ্বান করেছিলি ,সজ্ঞানে তাকেই হত্যা করবি ? প্রাণ নেবার অধিকার তোকে কে দিয়েছে ? যেখানে তোর হাত নেই তার দায় তুই নিবি কেন ? মরণের পরে নয় , এজন্মেই মানুষ পাতকী হয় । ধড়ফড় করে জেগে উঠেছিল গতকাল রাতে । ঘুমন্ত পৃথা ,কৃষ্ণার নিস্পাপ গালে হাত বুলিয়ে দিয়ে আবার জেগে শুয়ে ছিল । ভিতরের ভামিনি হুঙ্কার দিল , এ ভ্রূণ নষ্ট হতে দেব না , কিছুতেই না । এ আমার রক্তে গড়া শিল্প । আমার সম্পদ ।
রাত এখন শেষের পথে । ঝড়ো বাতাসের মাতামাতির আভাস মিলছে টিনের চালায় গাছের ডালের আঘাতের শব্দে । বৃষ্টি এখনো শুরু হয় নি । সেই ছোটোবেলায় এমনই আশ্বিনের কত ঝড়,কত কালবৈশাখীর ঝড় মনে গেঁথে আছে । এক আশ্বিনের প্রাতে ঝড়ের প্রকোপ এতই বেশি ছিল যে বারান্দার টিন খুলে নিয়ে ফেলেছিল ঘোষমামাদের উঠোনে । ভয়ে মায়ের বুকে লেপ্টে ছিল ভামিনি। না না ভামিনি তো নয় , ভানু ,আর দাদার আদরের ভীমা ! মা গো আমাকে আজ আর একবার বুকে লেপ্টে ধরো । আমি যে ঝড়কে ভীষণ ভয় পাই মা । সেবার কালবৈশাখীর ঝড়ে বৃষ্টি ছাড়াই ঝড়ো বাতাসে কচি আমের স্তুপ হয়ে গেল উঠোনময় । সিন্দুরী আর টুনু আমে উঠোন সবুজে সবুজ । বাতাসের দাপট কমতেই আম কুড়োতে গিয়ে কোঁচড় ভরার আগেই ভূতের ঢেলার মত শিলাবৃষ্টি ঝরতে লাগল । উঠোন হয়ে গেল সবুজাভ সাদা । একটু বাদেই ঝমঝমিয়ে বর্ষণ । সে কী দাপট বাতাস আর বৃষ্টির । হার মানতে কেউ রাজি নয় । মাগো , আজ আমার মনে যে ঝড় বইছে তার কাছে হার মানা যে আত্মহত্যার সামিল । সুজলকাকুর মেয়ে বকুল কাঁঠালগাছে ঝুলেছিল আর তুমিই তো বলেছিলে আত্মহত্যা মহাপাপ । আমি পারব না মা ডবল হত্যার দায় বইতে । বরং ‘ঝড়কে আমি করব মিতে,ডরব তার ভ্রূকুটিতে’ । মা , তোমার যে ছোট্টো ভানু বাজ আর তুফানের ভয়ে তোমার আঁচল টেনে টেবিলের নিচে ঢুকে যেত সেই ভানু , না না ভামিনি আজ ‘তুফান পেলে বাঁচি’।
প্রায় আট বছর আগে সেদিনও এমনি ঝড়ের প্রাদুর্ভাব ছিল । তবে সময়কাল ছিল সন্ধ্যা । কলেজ পড়ুয়া এক কিশোরী প্রাইভেট টিচারের বাড়ি থেকে ফেরার পথে পড়ল ঝড়ের কবলে । সন্ধ্যা নামার আগেই কালো মেঘে অকাল সাঁঝের রূপ । ভয়ে যাত্রী বিশ্রামাগারে একা বালিকা । ঝড়ের আভাসে পথ জনশূন্য । কড় কড়াৎ বাজ । বই চাপা দিয়েও বুকের ধুকপুক কমানো যাচ্ছিল না কিছুতেই । গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত শুরু হল বৃষ্টি । ভয়ের মাত্রা বাড়িয়ে এক বাইক চালক এসে জুটে বিশ্রামাগারে । বিদ্যুতের ঝলকে ট্যারা চোখে তাকিয়ে সুঠাম বলে মনে হতে ভয় আরও বেড়ে যায় । স্কুলের সংস্কৃত ক্লাশের পণ্ডিত বিনোদবিহারী কাব্যতীর্থের শ্লোক মনে এল, খল লোকের ক্ষেত্রে ‘বিদ্যা বিবাদায়,ধনং মদায়,শক্তি পরেষাং পরিপীড়নায়’ । যুবকই আগ বাড়িয়ে আলাপ করে ভয় কমিয়ে দেয় । আপাত বুঝিয়ে দেয় সে খল নয় , তার ক্ষেত্রে ‘জ্ঞানায় দানায় চ রক্ষণায়‘-ই ঠিক । মনে হয় ভরসা করা যায় । শেষে ঝড় কমতেই বাইকে চড়িয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয় যুবক । এভাবেই বিক্রমের সঙ্গে পথচলা শুরু । গল্পের মত , স্বপ্নের মত ।
আজ এই শেষ রাতেও বাইরে ঝড় এল বলে । তার চেয়েও তীব্র ঝড় ভামিনির মনে । খাটে সুপ্ত পৃথা আর কৃষ্ণা যেন ভামিনিরই দুই রূপ । ভয় হয় আরও বছর কুড়ি পরে ওরাই এক একটা ভামিনি না হয়ে উঠে । না , মায়ার পাশ তাকে কাটাতেই হবে । এই ঝড়ের আঁধারই যথোপযুক্ত । এ ভ্রূণকে বাঁচাতেই হবে । কোথায় যাবে সেটা পরের কথা । এ বেড়াজাল ছিঁড়তেই হবে । দরজা খোলে ভামিনি । ঠাণ্ডা বাতাস লাগে মুখে,চোখে । এতে মনের ঝড় থামে না । পেছন ফিরে তাকায় একবার , ক্ষণিকের তরে । চৌকাঠ পেরিয়েই দরজায় শিকল লাগিয়ে দেয় । সামনে পা বাড়ায় ঝড়ের বেগে এক ঝড়ের মধ্যে,আর এক ঝড়কে রুখতে ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement