লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - রমণী (ফেব্রুয়ারী ২০১৮)

ভ্রমণ সঙ্গি
রমণী

সংখ্যা

মোট ভোট ১০

মোঃ জিয়া উদ্দিন

comment ৩  favorite ০  import_contacts ১৪৫
জেবার চোঁখ হতে লোনা জল পড়ছে, দু'চোঁখ বেয়ে মুখে এসে পড়ছে লোনা জল।জেবা আপ্রাণ চেষ্টা করছে পানি ধরে রাখতে।সে বসে আছে বাসের জানালা গেঁসা সিটে। তার পাশের সিটে এক তরুণ বসে আছে। জেবা একটু পর পর লক্ষ্য করছে তরুণ তার দিকে তাঁকাচ্ছে কিনা।জেবা এমনি খুব শক্ত মেয়ে।জেবা যত চোঁখের জল কে থামাতে চাচ্ছে, ততো তার আরও বেশি কান্না পাচ্ছে।

পাশের সিটে বসা তরুণের বয়স জেবা থেকে চার পাঁচ বছরের বা তার চেয়ে কম।জেবা যখম তরুণের দিকে দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত করছে তরুণ তখন ইচ্ছে করে মুখ ঘুরিয়ে ফেলছে।
জেবা কে সুন্দরী না বলা গেলেও রূপবতী বলা যায়।শ্যাম বর্ণ গাত্র,দু'হাত, কান সম্পূর্ণ খালি। পড়নে জিন্স পেন্ট আর টপস্। দুটোর রঙ নীল।পেন্টের মাঝে ফুলের নকশা করা।টপসে সাদা ফুলের ছটা; পায়ের উপর খয়েরী রঙা ব্যাগ।
জানালা দিয়ে বাতাসের তীব্র ছটা জেবার চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। চশমার কারণে চোঁখ মুছতে কষ্ট হচ্ছে। জেবার মোবাইলে ফোন বেজে উঠলো।জেবা ব্যাগ হতে মোবাইল ফোন বের করে নেয়।মোবাইল স্ক্রিনে ফয়সালের নাম ভেসে উঠে,জেবা ফোনটা কেটে দেয়।কিছুক্ষণ পর ফয়সালকে ফোন দেয়।
- হ্যালো
অপর পাশ হতে কি বললো তা শোনা গেল না।
- হ্যাঁ, বেশ ভালো আছি ক্ষিণ কন্ঠে জেবা বলে,তারপর অস্পষ্ট সুরে কি বলে তা শোনা যায় না।
জেবা ফোন রেখে দেয়।বাতাসের ঝাপটায় কিনা জানি না, জেবা চোঁখ বেয়ে আবার লোনা জল গড়িয়ে পড়ে,জেবা হাতের দু'আঙুল দিয়ে তা মুছতে থাকে।
জেবা ' ডাটা সফট্' নামক একটা সফট্ওয়্যার ফার্মে চাকুরী করে।জেবা পরিবার সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় নি, তবে সে ঢাকায় একা থাকে; এবং তার ভরণ পোষনের দায়ভারও কারও নেই। আমরা নিশ্চয় তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থাটা আন্দাজ করে নিতে পারি।
বছর খানেক আগে জেবার সাথে পরিচয় হয় ' ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি অব আমেরিকা'য় পড়া ফয়সাল ইসলাম এর সাথে। সে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের ৪ র্থ সেমিস্টারে তখন অধ্যয়নরত।ফয়সাল দেখতে সুদর্শন না হলেও সুঠাম দেহের অধিকারী।গাত্র বর্ণ সাদা,মাথা ভর্তি চুল, গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, লম্বায় প্রায় ছ'ফুট।

জেবার সাথে ফয়সালের পরিচয়টা বৈচিত্রপূর্ণ নয়।জেবা আধুনিক হলেও যান্ত্রিক নয়।বর্তমান প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হলেও ফেসবুক বিষয়টা তার তেমন পছন্দ না। সারাদিন অফিস সেরে বাসায় ফিরে রান্না করে খেত হয় জেবার।দুপুরবেলার খাবারটা ক্যান্টিনেই সেরে নিত।আর সকালের নাস্তা করার মত সৌখিনতা তার মানায় না। তাই সকালে অফিসের লাল চা' তার ব্রেকফাস্ট।
একদিন দুপুরবেলা লাঞ্চ আওয়ারে জেবা ক্যান্টিনে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল।হঠাৎ পিছন হতে বলে উঠলো_

- মিস জেবা, আপনার সমস্যাটা কি বলুন তো?
- না... না কিছু না তো!
- না,.. না তা বললে তো আজ হচ্ছে না
- তবে?
- আপনি অফিসে আসেন, কারও সাথে কাজের বাহিরে কথা বলেন না, একা একা এক কোণায় বসে লাঞ্চ সারেন।না আমাদের কাউকে পছন্দ হয় না? জামিল তীব্র শব্দে হাঁসতে থাকে।
- না... না.. কি যে বলেন? জেবার মুখে হাঁসি ফুঁটে উঠে।
- আচ্ছা আপনার ফেসবুক আইডিটা বলুন তো?
- আমি তো, না মানে ফেসবুক আমার ঠিক পছন্দ নয়।
জামিল বড় বড় চোঁখ করে তাঁকিয়ে থাকে।এই সময়ে এসে কেউ যদি বলে ফেসবুক পছন্দ না, একটু অবাক হবারই কথা।
তারপর কিছুদিন জামিল আহমেদের সাথে জেবা চ্যাট করলেও কিছুদিন পর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

বেশ কিছুদিন পর জেবা ফেসবুকে প্রবেশ করে। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের জায়গাটা বোল্ড হয়ে আছে। এমনি যে জেবা কে অনেক ছেলে রিকোয়েস্ট পাঠায়,একসেপ্ট তো দূরে থাক একবার দেখাও হয় না,ফয়সালের প্রোফাইলটা দেখে কি মনে করে জেবা একসেপ্ট করে নেয়।
তারপর ধীরে ধীরে না খুব অল্প দিনের মাঝেই ফয়সাল জেবার সাথে দেখা করতে চায়।জেবার সাথে প্রথম সাক্ষাৎে ফয়সাল প্রেমের প্রপোজ করে বসে। জেবা না করতে পারে না।
এই না বলতে পারা, জেবাকে আজকের এই দিনে এনে পৌঁছিয়েছে।জেবা যখন বিয়ের স্বপ্ন দেখছে,ঠিক তখনই একদিন জেবার চোঁখে পড়েএকটি বাক্য 'তুমি দেখতে কি সুন্দর ' আর পাশে ভালোবাসার প্রতীক রক্তিম হৃদপিন্ডের ছবি!
ফয়সালের সম্পর্কে একসময় জেবা সব জানতে পারে।তার বহুগামিতা ধরা দেয় সরল জেবার মনে।

জেবা লক্ষ্য করে তার মাঝে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। সে বাধ্য হয়ে শেষ চেষ্টা করে।
রেস্তোরায় প্রবেশ করে জেবা দেখতে পায়, ফয়সাল আর অন্য একটি মেয়ে হাঁসছে। সে অনাগতের মত সেখানে এসে দাঁড়ায়।
- তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে
- হ্যাঁ বলো
- একটু একা বলতে চাই
অন্য মেয়েটি এবার ফয়সালের দিকে সরু চোঁখে তাঁকায়।
- এখানেই বলো
- তুমি আমাকে বিয়ে কর, করুণ ভাবে বলে উঠে জেবা।
- বিয়ে অসম্ভব! তুমি শুধু আমার বন্ধু,এর বেশি কিছু না।
জেবা সেদিন কত অনুনয় বিনয় করেছে।লজ্জা বিসর্জন দিয়ে ফয়সালের পা জড়িয়ে বলেছিলো, ' তোমার সন্তানের জন্য হলেও....'।

জেবার ছেলের নাম মুবিন।জেবা মোবাইল স্ক্রিনে ছেলের মুখে চুমু খায়।আনন্দে জেবার মুখ ঝল্ মল করছে।এক ফালি রোদ এসে জেবার গালে পড়ছে,চোঁখের পানি চক্চক্ করছে স্বর্ণের মত। তরুণ এক দৃষ্টিতে সেদিকে তাঁকিয়ে আছে; জেবা লক্ষ্য করলো কিন্তু কিছু বললো না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া
    মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া গল্পের বিষয়বস্তু সমসাময়িক হলেও গল্পের উপস্থাপনায় মুন্সিয়ানার কারনে গল্পটি পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে বাধ্য করে। ভালো লাগল গল্পটি। নবীন লেখক হিসেবে স্বাগত জানাই। লেখালেখিতে যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে। পছন্দ, ভোট ও শুভকামনা রইল ভাই। সময় পেলে আমার গল্প (ভয়...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ৫ ফেব্রুয়ারী
  •  মোঃ জিয়া    উদ্দিন
    মোঃ জিয়া উদ্দিন আপনার আশীর্বাদ আমার পাথেয় ।সবসময় পাশে থাকবেন আশা করি।
    প্রত্যুত্তর . ৬ ফেব্রুয়ারী
  • সাদিক ইসলাম
    সাদিক ইসলাম ভালো লাগলো। জেবার জীবন। সময় পেলে আমার গল্পে আসবেন।
    প্রত্যুত্তর . ১৮ ফেব্রুয়ারী

advertisement