লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ জুন ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

৪.২৪

বিচারক স্কোরঃ ২.৬৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - প্রশ্ন (ডিসেম্বর ২০১৭)

প্রশ্ন
প্রশ্ন

সংখ্যা

মোট ভোট ১৬ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.২৪

Asif Rumi

comment ১০  favorite ০  import_contacts ২৮২
গম্ভীর কিন্তু পরম শীতল একটা কণ্ঠ শোনা গেলো ঘরটাতে। ঘরটা নাতিশীতোষ্ণ বটে। তবে এই মুহুর্তে শীতলতা অনুভব করা যাচ্ছে কণ্ঠে ।

"অন্ধকারে ক্লীবত্ব বোঝা যায়না ।এই যে অন্ধকার ,এখানে সবাই শক্তিমান ।কেউ কারো চেয়ে হীন নয় ,ক্ষীণ নয় । তারপর ও কারো কিছু করার নেই ।সবাই বড্ড ক্লিব,এখন , এখানে ।সবাই সবাইকে অনুভব করতে থাকে তীব্র ভাবে ।তারপর ও এখানে অনেকে আছে ,খুব সম্ভবত কেউ নেই ।আসলে যে কোন কিছু হতে পারে ।কিছুই হতে পারে না ।কেননা অন্ধকার ।অন্ধকারে যে কোন কিছু হতে পারে ।
মহাবিশ্বের অধিকাংশ নাকি কৃষ্ণ বস্তু । তাই এটা বিচিত্র কিছু নয় ,চারপাশ অন্ধকার ।বরং অন্ধকারের শুণ্যতাই আলোক ।এটা ব্যতিক্রম ।এবং নিয়মের একটা অনিয়ম ।তোমরা কয়জন আছো বা কেউ আছো কীনা বা আদৌ একজন আছো কীনা ,সেটা হাইজেনবার্গের বেড়ালের মতন ।একই সাথে জীবিত ও মৃত ।
তবে আমি আছি ।দেকার্তের দার্শনিক সূত্রের মতন । "Cogito ergo sum ! অর্থাত I think ,therefore i am । হা হা হা হা হা ।তোমাদের এক একাধিক অস্তিত্বের উপর তোমাদের বর্তমান অস্তিত্ব নির্ভর করছে ।আমি বারবার তোমাদের শব্দটা ব্যবহার করছি ।এটা তুমিও হতে পারে ।এক বচন কিংবা বহুবচন ।এবং আমি তোমাদের দেখছি ,এই দেয়ালের ও দিক থেকে । অন্ধকারে ও দেখা যায় ।“
“ ঠিক ধরেছো , অবলোহিত আলোর ক্যামেরা ।আমি তোমাকে কিংবা তোমাদের দেখছি ।হা হা হা ।Big brother is watching you ! হা হা হা ।চমতকার প্রযুক্তি ।তোমাকে অথবা তোমাদের দেখছি ।নিয়ন্ত্রণ করছি ।তোমরা এখন ভয় পাচ্ছো ,কারণ আমি তোমাদের ভয় দেখাচ্ছি ।তোমরা হাসবে ,যখন আমি ভয় টা তুলে নেবো ।এই যে কল টেপা পুতুলের মতন ,আমি তোমাদের অথবা তোমাকে নিয়ণ্ত্রণ করছি ।তোমাদের চোখ বন্ধ ,মুখ বন্ধ , হাত পা বাঁধা ।কিন্তু তোমরা অনুভব করছো আমার নিয়ণ্ত্রণ ।এটাই তো সর্ব্বোচ্চ অনুভুতি ।মানুষ তো এটাই চায় ।নিয়ন্ত্রণ ,আধিপত্য ।ব্লাসফেমি বয়ে যাচ্ছে সবার ভেতরে ।মানুষ এভাবে ঈশ্বর হতে চায় ।যেমন, তোমাদের মৃত্যু এখন আমার নিয়ন্ত্রণে ,তোমার অথবা তোমাদের বেঁচে থাকাটাও ।অন্ধকারে তোমরা তোমাদের ক্লীবত্ব বুঝতে পারছো না ।কিন্তু তোমাদের মৃত্যু ,তোমার বা তোমাদের অস্তিত্ব ,এখন আমার হাতে ।খুব কৌতুহল হচ্ছে ,তাই তো ।তবে শোন ,তুমি বা তোমাদের তিনটে প্রশ্ন করা হবে ।ইডিপাসকে যেভাবে প্রশ্ন করেছিলো স্ফিংস ।তোমাদের উত্তর দিতে হবে ।সঠিক হতে হবে ।ভুল করতে পারবে না ।ভুল মানে মৃত্যু ।ঠিক হলে জীবন ।কোন বিকল্প উত্তর নেই ।অথবা ,দুটো উত্তর ।জীবন না হলে মৃত্যু ।
তিনটি কাগজে তিনটি প্রশ্ন। নিচে উত্তর দেয়ার স্থান। প্রশ্নগুলো পড়ে শোনাচ্ছি ।
প্রথম প্রশ্ন।
এক লোক ঘরে বসে আছে।তার স্ত্রী তাকে বললো ,এই বয়সে ঘরে বসে থাকতে লজ্জা করেনা ,যাও গন্জে যাও ,বাজার করে আনো। দুই দিন ধরে না খেয়ে আছি। আজকে যেভাবে হোক বাজার করে আনো। না হলে দুই জনেই মারা যাবো ।ব্যাস ঝগড়া লেগে গেলো ।লোকটি ঘর থেকে বের হয়ে গেলো ।গন্জে যাবার পথ ধরলো ।ঘর থেকে বের হয়ে ব্রিজের উপর ওঠার আগেই ব্রিজটা ভেঙ্গে পরলো ।অতঃপর ব্রিজের ঠিকাদারের মা বাপ ধরে গালি দিয়ে সে উঠে পড়লো নৌকায় ,কিন্তু বিধিবাম ,নৌকায় কিছুদূর যেতে না যেতেই তলা গেলো ফুটো হয়ে ,অতঃপর কোনমতে সাঁতরে সলিল সমাধি এড়িয়ে সে উঠে পড়লো ।এবার বনের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে থাকলো ।বনে শিকার করছিলো একদল শিকারি । লোকটা শিকারিদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেললো ।তার গায়ে ছিলো ডোরা জামা ।যেটা সে পরে চলে এসেছিলো ঘর থেকে বের হয়ে চলে আসার সময় ।শিকারী ডোরা জামা দেখে ভুল করে লোকটাকে জানোয়ার মনে করে গুলি করে বসলো ।লোকটা মারা গেলো ।প্রশ্ন হচ্ছে ঘর থেকে বন পর্যন্ত কোন ঘটনাটি কোন ঘটনা নিশ্চিত ভাবে এড়ানো গেলে ,লোকটি তার মৃত্যুও এড়াতে পারতো নিশ্চিতভাবে?

দ্বিতীয় প্রশ্ন।
একটি ট্রেনে একটি কামরা ।দুই জন উঠবে ।কিন্তু শর্ত হচ্ছে কেউ কারো নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করবেনা ।দুই জন উঠলেন ।একজন হচ্ছেন পরমতসহিষ্ণু কট্টর লিবারেল ।ব্যাক্তি স্বাধীনতার চর্চায় জান দেবেন ।আরেক জন উঠলেন ।তিনি একজন ক্যানিবাল ।অর্থাত মানুষের মাংশ খেয়ে বাঁচেন ।ট্রেন চলতে শুরু করলো ।দুপুর গড়াতেই নরভোজীর খিদে পেয়ে গেলো ।সে পরমসহিষ্ণু লোকটির দিকে চকচকে চোখে দেখলো ।পরসহিষ্ণু লোকটি শিউরে উঠলো ।তখন নরভোজী তার দিকে তাকিয়ে বললো ,আমি তোমাকে খাবো ,এটা আমার বৈশিষ্ট্য ,অধিকার ।কেননা আমি নরমাংস খেয়ে বাঁচি ।কিন্তু তুমি বাধা দিতে পারবেনা ।কারণ তোমার ধর্ম পর সহিষ্ণুতা ,সহনশীলতা ।তাই তোমাকে যখন ছুরি দিয়ে কেঁটে কেঁটে খাবো ,তখন তোমার সেটা সইতে হবে ।হা হা হা ।
প্রশ্ন হচ্ছে ,সহনশীল লোকটিকে বাঁচানো যায় কিভাবে ?
এবং তৃতীয় প্রশ্ন।
একটি একটি ট্রেন নিয়ন্ত্রণ হীন ভাবে চলছে। দুইদিকে যেতে পারবে। একদিকে গেলে সেদিকের রেললাইনে পাঁচশো শিশু খেলছে তারা মারা যাবে কিন্তু ট্রেনের পাঁচশো যাত্রী বেচে যাবে। অপর দিকে গেলে পাঁচশো যাত্রী বাচবেনা। কিন্তু পাঁচশো শিশু বেচে যাবে। ট্রেনটি সয়ংক্রিয়ভাবে চলছে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায়, কিন্তু মানুষ নির্দেশ দিলে তা মান্য করে বটে। ট্রেনের বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী ট্রেন পাঁচটি শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করলো, পাঁচশো যাত্রী র প্রাণ বেচে গেলো। কিন্তু পাঁচশো শিশু হত্যাকান্ডের দায়ে মামলা হলো ট্রেন কোম্পানি র বিরুদ্ধে। কোম্পানি পক্ষ বললো, পাঁচশো মানুষ এর একজন আদেশ দিলেই তো ট্রেন এর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা তা মেনে নিতো, কিন্তু তারা কেউ আদেশ দেয়নি, ট্রেন কে থামতে বলেনি । অতএব দায় ট্রেনের যাত্রী দের। বিচারক পরে গেলো দ্বিধায়। কাকে শাস্তি দেয়া যায় ? কতজন কে ?
প্রশ্ন হচ্ছে, দায় কার?
উত্তর লেখার জন্য , তোমার অথবা তোমাদের হাতের বাঁধন খুলে দেয়া হচ্ছে।
না পারলে মৃত্যু। সময় তিন ঘন্টা। তিন ঘন্টা পর কাগজে ঠিকঠাক উত্তর দিলে বেচে যাবে তোমরা অথবা তুমি, যেই আছো বা যারা । না হলে এই কোল্ট এর তিনটে কোল্ড বুলেটে তোমাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হবে। হা হা হা। “
সময় শুরু হয়ে গেলো ।
তিনঘণ্টা পর।
তিনটি গুলির শব্দ শোনা গেলো।
অন্ধকার কেটে গেলো। আলো জ্বলে উঠলো।
পুলিশ আসলো। তিনটি কাগজ পাওয়া গেলো। তাতে তিনটি প্রশ্ন।
লাশ পাওয়া গেলো , একটি ।
দুই পাশের দেয়ালে দুটি বুলেট।
একটি বুলেট, একটি লাশের মগজে , প্রশ্নবোধক হয়ে গেঁথে রইলো।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • প্রজ্ঞা  মৌসুমী
    প্রজ্ঞা মৌসুমী লিখেই যদি আনবে তবে প্রশ্ন আর মুখে বলা কেন ব্রাদার? উত্তর লেখার জায়গা অথচ অন্ধকার। আলো যখন জ্বললো তখন কাগজে উত্তর ছিল কিনা বলা হলো না •••পুরো গল্প জুড়ে এক আশ্চর্য প্রহসন। প্রশ্ন এবং শেষটা ছিল অনবদ্য। শেষের প্রশ্নে পাঁচ-পাঁচশোতে একটা গড়মিল আছে। গল্পের ভা...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১ ডিসেম্বর, ২০১৭
    • Asif Rumi ধন্যবাদ পড়ার জন্য। পাচ পাঁচশো টাইপিং মিসটেক ছিলো। আসলে গল্পের ব্যাখ্যায় আমি পাঠকের স্বাধীনতা য় বিশ্বাসী, তবে গল্পের শেষ লাইন টা খুব জরুরী ;) সেটা বুঝলে অন্ধকার এবং আলোর ব্যাপার টা আসলে পরিষ্কার হয়ে যাবে আশা করি। :) ভালো থাকবেন :)
      প্রত্যুত্তর . ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • মুশফিক রুবেল
    মুশফিক রুবেল বেশ ভাল লাগলো , শুভ কামনা রইলো , সময় পেলে আমার গল্পটি পড়ার অনুরোধ রইলো
    প্রত্যুত্তর . ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • মোঃ মোখলেছুর  রহমান
    মোঃ মোখলেছুর রহমান বেশ জটিল ভাবনা,অনেকটা ডিটেক্টিভ ধর্মী,ভাল লাগল।
    প্রত্যুত্তর . ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭
    • Asif Rumi জটিল ভাবনা হা হা। জটিল কীনা জানিনা তবে চেয়েছি দর্শনের তিনটে প্যারাডক্স কে তুলে ধরার, কতটুকু পেরেছি জানিনা। পড়ার জন্য অসং্খ্য ধন্যবাদ :)
      প্রত্যুত্তর . ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • সাদিক ইসলাম
    সাদিক ইসলাম ভালো লাগলো। ডিটেকটিভ গল্প। আমার গল্পে আমন্ত্রণ
    প্রত্যুত্তর . ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
  •  মাইনুল ইসলাম  আলিফ
    মাইনুল ইসলাম আলিফ ভিন্নধর্মী একটা গল্প পড়লাম।বেশ ভাল লাগলো। আমার পাতায় আমন্ত্রণ।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া
    মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া উপস্থাপনায় নূতনত্ব রয়েছে... ভালো লাগল... ধন্যবাদ
    প্রত্যুত্তর . ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী চমৎকার একটি গল্প এবং ভাবনাদায়ক, কিন্তু বানান গুলো পাঠককে বিরক্ত করে ফেলবে। পুরোটা গল্প পড়ে শেষের দিকে এসে উত্তর পাবো মনে করেছিলাম, কিন্তু তা আর হলো না। গল্প লিখতে আগ্রহ জেগেছেন, প্রশ্নও করেছেন, কিন্তু উত্তরের কাছে এসে কেন সমাপ্ত করে দিলেন? গল্পের ইতিবাচকও...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক গল্পই তো...একটু ভিন্নস্বাদের...ভালো লাগলো...
    প্রত্যুত্তর . ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ওয়াহিদ  মামুন লাভলু
    ওয়াহিদ মামুন লাভলু ডোরা জামা গায়ে দেওয়ার কারণে লোকটি শিকারিদের হাতে মারা গেল। লোকটি যাতায়াতের পথে কোনো ঘটনা এড়াতে পারলে সে তার মৃত্যুকে এড়াতে পারত কিনা এটা একটা সঙ্গত প্রশ্ন। আরো অনেক প্রশ্নই গল্পে উত্থাপিত হয়েছে। অনেক ভাল একটা গল্প। শ্রদ্ধা জানবেন। শুভেচ্ছা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • Farhana Shormin
    Farhana Shormin গল্পটি ভাল লেগেছে
    প্রত্যুত্তর . ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

advertisement