গল্পের বিষয় "পার্থিব" । অর্থাৎ এমন কোন গল্প লিখতে হবে যা পৃথিবীর সাথে সম্পর্কিত । যা জাগতিক । "রাজু" গল্পটি পার্থিব বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বলে আমি মনে করি কারন এখানে রাজু নামক লোকটির জাগতিক বিভিন্ন বিষয়কে উপস্থাপনের ক্ষুদ্র চেষ্টা করা হয়েছে
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

২.২৮

বিচারক স্কোরঃ ১.২৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - পার্থিব (আগস্ট ২০১৮)

রাজু
পার্থিব

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.২৮

sk sabbir

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৮২
আজ চোখ দুটো ছল ছল করছে । জমানো কিছু লোনা পানি নিচে গড়িয়ে পরছে যেন নিজ ইচ্ছায় । চোখের মতো আস্তে আস্তে বেদনায় বুক ভারী হয়ে উঠছে । বেঁচে থাকা অবস্থায় চোখের পলকে যেন এক একটি সময় ফরিদের সাথে পার করেছে রাজু । যখন রাজু এস এস সি পরীক্ষায় ফেল করে দুঃখে ভারাক্রান্ত মনে নদীর পাড়ে বসে বসে ভাবছিল আর কখনো সে তার মুখ কাউকে দেখাবে না । তখন সেই দুঃখের মুহূর্তে ফরিদ ভাই তার পাশে ছিল । তাকে সান্তনা দিয়েছেল । বুঝিয়েছে ফেল করা মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয় । বরং নতুন উদ্যমে আবার শুরু করা । আর যখন অনেক চড়াই উৎরাই পার করে করে রাজু ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেল তখন ফরিদ ভাইয়ের আনন্দ আর দেখেকে । মনে হচ্ছিলো যেন তিনি আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন । কিন্তু আজ এসবের কোন কিছুরই দাম নেই রাজুর কাছে ।
হসপিটালের বেডে শুয়ে শুয়ে রাজুর হাত ধরে ফরিদ ভাই বলেছিল আমার কথাগুলো মনে রাখবি যদি আমি মরে যাই । যখন আমি চলে যাব সেই নিরব ভুমিতে যেখানে কেউ কোন শব্দ করতে পারে না তখন আমার কথা মনে রাখিস । রাজুকে শক্ত করে ধরে বলেছিল দিন যতই গড়াক না কেন আমাকে ভুলিস না যেন । তার শেষ কথা ছিল আমার জন্য দোয়া করিস । আহ! কত দিনই তার সাথে হাসি আনন্দে দুঃখে কষ্টে কাটিয়েছি । আজ সে সব মনে পড়লে মন বিষণ্ণ হয়ে যায় । চোখের পাতা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে ওঠে । বুকের মধ্যে চিন চিন ব্যথা শুরু হয় ।

রাজু যাদেরকে এক এক করে নিজের জীবনে আপন করে নিয়েছে তারা সবাই তাকে ছেড়ে চলে গেছে । কিন্তু তার নিজের জীবন থেমে থাকি নি । আপন গতিতে তা ছুটে চলেছে । প্রতিবারই সে কষ্ট পেয়েছে । হৃদয় কষ্টে ভারাক্রান্ত হয়েছে ।


আসলে জীবন কখনই কারো জন্য সহজ নয় । রাজুর জন্যও নয় । কখনো সহজ হয় নি । সহজ ছিল না । জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সে সংগ্রাম করেছে । এক এক সময় সে এক এক ধরনের কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হয়েছে । কিন্তু তাতে যেন সময়ের কিছু আসে যায় না । সে নিজের মতো করে প্রবাহিত হচ্ছে হতে থাকবে ।

রাজু নিজের পায়ে নিজে দাড়াতে শিখেছে । কিভাবে দুঃখ কষ্ট ভুলতে হয় তাও সে শিখেছে । কখনো কোন গভীর রাতে যখন তার কারো কথা খুব মনে পড়ে তখন সে তার চোখকে লোনা পানিতে ভাসিয়ে দেয় কিছুক্ষনের জন্য ।

এখন রাজুর বৃদ্ধ বয়স । তার কাছে অনেক কিছুই এখন পরিস্কার । খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সে বুঝতে পেরেছে । আর তা হলো বেঁচে থাকার জন্য সকলকে প্রয়োজন নেই । এখন সে অনেক ভালো বোধ করে । সে এইভাবে চিন্তা করে অনেক খাবারই আমি বানাতে পারতাম না । কিন্তু কিনে খেতে পারতাম । অবশ্য সে এখনও কিনে খায় যা সে বানাতে পারে না ।

চিন্তা ও ভয় যা তার প্রতিটি দিনের নিত্য সঙ্গি ছিল । তা থেকে আজ সে মুক্ত । এক সময় এই চিন্তা ও ভয় থেকে সে মুক্তি পেতে চাইতো । কিন্তু মুক্তি পেত না । বরাবরই কোন না কোন ভাবেই নতুন কোন এক চিন্তা আর ভয় তাকে গ্রাস করত । কিন্তু আজ রাজু খুব আনন্দিত সে সব ধরনের চিন্তা ও ভয় থেকে মুক্ত । জীবনের প্রীতিটি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে রাজু আস্তে আস্তে শিখে গিয়েছিল কিভাবে চিন্তা ও ভয় থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হয়। প্রতিটি মানুষই হয়তবা এইভাবেই শেখে । সময়ের সাথে সাথে শেখে ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement