বিষয়টা অবশ্যই ভৌতিক গল্পের উপর ভিত্তিক। গল্পে হেলোইন উপলক্ষে একটা গল্পের আসর বসে। সেই গল্পগুলো একইসাথে ভৌতিক ও অদ্ভুত। অদ্ভুত ও আধিভৌতিক ঘটনায় গল্পগুলো সমঞ্জপূর্ণ। আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ নভেম্বর ২০১৮
গল্প/কবিতা: ২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ভৌতিক (ডিসেম্বর ২০১৮)

এক হেলোইনের রাত
ভৌতিক

সংখ্যা

Mahin Iqbal

comment ১  favorite ০  import_contacts ২৬
ওই মাহিন, জানিস পরশুদিন হেলোইন?
হেলোইন? তুই কবে থেকে হেলোইন সম্পর্কে খবর রাখতে শুরু করেছিস? আমি আর অহনা স্কুল ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে বসে কফি খাচ্ছিলাম আর ফিফথ পিরিয়ডে যে টেস্ট হবে সেটার প্রেপারেশন নিচ্ছিলাম। হঠাৎ অহনা হেলোইন সম্পর্কিত একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।
“কেন খবর রাখব না। এক সপ্তাহ আগে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুললাম। খুলেই যত নিউজ পেজ আর এভেঞ্জার ফ্যান ক্লাব আছে তার সবগুলো পেজ ফলো করলাম। এখন দুনিয়ার খবর জানি।
“বেশ" আমি বললাম, “ তো কি বলছিলি হেলোইন সম্পর্কে?
“পরশুদিন হেলোইন তো, এই উপলক্ষে আমি আমার বাসায় একটা পার্টি দিতে চাচ্ছি। আমরা শুধু ফ্রেন্ডসরা করবো। পার্টির মেইন পয়েন্ট হবে হেলোইনের রাতে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে গল্প বলার।
একটা ছোটখাটো আসর। শুধু শুধু গল্প না, ভুতের গল্প।
“আইডিয়াটা খারাপ না। আমি একটু থেমে বললাম, “তবে এই মুহূর্তে আমি এই আইডিয়াতে ভেটো দিচ্ছি। সামনে ফাইনাল পরিক্ষা। এই ব্যাপার আমাদের একটু সিরিয়াস হতে হবে।”
অহনা রেগে গিয়ে বলল, তোর সিরিয়াসের গুষ্টি কিলাই। তুই একা মানুষ নাকি যাকে ফাইনাল পরিক্ষা দিতে হবে? তোর মতো মহান ছাত্রের এই এক সমস্যা। পড়াশোনা ছাড়া কিছু বোঝে না।” রাগ ও তাচ্ছিল্যের সাথে কথাটা বলল অহনা।
“চালিয়ে যাও, স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া শুনতে মজাই লাগছে। “ দেখলাম ওই পাড়ে মুখ করা একটা চেয়ারে বসে সিমন এই কথাটা বলল। অহনা রেগে গিয়ে বলল, “ সিমন তোর এত বড় সাহস বলিস স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া! দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা।“ বলেই অহনা সিমনকে ধরার জন্য উঠে দাঁড়াল আর তার সে পগার পার। “ব্যাটার বেশ সাহস হয়েছে দেখি।* অহনা ঝাঁঝ নিয়ে কথাটা বলল।
“ একটা কাজ কর অহনা, ব্যাটাকে ধরে আনো তারপর ক্লাসের সবাইকে তোমার প্ল্যানিংটা বলে আস। সবাই যদি সাপোর্ট দেয় আমিও দিব।” বলেই আমি প্রেপারেশন নোটগুলোর দিকে চোখ বুলাতে লাগলাম।
যেটা ভাবছিলাম সেটাই হলো। অহনার প্ল্যান শুনে ক্লাসের চল্লিশজনের মধ্যে উঞ্চল্লিশজনই লাফাতে লাফাতে সাপোর্ট দিল। তবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, দেখা যাবে কাজের বেলায়
ঊনচল্লিশজনের মধ্যে উনচল্লিশজনই ঝরে পড়বে। হয়তো কারো জ্বর, কার পেটে ব্যথা,কেউ পরিক্ষার জন্য ব্যস্ত আবার কেউ মায়ের আদেশ পালন করতে গিয়ে যাওয়ার কথা বাদ দিল। কয়েকজনকে দেখলাম পার্টিটা কিভাবে সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করা যায় সেতার সাজেশন দিচ্ছে। যেমন ধারা বল্ল,”অহনা এই পার্টিটা বাড়িতে না করে একটা রেস্টুরেন্টে কর। তাহলে ভুতের গল্প আর খাওয়ার ব্যাপার দুটাই জমবে।” ধারা ক্লাসের এন্টু মোটা মেয়ে মানুষ তো, তার মুখ থেকেই এরকম কথা বের
হতে পারে। ফারহান আবার বলল," পার্টিটা আমার থিম ওমর প্লাজায় করা যায়। সেখানে হেলোইন উপলক্ষে একটা স্পেশাল স্টল তৈরি করা হয়েছে।”
থিম ওমর প্লাজা রাজশাহীতে নতুন একটি কনভেনশনাল মার্কেট। ফারহানের বাপের সেখানে একটা শেয়ার আছে তো, তাই ফারহান মনে করে সেটা তার নিজের কনভেনশনাল মার্কেট। অহনা বলল,” দেখি একটু চিন্তাভাবনা করি।”
সিমন শুধু দাঁত বের অহনাকে বলল,” তোর চিন্তাভাবনাকে তোর বিশেষ অংশে ঢুকানো হবে "| এই বলেই সে ছুটে পালালো এবং তার পিছে একদল ছাত্রছাত্রী ছুট লাগালো তাকে ধরতে। সিমন বিশেষ অংশ বলতে কি বুঝাচ্ছে আল্লাহ্ই জানে। পরেরদিন আমি একটা মেসেজ পেলাম অহনার কাছ থেকে। সে লিখেছে
Halloween Special Party Location: Theme Omar Plaza Reporting time: 8:00 pm
You're kindly invited
-
Mandatory: Each guest have to be acknowledge with a
story related
To ghost or something.

তো পরিশেষে সে একটা পার্টির আয়োজন করেই ছাড়ল। প্রত্যেকজনকে আবার ভূতের গল্প বলতে হব। আমার স্বভাব পরিক্ষার ঠিক তিন সপ্তাহ আগে আগে নিজেকে অসামাজিক বলে প্রতিষ্ঠিত করা এই।
প্রতিষ্ঠার জন্য পরিক্ষার আগে আগে কোন পার্টিতে আমি যাইনা এবং সব বন্ধুদের সাথে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখি। কিন্তু অহনার পার্টিতে যেতে হবে, কারণ এই মেয়েতার জন্য আমার মনে।
একটু দুর্বলতা আছে। যাই হোক এখন সমস্যা হল মা কি আমাকে যেতে দিবে। পরিক্ষার আগে আগে আমাকে কোথাও যেতে দেয় না।
মা রান্নাঘরে কাজ করছিল। আমি গিয়ে মাকে বললাম,” মা বুঝলা কালকে হেলোইন ।"
মা রান্না করতে করতে বলল,” হেলোইন আবার কি?"
“ওই যে ওয়েস্টার্ন দেশগুলোতে এই দিনে ছেলেপেলেরা বাড়ি বাড়ি যায় আর বলে ট্রিক ওর ট্রিট। তাদের পরনে ভূতের সাজ থাকে। ”
মা বলল” আমি তো যতদূর জানি হেলোইন ওসব দেশ থেকে উঠে গেছে। ”

“কেন উঠে গেছে মা?” আমি প্রশ্ন করলাম।
“এই দিনে আমেরিকায় একবার লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলো। ভূতের কস্টিউম পড়ে এদেশের টেররিস্টরা লক্ষ লক্ষ আমেরিকানদের মেরে ফেলেছিল।”
“তাহলে হেলোইন জিনিসটাতো খুব ভয়ংকর!”
“আরে ওসবতো পুরানো ঘটনা।“ বলল মা,”তুই যেন কি বলছিলি?”
“না...মানে ইয়ে আমার ক্লাসের একজন বন্ধু হেলোইন উপলক্ষে একটা পার্টি দিয়েছে থিম ওমর প্লাজায়। আমি কি সেখানে যেতে পারি?"
মা বলল,” মানে? আর কয়েকদিন পর তোর ফাইনাল পরিক্ষা আর তুই এখন পার্টিতে যাবি?”
আমি বললাম,”মা পরিক্ষা তো তিন সপ্তাহ পর। আর একদিন পড়াশোনা না করলে কিছি হবে না।”
“নো নো এই পরিক্ষার মধ্যে নো পার্টি। হাফ ইয়ারলি পরিক্ষায় খারাপ করেছিস কিন্তু এই পরিক্ষায় ভালো করতে হবে। ”
আমি বললাম,” কই খারাপ করেছি? পুরো ক্লাসে থার্ড হয়েছি। ”
মা বলল,” এবার ফার্স্ট হতে হবে। তারপর আমি বলব তুই ভালো করেছিস।
“আচ্ছা ঠিক আছে।” আমি বল্লাম,”তাহলে আমি একটা কাজ করি। কাল রাত আট টার সময় পার্টি। সকাল আত টার সময় যদি আমি উঠে টানা বারো ঘণ্টা পড়াশোনা করে রাতে পার্টিতে যাই।”
“ এই কাজটা করতে পারিস।” মা বলল,” তুই যদি টানা বারো ঘণ্টা পড়তে পারিস তাহলে তোকে যেতে দিতে পারি। *
“সমস্যা নাই। কাজ হবে।” বললাম আমি।
ঘরে এসে ঢুকলাম। সত্যিই আমার সমস্যা নাই। পারমিশন পেয়ে গেছি। আর ব্যাপার কি? শর্ত হিসেবে টানা বারো ঘণ্টা পড়াশোনা করতে হবে। আমার সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৮ ঘন্টা পড়াশোনা। তো এই শর্ত আমার কাছে দুধ ভাত ।

8:30 pm Theme Omar Plaza
ভূতের গল্পের বেশ কয়েকটা স্টক নিয়ে থিম ওমর প্লাজার তিন তলায় ফুড কর্নারে হাজির হলাম। থিম ওমর প্লাজার তিন তলার ফুড কর্নার ছিলো সাদামাটা একটা জায়গা। রাজশাহীতে যত রেস্টুরেন্ট ছিলো তার প্রত্যেকটির একটা ব্রাঞ্চ এই ফুড কর্নারে আছে। আজকে দেখি ফুড কর্নারের মাঝখানে যেখানে মাস্টার সেফের স্টল ছিলো সেটা হয়ে গেছে হেলোইন স্পেশাল পার্টি স্টল। সেখানে দেখলাম
লম্বা লাইন। আমি লাইন এড়িয়ে ঢুকতে যাচ্ছিলাম তখন আমাকে এক সিকিউরিটি গার্ড জিজ্ঞেস করলো, আপনার কি এখানে কোন রিসার্ভেশন আছে? যদি না থাকে তাহলে লাইনে গিয়ে দাঁড়ান। আমি বললাম,”দাঁড়ান একটু চেক করে দেখি।” বলেই অহনাকে ফোন দিলাম।
অহনাঃহেলো মাহিন, কোথায় তুই? সবাই চলে এসেছে।
আমিঃতার আগে বল তুই কোথায়?
অহনাঃকেন? হেলোইন স্পেশাল পার্টি স্টলে যেখানে আগে মাস্টার সেফ রেস্টুরেন্টের স্টল ছিলো।
আমিঃওহ! আমি সেখানেই ঢুকতেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু সেখানকার সিকিউরিটি গার্ড বলল রিজার্ভেশন ছাড়া ঢুকতে দিবে না।
অহনাঃআরে রিজার্ভেশন আছে তো! তুই সিকিউরিটি আংকেলকে বল ডক্টর খর পার্টিতে যেতে চাই।
আমিঃ ডক্টর খটা কে?
অহনাঃ ফারহানের বাপের নাম খ। উনিই তো এই রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা করে দিলেন।
আমিঃও, ঠিক আছে আমি আসছি। ফোনটা রেখে আমি সিকিউরিটি গার্ডকে বললাম,”খ আংকেলের একটা রিজার্ভেশন আছে। সেখানে যেতে চাই।”
“ওহ আপনি খ স্যারের মেহমান!"সিকিউরিটি গার্ড বলল,” যান ভেতরে যান।”
ভিতরে গিয়ে তো আমার চক্ষু চড়খগাছ! স্টলের ভিতরে একটা অন্ধকার আর ভুতুড়ে ভাব। প্রত্যেকটা
টেবিলে একটা করে পাম্পকিন যেটাকে বাংলায় বলে কুমড়া। কুমড়াগুলো দেখতে বীভৎস। কুমড়াটার। বড় একটা হাসি হাসি মুখ আর দুটা কুতকুতে চোখ, যেখান থেকে মোমবাতির আলো বের হচ্ছে। ভিতরে মোমবাতি আছে বোধহয়। পুরো স্টলে একটা ভূতুড়ে মিউজিক বাজছে। আপাতত দৃষ্টিতে যেটা সবচেয়ে ভয়ংকর সেটা হলো ওয়েটারগুলো ভূতের বেশে আর বীভৎস একটা মুখোশ পরে খাবার সার্ভ করছে আর কাস্টমারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। কাস্টমাররা মনে হয় এতে খুব মজা পাচ্ছে। আমি একটা ভূতের মুখোশ পরা ওয়েটারকে বললাম,” একটু বলেন তো ডক্টর খর রিজার্ভেশনটা কোথায়?" ওয়েটার যথাসম্ভব গম্ভীর ও ভুতুড়ে গলায় বলল,” আসেন আমার সাথে। আমি ওয়েটারের পিছন পিছন আসছি। সে আমাকে একটা দরজা দেখিয়ে দিলো যেখানে লেখা। ফেমিলি কর্নার। দরজাটা খুলতেই একটা টেবিলে বীভৎস দেখতে একটা কুমড়াকে ঘিরে বসে আছে আমার বন্ধুগণ। বন্ধুগণের মধ্যে অবশ্যই রয়েছে অহনা, ক্লাসের সবচেয়ে পাজি ছেলে সিমন,ফারহান আর জন নামে একটা ছেলে যে মনে হয় মাক্সিকভাবে একটু অসুস্থ। সে কয়েকমাস হলো নতুন এসেছে
আমাদের স্কুলে। খাঁটি আমেরিকান একসেন্ট। বাংলায় তেমন দখল নাই। সে কখনো আমাদের সাথে তেমন কথা বলে না। গম্ভীর মুখে লেকচার শুনে আর টিফিন টাইমে যখন সবাই ছুটাছুটি করে ফুটবল খেলে তখন সে লাইব্রেরিতে গম্ভীর মুখে বই ঘাঁটাঘাঁটি করে। অহনা এরকম একটা বিরক্তিকর ছেলেকে কোন আক্কেলে ইনভাইট করেছে আল্লাহই জানে।
সিমন উল্লাসিত স্বরে বলল,”আরে বস, তোর তো দেখি হেভি টাইমিং! আমাদের খাওয়াদাওয়া সব শেষ প্রায়।
ফারহান বলল,” আরে না, খাওয়া শেষ কোথায়? এখনো ফ্রাইড রাইস আসেনি?” বলেই সে একটা হাই তুলল।
আমি বললাম,”তো আমি মনে হয় বেশি দেরি করি নি।” অহনা বলল,”ফর ইওর ইনফর্মেশন আমি বলে রাখি ৩০ মিনিট দেরি তেমন কিছু না বলেই সবাই হাসতে লাগলো। পরিবেশটা আনন্দজনক।
আমি অহনাকে বললাম,”আরে এত কম মানুষ কেন অহনা?”
অহনা কিছু বলার আগেই সিমন বলল,” আরে মাহিন জানিস না, হেলোইনে ভূতের ভয়ে পুলাপানদের পাতলা পায়খানা শুরু হয়ে গেছে তাই কেও আসে নি।” এই কথাতেও সবাই হাসতে শুরু করলো। শুধু অহনা বলল,” আর বলিস না,সবাই একদম লাস্ট মুমেন্টে বলছে তারা আস্তে পারবে না। কেও পরিক্ষার জন্য সিরিয়াস আবার কেও কেও তাদের গার্জেনের জন্য আস্তে পারছে না। অবশ্য এস এক্সপেক্টেড।
সিমন বলল,” তাহলে আমি ভূতের গল্প শুরু করি, কি বলিস তোরা?"
আমি চেয়ারে বসতে বসতে সায় দিলাম, ঠিক আছে, শুরু কর।”

তারপর সিমন যে গল্পটা শুরু করলো সেটার সারসংক্ষেপ এরখমঃ -

“বুঝলি, অনেক দিন আগের কথা। আমার পেটে হয়েছে আলসার। ঠিকমতো কিছি খেতে পারি
,পেটে সবসময় ব্যথা হয়। একবার শুনি কেও বলছে,এই সিমন, তুই আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস? আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমার আশেপাশে কেও নেই। কে কথা বলবে? তারপর আর কিছু শুনতে পাই নি। ভাবছিলাম আমার ভ্রম হয়েছে তাই সেটার কথা ভুলে গেলাম। তারপর আরেকদিন গভীর রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল পেটে ব্যথার কারণে। ঘুম থেকে উঠে একটা পেইন কিলার ট্যাবলেট খেলাম।। সাথে সাথে এমন পায়খানা চাপলো যে বলার মতো না। বাথরুমে যেয়ে পায়খানা করতে বসতেই শুনলাম কে যেন বলছে, না না না পায়খানা করা বন্ধ কর,বন্ধ কর। আমি তো হতভম্ব। তার সাথে বেশ ভয়ও পেয়েছিলাম। এই মাঝরাতে অপরিচিত গলায় কে কথা বলে? আমি বললাম কে কে? সেই গলাটা বলল,"তুমি আমাকে চিনতে পারছ না? আমি তোমার আলসার। আমি এমন ভয় পেলাম যে বাথরুম
থেকে ঝেড়ে দৌড় মারলাম আর তারপর অজ্ঞান হয়ে গেলাম। সকাল্লো দেখি আমি হাস্পাতালের একটা বেডে শুয়ে আছি। একটা নার্স চিৎকার করে বলল,”রোগীর জ্ঞান ফিরেছে,রোগীর জ্ঞান ফিরেছে। তারপর দরজা ঢেলে একটা ডাক্তার আসলো আর আমার চোখ টেনে, পালস পরিক্ষা করে বলল,” ভেরি গুড ইয়াং ম্যান, তুমি পুরোপুরি রিকভার করেছ। তোমার এপেন্ডিক্স অপারেশান সাক্সেস্ফুল! “ আমি বললাম, "এপেন্ডিক্স অপারেশন?"
“ইয়েস ইয়াং ম্যান। ডাক্তার হাসি মুখে বলল," কাল রাতে তোমাকে নিয়ে সেছিলো তোমার বাবা মা। তুমি বলে বাথরুম থেকে চিৎকার করে বের হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলা। তোমাকে পরিক্ষা করে দেখি তোমার এপেন্ডিক্স ফুলে ফেঁপে একাকার। তাই তৎক্ষণাৎ অপারেশান করতে হলো।এখন তুমি বিপদমুক্ত ইয়াং ম্যান।তোমাকে অভিনন্দন।
“কিন্তু ডাক্তার সাহেব।” আমি বললাম, আপনি বিশ্বাস করবেন না আমি কাল রাতে কি শুনেছিলাম।”
“কি শুনেছিলা বলো দেখি ইয়াং ম্যান?"
আমি তখন বললাম আমার কাল রাতের ঘটনাটা। শুনে ডাক্তার হাসতে হাসতে আধমরা। বলল,” ইয়াং ম্যান তুমি যখন কাল রাতে পায়খানা করছিলা তখন এপেন্ডিসাইটিসের প্রথম সিন্ড্রোম তোমাকে অ্যাটাক করে। তখন তোমার স্রেফ একটা বিভ্রম হয় যেটাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে অডিটরী হ্যালুসিনেশন। তুমি বলছ আলসার কথা বলে হে হে! কি হাস্যকর কথা!”
তো বন্ধুগণ আমার কাহিনি এখানেই শেষ।” বলে সিমন নিজে হাসতে লাগলো তার সাথে অন্য সবাই হাসিতে ফেটে পড়লো। “আলসার কথা বলে?হেহেহে।' সবাই হাসতে লাগলো কিন্তু কেউ ভয় পেলো।“ভালোই হাস্যকর গল্প শুনালি সিমন!” অহনা বলল। “গায়েজ লিসেন টু মি! গম্ভীরমুখে কথাটি বলল জন।
যেহেতু জন কোন কথা বলে না তাই তার কথাটা শোনার জন্য আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম। জন তখন তার ব্যাগ থেকে একটা বোর্ড বের করলো। সেখানে কয়েকটি ইংরেজি অক্ষর আর হ্যা/না। চিহ্নবোধক দুটি বোতাম ছিলো।
“এটা উইজা বোর্ড না জন? প্রশ্নটা করলাম আমি।
সিমন বলল,” ভূতকে ডাকবি নাকি?”
অহনা বলল," কোথায় পেলি এটা?”
ফারহান নির্বিকার ছিল এতক্ষণ। সে ভীত গলায় বলল,”না না ভূত ডাকবানা। আর উইজা বোর্ড খারাপ জিনিস। এটাকে ফেলে দেওয়া উচিত।
জন বলল," গায়েজ, এই উইজা বোর্ড ইউস করব না করব না সেটা ডিসিশন নেওয়ার আগে আমি একটা গল্প বলতে চাই।”
“বেশ তো শুনি। বললাম আমরা একসাথে।
“এটা একটা সত্যি ঘটনা।” জন বলল," তখন আমি কানেক্টিকাটে থাকতাম। একদিন আমি আমার আংকেলের সাথে অকাল্ট মিউজিয়ামে গেছিলাম।তখন এনাবেলে নামে একটা পুতুলের জন্য সেই । মিউজিয়ামটা ফেমাস হয়ে গেছিলো। বলা হয় এনাবেলে পুতুলটি পৃথিবীর সবচেয়ে অভিশপ্ত পুতুল।
তাই আংকেলের সঙ্গে পুতুলটা দেখার জন্য বের হলাম। পুতুলটা দেখলাম, সাদামাটা একটা বেবি ডল। কাঠের একটা খাঁচায় বন্দী হয়ে আছে যেখানে লেখা আপনি যদি দুর্ভাগ্যবান না হতে চান তাহলে এই পুতুলে হাত দিবেন না। তখন আমি দেখলাম পুতুলটার পাশে একটা বোর্ড ছিল। সেটা যে একটা অভিসপ্ত উইজা বোর্ড সেটা তখনো জানতাম না। সেই বোর্ডটা আমার পছন্দ হলো। আমি সেটা আমার জামার ভেতরে নিয়ে চলে আসলাম, মানে সুযোগ বুঝে চুরি করলাম।
সিমন বলল,” ব্যাটা চোর তোকে লোহার গরম শিক দিয়ে ছ্যাকা দেওয়া উচিত।
“চুপ করতো সিমন। " অহনা বলল,"জন তুমি চালিয়ে যাও।”
জন বলল,” তখন আমি ছোট ছিলাম তো, বুঝতে পারি নি। সুন্দর একটা বোর্ড দেখলাম, নিয়ে চলে আসলাম। আমার মা আমার কান্ড দেখে যথেষ্ট রাগ করলেন এবং আমার কাছ থেকে বোর্ডটা কেড়ে নিয়ে বললেন এটা তিনি ফেরত দিতে যাচ্ছেন। কিন্তু এটা আর ফেরত দেওয়া হয় না। আমাদের । স্টোররুমে পড়ে থাকে। কানেক্টিকাট থেকে ঢাকায় সেটল করলাম তারপর ঢাকা থেকে রাজশাহী। মালপত্র নামাতে গিয়ে হটাৎ আমার চোখে এই বোর্ডটা পড়লো। বোর্ডটা আমি আমার ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখলাম। তারপর রাতে যখন শুতে যাচ্ছি তখন দেখলাম আমার ব্যাগটা কাঁপছে। ব্যাগটা খুলে দেখি বোর্ডটা কাঁপছে। আমি তো আস্টোনিস্ট। বোর্ডটা হাতে নিতেই কাঁপুনিটা বন্ধ হয়ে গেলো। আজব ব্যাপার তো! বোর্ডটা খুলে দেখলাম সেখানে নানা ধরনের অক্ষর। এ,বি,সি,ডি এসব। আমি তখনও জানতাম না এটা উইজা বোর্ড। বোর্ডের চার কোণায় খুব সুন্দর ফুলকাটা ডিজাইন আছে। আমি মুগ্ধ চোখে সেই ডিজাইনে হাত বুলাতে লাগলাম। হটাৎ আমার হাত দুটো অবশ হয়ে গেলো। হাত থেকে। উইজা বোর্ড পড়ে গেলো। হাত নাড়াতে চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। মাকে ডাকার চেষ্টা করছি কিন্তু মুখ অবশ হয়ে গেছে। উঠার চেষ্টা করছি কিন্তু পুরো শরীর প্যারালাইসড । আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার শরীরের কি হলো? আমি নড়তে পারছি না কেন? হটাৎ দেখলাম বোর্ড থেকে কালো একটা ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি স্পষ্ট দেখলাম কালো ধোঁয়াটা আমার শরীরের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। আমি সেই রাতে খুব ভয় পেয়েছিলাম। অধিক ভয়ের কারণে বোধ হয় আমি অজ্ঞান হয়ে গেসিলাম। তাই আমার এরপর কিছু মনে নেই। পরেরদিন দেখলাম মা আমাকে রান্নাঘর থেকে ডাকছে নাস্তার জন্য। আমি উঠে দেখলাম আমার ঠিক পায়ের কাছে পড়ে আছে উইজা বোর্ড। কাল রাতের সব ঘটনা আমার মনে পড়ে গেলো। তীব্র আতঙ্কে একটা চিৎকার দিলাম। আমার চিৎকারে দৌড়ে মা আমার ঘরে হাজির হলো।
আমি সেই বোর্ডে লাথি মেরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠায় দিলাম। তারপর তোতলাতে তোতলাতে আমি মাকে কাল ডাটে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বললাম। মা আমার মাথায় হাত রেখে বলল,"কিচ্ছু হবে না জন। তোর মধ্যে কোন কালো ধোঁয়া ঢুকেনি। আর এই বোর্ডটা তুই আবার পেলি কোথা থেকে?
আমি কিছু বললাম না। ঠক ঠক করে কাঁপছিলাম ভয়ে। তারপর মা করলো কি, বোর্ডটা জানালার দিকে ছুড়ে মারলো। বোর্ডটা গিয়ে পড়লো নর্দমায়। “আর কিছু হবে না, জন, তোকে আর কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। আমি সেই অভিশপ্ত বোর্ডটা ফেলে দিয়েছি। তারপরেও শুনে রাখ তুই ওই বোর্ডটা চুরি করে খুব খারাপ করেছিস।”
“আর জীবনেও আমি কিছু চুরি করবো না, মা।” বললাম আমি। “গুড! এখন আয় নাস্তা খেতে।“মা হাসিমুখে কথাটি বলল।
তারপর আরো কয়েকদিন পর।এতদিন ভয়টা কেটে গেছে। রাতে শোয়ার জন্য বাথ্রমে ব্রাশ করতে ঢুকেছি। হটাৎ কারেন্ট চলে গেলো। পকেট থেকে ফোন বের করে সেটার আলো দিয়ে ব্রাশ করতে শুরু করলাম। আয়নায় দেখছি আমার মুখ থেকে ক্রমাগত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি কাশতে থাকলাম। কাশতে কাশতে মুখ থেকে এক ছিলকে রক্ত বেশিনে পড়লো। তারপর হরহর করে বমি করতে শুরু করলাম। বমি থেকেও রক্ত বের হতে শুরু করলো। হটাৎ ফোনের লাইট বন্ধ হয়ে গেলো। অস্থায়ী একটা আতঙ্ক আমাকে গ্রাস করলো। মাকে কয়েকবার ডাক্লাম। কিন্তু কোন সাড়া পেলাম না। আচমকা আমার মাথার মধ্যে তীব্র এক যন্ত্রণা শুরু হল। মনে হচ্ছে মস্তিষ্কে কেউ যেন প্রচন্ডভাবে আঘাত করলো। সারা শরীর জ্বলছে মনে হচ্ছে। এই অন্ধকারে অনুভব করি আমার কাঁধে একটি হাত। যন্ত্রণায় আমি চোখ খুলতে পারছি না। অতিকষ্টে যেটুকু চোখ খুলেছি দেখলাম আয়নায় আমার পাশে কাঁধের পাশে
জ্বলজ্বলে চোখে একটা মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। শুধু দেখতে পাচ্ছি দুটি চোখ, যেটা আমার দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে আছে।” জন একটু থামল। আমাদের মুখ থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না। জন আবার বলল,” মানে আমি এতো শকড ছিলাম যে ভয় কিভাবে পেতে হয় ভুলে গেছি। অবাক হয়ে আয়নায় মূর্তিটির প্রতিভিম্বের দিকে তাকিয়ে আছি। মূর্তিটির দুটি জ্বলজ্বলে চোখের উপর আমার চোখ । হটাৎ মূর্তিটি আমার হাতে উইজা বোর্ডটি গুজে দিয়ে চোখের পলকে হাওয়ায়। মিলিয়ে গেলো। কারেন্টও চলে আসলো। আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন মনে হচ্ছিলো
অনন্তকাল ধরে আমি বাথ্রমে দাঁড়িয়ে আছি। এক হাতে ব্রাশ অন্য হাতে উইজা বোর্ডটি। তারপর মনে হল এই জগত সংসার ঘুরছে। ধুপ করে মাটিতে পড়ে গেলাম। তারপরও আমার জ্ঞান ছিল এটুকু মনে
আছে। তারপর মনে হলো অনেককাল ধরে আমি বাথ্রমের সেই মেঝেতে শুয়ে আছে। আমি চেতনা ফিরে পেলাম একটা সাদা বেডে, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে। আমি জানতে পারলাম আমি প্রায় ১ মাস কোমায় ছিলাম। আমার আগেকার কোন স্মৃতি নেই। আমি কে? কথা থেকে আসছি, কোথায় কিছু মনে নেই।
তারপর অনেকদিন কেটে গেছিলো, যতদিন না আমার সাথে আবার সেই বোর্ডটির দেখা হয়। সেই বোর্ডের কল্যাণে আমার আগের সব স্মৃতি ফিরে পেয়েছি। তারপর আমি করলাম কি আমি এই বোর্ডটির ব্যাপারে কাউকে কিছু বললাম না। আমি এই বোর্ডটার প্রতি খুব আকর্ষণ বোধ করি কেন। জানি। সেই মূর্তিটার প্রতি আমার এক আকর্ষণ জন্মায়। আমার মনে হয় একজন ড্রাগ এডিক্ট যতটা আসক্ত আমি তার চেয়েও বেশি আসক্ত। মনে হয় আমি পাগল হয়ে গেছি।
এই বলে জন তার গল্প শেষ করলো। আমরা স্তব্ধ, হতভম্ব ও আতঙ্কিত। আমি কোন মতে বললাম,” এই বোর্ডটা কি সেই বোর্ড?”
“হ্যা।” জন বলল,” এখন আমি এই বোর্ডটা নিয়ে সব জায়গায় ঘুরি। স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরি সব। জায়গায়। প্রথম কারণ আমার আকর্ষণ এবং পরের কারণ যদি কেউ পাগল হতে চায় তাহলে আমি তাকে পাগল বানায়ে দিবো আমার মতো। হাহাহা। কেউ কি পাগল হতে চাও?" আমরা সবাই আতঙ্কে মাথা নাড়ালাম,"নানানানা। ”
“বেশ। তাহলে আমি উঠলাম।” বলেই জন উঠে দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল। আমাদের মুখ থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না। আমি অতিকষ্টে বলার চেষ্টা করলাম,” জন পাগল হয়ে গ---ছে!"

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোজাম্মেল  কবির
    মোজাম্মেল কবির ভালো লেগেছে গল্প। তবে বানানের বিষয়ে আরো সতর্কতা দরকার৷ একটি বাক্যকে কয়েকটি জায়গায় দুই ভাগ করা হয়েছে। শুভকামনা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ১ ডিসেম্বর

advertisement