বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
গল্প/কবিতা: ১১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

keyboard_arrow_leftকবিতা - কষ্ট (ডিসেম্বর ২০১৭)

মোহিত স্যার
কষ্ট

সংখ্যা

মোট ভোট

বিশ্বরঞ্জন দত্তগুপ্ত

comment ১৪  favorite ১  import_contacts ২৩২
সৌম্য চেহারায় ব্যক্তিত্বে ভরা , আমাদের স্কুলের স্যার ,
গণিতে তাঁর প্রখর জ্ঞান , লেখনিতে ক্ষুরধার -
জ্ঞানের ভান্ডারে পরিপূর্ন আমাদের " মোহিত স্যার " ।
গ্রামের স্কুলের গর্ব তিনি , গর্বিত গ্রামবাসী ,
ছাত্র বানাবার কারিগর তিনি , এটা বুঝেছে গ্রামবাসী ।
আজ তাঁর বহু ছাত্র দেশে - বিদেশে ,
প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত নিজ - নিজ ক্ষেত্রে ।

ভবিষ্যতে নিজের কথা ভাবেননি কোনদিন ,
যা কিছু নিজের , সবটাই তিনি বিলিয়ে দিতেন দিন-প্রতিদিন ।
পড়ুয়ারা তাঁর ধ্যান-জ্ঞান , তারাই তাঁর সন্তান ,
স্কুলটাই তাঁর ঘর-বাড়ী , ভালোবাসার এক পীঠস্থান ।
জীবনের সব সঞ্চয় - অবসর প্রাক্কালে স্কুলকে করলেন দান ।
ছিলনা কোন অর্থের মোহ , ছিলনা অহংকার ,
তিনি সকলের পরম শ্রদ্ধেয় আমাদের " মোহিত স্যার " ।

বহুদিন পরে ---- এক গ্রীষ্মের দুপুরে ,
ফিরছি আমি " খড়গপুর " থেকে -
কোম্পানীর এক জরুরি " মিটিং " সেরে ।
" এ. সি. " গাড়িতে বেষ্টিত আমি পরিষদদের নিয়ে ,
বাহিরে তখন গরমের গোলা বইছে হু হু করে ।
" পাঁশকুড়াতে " জ্যামে-জটে দাড়িয়ে পরেছে গাড়ি ,
কাঁচের ওপারে তাকিয়ে দেখি ---
ভিক্ষার বাটি হাতে দাঁড়িয়েছে এক হত দরিদ্র মানুষ ,
মুখে তাঁর এক গাল দাড়ি ।

চমকে উঠি , শিহরন জাগে সারাটা শরীর জুড়ে -
এ আমি কি দেখছি !! মাথাটা ঘুরতে থাকে ।
সারাটা জীবন যিনি বানালেন শত শত কৃতী ছাত্র ,
আজ তিনি হলেন আস্তাকুঁড়ের সকলের এক ঘৃন্য উচ্ছিষ্ট !
ইনি কি আমাদের সেই " মোহিত স্যার " --
যিনি ছিলেন আমাদের সকলের পরম শ্রদ্ধেয় !

চোখের জলে দু-পা জড়িয়ে প্রণাম করে বলি -
আমি আছি , সবাই আছে , চলুন আমার সাথে
সারা জীবন থাকবেন আপনি পিতা - মাতার স্থানে ।

দু-গাল ভরে অশ্রু নিয়ে আশীর্বাদ করে বলেন -
আমার জন্য ভাবিস না তোরা , আমি ভালই আছি ,
ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি -- তোরা সবাই সুখে থাকিস ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন