পৃথিবীতে মায়ের তুলনায় হয় না কোন কিছুতে। যদিও বলে থাকি আহার, নিদ্রা, সুখ ত্যাগ করে মা জন্ম দিয়েছেন, মানুষ করেছেন। কিন্তু তারচেয়েও মা বেশি কষ্ট সহ্য করে থেকেছেন। একজন মায়ের কাছেই সন্তানের সবচেয়ে সুস্পষ্ট রুটিন জানা থাকে। মায়ের ধৈর্যের বাঁধ কখনো ভাঙে না। আমার "মা" কবিতাটি হয় তো অনেকে ভাবতে পারেন সন্তানের নিষ্ঠুরতার কথা, কিন্তু এটাকে নিষ্ঠুরতা বলে না। আমি বুঝাতে চেয়েছি- মা দশমাস দশদিন সন্তানকে পেটে নিয়ে কত কষ্ট করেছেন, কত খাবার মাটি করেছেন, সন্তানের কিছু হবে বলে সতর্কতার সাথে চলাফেরা করেছেন, কখনো কখনো সন্তান নাড়াছাড়ার কারণে ব্যথায় মুখ চেপে সব কষ্ট জ্বালান দিয়েছেন, আবার জন্ম দেওয়ার সময় শরীরের কোন মাংস কাটলে যতটা ব্যথা না হয়, তারচেয়ে বহুগুণ ব্যথায় ব্যথিত হয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নিজের মরণ চেয়েছেন, সন্তানের নয়। আবার জন্মের পর থেকে অবধি পনর থেকে বিশ কিংবা বাইশ থেকে পঁচিশ বছর পর্যন্ত খেয়ে, না খেয়ে, কত সুখ উপেক্ষা করে, কত ধৈর্য ধরে সন্তান মানুষ করেছেন। কখনো কখনো সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। অতঃপর সে মা যদি শোনেন সন্তান আজো কষ্টের পাহাড়ের সাথে দিনরাত্রি যাপন করেন, তখন সন্তানের বেদনায় কাতর হয়ে পড়বেন.....কান্নার জোয়ার দুর্বার গতিতে বয়ে চলবে, তবুও মায়ের কান্নার সমাপ্তি হবে না। তাই সন্তানের কষ্টের কথা মা যেন না জানে---- এমন আবেগময় হয়ে এই কবিতাটি লেখা মাত্র। আশা করি, বিশ্লেষণে বিষয়ের সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যতা পাবে
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৪৪টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৪৩

বিচারক স্কোরঃ ১.৩৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - মা (মে ২০১৯)

মা
মা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৪৩

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী

comment ৮  favorite ০  import_contacts ১৫৫
নীলখাম থেকে শুরু করে নীল রঙ, নীল সাগর কিংবা ক্ষুদ্র পাহাড় থেকে শুরু করে আকাশ সম,
প্রতিটি অস্তিত্বের, প্রতিটি অরণ্যের কোণেকোণে বয়ে চলে যদি রক্তক্ষরণ
তবুও জানিও না তাকে!

আমি না হয় ভেসে চলবো ডায়েরির প্রতিটি পাতার কোমল স্পর্শে, উপেক্ষার রৌদ্রজ্জ্বলে
গোধূলি বিকেল পেরিয়ে গভীর রাত্রির গাঢ় অন্ধকারে;
কখনো দখিনা বাতাস, কখনো অঝোর তোফানে বাজনা বাজাই শ্রাবণের মেঘে,
যদি উত্তাল পাতাল সমুদ্র ঝড়ে আতকে উঠে প্রণয়ের সুর
বারণ, তবুও তুমি জানিও না তাকে!

যদি ভেঙে ছাড়খার হয় হৃদয়ের প্রাঙ্গণ;
ঝিলে ফোটা শাপলার মত আমি পড়ে থাকি শৃঙ্খলিত রাজ দরবারে
কিংবা সেই রাত যদি হয় আমার ক্লান্ত অবসাদ,
আর আমি উন্মাদ বসুন্ধরায় সাজানো স্বপ্ন চোখে রেখে দীর্ঘ মৌনতা শেষে ঘুমিয়ে পড়ি চিরদিনের জন্য,
তবে মুঠোমুঠো ক্ষমা রেখো, জান্নাতি হাসি রেখো
তবুও কাঁদতে দিও না, তবুও আমার এই নিখাদ অভিমানের কথা জানিও না তাকে!

প্রভু, সে তো আমার মা! গর্ভধারিণী, আমার জন্মদাত্রী।
কত আহার, নিদ্রা, সুখ ত্যাগ করে আমায় জন্ম দিয়ে অতঃপর মানুষ করেছেন;
যদি না শোনে, তবে আমার দুঃখবিলাসী মা দু'চোখের জলে ভেজাবে এই এটেল মাটি,
তবুও কান্নার সমাপ্তি হবে না!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement