সাধারণত অলীক শব্দের অর্থ বলতে আমরা- কাল্পনিক, অসত্য, মিথ্যা, পৌরাণিক, ভান-করা ইত্যাদি অভিধানে পেয়ে থাকি। -) আমাদের জীবনের এক এক সময়ে এক একটি ঘটনা ঘটে থাকে; যেখানে থাকে কিছু বেদনা, নীরবতা, উচ্ছ্বাস, অভিমান! তবে যা-ই বলি না কেন সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্বাদে, ভিন্ন ভিন্ন গল্পে আমাদের বুকে এসে বিঁধে। তদ্রুপ আড়াআড়ি কিংবা মোড়ের মত চিত্ররূপ। এ ক্ষেত্রে কবিতাটির নাম "ক্রসিং" ঠিক আছে বলে মনে হয়। আর সে সময়টা পেরিয়ে যখন আমরা বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছে যাই তখন আমাদের মঞ্চ কাঁপানোর মত সে নাটকীয় ঘটনাবলী এক একটি অলীক কিংবা কাল্পনিক অথবা পৌরাণিক ঘটনার মত ছেয়ে আসে। যদিও বলা হয়ে থাকে- বনের ভয়ের চেয়ে মনের ভয় অনেক বেশি; এক্ষেত্রে যদি দৈনন্দিন জীবনের কথা বলে থাকি, তাহলে সাংসারিক চিন্তা ভাবনা একটু বেশি থাকে। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখি, ইচ্ছে জাগায় অনেকদূর পাড়ি দেওয়ার! শত চেষ্টার পরেও যদি স্বপ্নগুলো প্রতীক্ষারত দরজায় অপেক্ষা করে তখন ইচ্ছে করে মরণ ছুঁয়ে জীবনের উপসংহারগুলো এখানে-ই সমাপ্ত করি!! -) এখানে আমার "ক্রসিং" কবিতাটির ধারাবাহিকতা সে দিকটা নির্দেশ করে। আশা রাখি এক্ষেত্রে আমার "ক্রসিং" কবিতাটি "অলীক" বিষয়ের সাথে সম্পূর্ণ মিল পাবে।।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৪৬

বিচারক স্কোরঃ ৩.৩৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - অলিক (অক্টোবর ২০১৮)

ক্রসিং
অলিক

সংখ্যা

মোট ভোট ২১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৪৬

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী

comment ২১  favorite ০  import_contacts ২৭৭
একটা আশা বুকের ভিতর বয়ে চলে রোজ,
একটা আশা ভেঙে ছুড়ে স্বপ্ন সাজায় অবিকল;
এই যে দুর্দান্ত গতিতে ঘুম ভেঙে জেগে উঠি,
বাহিরে বৃষ্টির উৎসব ভিতরে তুমুল ঝড়ের সাথে নানা রকমে খেলি!
শেষ বিকেলের স্নিগ্ধতায় মনের সাথে তুমুল বাড়াবাড়ি,
উদ্ভাসিত আলোর অন্তরালে গুমরে উঠে মেঘ,
বহুরৈখিক স্বপ্ন তুলে আনে বিচ্ছেদের পরিমাপ,
ভীষণ অভিমান নির্মল বাতাসের সাথে-
আধো মেঘ, আধো বৃষ্টি তবুও জ্বলন্ত কাঠের সাথে-ই নিরন্তর আড়াআড়ি!

ছলকে উঠে প্রতীক্ষার রুদ্ধশাস, আবেগের একঘেয়েমি খাত, দক্ষিণমুখি দমকা বাতাস
আহা মুখোশের আড়ালে কত চেনা মুখ!
বিভ্রান্ত হই, নীল জলে আঁচল ডুবাই, ভালবাসার উচ্ছ্বাস ফুঁপিয়ে কাঁদে
আহা ল্যাম্পপোস্টের গায়ে কি প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতা!
আত্মঘাতী কান্নার ঢেউয়ে অকালে ঝড়ে পড়ে কাশফুল
অবহেলার শহরের আদ্যোপান্তে শাড়ির আঁচল পেতেছে রৌদ্রচিঠি;
ভাঙা পাথরের টুকরো স্বপ্নের সমাধি টানে নীল খামে
সমস্ত শরীরে অনাগত যন্ত্রণার লালিত বৃষ্টির ছাপ,
এই বুঝি জমিনের উপরে আমার প্রাপ্তিহীন দীর্ঘশ্বাস!

একমুঠো ধুলো রোদ ছুঁয়ে যায় পশ্চিমা আকাশ;
কত কৌশলে অভিনয় দেখায়, কত রকমে গর্জে উঠে মেঘ
আহা কি অদ্ভুত হাততালি!
এখনো বুঝি ক্ষত চিহ্নের উপর রয়ে গেছে অনেক আঘাত বাকি!!
সহস্র নক্ষত্র মেলা বসিয়ে জ্যোতির্ময় নীহারিকার সাথে শূন্যতায় ডুবাডুবি,
অথচ গ্রিলের ফাঁক গলে ঢেউয়ের ছলাৎ ছল শব্দে মন খারাপের ক্রসিং কাটে বুকের উপর,
আর তখনো শ্রান্ত আঁখি রাতের শেষ প্রান্তে চেয়ে দ্যাখে-
ফেরারি প্রলেপ মাখা অকালে ভেঙে পড়া এক রাজপথের সুড়ঙ্গ
বরাবর সেখানে-ই যেন অঝোর বর্ষণে অভিনেত্রী মঞ্চ কাঁপাচ্ছে;
দ্যাখো আমার অনুভূতি হয় তো এখনো ফ্যাকাসে অতীত, মনের সীমান্ত যদিও প্লাবিত করে দুচোখ,
যদিও আমার বেদনাগুলো জরাগ্রস্ত শহরের এক জীর্ণ ইষ্টিশান, তবুও দেয়াল বন্দী প্রতীক্ষারত দরজায়
ইচ্ছে করে আমার জীবনের অলীক উপসংহারগুলো এখানে-ই সমাপ্ত করি...!!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement