দৈনন্দিন জীবনে আমাদের কষ্টগুলো একটু আলাদাভাবে বুকে এসে বিঁধে। একটা সময় আসে আমরা নিজের দিকে না চেয়ে আপনজনের সুখের জন্য নিজেকে কুরবানি করে দিতেও দ্বিধা করি না। কিন্তু যখন তারা দুঃখের দিন শেষে সুখের স্থান পায়, তখন তারা ভুলে যায় তাদের জন্য রৌদ্রে পোড়ানো মানুষটির কথা, হাড় কাঁপানো শীতের রাতের কঠিন পরিশ্রম করা মানুষটির কথা। আর তখন মনের ভিতরে বিশাল একটা আঘাতের সৃষ্টি হয়, যেখানে বিষণ্ণতারা বিভিন্নভাবে এসে কষ্ট রচনা করে। যার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য এক একটি ক্ষোভ নিয়ে আসে। আর তাদের জন্য কষ্ট করা সে পুরনো স্মৃতিগুলো যখন আমাদের মনে পড়ে তখন নিজেকে কাফনে সাজানো লাশ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। তবুও আমরা নিজেকে ভরসা দিই; তোদের দেওয়া এই নীরবতা, বিষণ্ণতা আর কিছু অভিমানের সমাপ্ত ঘটবে একদিন। সেদিনও যদি তোদের হিংসা লাগে, কথা বলতে ঘৃণা লাগে, অবহেলার পাত্র মনে হয় সেদিনও না হয় এই দেহটাকে কাফনে সাজিয়ে অন্ধকার কারাগারে রেখে এসে তোরা সুখে থাকিস, শান্তিতে থাকিস। তবুও প্রভু তোদের সুখে রাখুক। সচরাচর এ কাহিনীগুলো আমাদের প্রায় সবার জীবনে ঘটে থাকে। যা পার্থিব বিষয়ের সাথে একেবারে মিলবন্দন। -) সুতরাং আমার ''ক্ষোভ'' কবিতাটি সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করলে ''পার্থিব'' বিষয়ের সাথে শতভাগ সামঞ্জস্য পাবে বলে আশা করি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - পার্থিব (আগস্ট ২০১৮)

ক্ষোভ
পার্থিব

সংখ্যা

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী

comment ১১  favorite ০  import_contacts ১৮৬
একদিন বিলীন হয়ে যাবে এই ঢেউ পবনের সুর, বিলীন হয়ে যাবে এই হাতে হাত ধরে বহুদূর পথচলা
মুহূর্তে সমুদ্রের গর্জনে উত্তাল-পাতাল ঢেউ খেলবে আকাশে বাতাসে,
সেদিন কেটে যাবে সব অভিমান, কেটে যাবে মনের সব বিষণ্ণতা।
এই যে কত প্রত্যাশা রেখেছি, কত তাচ্ছিল্যের ভিড়ে জমে উঠা আকাঙ্খা নীরবে পুষে নিয়েছি
অতঃপর এক একটি স্বপ্নের কিনারায় দাঁড়িয়ে কত নীরবতা গোপন করে রেখেছি;
অথচ এখানে প্রতিবাদহীন এক শিশি বিষ ছাড়া আর কিছু জেগে উঠেনি!

মাঘের হিম শীতলতায় পলেস্তারের মত হোচট খেয়ে পড়েছে জীবনের বোধ;
আষাঢ়িয়া মেঘে নিদারুণ ভিজেছি, শ্রাবণের নদীতে একাই ডুডেছি
পোড়া মনের ভিতর বিষণ্ণতার আস্তর খসে খসে প্রাচীর জমেছে নিদারুণ,
ধীরে ধীরে অঘ্রাণের চুপসা বিকেল ছুঁয়ে গেছে রক্তাক্ত ক্যাম্পাস
তবুও কেউ ফিরে দ্যাখিনি কতটা নৃশংস জ্বরে কেঁপে উঠেছে হৃদয়
কত প্রতীক্ষার দরজায় দাঁড়িয়ে ঘাসফুলটি কতকাল ধরে হাওয়ায় দুলছে!

হেটে যাইনি সমুদ্রের কিনারায় কতদিন, তবুও জলস্রোতের ছলচ্ছল শব্দে আমায় খোঁজে
ফিসফাস অন্তহীন বিরাগে আমার বুকে তাদের প্রহেলিকার অবিমিশ্রিত ধ্বংসলীলা আঁকে,
অতঃপর কিছু অশ্রুবিন্দু জমিয়ে রাখি প্রাত্যহিক বেদনার শহরে, বিরহপীড়িত সন্দিহান রাজপথে
হৃদয়ের দৌড়ঝাঁপ কুড়ে খায় তীব্র অনুশোচনা কিংবা স্বার্থপরতায়, তবুও মৃত রাত্রির বুক ছিড়ে একটু বাঁচার আকুতি করি
অথচ সেখানেও বিষাদের জলচাপ ছাড়া আর কিছু হাত বাড়ায়নি, উত্তপ্ত মরুভূমি ছাড়া আর কিছু জেগে উঠেনি!

জানি তোমাদের দেওয়া এই নীরবতা, বিষণ্ণতা আর কিছু অভিমানের সমাপ্তি ঘটবে একদিন
অবহেলার শহরে জেগে উঠা রঙিন মুহূর্তগুলো সুপ্ত ডানা মেলে আচমকা হারিয়ে যাবে
এই নির্লিপ্ত দু’চোখ থেকে বিদায় নিবে অনুতাপের এক একটি বিষ বেদনা;
সেদিন সব উদাসীনতা কেটে যাবে, রাতজাগা পাখির কণ্ঠ মলিন হয়ে যাবে!
অতঃপর প্রণয়ের দীর্ঘবিরতির প্রত্যাখ্যান ঘটবে; কত চাওয়া পাওয়া, কত বেদনার অবসান ঘটবে
সেদিন আর কল্পনারা হাসাবে না, আধখানা রাত সঙ্গী হয়ে কারও অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ফেলবো না
একতারাটা বাঁজবে না, বাউল বেশে পথের গলিতে বিরহের গান শুনাতে আর আসবো না;
না হয় সেদিনও এই মসৃণ হাসির ছলে নিদ্রার শরীরে কাফন জড়িয়ে দিও
অতঃপর অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করে রেখে এসো, তবুও তোমরা সুখে থেকো...!!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement