আমারা স্বাধীন হয়েগেছি
আজ পাখিরা নিঃশব্দ নিস্তর,
কোলাহলমুক্ত নিরব পরিবেশ,
শিশুরা মাঠেঘাটে নির্ভয় উৎসবে,
রাখালে মধুর কন্ঠের বাশিঁর সুর আসিতেছে।
আজ আর কোন মুহুর্মুহু গোলির আওয়াজ নেই।
মুমুর্ষ ধর্ষিতার আর্তনাদের কান্না আসে না।
কেউ দিকবেদিক প্রাণ ভয়ে ছুটিছুটা করে না,
সান্ত-সিষ্ঠ সর্বদিগন্ত কর্মকোলাহল।
সব ঝাপিয়ে পড়েছে এক সমৃদ্ধ ভুমি গড়িতে।
শান্তির সুবাতাস বিধ্বস্থ ধ্বংসস্তুপেও,
সাচ্চন্দের হাসি সর্বহারা সকল লোক মুখে।
নদী-নলা ভুলে গিয়াছে রক্তের বন্যা।
গুরুস্তানসমুহ সজীব হয়ে আছে শহীদের লাশে।
বায়ু ভুলেছে মৃত্যুর গন্ধ, মাটির মনে নাই যুদ্ধের গর্ত।
আর মটারের সেল কোন তাজা প্রাণ কাড়ছে না।
আগুন বড়স্নেহময়ী কোন গৃহছাউনি জালায় না ।
সড়ক-মহাসড়ক তাদের আবরন টেনে আনতেছে।
কোন সেতু ভাঙ্গছেনা কেবল গড়ছে।
মা তুই জানিস এসব কেন ?
হ্যা আমারা স্বাধীন হয়েগেছি।
আজ বড়ই কর্মচঞ্চল কৃষক তার জমিতে,
কুলিমজুর গ্রামগঞ্জ শহর-নগরে কর্মব্যাস্থ,
আজ কোন ভয় নেই শান্তির সুপ্রবাহ।
আজ অফিস আদালত লোকে লোকারন্য।
দুষ্ট দেশদ্রোহী কোন হিংস্র মিলিটারিও নাই।
ধর্ম বর্ণ সমশ্রেণি তেইশ বছরের শিকল ভেঙ্গেছে ওরা।
মুক্তমঞ্চে আনন্দে আত্যহারা।
নবান্ন উৎসব আর মঙ্গল শুভাযাত্রা।
যেন মনে নাই ওদের যুদ্ধের বর্বরোচিতা।
জয় জয় ধ্বনি সকলের মুখে শুনি।
মোরা যুদ্ধজয়ী বীর বাঙালি।
মা তুই জানিস এসব কেন?
হ্যা আমরা স্বাধীন হয়েগেছি।