লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১১

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - রমণী (ফেব্রুয়ারী ২০১৮)

একটি স্বপ্নময় সকাল
রমণী

সংখ্যা

মোট ভোট ১১

স্বপন কুমার ঘোষ

comment ২  favorite ০  import_contacts ১৬০
শীতকালে গাছের পাতা ঝরে পড়ে। এটা সৃষ্টিকর্তার আদেশ। এই আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা গাছের নেই। তেমনি শীতকাল এলে বিভিন্ন পিকনিক স্পটে মানুষের আনাগোনা শুরু করতে হবে এটাও যেন প্রকৃতির আদেশ। এটাও অমান্য করার ক্ষমতা যেন আমাদের নেই। শীতকাল এলে প্রকৃতি ডাক দেয়। সেই ডাকে সাড়া দেয় আমাদের মতো ভ্রমণ পিপাসুরা।
.
নতুন বছরেও প্রকৃতির সেই ডাক কে অবহেলা করতে পারি নি। বরাবরের মতো এবারো আমাদের হোস্টেল থেকে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। পিকনিকের আগের দিন অনেক উত্তেজনা কাজ করে। শুধু তাই নয় কাজও থাকে অনেক। বাজার খরচ করতে বের হলাম সন্ধ্যার পর। সব কেনাকাটা করে হোস্টেলে আসতে বেজে গেল রাত ১১ টা। শুধু মাংস নেওয়া হয় নি। শহরে ভালো খাসির মাংস পাওয়া কঠিন ব্যাপার। শুধু তাই নয় দামও হাতের নাগালের বাইরে। মাংসের দায়িত্ব পড়ল আমার কাঁধে। শহর থেকে অনেকটা বাইরে আমার পরিচিত এক মাংস ব্যবসায়ী আছে। মানে কসাই যাকে বলে। ভালো মাংস পেতে সেখানেই যাওয়ার জন্য মনস্থির করলাম। ফোন দিয়ে বলে রাখলাম কাল সকালে আমি যাচ্ছি। আয়োজনের বিভিন্ন হিসাবনিকাশ করে ঘুমোতে ঘুমাতো প্রায় ২টা বেজে গেল। পরের দিন আবার সকালে উঠতে হবে।
.
সকালে এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙল। চোখে মুখে পানি ছিটে দিয়ে বের হলাম মাংস আনতে। ঘুমের ঘোর ঠিকমতো কাটে নি। আমার আবার ঘুম সাত ঘন্টা না হলে মাথা ঝিমঝিম করে। কিন্তু কিছু করার নেই সকাল নয়টা থেকে দশটার মধ্যে পিকনিকের উদ্দেশ্যে বের হতে হবে।
.
সকাল সাড়ে ছয়টা। কলেজের মাঠে কয়েকজন মানুষকে দেখলাম যোগিং করতে। ভাবছি সকালের এমন পশ্চিমা হাওয়ায় থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে যোগিং করাটা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ? হয়তে হ্যাঁ। নাহলে হয়তো আমার মতোই সবাই নয়টা অব্দি ঘুমোতো। যেমনটা আমাকে এমন ঠাণ্ডায় বের হতে হয়েছে। যাই হোক কলেজ গেটে দাঁড়াতে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে একটা বাস এসে দাঁড়াল। বাসে উঠলাম। উঠে অবাক হলাম। গাড়িতে মাত্র একজন যাত্রী। আর সেটা আমি নিজেই। গাড়িতে মোট তিনজন মানুষ। ড্রাইভার, কন্ট্রাক্টর আর আমি। চারিদিকে আবছা কুয়াশা। প্রথমে কিছুটা ভয় লাগল। কিছুক্ষণ পরেই ভয়টা কেটে গেল। বাসটাকে একটা প্রাইভেট বাস মনে হলো।

.
প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার রাস্তা। রাস্তার দু-পাশের শিশির ভেজা বিভিন্ন দৃশ্য দেখে আমার প্রাক্তনের কথা মনে পড়ে গেল। মনে পড়ার কথা নয়। কারণ তার সাথে ব্রেকআপের প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেল। প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো। এখন আর তেমন হয় না। যেহেতু তার বাসাটা এই রাস্তার পাশেই তাই তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে মনে পড়েই গেল। কিছু পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল। চোখ বন্ধ করে তার কথা ভাবতে ভাবতে যাচ্ছি।
.
বাসটা তার বাসার সামনে সামান্য কয়েক সেকেন্ড ব্রেক দিল। একজন উঠল। বসল আমার ডান দিকে। আমার পাশের সিটে নয়। ডান দিকের সারিতে। তার চোখে চোখ পড়ল। আমার এই সহযাত্রী আর অন্য কেউ নয়। যার ভাবনা দিয়ে আমার আজকের সকালটা শুরু। আমি কথা বলতে চাইলাম। কিন্তু সংকোচে বলা হলো না। ভাবলাম কি দরকার সে থাকুক না তার মতো করে। চেষ্টা তো অনেক করেছিলাম তাকে ফেরানোর। কিন্তু সে তো তার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। কোন মতেই নাকি সম্পর্কটাকে কন্টিনিউ করতে পারবে না। একেবারে পিছনের সিটে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। ঠিক তখনি পাশ থেকে বলল, কেমন আছো?
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম, হ্যাঁ আছি মোটামুটি।
- মোটামুটি কেন? তোমার তো বেশ ভালো থাকার কথা।
- ভালো থাকার কথা কেন?
- নতুন প্রেম করছো।
- কে বলল তোমাকে?
- তুমি কি মনে করো তোমার খোঁজ খবর রাখি না?
- তাই! তা কেনই বা রাখো?
থেকে থেকে এমন দু-চারটা কথা হলো।

কন্ট্রাক্টর পাশে থেকে জোরে জোরে বলছে,
মামা আপনি নাকি এখানে নামবেন। এটুকু পথ আসতে ঘুমিয়ে পড়লেন?
চোখ মেলে বাসের ভেতরটা এক নজর দেখে নিলাম। আমার সহযাত্রী হিসেবে পাশে চাদর মুড়িয়ে নেওয়া এক বৃদ্ধা ছাড়া কাউকে দেখতে পেলাম না। আমি তারাতাড়ি বাস থেকে নেমে মাংসের দোকানে গেলাম।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement