লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ৮টি

সমন্বিত স্কোর

২.৫

বিচারক স্কোরঃ ১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - আঁধার (অক্টোবর ২০১৭)

এক পলকের একটু দেখা
আঁধার

সংখ্যা

মোট ভোট ১৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৫

স্বপন কুমার ঘোষ

comment ১৩  favorite ০  import_contacts ২৯৭
দুপুরের খাওয়া শেষ করে যখন সূর্যের রুমমেট শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিল তখন সূর্য টিউশনির জন্য বাইসাইকেল নিয়ে বের হলো। মানুষের সুখ দেখে তার বড্ড কষ্ট হয় কিন্তু বাড়ির কথা চিন্তা করলে কষ্ট আর কষ্ট থাকে না। দুপুরের এমন খা-খা রোদে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করে দিল। অপেক্ষা করছে ট্রেনের রাস্তা অতিক্রম করার জন্য। এদিক ওদিকে তাকাচ্ছে। পিছনের দিকে দূরে লক্ষ্য করল রাস্তায় পানি ছল ছল করছে। সামনে তাকিয়ে চোখ আটকে গেল। তার চিনতে কোন ভুল হবার কথা নয়। নিশ্চিত হলো লেভেল ক্রসিংয়ে সামনে বাইকের পিছনে বসা মেয়েটি অধরা ছাড়া কেউ নয়।
.
অধরা সূর্যের প্রাক্তনের নাম। নামটা সূর্যই দিয়েছে। বর্তমানে প্রেমিক প্রেমিকারা একে অপরের নতুন নামকরণে শুধু সীমাবদ্ধ নেই। তাদের বাচ্চার নাম নির্বাচন নিয়েও আগ্রহের কোন ঘাটতি দেখা যাবে না।অবশ্য তার ব্যর্থতার কারণেই সে এখন তার প্রাক্তন। রেজিস্ট্রি অফিসে যেয়ে যখন সূর্য সাত পাঁচ ভাবনা ভাবছিলো তখন অধরা স্রেফ "কাপুরুষ কোথাকার" বলে তাদের দুজনের দু-কপি ছবি আর জন্মনিবন্ধন কার্ডের কপিগুলো টুকরাটুক করে ছিড়ে দিয়ে হনহন করে চলে গেছিল অধরা। পিছন ফিরে ডাকার সাহস হয় নি। গ্রাজুয়েশন অসম্পূর্ণ একটা ছেলে হয়ে বিয়ে করে জীবনটা বরবাদ করতে চায়নি। কোথায় যেন পড়েছিলো শুধু পাওয়ার মধ্যে ভালোবাসা নয়, না পাওয়ার মধ্যেও ভালোবাসাকে খুঁজে নেওয়া যায়। এই একটি বাক্যই তাকে পাওয়ার স্বপ্নটা ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। সেই দিনের পর থেকে সে সূর্যের সাথে কোন যোগাযোগ করে নি। করবেইবা কেমন করে। পরের সপ্তাহেই তার পরিবারের দেখা ছেলের সাথে অধরার বিয়ে হয়ে যায়।

.
হঠাৎ এক পলক দেখতেই বুকটা কেপে উঠল। এমন সময় ট্রেন রাস্তা অতিক্রম করতে লাগল। তাকে আরেক পলক দেখার ব্যর্থ চেষ্টা করল সূর্য। কিন্তু ট্রেনের জন্য কিছুতেই দেখার সুযোগ হলো না। ট্রেন যাবার অপেক্ষা করছে। ট্রেনটাকে যেন আজ কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ মনে হচ্ছে। বুকটা ধুক ধুক করে কাঁপছে। সে জানে কথা বলার সুযোগ হবে না কিন্তু যদি একটা বার সে তার দিকে তাকায় তবে নিজেকে অনেক বড় সুখি মনে হতো। লেভেলক্রসিংয়ের গেট খুলে দিতেই প্রচন্ড ভীড় বেঁধে গেল। ভীড় অতিক্রম করেই সামনে যেয়ে তাকে পাগলের মতো খুঁজতে লাগল সূর্য কিন্তু কোথাও পেল না। ভীড়েই মধ্যেই তাকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলল। খুব ইচ্ছে ছিল আরেকটা নজর দেখে তাকে দেখার অতৃপ্ত আত্মাকে তৃপ্ত করবে। অন্ধকারাচ্ছন্ন মনটাকে কিছুটা আলোকিত করবো। কিন্তু কিছুই হলো না। অধরাকে ধরার স্বপ্ন দেখাই বৃথা। অধরা এখন সূর্যের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে একটু আগে পিছন দিকে এই পিচঢালা পথে ছল ছল করা পানিকে যেমন মরীচিকা বলে মেনে নিতে সূর্যের অবিশ্বাস হয় নি ঠিক তেমনি সামনের দিকে অধরাকে আলো নয় বরং আলেয়া ভেবেই টিউশনিতে যেতে লাগল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement