একটি বৃদ্ধ নারী,যার জীবন প্রায় শেষ প্রান্তে,অনেক আগেই স্বামী হারিয়েছে,কর্ম ক্ষমতা লোপ পেয়েছে তার,রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত,ছেলেদের সাথেই ছিল এত দিন।অবহেলার সীমা এত টাই ভীষনতা প্রাপ্ত হয়ে উঠেছে যে,আপন সন্তানেরা মায়ের খোজই নিলো না।একদিন খুধা,পিপাসার যন্ত্রনায় এই অভাগা নারী জ্ঞান হারালে,মৃত মনে করে,চুপিসারে তাকে,ফেলে দেয়া হল ময়লা আবর্জনার স্তুপে।কিন্তু হাই!সে তো মরে নি,আবার জেগে উঠেছে।কিন্তু তাকে তো আর ফিরিয়ে নেয়া হবে না ঘরে,সে এখন কোথায়,কার কাছে যাবে?এসব অজানা ভাবনা যেন তার জীবনকে আঁধারে নামিয়ে দিলো।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ অক্টোবর ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ২১টি

সমন্বিত স্কোর

৪.২৫

বিচারক স্কোরঃ ২.৪৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - আঁধার (সেপ্টেম্বর ২০১৮)

পরিত্যাক্ত
আঁধার

সংখ্যা

মোট ভোট ২১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.২৫

নাজমুল হুসাইন

comment ২১  favorite ০  import_contacts ২২৯
তৃষ্ণায় ফেটে যাচ্ছে বুকের ছাতিটা,
খুধার যন্ত্রনায় মনে হচ্ছে,মনে হচ্ছে যেন কত কাল খাই না।
আহ,মাথার সাথে সাথে আমার পুরো পৃথিবী ঘুরছে,
থর থর করে ভূমিকম্পের উন্মাদনা,এই বুড়িয়ে যাওয়া শরির জুড়ে।
কি বিশ্রি পচা দূর্গন্ধ,চার পাশের বাতাসে,আমার গায়ে,মনেও যেন দাগ কেটে যায়।
এ আমি কোথায়?কোথায়!কোথায়!
পচা বাসি খাবার,জুঠা,গু-গোবর,খালি প্লাস্টিকের বোতল,
সিগারেটের খোসা,খালি চিপসের প্যাকেট,নোংরা ছেড়া জামা কাপড়,
তাহলে,তাহলে কি আমি ডাস্টবিনে!আমাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়েছে।
আজ আমি এতটাই অবাঞ্ছিত,পরিত্যাক্ত ময়লা ছেড়া জামা,ফেলে দেওয়া জিনিস।
শুনেছো,শুনেছো জোনাকির বাপ,তোমার সন্তানেরা আজ আমাকে ফেলে দিয়েছে,
একে বারেই ফেলে দিয়েছে।
আর তুমিও স্বার্থ পরের মত,একা একাই চলে গেলে,আমাকে নেয়ার ফুসরত হলনা?
তোমার কি মনে আছে?মনে আছে জোনাকির বাপ?
কত রাত জেগে থেকেছি,আমার সোনামনিদের ঘুম পাড়াব বলে,
গৃষ্মের উত্তাপ,শীতের হিম ছড়ানো বরফ সদৃশ হাওয়া,
তোমার আমার গায়ের সাথে সারা রাত্ যুদ্ধ করেছে।
কত রাত গায়ে কাঁথা জোটেনি আমার,
এক রা্তে কত বার যে বাত কর্ম করেছে,আমার প্রাণ পাজরের সন্তানেরা।
না আমি তাদের ফেলে দেই নি।
অভাবের সংসার,দুমুঠো ভাত জোটেনি মাঝে মাঝে,
অতি যত্নে ওদের খায়িয়ে-দায়িয়ে,হাসি মুখে দু গ্লাস পানি খেয়ে দিব্বি কাটিয়েছি।
মনে আছে তোমার,
ওদের পড়া লেখার জন্য একে একে বেঁচে দিয়েছিলাম চাষের সব গুলো জমি।
আজ ওরা অনেক বড়,অনেক-
একজন মেজিস্ট্রেট,একজন ডাক্তার,ছোট ছেলেটা মস্তবড় সাংবাদিক,
আমাদের মত কষ্টে দিনাতিপাত করে না,বউ ছেলে-মেয়ে নিয়ে।
ওদের ঘরে তো কত কিছুরই জায়গা হয়,কিন্তু আমার হলনা।
এই বুড়ি বয়সে,অসুস্থ,খুধার্ত,বারান্দায় পড়েছিলাম,কখন জ্ঞান হারিয়েছি জানিনা,
জ্ঞান ফিরে দেখি,ভাগাড়ের নর্দমার কোলে,ময়লার বুকে,আমি আবার জন্ম নিয়েছি।
এই পৌড়া,চুপসানো,ঠুনঠুনে দেহ নিয়ে,আজ আমি কোথায় যাব?কোথায়?

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement