লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ জানুয়ারী ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ১৪টি

সমন্বিত স্কোর

২.৮৫

বিচারক স্কোরঃ ১.০৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঘৃণা (সেপ্টেম্বর ২০১৬)

হঠাৎ পাশাপাশি
ঘৃণা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৮৫

রিনিয়া সুলতানা

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৪৭২
অন্ধকারে থাকতে আমার ভয় লাগে।খুব মনে পড়ে ছোট বেলায় অন্ধকারে কেমন জড়সড় হয়ে যেতাম, চিৎকার করে উঠতাম।আব্বু আম্মু কাছে এসে বুকে টেনে নিলে শান্ত হতাম।সেই আমি ২৫ বছর অন্ধকারে।নিজের শরীর টার দিকে তাকাতেও ভয় লাগে।হাড্ডিছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নাই।শুনলাম আমার পাশের কুঠুরিতে নতুন একজন অতিথী আসছে।পাশের কুঠুরি হতে লোকজনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।নতুনি অতথির জন্য অন্ধকার কুঠুরিরা সজ সজ্জা চলছে।সন্ধ্যা নাগাদ অতিথি চলে আসবে।২৫ বছর আগের কথা মনে পড়ে গেল এমন একদিনে আমিও এখানে এসেছিলাম।মাথাটা কেমন যেন ধরে আসছে একটু বিশ্রামের প্র‍য়োজন।কতটা সময় পার হল জানিনা মনে হয় রাত হয়ে গেছে।এ অন্ধকার ঘরে রাত দিন বোঝা মুশকিল।হঠাৎ দেওয়ালের ওপাশ হতে কে যেন নাম ধরে ডাক দিল।ঠিক কত বৎসর পরে ডাকটা শুনলাম মনে নেই।উত্তর নিলাম না।ও পাশ থেকে বলা শুরু করল জানি আমকে মাফ করনি,অনেক ঘৃণা কর আমাকে।সত্যি বলছি অন্যায় করেছি তোমার সাথে।বাবা মায়ের কথায় তোমাকে বিয়ে করেছিলাম কিন্তু কাল বলে বউ হিসেবে মেনে নিতে পারিনি।তোমার সামনে সুন্দরী নিয়ে ঘুরেছি।তোমাকে শারিরীক মানসিক ভাবে অত্যাচার করেছি।সব চেয়ে বড় অন্যায় করেছিলাম প্লান করে এপেন্ডিসাইড এর অপারেশন এর নাম করে ডাক্তার দিয়ে তোমার জরায়ুর নাড়ি কেটে দিয়েছিলাম যাতে বন্ধ্যা অজুহাত দিয়ে তোমাকে জীবন থেকে সরিয়ে দিতে পারি কিন্তু তুমি এতটাই লক্ষী ছিলে যে আমাকে ছেড়ে যাওনি।তাই আর সহ্য হয়নি তোমাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছিলাম।কত অন্যায় করেছি তোমার সাথে।জানি ঘৃণায় আমার কথা শুনতেও তোমার ইচ্ছা করছেনা কিন্তু জানো তোমাকে হারানোর পর আমার ভুল ভেঙেছে।তখন বুঝিনি কি হারিয়েছি।পৃথিবীতে থেকে যে মরণ যন্ত্রণা পাচ্ছিলাম তার শেষ হল।আজ সে কথাটি বলতে ইচ্ছা করছে যা শুনার জন্য তুমি সব মাথা পেতে নিয়েছিলে কিন্তু একবার ও তা বলিনি।আজ বলছি ভালবাসি তোমাকে খুব।একবার মুখ ফুটে বল আমাকে ঘৃণা কর খুব, মনে শান্তি পাই।চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল,জোরে চিৎকার দিয়ে বললাম চুপ কর।এত জোরে চিৎকার দিলাম যেন চিৎকারের সাথে ঘৃণা উড়ে গেল।পাগল হয়ে গেলাম নাকি এত রাতে চিৎকার করি কেউ যদি শুনে ফেলে।তারপর মনে হল কে শুনবে এত রাতে বাঁশবাগানের কবরস্থানের ২৫ বৎসর পুরনো কবরের হাড্ডিগুলোর কথা যখন বেঁচে থাকা মানুষের আর্তনাদ ই শুনতে পাই না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement