লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ৯টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাবা - আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু (জুন ২০১৬)

বাবা এবং অপূর্ণ বাসনা...
বাবা - আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু

সংখ্যা

নিয়াজ উদ্দিন সুমন

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৫৩
এক.
বাড়ির সামনে চর্তুদিকে শুপারি গাছে ঘেরা বিশাল খোলা মাঠ। পুকুরে শান বাধাঁনো রাজকিয় ঘাট। বাড়ির চারপাশের পরিবেেেশ ছিল এক আভিজ্যাত্বের ছোঁয়া। নিজের বাড়ি সর্ম্পকে সবসময় এমন বর্ণনায় শুনতো নানার বাড়ির সবার কাছ থেকে। শুনার মধ্য দিয়ে ছোট বেলা থেকে মনের মধ্যে একটা কাল্পনিক ছক একে রেখেছিল জাবেদ নিজের বাড়ি সর্ম্পকে। খুব ইচ্ছে করতো কল্পনার রঙ তুলিতে আকাঁনো সেই বাড়িতে পা রাখতে। খুব কাছ থেকে একটি বার দেখতে যে আঙিনায় ভোরের ¯িœগ্ধ নরম রোদের স্পর্শে প্রথম চোখের পাতা খুলেছিল জাবেদ। মা জানতে পারলে খুব কষ্ট পাবে তাই কখনো যাওয়া হয়নি ঐ পথে।

দুই.
মায়ের পরে সন্তানের জন্য দ্বিতীয় শ্রদ্ধার পাত্র হল বাবা। বাবার ভালোবাসা কেমন হয় জানা নেই জাবেদের। অন্য সবার মতো জাবেদেরও ইচ্ছে হয প্রাণ খোলে বাবা বলে ডাকতে তার মমতার বন্ধনে নিজেকে জড়াতে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তা কখনো সম্ভব হয়ে উঠেনি তার কপালে। সন্তানের কাছে বাবা নায়ক হিসেবে গন্য হয়। জাবেদের কাছে বাবার রূপ ভিন্ন। জাবেদ কখনো বাবাকে নায়কের আসনে বসাতে পারেনি। ছোট বেলা থেকে বাবাকে খল নায়কের আসনে বসিয়ে রেখে বড় হযেছে। জাবেদ জন্ম হওয়ার এক বছরের মাথায় মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সুন্দর সর্ম্পকটি ভাঙ্গার ক্ষেত্রে দাদীর ভুমিকা ছিল বেশি। দাদী একদম সহ্য করতে পারতো না জাবেদের মা কে। দাদীর কথার বাহিরে জাবেদের বাবাও এক পা নড়েনি কখনো। অন্যদিকে দাদা ছিল ঠিক তার বিপরীত। সমাজ সচেতন, সহজ-সরল মানবিক বোধ সম্পন্ন একজন মানুষ। দাদা নাতির সুন্দর ভবিষৎ এর কথা ভেবে অনেক চেষ্টা করেছিল ভাঙ্গা সর্ম্পকটি নতুন করে জোড়া লাগাতে, তা আর হয়ে উঠেনি দাদীর কুটনৈতিক চালের কারনে।

তিন.
দেখতে দেখতে জীবন থেকে ২৭টি বছর পার হয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময়ে একবারও সন্তান বেচেঁ আছে নাকি মারা গেছে তার খোঁজ-খবর নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। এই কেমন পাষাণ বাবা যার সন্তানের জন্য একটু ও মায়া হয় না। একটি বার ও ইচ্ছে করে না সন্তানকে বুকে নিয়ে জড়িয়ে ধরতে। সন্তানের প্রতি এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডের জন্য বাবার প্রতি তিল তিল করে জাবেদ এর হৃদয়ের গহিনে পুঞ্জিভুত হয় ঘৃনার মেঘ। ছোট বেলায় কেউ বাবার সর্ম্পকে জানতে চাইলে অবলিলায় বলে দিত তার বাবা মৃত। একটা সময় পর যখন সবকিছু বুঝার মতো বয়স হল তখন বাবা মৃত বলতে তার খুব কষ্ট হত। রক্তের টানে হয়তো বাবার প্রতি তার এমন ভালোবাসা জাগ্রত হত অবচেতন মনে। অনিচ্ছাসত্ত্বে এরপর ও বাবার উপর দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর ঘৃনার আগুনে জ্বলতে থাকা জাবেদ বাবাকে মৃত বলার মাঝে ভিন্নরকম প্রশান্তি অনুভব করতো।

চার.
কখনো শুনেছে বাবা মারা গেছে কখনো বা শুনেছে এখনো জীবিত আছে। কোনটা সঠিক কখনো যাচাই করা হয়নি। জাবেদের মন বলে তার বাবা এখনো জীবিত আছে। মাঝে মাঝে জাবেদ ভাবে পরিচয় না দিযে এক পলক ঐ পাষান মানুষটি কে দেখে আসবে কোন এক সময় । অভিমানের কঠিন দেয়াল মাড়িয়ে যাওয়া হয়ে উঠে না কোন ভাবেই। ঈদ উপলক্ষে মামার সাথে ছোট নানুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ঐ নানুর বাড়ি থেকে আসার পথে পড়ে জাবেদের বাড়ি। মামার আগ্রহে ঐ দিন সব কষ্টকে মাটি চাপা দিয়ে জন্মদাতা ও জন্মভুমি দেখতে গিয়েছিল যদি একপলক দুর থেকে বাবার মুখখানি দেখতে পাওয়া যায় সেই আশায়। স্বপ্নের পটে আঁকা নিজ বাড়ির আসল রূপ দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুর থেকে দেখা হল মামার সহায়তায়। বাবার সাথে দেখা হল না। কল্পনার মানুষ কল্পনার মাঝে রয়ে গেল। গত ২৭ বছরে মাঠ-ঘাট চলার পথ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সময়ের আর্বতে বিবর্ণ হয়েছে বাড়ির সেই রাজকীয় পরিবেশ। শেষ বারের দেখা আর আজকের দেখার মাঝে জাবেদ এর মামার অভিব্যক্তি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement