লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ আগস্ট ১৯৭৩
গল্প/কবিতা: ১৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঋণ (জুলাই ২০১৭)

রূপান্তর
ঋণ

সংখ্যা

আহা রুবন

comment ১২  favorite ০  import_contacts ২৯০
ইলিয়ট ব্রিজ পার হয়ে মৃদু পায়ে হেঁটে আসছিল এক পাদুকা মেরামতকারী—যার কিনা ব্রিজের গোড়ায় এতক্ষণে ছালা বিছিয়ে বসার কথা। কাঁধে জুতোর কালি, ব্রাশ ও যন্ত্রপাতি সজ্জিত জীর্ণ বাক্স। বাম হাতে তিন মাথার গুঁতোনি-পাটা—ডান হাতের মুঠোয় ধরা বছর চারের একটি শিশুর হাত। ব্রিজ পেরিয়ে এলে ডানের ছয় তলা নতুন বিল্ডিংটার সামনে দাঁড়াল মেয়েটি, ‘বাবা যখন বড় হই, এই রকম দালানওয়ালার সাথে আমায় বিয়া দিয়ো?’
হেসে উঠল বাবা। অট্টহাসি বেরিয়ে আসতে চাইছিল, পরিষ্কার বোঝা গেল। কিন্তু চেপে রেখে বলল ‘মা রে! বাপে কী, আর তার মেয়ের বায়না কী!’
‘দিবা কিন্তু? দিবা তো? ইশকুলে ভর্তি কইরা দিয়ো। মেলা পড়মু আমি।’
শুধু হাসল বাবা...

আমি পাশের সংবাদপত্রের দোকানটায় দাঁড়িয়ে কিছু পড়ার চেষ্টারত। বাবা-মেয়ের কথা কর্ণগোচরের ফলে চোখ তুলে তাকিয়েছিলাম। দেখলাম সুন্দর একটি দেবদারু-চারা। কিন্তু সবাই বলল ওটা ভাঁট গাছ। আমিও এক সময় তাদের সঙ্গে সুর মেলালাম। হৃদয়ের খচখচানি সওয়ার চেয়ে তাল মেলানো অনেক সহজ আর নিরাপদ।


বৃক্ষকে গুল্মের কাছে ঠেলে দিলাম আমরা। কিছু দিন পর চারাটি হয়ত নিজেকে ভাঁট গাছের বংশ বলে ভাবতে শিখেছিল। কয়েক বৎসর পর আজ হঠাৎ মেয়েটিকে বাবার পসরার সামনে দাঁড়ানো দেখে ঠিকই চিনতে পারলাম আমি। রৌদ্রের তীব্র তেজ থেকে বাঁচার ছুতোয় হাতের ম্যাগাজিন দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললাম। বিব্রত হয়ে পড়েছিলাম—যদি আমার কাছে তার পাওনা বাবদ ছয় তলা বিল্ডিংটি আজ চেয়ে বসে! কেননা সত্যি সত্যি দেবদারু চারাটি ভাঁট গাছে রূপান্তরিত হয়েছে যে...

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement