লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ এপ্রিল ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈশাখ (এপ্রিল ২০১৬)

পহেলা বৈশাখ, একটি থাপ্পর এবং একজন আমি
বৈশাখ

সংখ্যা

মোঃ মিজানুর রহমান

comment ০  favorite ০  import_contacts ২৩১
আজ পহেলা বৈশাখ। আমি নিউ মার্কেটে। ভিক্ষুক বেশে হাঁটছি। অনিচ্ছাকৃত হাটা। কোন এক মহা পুরুষ আমার মানি ব্যাগ মারিং করেছেন। আমি প্যান্টের ছেঁড়া পকেট নিয়া হাঁটছি। কেউ আমাকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না। শহুরে মানুষ যান্ত্রিক যুগে চলে গেছে। চোখের সামনে মার্ডার, রেইপ ওনাদের কাছে অতিসাধারন। আমি অবশ্য অসাধারণ ভিক্ষুক। তবুও পাত্তা পাচ্ছিনা।
হাঠাৎ এক বাচ্চা মেয়ে দৌড়ে এসে আমার পথ আটকালো।আমি থামতেই প্রশ্ন,
“আঙ্কল তোমার প্যান্ট ছেড়া কেন?”
“মামণী, আমি ভিক্ষুক তো, তাই।” মেয়েটির সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসে বললাম।
“ওমা, তাই! নিহা ফুপী বলছিল তুমি নাকি রামছাগল। আমার বিশ্বাস হয়নি। তাই তোমার কাছে জানতে এসেছি। আচ্ছা তুমি কী সত্যই রামছাগল?”
“না মামনি আমি রামছাগল না। প্যান্ট কাটা ছাগল।”
“আঙ্কল তোমাকে ধন্যবাদ। আমি তো কখনো ছাগল দেখিনি।আঙ্কল প্যান্ট কাটা ছাগল তো দেখলাম, রামছাগল দেখতে কেমন।”
“আমি ইশারায় পাশে দাঁড়ানো অতি সুন্দর একটি মেয়েকে দেখালাম।
“ওয়াও! ওটাইতো আমার নিহা ফুপি।”
আমি এবার মজা পাচ্ছি। মৎস্য তেলে মৎস্য ভাজা।
“হুম, ওটাই রামছাগল।”
মেয়েটা দৌড়ে তার নিহা ফুপীর কাছে গেল। এবং গলা ফাটিয়ে বলল
“আণ্টি তুমই তো রামছাগল। রামছাগল আণ্টি চলো প্যান্ট কাটা ছাগল আঙ্কলের কাছে যাই।”
পরী টাইপের মেয়েটা আমার দিকে এগোল। আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে। নিহার চোখ আগ্নেয়গিরির লাভা ছড়াচ্ছে। আমি ভস্ম হওয়ার জন্য অপেক্ষিত।
“আপনি আমাকে রামছাগল বলেছেন।” লাভা মিশ্রিত সারাসরি প্রশ্ন।
“দুঃখিত ম্যাডাম।’’ আমি নরম হাসি দিলাম। এবার বাচ্চা মেয়েটার দিকে তাকালাম।
“সরি মামনি, উনি রামছাগল না। উনি হল রামছাগী’’
বাচ্চা মেয়েটা এক্সপ্রেশন দেওয়ার আগেই উনি এক্সপ্রেশন দিলেন। একটা শব্দ হল।
“চটাশ’’
আমি ডান গালে নরম আগুনের ছোঁয়া পেলাম। আশেপাশের লোকজন চমকে থামকে গেল। কয়েকটা গুন্ডা কিসিমের আধুনিক ছেলে আগিয়ে আসলো। একজন আমার শার্টের কলার ধরে ফেলল।
“হারামির ছাও! মাইয়া দেখলেই টাচ দিতে সখ লাগে? মাইয়া মানুষ কি চায়নিজ টাচ মোবাইল? তোর হাত আজ লুলা বানায়া দিমু। শালা--------”উনি আরও নিচু মানের কিছু গালি ঝাড়ল। আমি নিরবে হজম করলাম।অনুভব করলাম একটা চক্রের মাঝে আটকে গেছি। প্রায় শ-খানেক লোক আমাদের ঘিরে আছে। অতি-উৎসাহী দর্শক আরও বাড়ছে। জ্যামিতিক হারে। আমি নিহার দিকে তাকালাম। নিহা অগ্নি দৃষ্টি ধরে রেখেছে। বাচ্চা মেয়েটা কান্নার কাছাকাছি পর্যায়ে।
গালি দাদা আমার কলার ছারলেন। এবং সেইম গালে একটি রাম থাপ্পর। আমার চোখে জল চলে এলো। বাচ্চা মেয়েটা কেঁদে ফেলল। এমন সময় এক হস্তি সম মহিলার প্রবেশ। উনি সরাসরি গালি দাদাকে বললেন।

“এখুনি পুলিশে ফোন দাও।”
এবার আমার দিকে তাকালেন।
“বাদের বাচ্চা মহা বদ! এইবার বুজবি মাইয়া মানুষ কি? দেখলেই ছোঁয়া দিতে ইচ্ছে হয়? আমি নারি সমিতির সদস্যা। তোরে কুত্তার লগে এক প্লেটে খাওয়ামু। না পারলে আমার নাম ‘ক্যাটরিনা কাইফ’ না।
হস্তি মহিলার কথায় হাসি আসলেও হাসার সাহস পেলাম না। পরিস্থিতি বড়ই খারাপ। নিহার অগ্নি চাহনির জায়গায় ‘ভয়’। সেও ঘাবড়ে গেছে।পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবে ভাবেনি। বাচ্চা মেয়েটার কান্না ননস্টপ। নিহাও কান্নার কাছাকাছি।
আমি জীবনের সবচে বড় জুয়াটা খেললাম। সবাইকে হতবাক করে দিয়ে নিহাকে বুকে টেনে নিলাম।সাথে কপালে চুমু।
বাচ্চা মেয়েটা কান্না থামালো। সবাই বেকুবের মত তাকিয়ে আছে। আমি মহা অবাক হলাম। নিহ ও আমাকে ঝরিয়ে ধরেছে। এত কিছুর মাঝেও অনুভব করলাম শান্তি। মুহূর্তের ভীর মুহূর্তেই কমে গেল। ক্যাটরিনা কাইফ আমেদের দিকে গু দৃষ্টিতে তাকালেন। তারপর গালি দাদাকে বললেন,
“এ যুগের পলাপাইন সব শয়তানের বাচ্চা। মাইয়া গুলা মহা-শয়তান। বয়ফ্রেন্ড গুলা গাধার জিগির-দোস্ত। যাকগে আমার নাম বদলে নিলাম। তুমি আমাকে আঞ্জেলিনা জোলি ডেকো ।”
এইবার না হেসে পারলামনা। মহিলা আমার দিকে ভ্যাম্প্যায়ার হাসি দিলেন। গালি দাদা লজ্জা লজ্জা গলায় বলল,
“চালায়া যান দাদা। আমাগই ভুল। পারলে মাফ দিয়েন। না পারলে থপ্পর।”
আমি মধুর হাসলাম।
১০ সেকেন্ডের মাথায় ভীর শেষ। আমি নিহাকে ছেড়েদিলাম। ও আমার দিকে তাকালো না। বাচ্চা মেয়েটা বলল,
“আঙ্কল রামছগলের প্রেমিকা কি রামছগি?”
নিহা হেসে উঠলো। আমি জীবনে প্রথম বারের মত এত সুন্দর হাসি দেখলাম। এবং প্রেমে পড়লাম।
নিহা আবারো আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল,
“সুসান, তুমি ভুল বলেছ। রামছগির বরের নাম হল রামছগল।”
আমি এবার নিহার দিকে ভাল করে তাকালাম। ৫.৫ ইঞ্চি লম্বা। আমের চেয়ে মাত্র ৫ ইঞ্চি কম। পরিদের মত চেহারা। আমি দিওয়ানা হয়ে গেলাম। সুসান আমার হাত ধরল। আমি সুসান কে কোলে নিলাম। নিহা আমাকে বলল,
“ থপ্পরের জন্য আমি মোটেও দুঃখিত না। থাপ্পরের জন্যই আপনি আমার।” নিহা আমার চোখে তাকাল।
“ঠিক আছে থাপ্পড় ম্যাডাম।“ বলে চোখ মারলাম।
নিহা আময়ীক হাসল। আমি সুসাণকে কোলে নিয়ে হাঁটছি। ণীহা আমার ডান বাহু জড়িয়ে ধরে আছে । আমি উপলব্ধি করলাম, এবার বৈশাখ আমাকে দারুন উপহার দিল।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement