লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ এপ্রিল ২০১৮
গল্প/কবিতা: ১৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমা - তুমি কোথায় (মে ২০১৬)

মা তুমি কোথায়?
মা - তুমি কোথায়

সংখ্যা

সালমা সেঁতারা

comment ০  favorite ০  import_contacts ২৭১
আম্মা, মা, মা-মনি, মাও, মাম যা-ই বলি না কেন একি অপত্যে জড়িয়ে আছে এই অনন্য শব্দগুলি সারা পৃথিবী জুড়ে। যদি এ গ্রহের জন্য আল্লাহপাক সবচেয়ে নির্ভরতার ও সবচেয়ে বিশ্বাসী নিরাপদ আশ্রয় দান করেছেন, তবে তা হলো মায়ের কোল। একজন মা-ই পারেন তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সন্তানের মঙ্গলের জন্য সমস্ত প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে লড়ে যেতে।

¬ সন্তান যদি একটি হয় তাহলে তো কথাই নেই। যদি চার/পাঁচটি সন্তান হয়, তারা বয়সপ্রাপ্ত হলে প্রতিষ্ঠিত হলে, সম্পদের ভাগ বা ব্যক্তিত্বের সংঘাতে লিপ্ত হলেও, মা আপন সত্বার বত্রিশ বাঁধনের তাগিদেই এক সন্তানের কোপানল থেকে অন্য সন্তানকে আড়াল করে থাকেন। এমন কি পিতা যদি কখনও অযৌক্তিক অত্যাচার করেন তার হাত থেকেও মা তার নাড়ী ছেড়া সন্তানকে কথার আড়ালে লুকিয়ে ফেলেন। আমরা সবাই মাকে ভালবাসি।

পৃথিবীর সেরা পানি যমযমের মতোই এক নিরাময়ক চরিত্র “মা”, যার অপত্য øেহের সুশীতল স্পর্শ সরাতে পারে সকল দুঃখ ও মনোবেদনা। পৃথিবীখ্যাত যমযম ও সৃষ্টি হয়েছিলো সন্তানের প্রতি মায়ের আকুল মমতার বিগলিত কান্না থেকেই। শিশু সন্তান ইসমাঈলের পিয়াস কাতর কান্নায় মা হাজেরা আলুলায়িত কেশে সাফা থেকে মারোয়া দুই পাহাড়ে দৌড়ে দৌড়ে পানির সন্ধান করছিলেন তার শিশু পুত্রের জন্য। তবু পানি মিলেনি। এ দৃশ্য আল্লাহপাক স্বয়ং সইতে পারেননি। তিনিও শিশু ইসমাঈলের পায়ের আঘাতে এক অলৌকিক পানির ফোয়ারা উৎক্ষিপ্ত করে দেন। যা আজকের যমযম। এখানেও সন্তানের প্রতি মায়ের সুদৃঢ় অপত্যের সফল অবদান।

আমার মায়ের স্মৃতিচারণঃ আমার মা ২০০৬ এর মে মাসের ৬ তারিখে তাঁর কনিষ্ঠ ছেলে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রসুলের ঢাকাস্থ বনশ্রীর বাসায় ইন্তেকাল করেন। আজ ১০ বছর পেরিয়ে গেল। অবাক হতে হয় যে, এখনও আমার মরহুমা মা আমার স্বপনে এসে আমাকে জানিয়ে যান, যে কোন বিপদ বা আনন্দের কথা। বিস্মিত হয়ে যাই যে, মা যা বলে যান তা সত্যি হয়ে যায়। এতটাই বাস্তবতার পার্থীব নীরিখে চলে আসে সন্তানের মঙ্গলচিন্তা! ইচ্ছে হয় চিৎকার করে বলি মা তুমি কোথায় আছো? কেন তোমায় দেখতে পাচ্ছি না?


একেবারেই সত্য একটা স্বপ্নের কথাই বলি। রানাপ্লাজা ধ্বসে পড়ার সময়ের কথা। আমার ছোট ভাই গোলাম রসুল তখন কর্ণেল ছিলো। সাভারে পোষ্টিংরত। “আর্মি মেডিকেল কোর” থেকে ওর র‌্যাংকিং। তাই রানাপ্লাজার উদ্ধারকৃত অসুস্থরা ওর দায়িত্বে ছিলো। এই সময় আমার “ইমিডিয়েট” ছোট ভাই “মাষ্টার ওয়ারেন্ট অফিসার” গোলাম সরওয়ার মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওর পাইলসের সমস্যা ছিলো, অপারেশন সাক্সেস হচ্ছিলো না। প্রায় ক্যান্সারের পর্যায়ে গিয়েছিলো। ডাঃরা আশাই ছেড়ে দিয়েছিলো, সেই সময় আমাকে কেউ খবর দেয়নি। আমিও অসুস্থ ছিলাম। আমার স্বপ্নে আসলেন আমার মা, উঠোনে শুয়ে মুখ ঢেকে কাঁদছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মা কাঁদছো কেন? আমার মা তখন বললেন, তুই জানিসনা? সরওয়ার খুব অসুস্থ? এই বলেই মা চলে গেলেন আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। রাত বাজে ৩টা। আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিলাম গোলাম রসুলকে। জানতে পারি সত্যিই আমার ভাইটা ভীষণ অসুস্থ। ডাঃ আশংকায় আছেন। কেঁদে ভাসালাম মায়ের অলৌকিক অপত্যে ভারাক্রান্ত মাতৃত্বের অথৈ সমুদ্রে। মা, মা, মা, তুমি কী এখনও সন্তানদের আশে পাশেই থাকো মা? তবে কোথায় মা কেন দেখতে পাইনা এ পার্থীব চোখে?

আজ এ মা দিবসে আমরা সকলেই মায়েদের প্রতি সশ্রদ্ধ ভালবাসা জানাবো। যাঁরা জীবীত আছেন তাদেরকেও, যাঁরা মরহুমা হয়েছেন তাদের রুহের প্রতিও আমরা দোয়া জানাবো যে, হে করুণাময় আমাদেরকে আমাদের মা যেমন আদর ও øেহে লালন করেছেন, তুমি আমাদের মাকে সেই ভাবে জান্নাতে পরম সুখে স্থান দিও। আমরা বৃদ্ধ বয়সী মাকে সন্তানের মতোই পরিচর্যা করবো। তাকে কখনও কড়া কথা বলবো না। আমরা সচেতন থাকবো। মা যেন আমাদের কোন কথায় বা আচরণে মনোকষ্টে না থাকেন। শপথ হোক মা দিবসে আমরা মাকে ভুলবো না। মা যেমন করে আমাদের ভালবেসে মানুষ করেছেন আমরাও তাঁকে সেই কোমল মমতায় সঙ্গ দেবো। পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালবাসা আজ “মা” দিবসে একান্ত অনুভব হয়ে থাক।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement