লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ২৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_left২৫ মার্চ কাল রাত্রি (মার্চ ২০১৬)

খাদক ভোম্বল মিয়া
২৫ মার্চ কাল রাত্রি

সংখ্যা

জসিম উদ্দিন জয়

comment ০  favorite ০  import_contacts ৩৪০
নির্জন দুপুর গড়িয়ে সোনালী বিকেল এলো। মুক্ত বাতাসে এলোমেলো ভাবে প্রজাপতি, ফড়িং ছুটোছুটি করছে। রাজু একটি ভাঙ্গা আখের মাথায় বাংলাদেশের একটি পতাকা লাগিয়ে গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ দিয়ে দৌড়ে আসছে। পতাকার একপাশ একটু ছেঁড়া, সেই ছেঁড়া অংশ দিয়ে সোনালী বিকেলের সূর্য্যের আলোটা ছড়িয়ে পড়ছে। রাজু লাফিয়ে লাফিয়ে টগবগ ঘোড়ার মতো ছুটে চলছে রাজুদের বাড়ির দিকে। মীনা বাড়ির আঙ্গীনায় দাঁড়িয়ে ছাগল ছানাদের সাথে কথা বলছে। ছাগল ছানা দু’টি অনেক দুষ্টু মীনার কথা শুনতে চায় না। পাশের বাড়ির বদমেজাজী ভোম্বলমিয়া বয়ষ্ক মানুষ। সারাদিন শুধু বকবক করে। কটমট গলায় মীনাদের বাড়ির সবাইকে উল্টাপাল্টা বকাঝকা করছে আর বলছে ‘‘মীনা তোমাদের ছাগলের ছাওয়াল গুলোকে না বেঁধে রাখলে জবাই কইরা খাইয়া ফেলামু।’’

মীনা ভোম্বল বেটার কথা শুনে শিউরে উঠলো। মনে মনে ভাবছে ‘‘ছাগল ছানা দু’টি অনেক ছোট। ওদের কী করে বেঁধে রাখবো। ভোম্বলমিয়া একটা বিশ্ব খাদক। পেটুকের মতো শুধু খায় আর খায়। ভয় করছে কোন দিন আবার পেটুকের আমার ছাগল ছানা দুটি খেয়ে ফেলে।” মীনা, ছাগল ছানা দু‘টির কান ধরে বোঝাবার চেষ্টা করছে। রাজু খিল খিল করে হাসতে হাসতে মীনার কাছে আসলো। হাতে আখের মাথায় ঝুলানো বাংলাদেশের পতাকাটি খুলে ফেলেছে। আখটি দু’ভাগ করে মীনার কাছে এক টুকরো দিয়ে বললো ‘‘মামা আসছে’’ ‘‘কদম মামা’’, বলেই রাজু ঝিলমিল হাসি দিয়ে আখটি কামড় দিয়ে চাবাতে লাগলো। মীনা মামা কদম আলীর নাম শুনে ছাগল ছানা দু’টিকে ছেড়ে দিয়ে আনন্দে নাচতে লাগলো। এরই মধ্যে কদম মামা এসে গেছে। মামার আড়াই ইঞ্চি গোঁফটি হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ছেড়ে দিলে তারপর একটু হাসি দিয়ে একটা কাপড়ের ব্যাগ ও ফলের ব্যাগ ছুঁড়ে দিলো উঠোনে। তারপর হঠাৎ দারোগার মতো দাঁত কটমট করে বলতে লাগলো ‘দিনকাল একেবারে গোল্লায় গেছে, টিকেট মাষ্টার আমাকে বলে কিনা রামছাগল,’ ‘আরে বেটা আমি যদি রামছাগল হই তাহলে পৃথিবীর সব বেটা গরু’’। মামা কদম আলীর কথা শুনে মীনা ও রাজু হাঃ..... হাঃ..... হিঃ..... হিঃ ...... করে হাসতে থাকে। এদিকে মীনা, রাজুদের জন্য মামা যে আপেল কমলাগুলো এনেছিলো। ফলের ব্যাগ থেকে সব ফল খেয়ে উঠোনে তিড়িং বিড়িং করে নাচতে থাকে ছাগলছানা দু’টি, সাথে রাজুও যোগ দিয়েছে।
মামার ফলের ব্যাগের উপর চোখ পড়তেই দেখে ফলের ব্যাগে ফল নেই। মামা মেজাজ খুব গরম করে ছাগল ছানা দু’টি লাফিয়ে যেই ধরতে যাবে ওমনি ধপ্পাস করে মাটিতে পড়ে যায়, এই সুযোগে ছাগল ছানা দু’টিও পালিয়ে যায়। মামা লজ্জায় রাগে-দুঃখে আরো উত্তেজিত হয়ে জোরে দমক দিলো রাজু ও মীনাকে বলে “ঐ ছাগল ছানা দু’টি তোদের জন্য আনা ফলগুলো সব খেয়ে ফেলেছে আর তোরা হাসছিস।” মামার কথা শুনে রাজু, শব্দ করে খিল খিল করে হেসে বলে, এর জন্যই তো মামা, তোমাকে টিকেট মাস্টার ‘রামছাগল’ বলেছে।
মামা একটি অপমানিত বোধ করলো। নিজেকে বুদ্ধিমান প্রমান করার জন্য তড়িঘরি করে রাজুর হাত থেকে বাংলাদেশের পতাকাটা নিয়ে বললো,‘‘ এই পতাকার মাপ ঠিক হয় নাই। তোরা কেহ জানিস বাংলাদেশের পতাকার মাপ। রাজু মীনা সবাই হা করে তাকিয়ে । কিছুই বলতে পারছে না । অবশেষে মামা বুক ফুলিয়ে বলে ‘‘তোরা বোকা কিছুই পারিস না ” বাংলাদেশের পতাকার মাপ হলো দের্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হবে ১০:৬ বা ৫:৩ ও পতার মাঝখানের বৃত্ত হবে ৪ ভাগের ১ অংশ। জাতীয় পতাকার রূপকার চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান বুঝলে। রাজু মীনা চুপচাপ ঠাঁই দাড়িয়ে ভাবছে, মামা কদম আলী বহুদিন পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছে। মামা এতকিছু জানেন কি ভাবে। ভাবসাব জ্ঞানী গুণী, বিদেশী বিদেশী। রাতে একসাথে খেতে বসে মীনা ও রাজু মামাকে অনুরোধ করে বললো ঃ
ঃ মামা তুমি আমাদেরকে ঢাকায় সাভার স্মৃতিসৌধে ও শহীদ মিনারে বেড়াতে নিয়ে যাবে। আমরা বইয়ে পড়েছি ছবি দেখেছি। কিন্তু আজ বাস্তবে দেখবো।
মামা তাদের এই ইচ্ছের কথা শুনে খুবই খুশি হলো। এবং রাজু ও মীনার দিকে তাকিয়ে বললো,‘‘ কেন্দ্রী শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থাপতি কে বলতে পারিস তাহলে ঘুরতে নিয়ে যাবো। রাজু ও মীনা একে আপরের দিকে তাকিয়ে সোজা বাক্যে বলে দিলো “না”। মামা বললো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি হামিদুর রহমান ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন বুঝলে স্মৃতিসৌধের মিনারটি উচ্চতা হলো ৪৫ মিটার ১৫০ ফুট উঁচু বুঝলে । রাজু কোন কিছু না বুঝে হিঃ হিঃ করে হেসে উঠে বলে, মামা তুমি এতকিছু জানো, এই জন্যই মানুষ তোমাকে ‘রামছাগল”। রামছাগল মনে হয় অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী। মামার রাজুর কথায় পাত্তা না দিয়ে বলে, বুঝেছি তোদের কে জ্ঞান দেওয়া যাবে না। ঠিক আছে কাল তোদেরকে নিয়ে যাবো ,
প্রতিদিনের মতো আজও খুব ভোরে পাখির কিঁচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙলো মীনা ও রাজুর। মামা কদম আলী এখনও নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। মীনা ও রাজু দুষ্টুমী করে মামার রুমে ছাগল ছানা দু’টি ছেড়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। ছাগল ছানা দু’টি বের হতে না পেরে ম্যাঁ ম্যাঁ চিৎকার শুরু করে। ছাগলের ম্যাঁ ম্যাঁ শব্দ শুনে হঠাৎ করেই মামা ঘুম থেকে জেগে উঠে। মীনা, রাজু দৌড়ে আসে কদম মামার কাছে । মামা সবাইকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে সকালের সূর্য্য উঠার আগেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
তখন পড়ন্ত বিকেল সূর্য্য ডুবু ডুবু রাজু ও মীনা আর মামা কদম আলী, ঢাকায় মীনার চাচা আহার আলীর বাড়িতে পৌছলো। মীনার চাচা-চাচী, মীনা ও রাজুকে দেখে মহাখুশি। এই প্রথম মীনা রাজু তাদের চাচার বাড়ীতে বেড়াতে এসেছে। মীনার চাচাতো ভাই ফেইল্লা জর্জ শুরুতেই রাজুর সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিলো। রাজু কেন নিজেকে ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছে তার বাবার কাছে। পাঁচবার ফেল করার পরও ৫ম ক্লাস পাস করতে পারেনি ফেইল্লা জর্জ। এর জন্যই সবাই তাকে ফেইল্ল্যা জর্জ বলে ডাকে। কিন্তু রাজু সব সময়ই ক্লাসে প্রথম হয়েছে। ব্যাপারটা ফেইল্ল্যা জর্জ এর কাছে অপমানজনক ও লজ্জাকর।


তখন বিকেল গড়িয়ে রাত্রীর আগমন। বহুদূর পথ ভ্রমণের পর মীনা ও রাজু খুবই ক্লান্ত। কিন্তু মামার চোখে কোন ক্লান্তির ছাপ নেই। রাতের খাবার খেয়ে ইতোমধ্যে মীনা, রাজু ঘুমিয়ে পড়েছে। মামা কদম আলী বারান্দায় ছটফট করে হাঁটা হাঁটি করছে। একটু পরে হাঁটাহাঁটি থামিয়ে গা হেলান দিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো চার দেয়ালের দিকে। মামাকে আজ একটু অন্যরকম লাগছে। মীনা ও রাজু গভীর ঘুমে ব্যস্ত। এক এক করে শহরের প্রত্যেকটি বিল্ডিং এর লাইটগুলো নিভে যাচ্ছে। শহরের কোলাহল কিছুটা শান্ত। হঠাৎ করে কদম মামার হাউমাউ করে কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো মীনা ও রাজুর। মীনা ও রাজু জেগে দেখে পাশে ছোট বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে মামা কদম আলী। রাজু ভাবছে মামাকে ভূতে ধরেছে, ভয়ে সে ভূত ভূত বলে চিৎকার করছে। কিন্তু মীনা জানে ভূত বলে কিছু নেই । তাই সে মামাকে জড়িয়ে ধরে বললো ‘‘মামা তোমার কী হয়েছে কাঁদছো কেন ? মামা একটু স্বাভাবিক হতে চেয়েও রাজু ও মীনার কাছে কান্না লুকিয়ে রাখতে পারলো না। রাজু ও মীনার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলতে থাকে ‘‘আজ ২৫শে মার্চ ২০০৪ সাল। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ এই ভয়াবহ কাল রাত্রিতে তোদের নানু ভাইকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানী পাক হানাদার বাহিনী। সেদিন ওরা আমার বাবাকেও রেহায় দেয়নি। পরের দিন জানতে পারলাম আমার বাবা সহ হাজার হাজার নিরীহ বাঙালীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে আমাদের গ্রামের পাশে বদ্ধভূমিতে মাটি চাপা দিয়েছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী।
তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম ঠিক তোদের মতো। তোদের নানু ভাইকে বাবা ..... বাবা বলে ডাকি। বাবা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলতো “আমার খোকন সোনা”। তারপর দুগালে চুমো দিতো। প্রতিদিন বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুম পাড়িয়ে দিতো। বলতে না বলতেই মামা, করুন স্বরে ‘বাবা..... বাবা...... বলে আত্বচিৎকারে ভেঙে পড়ে। মামাকে ছোট্ট বাচ্চাদের মতো হাউমাউ করে কাঁদতে দেখে মীনা ও রাজু কেঁদে ফেলে। মীনা ও রাজু তাদের নানু ভাইকে কখনও দেখেনি। নানু ভাইকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করেছে শুনে খুব দুঃখ পেলো। তবু নানুভাই মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশ মাতৃকায় শহীদ হয়েছেন সে জন্য তারা নিজেকে গর্ববোধ করলো।

পরের দিন ২৬শে মার্চ সারা দেশের মানুষ ফুলের তোরা হাতে নিয়ে ছুটে চললো সাভার স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে। মীনা ও রাজু এই প্রথম স্মৃতিসৌধ দেখতে যাচ্ছে। আনন্দের মাঝেও যেন বিষন্নতার ছাপ ওদের চোখে-মুখে। তাদের নানু ভাই শহীদ হয়েছে সে জন্য। মামা কদম আলী, মীনা ও রাজু সকাল ৮ টার মধ্যে স্মৃতিসৌধে এসে পৌছালো। প্রচন্ড ভীড় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব শেষ করার পর মন্ত্রীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের লোকজনের সাথে মীনা ও রাজু এবং মামা কদম আলী ঢুকে পরলো স্মৃতিসৌধে। স্মৃতিসৌধের স্তম্ভের কাছে এসেই থমকে দাঁড়ালো মামা । মীনা ও রাজু তাদের মামাকে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবার অনুরোধ করলো। মামা একজনের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলে ‘আমরা এতক্ষণ এই লাট সাহেবের মিছিলের পেছনে ছিলাম। উনি এখানে কেন এসেছেন। মীনা ও রাজু মামার কথা শুনে তড়িঘড়ি করে বলে ‘মামা তোমার হাত নামাও । চুপ করো মামা। উনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ...... মন্ত্রী.। উনাকে প্রতিদিন টিভিতে দেখায়। উনি খুব ক্ষমতাসীন।
মামা কদম আলী, মীনার কথা শুনে রাগাম্বিত হয়ে বলে উঠলো ‘অসম্ভব কিছুতেই না’ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কখনও এই দেশের জাতীয় শক্তি হতে পারে না। উনারা কখনো এ দেশকে ভালোবাসতে পারে না। তাহলে আমার শহীদ বাবার আত্মা কষ্ট পাবে । মামার দু‘চোখের কোনে টলমল করে পানি জমছিলো।
মামার কথাগুলো মীনা ও রাজু কিছুই বুঝলো না। শুধু এতটুকু বুঝতে পারছে, মামা এই স্মৃতিসৌধে এসে ঐ মন্ত্রীকে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছেন। মীনা ও রাজু, মামার হাত ধরে বলতে লাগলো ‘মামা চলো বাড়িতে ফিরে যাই’। উনাকে বকাঝকা করলে তোমাকে পুলিশে ধরে হাজতে ভরে রাখবে। চলো এখান থেকে চলে যাই। মামা একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান । তাকে রাজাকারের পুলিশ বাহিনী দিয়ে এরেষ্ট করবে এটা মানা যায় না ।
মামা দু‘চোখ ভরা অশ্রুজল আর উত্তেজনা নিয়ে, পেছন ফিরে বাসার দিকে রওনা হলো। মীনা ও রাজু ফেরার পথে আর একবার স্মৃতিসৌধের দিকে তাকালো। তখন রোদেলা দুপুরের সূর্য্যটা স্মৃতিসৌধের স্তম্ভের উপর। খুব সুন্দর লাগছিলো। স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ শহীদের সত্যের স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশায়।
মীনা, রাজু ও মামা সেই দিন বিকেলেই ঢাকা ত্যাগ করে ফিরে এলো নিজ গ্রামে। তখন রাত ৯টা। বাড়িতে এসে শুনতে পেলো মীনার ছাগল ছানা দু’টি ভোম্বলমিয়া জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। কথাটি শোনা মাত্রই মীনা খুবই দুঃখ পেলো। খুব দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো খোলা মাঠের দিকে। মাঠের এক পাশে তাকিয়ে দেখলো ছাগল ছানা দু’টিকে যেখানে বেঁধে রেখেছিল সেই খুঁটিটা সেখানেই আছে। খুঁিট আছে ছাগল ছানা দু‘টি নাই । খুঁটিটা ধরতেই চোখে পরলো রাজুর সেই ছেঁড়া পতাকার দিকে। পতাকাটা রক্তে ভেজা। এইখানেই ছাগল ছানা দু’টিকে জবাই করেছে ঐ ভোম্বলমিয়া। মীনার চোখ বেয়ে গড়গড়িয়ে পানি পরতে লাগলো। রক্তমাখা ছেঁড়া পতাকাটি বুকে জড়িয়ে খোলা আকাশের দিকে একবার তাকালো । তখন ভরা জোৎস্নার আলো। চাঁদ ফুট-ফুটে আলো দিচ্ছ্ েমীনার কাছে মনে হলো ঐ চাঁদটাকেও সুযোগ পেলে ভোম্বলমিয়া গিলে খেয়ে ফেলবে। মীনা এতটুকু বুঝতে পেরেছে ‘এদেশে এখনও জোর যার মুল্লুক তার’ এই রীতিতে চলছে। এরই মধ্যে মামা ও রাজু এলো মীনার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু মামার মনে প্রশ্ন স্বাধীনতা আসলে কি ?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement