চারুকলায় পড়ে ইমন, অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল চারুকলায় পড়বে, ছোটবেলা থেকেই আঁকিঝুকির উপর ছিল ভীষন ঝোক, সময় পেলেই রংতুলি নিয়ে বসে যেত-এ নিয়ে বকাঝকা কম শুনতে হতনা। মা সবসময় চাইতেন ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে, কারন নানা ছিল বড় ডাক্তার । কিন্তু ছেলের জেদের কাছে জিম্মি হয়ে গেল মা, একরকম বাধ্য হয়েই ছেলেকে চারুকলায় ভর্তি করলেন। আসলে একটা মাত্র ছেলে তো তাই। ইমনের বাবা চলে গেছে সেই কবে, মার প্রাইমারী স্কুলের চাকরিটা ছিল বলে তাই ।
-ইমন ঘুম থেকে ওঠ
-আর একটু ঘুমুতে দাও না মা
-কলেজ যাবিনা
-ও হ্যাঁ, আজ তো আউটডোরে যেতে হবে
-কোথায় যাবি? কিছু বলেছে ওরা
-না এখনও ঠিক হয়নি
-শুধু বলেছে ব্রাশতুলি নিয়ে যেতে
-কেন?
-তুমি জাননা মা, কাল তো পহেলা বৈশাখ…
-ও তাই, আমি চলে গেলাম…রান্না করা থাকল…সময়মত খেয়ে নিস।
এবলে মা চলে গেল স্কুলে…
ইমন এবার ঘুম থেকে ওঠে, ঝটপট রেডি হয়ে..নাস্তা করল চা-পাউরুটি…
তারপর ছুটল কলেজে…গিয়ে দেখে ওখানে সাজ সাজ রব। রঙিন কাগজ দিয়ে সব মুখোশ বানানো হয়েছে-তাতে চলছে রংতুলির টান। পেছনে আছে ফেস্টুন, রংবেরং এর ব্যানার, কাগজ দিয়ে বানানো হয়েছে বিশাল হাতি-ঘোড়া, তার গলায় আছে সুনিপুণ কাজ করা নকশা।
কী কাজ করতে হবে বুঝতে পারছিলনা ইমন, স্যার পেছন থেকে ডাকলেন, ইমন কী খবর? এত দেড়ি করে যে, সব কাজ তো শুরু হয়ে গেছে, শুধু আলপনাটা বাকী-তুমি বরং আলপনাটায় হাত লাগাও।
ইমন কোনদিনও এত বড় আলপনা করেনি, কী করবে বুঝতে পারছিলনা , এমন সময় ফার্স্ট ইয়ারের একটি মেয়ে এগিয়ে আসে, বলে ইমন ভাই আসেন একসাথে শুরু করি।
প্রথমে বৃত্তটা দিয়ে শুরু করি সিঁদুরেলাল রঙ দিয়ে ভরাট করি…এত সুন্দর করে আঁকলো যে দেখে মনটা ভরে উঠলো ইমনের। চারপাশ দিয়ে সবুজ পাতা আঁকল ইমন…
সত্যি একসময় আলপনাটা দারুন হয়ে উঠল…
সকলেই প্রশংসা করল….
ইমনের মেয়েটি খুবই ভালো লাগল…আসলে মেয়েটি খুব আঁকিয়ে….জলরঙের দৃশ্যের মতই স্বচ্ছ সুন্দর…